আন্তর্জাতিক নক্শবন্দি উৎসব ২০২৩
তাসখন্দ - সমরকন্দ - বোখারা - তাসখন্দ
তাসখন্দ - সমরকন্দ - বোখারা - তাসখন্দ
ঢাকা থেকে অতিথিদের আগমন। বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানানো এবং সেখান থেকে হোটেলে স্থানান্তর। তবে ২২ ফেব্রয়ারী দুপুর ১২.০০ PM এর আগে যে সমস্ত অতিথি পৌঁছাবেন তাদের নিজস্ব হোটেলের খরচ বহন করতে হবে। ২২শে ফেব্রুয়ারী ২০২৩ তারিখে মধ্যাহ্ন ১২.০০ PM বা তার আগেই সমস্ত অতিথিদেরকে ফেস্টিভাল হোটেলে নিয়ে যাওয়া ।
কার্যক্রমঃ
সমগ্র ফেস্টিভালব্যপী শায়েখদের জন্য ভিআইপি যানবাহনের আয়োজন থাকবে। ফেস্টিভাল শুরু হবে ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০২৩ দুপুর ১২.০০ PM
রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ এর আয়োজন।
তাসখন্দ শহরের চারপাশে ভ্রমণ: বিশেষত পুরাতন তাসখন্দ নগরের খাস্ত ইমোম কমপ্লেক্স এবং অন্যান্য আকর্ষণীয় সাইট।
গ্রুপ ফটো সেশন।
রেস্টুরেন্ট এ রাতের ডিনার.
হোটেলে ফিরে আসা ও রাত্রিযাপন।
হোটেলে সকালের নাস্তা।
হাই স্পীড ট্রেনে (আফ্রোসিয়াব) অথবা এক্সিকিউটিভ কোচে সমরখন্দের উদ্দেশ্যে রওনা।
সমরখন্দে আগমন।
পরিদর্শন ১:
বোখারী শরীফের সংকলক আলইমাম ইসমাইল আলবুখারি রঃ (সমরকন্দ থেকে 30 কিলোমিটার) এর স্মৃতিসৌধ কমপ্লেক্স পরি
রেস্টুরেন্ট-এ লাঞ্চ.
পরিদর্শন ২: আকাইদ শাস্ত্রের ইমাম আবু মনসুর আল মাতুরিদি রঃ এর মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স পরিদর্শন (চোকারদিজা-এর কাছে, যেখানে মুসলিম জাহানের সুপরিচিত বহু উলামা মাশায়েখ শায়িত আছেন।)
পরিদর্শন ৩: শাখী জিন্দা নেক্রোপলিস পরিদর্শন (এই কমপ্লেক্স-এ মধ্য এশিয়ার শ্রেষ্ঠ সিরামিক শিল্পকর্ম সমূহ প্রদর্শিত আছে।) এখানেই শায়িত রয়েছেন সাহাবিয়ে রাসুল (স.) সাইয়িদিনা কাসিম ইবনু আব্বাস রা.।
পরিদর্শন ৪: রেগিস্তান স্কোয়ার পরিদর্শন। (সমরকন্দ শহর রেগিস্তান স্কোয়ারের জন্য বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত। (এখানে তিনটি অতুলনীয় সুন্দর মাদ্রাসা রয়েছে, যথা: মাদ্রাসা উলুগবেক যা প্রাচীনতম মাদ্রাসা; মাদ্রাসা শেরদর যার সম্মুখভাগ নীল টাইলস দ্বারা শোভিত এবং মাদ্রাসা তিল্লা কোরি)
গ্রুপ ফটো
রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার।
সমরকন্দের হোটেলে রাত্রিযাপন।
হোটেলে সকালের নাস্তা।
পরিদর্শন ১: স্ল্যাব বাজার পরিদর্শন (এটি সেন্ট্রাল এশিয়ার সবচেয়ে বড় মার্কেট এবং রেগিস্তান স্কোয়ারের পরে সবচেয়ে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান)।
পরিদর্শন ২: বিবিখানিম মসজিদ পরিদর্শন (১৫ শতকে নির্মিত মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম এবং অতুলনীয় সুন্দর মসজিদগুলির মধ্যে একটি)।
