Higher Secondary
History of School
সম্মানিত বৃন্তক শিক্ষা নিকেতন পরিচালন পরিষদের মাননীয় মাননীয়া সদস্য সদস্যা বৃন্দ।
সম্মানীয় সম্মানীয়া সুযোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা মন্ডলী সুযোগ্য সুযোগ্যা অশিক্ষক কর্মচারী বৃন্দ।
এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সুযোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা মন্ডলী। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী ও বর্তমান পাঠরত ছাত্র ছাত্রী বৃন্দ।
বিদ্যালয়ের বর্তমান ছাত্র ছাত্রীদের সম্মানীয় অভিভাবক অভিভাবিকা বৃন্দ। প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের সম্মানীয় অভিভাবক অভিভাবিকা বৃন্দ।
শিক্ষানুরাগী শ্রদ্ধেয় এলাকাবাসী । শিক্ষানুরাগী বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ।
শিক্ষানুরাগী এলাকার ও এলাকার বাইরের ব্যক্তিবর্গ যাদের অবদানে, আন্তরিক সহযোগিতায় এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার হস্ত প্রসারিত করেছিলেন তাদের সকলকে বিদ্যালয় এর সূচনা দিবসের প্রাক্কালে জানাচ্ছি সশ্রদ্ধ অভিবাদন, কৃতজ্ঞতা, বিনম্র শ্রদ্ধা, গভীর ও আন্তরিক অভিনন্দন। যেসব ছাত্র ছাত্রীরা আজ বিদ্যালয়ে নেই, অথচ তাদের কলরবে মুখরিত হয়েছিল বিদ্যালয় প্রাঙ্গন । তাদের সকলকে জানাই প্রাণ ভরা ভালোবাসা। যাদের কলতানে মুখরিত হয় বিদ্যালয় প্রাঙ্গন অফুরন্ত প্রাণ সম্পদে ভরপুর থাকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, বিদ্যালয়ের ইট-পাথর ও তখন প্রাণময় হয়ে ওঠে - প্রাণের সংলাপে। সেই প্রাণময় শিশুদের প্রাণ জয় করা ভালোবাসা জানাচ্ছি। সেই সাথে প্রাপ্তন সুযোগ্য ছাত্রছাত্রীরা মিলনের সৌধ *অনুভব* রচনা করে বিদ্যালয়ের অতীত-বর্তমানের সংশ্লিষ্ট সকলের অনুভব প্রকাশের একটি জায়গা নির্মাণ করে মানুষের অনুভবকে চিরজাগ্রত রাখার প্রয়াস নিশ্চিত ভাবে তাকে অমরত্ব দেবে অনুভবের, অমরত্ব দেবে প্রানের। প্রানের জয় হোক।
কেন এই ভূমিকা ! আজ 2 রা জুন 2021 ইং 3 রা জুন 1996 ইং জন্ম নিল সেই শিশুটি , নাম ছিল তার *বৃন্তক শিশু শিক্ষা কেন্দ্র (Brintak Child Education Center)* বাইখোড়ায় শিশু শিক্ষায় এক নতুন পালক যুক্ত হল। 3 রা জুন 1996 ইং এক অনাড়ম্বর অথচ আনন্দঘন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জন্ম নিল এই শিশু শিক্ষা কেন্দ্রটি। বিদ্যালয় পত্তনের কাজটি শুরু হয়েছিল এই দিন দশেক আগে থেকে। চরকবাই উচ্চ বিদ্যালয়ে এলেন এক জীববিদ্যার শিক্ষক, নাম তার শ্রী দিলীপ চন্দ্র সরকার । আমি বাইখোড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে তখন শিক্ষকতা করি। দীলিপবাবুর পুত্র সন্তান পাপাই শান্তিরবাজার থাকাকালে ত্রিভাষা শিশু শিক্ষা নিকেতনে শিশু শিক্ষায় পারদর্শী হয়ে উঠেছিল। তার সন্তানের প্রাথমিক লেখাপড়া যাতে ছেদ না পরে তা নিশ্চিত করতে বাইখোড়ায় অনুরূপ শিশুশিক্ষা বিদ্যালয় স্থাপন করতে তৎপর হয়ে উঠেন। তার তৎপরতা ছিল লক্ষণীয়। তিনি ইতিমধ্যে 3+ থেকে 5+ বয়সী ছেলেমেয়েদের সাথে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চিন্তা ভাবনা তুলে