সত্যি বলছি...আমি ভালো নেই,
নির্ঘুম রাত
এখন দীর্ঘ থেকে আরও দীর্ঘতর হচ্ছে
হারিয়ে যাচ্ছে,নিশির কবুতর...
একটা না-বলা বাড়ন্ত বেদনায়
কাতরাতে কাতরাতে কখন যে
পলাশ ফোঁটা ভোরকে ছুঁয়ে ফেলি
নিজেই বলতে পারি না।
এই নির্ঘুম পৃথিবীতে ফের প্রভাত নামে-
তবুও আমি আলতো আলোয়--গিজগিজ করা এই কাক ডাকা শহরে
তোমাকে খুঁজি।
কিন্তু ভোরের একমুঠো কাঁচা সূর্যের আলো
কেমন যেনো হঠাৎ করে নিভে যায়,
হারিয়ে ফেলে তার সকল আলোর মালা,
পৃথিবীর গতর জুড়ে নেমে আসে এক কালবৈশাখী আঁধার।
আমি ঢলে পড়ি ঘুটঘুটে ধরণীর বুকে,
হামাগুড়ি দিয়ে তোমার একরাশ
চমৎকার আলো খুঁজি
ছবি: সংগৃহীত
কিন্তু আলোর দু'হাত নাড়িয়ে
তীব্র এক ঝাঁঝালো কন্ঠে
চিৎকার করে বারবার বলছে
তুমি ভুল করেছো,যদি একটি প্রহর আগে আমাকে বলতে...
তখন আমি মাথানিচু করে
দু'হাতে শিখল পরা বন্দীর মতো দাঁড়িয়ে।
আলোকে বলি-এই আমিই সবকিছু বলতে চেয়েছিলাম,
কিন্তু সেই সুযোগ আমি পাইনি।
যদি তুমি কখনো তার দেখা পাও,বলে দিও আমি তাকে এতো
বেশি ভালোবেসেছি যে-
যুবতী রাতের শিরায় শিরায় খুঁজে চলছি-
আমার সেই নিশুতি রাতের আয়না।
সুরঞ্জনা, ওইখানে যেওনাকো তুমি,
বোলোনাকো কথা ওই যুবকের সাথে;
ফিরে এসো সুরঞ্জনা:
নক্ষত্রের রুপালি আগুন ভরা রাতে;
ফিরে এসো এই মাঠে, ঢেউয়ে;
ফিরে এসো হৃদয়ে আমার;
দূর থেকে দূরে— আরো দূরে
যুবকের সাথে তুমি যেওনাকো আর।
কি কথা তাহার সাথে? তার সাথে!
আকাশের আড়ালে আকাশে
মৃত্তিকার মতো তুমি আজ:
তার প্রেম ঘাস হ’য়ে আসে।
সুরঞ্জনা,
তোমার হৃদয় আজ ঘাস:
বাতাসের ওপারে বাতাস—
আকাশের ওপারে আকাশ।
ছবি.. সংগৃহীত।
আমি কি তোমার কাছে সংসার চেয়েছি?
বলেছি কি, বাড়ির লোকদের ছেড়ে এসে
কেবল আমার সঙ্গে থাকো?
সেই কথা কখনো বলিনি।
বলেছি যে, কাছে এসো। বলেছি, আমাকে নাও। হ্যাঁ আমাকে নিয়ে
বলেছি, বলেছি
আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে তোমার
শরীরে, লেখার মধ্যে, রাখো!