পরিদর্শন ৩: গোর ই আমির কমপ্লেক্স পরিদর্শন (আকর্ষণীয় খিলান/দ্বার এবং অতুলনীয় সুন্দর গম্বুজটি মাকাম গোর ই আমিরের ল্যান্ডমার্ক যা আমির তৈমুরের শেষ বিশ্রামস্থল (ইতিহাস খ্যাত তৈমুর লং/ টেমার লেন); যিনি ছিলেন তৈমুরিদ সাম্রাজ্যের সাবেক আমির। এখানে আমির তৈমুরের দুই পুত্র ও ২ নাতির সমাধিও অবস্থিত যার মাঝে উলুগ বেগও রয়েছেন।)।
দুপুরের খাবার বিরতি।
পরিদর্শন ৪: উলুগ বেগ মানমন্দির পরিদর্শন। ১৪২০ সালে তৈমুরিদ উলুগ বেগ এর তত্ত্বাবধানে একদল জ্যোতির্বিজ্ঞানী নির্মান করেছিলেন এই মানমন্দির যা মুসলিম মনীষীদের জ্ঞানবিজ্ঞানে অগ্রগামীতার শক্তিশালী নিদর্শন। (এই কমপ্লেক্সটি ১৪৪৯ সালে মোঙ্গলরা ধ্বংশ করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯০৮ সালে এটি পুনঃআবিষ্কার করে সংস্কার করা হয়েছে।)
পরিদর্শন ৫: হযরত খাজা ওবায়দুল্লাহ আহরর রঃ এর কমপ্লেক্স পরিদর্শন। নকশবন্দীর মাশায়েখদের অন্যতম বুজুর্গ হযরত খাজা ওবায়দুল্লাহ আহরার কুদ্দিসা সিররুহু । নিজে রাজনীতি না করলেও পেনিনসুলার সমকালীন রাজনীতিতে হজরতের ছিল অসামান্য প্রভাব। এমনকি একবার তিঁনি সরাসরি হস্তক্ষেপ করে সমরকন্দ, ফারগানা ও তাসখন্দের শাসকদের মধ্যে ঘটতে যাওয়া এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ প্রতিহত করেছিলেন।
রেস্টুরেন্ট/হোটেলে ডিনার
সমরকন্দের হোটেলে রাত্রি যাপন
সমরখন্দ থেকে বুখারা সফর
হোটেলে সকালের নাস্তা।
এক্সিকিউটিভ কোচ অথবা হাইস্পিড ট্রেন "আফ্রোসিয়াব" এর মাধ্যমে সমরকন্দ থেকে বুখারা রওনা
বুখারায় পৌঁছানো
রেস্তোরাঁয় লাঞ্চ
লাঞ্চের পর পরিদর্শন শুরু
পরিদর্শন ১: সামানিদদের মাকাম পরিদর্শন, যা বিশ্বনন্দিত মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর একটি অনুপম নিদর্শন; এটি বুখারার উত্তরপশ্চিমে অবস্থিত (১০ম শতাব্দীতে মসিহি/খ্রী. নির্মিত)।
পরিদর্শন ২: বোলো হাউজ মসজিদ পরিদর্শন, যা বুখারার ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে আজও দাঁড়িয়ে আছে। (১৯২০ সাল পর্যন্ত এই মসজিদটিই ছিল বুখারার আমিরের জুম্মার নামাজ আদায়ের প্রধান মসজিদ।)
পরিদর্শন ৩: দ্য আর্ক অব বুখারা বা বুখারার সিন্দুক নামে পরিচিত দুর্গ পরিদর্শন। এটি বুখারার সবচেয়ে প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। (মহাকবি ফেরদৌসি তার বিশ্বখ্যাত মহাকাব্য "শাহনামা/শাহনামে"তে এই দুর্গের নির্মাতা হিসেবে কিংবদন্তীর শিভায়ুস-এর নাম উল্লেখ করেছেন।)।
দুপুরের খাবার বিরতি
পরিদর্শন ৪: মুহাল্লা ইমাম আল বুখারী পরিদর্শন। ইমাম বুখারী যে মহল্লায় জন্মেছিলেন সেটি বুখারা শহরে অবস্থিত। (ইতিহাসবিদরা বলেন যে ইমাম বুখারী একটি হাউজের (পুল) এর কাছে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং সেখানেই বাস করতেন খাজা জয়নুদ্দিন । খাজা জয়নুদ্দিন নামে এখানে একটি মসজিদ রয়েছে)।
