করোনা ভাইরাস ব্যাধি হচ্ছে একটি সংক্রামক ব্যাধি, যার সংক্রমণ একটি নতুন ভাইরাস এর মাধ্যমে হয়। এই ভাইরাসটিকে আমরা করোনা ভাইরাস বা COVID-19 হিসাবে চিনি। এই রোগটি শ্বাসযন্ত্রের নান সমস্যা এবং অসুখ তৈরী করে, যেমন ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু। এর উপসর্গ হিসাবে কাশি, জ্বর এবং আরো গুরুতর ক্ষেত্রে শ্বাসক্রিয়ায় সমস্যা তৈরী করে। এখন পর্যন্ত এই ব্যাধির কোনো নিরাময় কিংবা টিকা আবিষ্কৃত হয় নি। বাংলাদেশ রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (IEDCR) এদেশে প্রথম করোনা ভাইরাস এর রোগী সনাক্ত করে ৭ মার্চ, ২০২০ তারিখে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের কথা বিবেচনা করলে, আমরা এই মুহূর্তে জাতীয় পর্যায়ে এই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছি।
অনুসন্ধান করে বের করা হয়ে যে ১ ডিসেম্বর, ২০১৯ তারিখে মধ্য চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ঘটে। সংক্রমণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে, উহান পৌর স্বাস্থ্য কমিশন ৩১ ডিসেম্বর একটি জনবিজ্ঞপ্তি প্রচার করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২০ এপ্রিল, ২০২০ তারিখ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী COVID-19 এর সনাক্ত করা রোগী দের প্রায় 14℅ মারা গিয়েছে। তুলনা করতে গেলে বলা যায় মৌসুমি ইনফ্লয়েঞ্জা বা ফ্লু তে সংক্রমিত মানুষদের মধ্যে ০.০২ % এর কম মারা যায়।
১০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা তার চেয়ে বেশি
ঘন ঘন শুকনো কাশি
মাথা ধরা বা মাথা ব্যাথা
শ্বাসকষ্ট হওয়া, খাবার খেতে অসুবিধা হওয়া
চোখ চুলকানো বা লাল হয়ে যাওয়া
পেট ব্যাথা, বমি বা পাতলা পায়খানা
বুকে ব্যথা এবং চাপ অনুভব করা
মাংশপেশি তে ব্যাথা
স্বাদ না পাওয়া
নাকে গন্ধ না পাওয়া
তন্দ্রাচ্ছন্নভাব
এছারাও আরও বিভিন্ন ধরনের লক্ষন দেখা দিতে পারে, অসুস্থ ব্যক্তির রোগ বেড়ে যেতে পারে । সংক্রমিত হওয়ার ২ - ১৪ দিন পর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। উপসর্গ দেখা দেয়ার সাথে সাথে ডাক্তারি পরামর্শ নেয়া উচিত।
অহরহ হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। সাবান এবং পানি দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে হাত ধোয়া উচিত। সাবান এবং পানি হাতের কাছে না থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।
মানুষের সাথে ঘনিষ্ঠতা পরিহার করুন ( করমর্দন বা হ্যান্ডশেইক, আলিঙ্গন বা কোলাকুলি করা, চুম্বন ইত্যাদি )
মুখের যেকোন অংশে (চোখ, নাক, ঠোঁট ইত্যাদি ) হাত দেয়া থেকে বিরত থাকুন।
হাঁচি বা কাশি দেয়ার সময় টিস্যু দিয়ে মুখ ঢেকে নিন, তারপর টিস্যুটি ফেলে দিন। হাতের নাগালে টিস্যু না থাকলে বগল বা কনুই ব্যবহার করে মুখ ঢেকে নিন।
দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি (যেমন মোবাইল ফোন, ল্যাপ্টপ, চশমা, মানিব্যাগ ইত্যাদি) পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত করুন।
অসুস্থ হলে বাসায় থাকুন, যদি না আপনার চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।
১. কমর্দন বা হাত মিলানো এবং কোলাকুলি করা বা জড়িয়ে ধরা।হাত, মুখ না ধুয়ে পুরো দিন কাটিয়ে দেয়া।
২. জ্বর, হাঁচি, কাশি এবং এধরণের উপসর্গ রয়েছে এমন কারো সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়া।
৩. খোলা পরিবেশে কোনো আবরণ ছাড়া হাঁচি, কাশি দেয়া।
