সোমবার - " আগুনের পরশমণি "
আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে এ জীবন পুণ্য করো দহন-দানে।।
আমার এই দেহখানি তুলে ধরো, তোমার ওই দেবালয়ের প্রদীপ করো— নিশিদিন আলোক-শিখা জ্বলুক গানে।।
আঁধারের গায়ে গায়ে পরশ তব সারা রাত ফোটাক তারা নব নব। নয়নের দৃষ্টি হতে ঘুচাও কালো, যেখানে পড়বে সেথায় দেখবে আলো— ব্যথা মোর উঠবে জ্বলে ঊর্ধ্বপানে।।
মঙ্গলবার - " তুমি নির্মল করো "
তুমি নির্মল কর, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে। তব পুণ্য-কিরণ দিয়ে যাক্, মোর মোহ-কালিমা ঘুচায়ে।।
লক্ষ্য-শূন্য লক্ষ বাসনা ছুটিছে গভীর আঁধারে, জানি না কখন ডুবে যাবে কোন্ অকুল-গরল-পাথারে! প্রভু, বিশ্ব-বিপদহন্তা, তুমি দাঁড়াও, রুধিয়া পন্থা; তব শ্রীচরণ তলে নিয়ে এস, মোর মত্ত-বাসনা ঘুচায়ে।।
আছ, অনল-অনিলে, চিরনভোনীলে, ভূধরসলিলে, গহনে; আছ, বিটপীলতায়, জলদের গায়, শশীতারকায় তপনে। আমি, নয়নে বসন বাঁধিয়া, ব'সে, আঁধারে মরিগো কাঁদিয়া; আমি, দেখি নাই কিছু, বুঝি নাই কিছু, দাও হে দেখায়ে বুঝায়ে।।
বুধবার - " আনন্দ লোকে "
আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর।। মহিমা তব উদ্ভাসিত মহাগগনমাঝে, বিশ্বজগত মণিভূষণ বেষ্টিত চরণে।।
গ্রহতারক চন্দ্রতপন ব্যাকুল দ্রুত বেগে করিছে পান, করিছে স্নান, অক্ষয় কিরণে।। ধরণী ’পরে ঝরে নির্ঝর, মোহন মধু শোভা ফুলপল্লব-গীতগন্ধ-সুন্দর-বরনে।।
বহে জীবন রজনীদিন চিরনূতনধারা, করুণা তব অবিশ্রাম জনমে মরণে।। স্নেহ প্রেম দয়া ভক্তি কোমল করে প্রাণ, কত সান্ত্বন করো বর্ষণ সন্তাপহরণে।। জগতে তব কী মহোৎসব, বন্দন করে বিশ্ব শ্রীসম্পদ ভূমাস্পদ নির্ভয়শরণে।।
বৃহস্পতিবার - " বিশ্বসাথে যোগে "
বিশ্বসাথে যোগে যেথায় বিহারো, সেইখানে যোগ তোমার সাথে আমারো।।
নয়কো বনে, নয়কো বিজনে, নয়কো আমার আপন মনে, সবার যেথায় আপন তুমি, হে প্রিয়, সেথায় আপন আমারো।।
সবার পানে যেথায় বাহু পসারো, সেইখানেতেই প্রেম জাগিবে আমারো। গোপনে প্রেম রয় না ঘরে, আলোর মতো ছড়িয়ে পড়ে— সবার তুমি আনন্দধন হে প্রিয়, আনন্দ সেই আমারো।।
শুক্রবার - " বন্দে মাতরম্ "
বন্দে মাতরম্। সুজলাং সুফলাং মলয়জশীতলাম্ শস্যশ্যামলাং মাতরম্। বন্দে মাতরম্।।
শুভ্রজ্যোৎস্না-পুলকিত-যামিনীম্, ফুল্লকুসুমিত-দ্রুমদলশোভিনীম্, সুহাসিনীং সুমধুরভাষিণীম্ সুখদাং বরদাং মাতরম্।। বন্দে মাতরম্।।
সপ্তকোটি-কণ্ঠ-কল-কল-নিনাদ-করালে, দ্বিসপ্তকোটি-ভুজৈর্ধৃত-খরকরবালে, অবলা কেন মা এত বলে। বহুবলধারিণীং নমামিারিণীং রিপুদলবারিণীং মাতরম্।। বন্দে মাতরম্।।
তুমি বিদ্যা, তুমি ধর্ম, তুমি হৃদি, তুমি মর্ম, ত্বং হি প্রাণাঃ শরীরে। বাহুতে তুমি মা শক্তি, হৃদয়ে তুমি মা ভক্তি, তোমারই প্রতিমা গড়ি মন্দিরে মন্দিরে।। বন্দে মাতরম্।।
ত্বং হি দুর্গা দশপ্রহরণধারিণী, কমলা কমলদলবিহারিণী, বাণী বিদ্যাদায়িনী, নমামি ত্বাম্, নমামি কমলাম্ অমলাং অতুলাম্ সুজলাং সুফলাং মাতরম্।। বন্দে মাতরম্।।
শ্যামলাং সরলাং সুস্মিতাং ভূষিতাম্ ধরণীং ভরণীং মাতরম্।। বন্দে মাতরম্।।
শনিবার - " বিশ্ব পিতা তুমি "
বিশ্বপিতা তুমি হে প্রভু, আমাদের প্রার্থনা এই শুধু— তোমারি করুণা হতে বঞ্চিত না হই কভু।।
এ আকাশ বাতাস এ নদ-নদী, এ সাগর পাহাড় এ বনানী— ফুলে ফলে রঙে রসে ভরে ভরে দিয়েছ যে দানে।।
কুহু কুহু কোকিলার কূজনে, গুন গুন ভ্রমরার গুঞ্জনে— প্রভাতে নিশীথে সূর্যের চাঁদের খেলা এই গগনে।।
বিপদে আপদে সংশয়ে, কখনও যেন না ডরি। শত বাধা বিঘ্নেরও মুখোমুখি যেন করি।
সত্যের দীপ চোখে জ্বালিয়ে, আঁধারের রাত যাবো পেরিয়ে— ভরিব ধরণী হাসিতে প্রেমে আর গান দিয়ে।।