পরিদর্শন ৫: লাবি হাউজ কমপ্লেক্স পরিদর্শন। এই পরিপূর্ণ মুসলিম স্থাপত্যটি ১৬ থেকে ১৭ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়েছিল।
পরিদর্শন ৬: বুখারার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ পোই কালান কমপ্লেক্স পরিদর্শন । এই কমপ্লেক্সটি ১২ শতকের কালান টাওয়ার নিয়ে গঠিত যা বহু শতাব্দী ধরে কাফেলার জন্য বাতিঘর হিসাবে কাজ করেছে। ১৫ শতকে এখানে জামে মসজিদ ছিল এবং ইমাম বুখারি রঃ এখানকার শিক্ষক ছিলেন। এখানকার মির-ই-আরব মাদ্রাসা অদ্যবধি সচল একটি মাদ্রাসা।
কালান মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায়
রেস্টুরেন্ট/হোটেলে ডিনার।
হোটেলে ফেরৎ ও বুখারায় রাত্রি যাপন।
বুখারা শরিফের নকশবন্দী মাশায়েখগণের জিয়ারত এবং মুরাকাবা
হোটেলে প্রাতঃরাশ।
বুখারার নকশবন্দী মাশায়েখগণের জিয়ারত পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু।
পরিদর্শন ১: গজদাওয়ানের উদ্দেশ্যে যাত্রা। গজদাওয়ান হচ্ছে নকশবন্দী ধারার প্রথম শায়েখ হিসেবে অভিহিত হযরত খাজা আব্দুল খালেক গজদাওয়ানি (কুদ্দিসা.) [১১৭৯], এর জন্মস্থান। হজরত খাজা আব্দুল খালেক গজদাওয়ানি কু. এর মাধ্যমেই খাজেগান ধারার প্রাথমিক বিকাশ ঘটেছিল।
রেস্টুরেন্ট-এ লাঞ্চ।
পরিদর্শন ২: হযরত খাজা আরিফ রেওগারি (কুদ্দিসা.) এর কমপ্লেক্স পরিদর্শন। তিনি ছিলেন সমগ্র সেন্ট্রাল এশিয়ার সর্বাধিক মশহুর শায়েখ। হযরত খাজা আরিফ রেওগারি কু. ঐতিহ্যবাহী খাজেগানদের প্রসিদ্ধ অনুসারীদের একজন।
পরিদর্শন ৩: হযরত খাজা মাহমুদ আনজির ফাগনাভী কু. এর কমপ্লেক্স পরিদর্শন। হযরত তার সময়ের একজন প্রসিদ্ধ সুফি; তার ডুমুর খামার সুপরিচিত। তিনি বুখারার ৭ বিখ্যাত নকশবন্দী মাশায়েখের মাঝে তৃতীয়তম জন।
পরিদর্শন ৪: হযরত খাজা আলী রোমিতানি কু.এর কমপ্লেক্স পরিদর্শন (যিনি আজিজন নামেও সমধিক খ্যাত)। হযরত খাজা আলী রোমিতানি কু. তার উচ্চস্তরের ক্যারিশম্যাটিক আধ্যাত্মিকতার জন্য সমধিক প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি আত্ম সংযমের শিক্ষা প্রদান করতেন এভাবে, ’খাওয়া অথবা কথার মাঝেও নিজেকে সংবরণ কর’। হযরত খাজা আজিজানে আলী রামেতিনি বুখারার সপ্ত নকশবন্দী মাশায়েখগণের মাঝে চতুর্থতম জন ছিলেন।
পরিদর্শন ৫: হযরত খাজা মুহাম্মদ বোবো /বাবা সামমাসী কুদ্দিসা সিররুহুর কমপ্লেক্স পরিদর্শন। বুখারা শরিফের সপ্ত নকশবন্দী মাসায়েখের মধ্যে হযরত ৫মতম জন। তাসাউউফের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক বিকাশে খাজেগানের কৃতিত্বে হযরতের অসামান্য অবদান রয়েছে। তিনি ছিলেন আল-ইমাম মুহাম্মাদ বাহাউদ্দীন নকশবন্দী কুদ্দিসা সিররুহু এর শিক্ষক।
পরিদর্শন ৬: হযরত খাজা সাইয়্যেদ আমীর কুলাল কুদ্দিসা সিররুহু এর কমপ্লেক্স পরিদর্শন। তিনি শামসুদ্দিন নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি আরও খ্যাত ছিলেন রাসুল সা.এর সুমহান বৈশিষ্টে গুণান্বিত গোলাপ-এই উপাধিতে। খাজা আমীর কুলাল বুখারা থেকে দুই মাইল দূরে সুখর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি ছিলেন হযরত আল-ইমাম মুহাম্মদ বাহাউদ্দীন নকশবন্দী কুদ্দিসা সিররুহু এর পীর ও মোর্শেদ।