৪. জ্বর, হাঁচি, কাশি থাকা অবস্থায় অফিসে যাওয়া, জন সমাগম আছে এমন কোথাও যাওয়া।
৫. ঘন ঘন চোখে, নাকে এবং মুখে হাত দেয়া বা হাত পরিষ্কার না করেই এসব অংশে হাত দেয়া।
৬. করোনার উপসর্গ (যেমন জ্বর, হাঁচি, কাশি) থাকা সত্ত্বেও ঘুরাঘুরি করা এবং মাস্ক ছাড়া অন্য মানুষের কাছাকাছি যাওয়া।
৭. উপসর্গ দেখে অনুমানের উপর ভিত্তি করে নিজে নিজে ঔষধ সেবন করা (যেমন এন্টিবায়োটিক)
৮. রাস্তা, ফুটপাথ কিংবা যেখানে সেখানে অযাচিতভাবে থুথু ফেলা।
৯. দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা পৃষ্ঠতল এবং সরঞ্জাম পরিষ্কার না করে, স্বাভাবিক সময়ে যেভাবে ব্যবহার করা হয়, সেভাবে ব্যবহার করতে থাকা।
১০. করোনা জর্জরিত কোন দেশ বা অঞ্চল থেকে যাত্রা করে আসার পর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং কর্মকর্তাদের দেয়া বিধি-নিষেধ অমান্য করে যেভাবে খুশি চলা।
১. করমর্দন বা হাত মিলানো, কোলাকুলি করা বা জড়িয়ে ধরা থেকে শুরু করে সব ধরণের শারীরিক সংযোগ পরিহার করবো। যদি একান্তই বাধ্য হই, তাহলে অবশ্যই পরিষ্কার পরিচ্ছনতা নিশ্চিত করবো।
২. ঘন ঘন সাবান এবং পানি দিয়ে হাত ধুবো। হাতের নাগালে সাবান-পানি না থাকলে এলকোহল-ভিত্তিক হ্যান্ড রাব বা স্যানিটাইজার ব্যবহার করবো।
৩. হাঁচি, কাশি দিচ্ছে এমন ব্যক্তির সাথে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রাখবো (অন্তত ১ মিটার বা ৩.৫ ফিট)
৪. হাঁচি এবং কাশি দেয়ার সময় টিস্যু বা রুমাল দিয়ে মুখ ঢেকে নিবো। ব্যবহারের পর টিস্যু ফেলে দিবো এবং সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুব অথবা এলকোহল-ভিত্তিক হ্যান্ড রাব বা স্যানিটাইজার ব্যবহার করবো। প্রতিদিন রুমালটি নিজ হাতে ধুবো এবং ইস্ত্রি করবো। টিস্যু বা রুমাল কোনটিই না থাকলে বগল কিংবা কনুইয়ের অংশ দিয়ে মুখ ঢেকে হাঁচি বা কাশি দিবো। এভাবে নিজের সম্ভাব্য সংক্রমণ অন্যদের মাঝে ছড়ানো থেকে বিরত থাকবো।
৫. জ্বর, হাঁচি, কাশি থাকলে জন সমাগমে, অফিসে এবং অন্য যেসকল জায়গায় অন্য মানুষের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব জায়গায় যাবো না। বাসায় থেকে সামাজিক বিছিন্নতা বজায় রাখবো।
৬. চোখে, নাকে বা মুখে হাত দেয়া থেকে বিরত থাকবো। সারাদিন আমরা এমন অনেক জায়গায় হাত দেই যেখানে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে থাকতে পারে। তাই একান্তই চোখে, নাকে বা মুখে হাত দিতে হলে অবশ্যই হাত পরিষ্কার করে নিবো।
৭. জ্বর, হাঁচি, কাশি জাতীয় উপসর্গ থাকলে অবশ্যই মাস্ক পরবো এবং আলো-বাতাসের যথেষ্ট চলাচল আছে এরকম একটি কক্ষে বিচ্ছিন্ন রাখবো নিজেকে।
৮. যদি জ্বর, হাঁচি, কাশি কিংবা নিঃশ্বাসে দুর্বলতা থাকে তাহলে যতদ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নিবো। যদি হাসপাতালে যাওয়া সম্ভব না হয়, অবশ্যই একজন স্বাস্থ্য কর্মী, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসককে ফোন দিয়ে পরামর্শ নিবো।
৯. বেসিন, টয়লেট, ড্রেন কিংবা এধরণের কোন স্থানে থুথু ফেলবো যাতে তা অন্য কারো সংস্পর্শে না আসে।
১০. দরজার ছিটকিনি ও হাতল, গাড়ির দরজার হাতল, লিফটের বোতাম, ফোন, চশমা, মানিব্যাগ ইত্যাদি প্রতিদিন সাবান-পানি কিংবা জীবাণুনাশক পদার্থ দিয়ে পরিষ্কার করবো।
১১. বিমানবন্দর কিংবা দেশের বিভিন্ন বর্ডার দিয়ে ঢুকার সময় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং কর্মকর্তাদের দেয়া সকল বিধি-নিষেধ এবং পরামর্শ মেনে চলবো।