রেস্টুরেন্ট/হোটেলে ডিনার।
হোটেলে ফেরৎ ও বুখারায় রাত্রি যাপন।
ষষ্ঠ দিন হযরত আল ইমাম খাজা মুহাম্মাদ বাহাউদ্দীন নকশবন্দী কুদ্দিসা সিররুহু কমপ্লেক্স
হোটেলে সকালের নাস্তা।
নকশবন্দী তরিকার প্রতিষ্ঠাতা হযরত আল-ইমাম খাজা মুহাম্মদ বাহাউদ্দীন নকশবন্দী কুদ্দিসা সিররুহু এর কমপ্লেক্সের উদ্দেশ্যে রওনা।
সারাদিন নানান ইবাদত মুখরতা, যথাঃ জিকির, ইতিকাফ, নামাজ এবং অন্যান্য অনুশীলনে ভরে উঠবে। এছাড়া সম্ভাব্য অনুষ্ঠানসূচী নিম্মরুপঃ
ক. পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত
খ. বুখারার গভর্নর, উজবেকিস্তানের পর্যটন মন্ত্রী বা তার প্রতিনিধি এবং বুখারার প্রধান মুফতির স্বাগত বক্তব্য।
গ.বিশিষ্ট অতিথি মাশায়েখদের বক্তব্য।
ঘ. হযরত আল-ইমাম মুহাম্মদ বাহাউদ্দীন নকশবন্দী (কু.).এর আওরাদ
ঙ. কাসিদাহ, মুরাকাবাহ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
চ. স্থানীয় দক্ষ -বিশেষজ্ঞদের ইসলামী ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী
নকশবন্দী কমপ্লেক্সের কাছাকাছি একটি স্থানীয় রেস্তোরাঁয় লাঞ্চ এবং ডিনার
হোটেলে রাত্রি যাপন
ফেস্টিভাল-এর সমাপ্তি
সপ্তম দিনঃ
প্রাতঃরাশ। তাসখন্দ থেকে দ্রুতগতির ট্রেন "আফ্রোসিয়াব" বা এক্সিকিউটিভ কোচে রওনা । তাসখন্দে পৌঁছে স্থানীয় রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবার। যারা ফিরতি ফ্লাইটের পূর্বেই হাতে কিছুটা সময় পাবেন তারা শপিং ও কেনাকাটা করতে পারবেন। অতঃপর তাসখন্দ বিমান বন্দর থেকে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন।
অতিথিদের মাঝে যাদের ফ্লাইট পরের দিন, তাদেরকে অন্য হোটেলে পাঠানো হবে এবং অতিথিরা ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলে, আয়োজকরা তাদেরকে তাসখন্দ বিমানবন্দরে পাঠাবেন।
২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ দুপুর ১২ টার পর হতে সকল খরচ অতিথিদের নিজেদেরকেই বহন করতে হবে।
ভ্রমণ সংক্রান্ত আরও তত্ত্ব পেতে নিচের লিঙ্কে ভিজিট করুন
"আমাদের ট্যুর প্যাকেজে তাসখন্দের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের অভিজ্ঞতা নিন! তাসখন্দ টাওয়ার, স্বাধীনতা স্কয়ার এবং চোরসু বাজারের মতো শীর্ষ আকর্ষণগুলি দেখুন। ঐতিহ্যবাহী উজবেক খাবার উপভোগ করুন এবং হাতে-কলমে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করুন। আমাদের ট্যুর প্যাকেজও বিলাসবহুল আবাসন এবং পরিবহন অন্তর্ভুক্ত। প্রাণবন্ত শহর তাসখন্দ অন্বেষণ করার এই সুযোগটি মিস করবেন না। এই আশ্চর্যজনক যাত্রায় আপনার স্থান সুরক্ষিত করতে এখনই বুক করুন!"