ধরে সহযোগিতা প্রার্থনা করেন। যতটুকু জানি সহযোগিতা করতে রাজি আছে অনেকে কিন্তু সহযোগী হতে চাননি । আমাকেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আমার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আমি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সাই দিই। আমার সাই দেওয়ার পেছনে কোনো তৎপরতা ছিল না। কিন্তু আমি যুক্ত হয়ে পড়ি তার সঙ্গে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায়। দীর্ঘদিন সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে করতে দেখেছি যে, সরকারি বিদ্যালয়ে নানা বিধি-নিষেধ রয়েছে , যা সৃজনশীলতার অন্তরায় সৃষ্টি করে। স্বাধীন চিন্তার পরীক্ষামূলক কর্মোদ্যোগ সম্ভব নয় বলে আমার মনে হয়েছিল। এতে করে আমার মধ্যে ছোট্ট একটা বাসনা জেগেছিল, ছোট্ট একটা স্বাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার । দুজনের মধ্যে আমাদের মিল বা অমিল যাই বলুন, আমারা এক উদ্দেশ্যে মিলে গেলাম । সিদ্ধান্ত হল বিদ্যালয় গড়ার। দুজনে মিলেই। মে এর মাঝা মাঝি শুরু হয়ে গেল 3+, 4+, 5+ তিন শ্রেণীতে ভর্তি। 2 তারিখ পর্যন্ত ভর্তি হয়ে গেল বিভিন্ন শ্রেণীতে প্রায় জনা দশেক ছাত্র-ছাত্রী। 3 রা জুন একজন ভর্তি হল। পুরো জুন মাস ধরেই চলল সেই শিক্ষাবর্ষের ভর্তি । ভাড়াবাড়ি খুঁজে পাওয়া গেলো বাইখোড়ার বিশিষ্ট হোমিও চিকিৎসক সমীর দে এর বাইখোড়া বাজার সংলগ্ন বাড়িটি। দুটি কাঁচা ঘর নিয়ে শুরু হলো পঠন-পাঠনের পবিত্র কাজটি । স্বল্প বেতনে কাজ করতে রাজি হয়ে গেলেন দর্শন শাস্ত্রের অনার্স স্নাতক শ্রীমতি কাকলি সিংহ ও এম কম পাস করা স্থানীয় মেয়ে শ্রীমতি অর্চনা দেবনাথ। কাকলি সিংহ কে দেওয়া হলো প্রিন্সিপালের দায়িত্ব। কেয়ারটেকার (আন্টি ) হিসেবে দুই জনকে নিয়োগ করা হলো একজন হলো শান্তি বৈদ্য, যিনি এখনো বড় আন্টি হিসেবে বিদ্যালয়ে কাজ করছেন। আরেকজন হলেন মায়া দাস যিনি পরবর্তী সময়ে বিদ্যালয়ের কাজটি ছেড়ে দেন। আজকের দিনটির পরে 3 রা জুন বাইখোরার ইতিহাসে একটি বিশেষ স্মরণীয় দিন। নানা প্রতিকূলতায় স্কুল এগিয়ে চলল। আমরাও স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম, বর্তমান বিদ্যালয়টিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিণত করার। শিক্ষার্থীর সাফল্যই এনে দিয়েছে আমাদের প্রত্যয়। আমাদের স্বপ্ন মূলত তারাই রচনা করেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি অনুমোদন পাওয়ার আগের মুহূর্ত গুলো ছিল ঝড়-ঝঞ্ঝা পূর্ণ । বহু লোকের সহযোগিতায় আমরা লাভ করতে পেরেছিলাম সরকারি অনুমোদন। এই অনুমোদন আমাদেরকে অক্সিজেন জোগালো। মানুষের আস্থার একটি ক্ষেত্র তৈরি হলো । বাসনা জাগল একটি বৃহৎ জায়গার। জায়গার সন্ধান মিলল বর্তমান যে স্কুল বাড়িতে আমি থাকি সেই বাড়িটা ছিল প্রয়াত মিলন সরকারের । তিনি শিক্ষা দপ্তরের বিভিন্ন পদে কাজ করে গেছেন। যে বিদ্যালয়টি শুরু হয়েছিল দুজনের উদ্যোগে, সে দুজন *আমি* এবং *দীলিপবাবু* । আমরা দুজন সম্মত হয়ে একটি পরিচালন কমিটি গঠন করি। যে পরিচালন কমিটির প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রয়াত *_রাসু রঞ্জন রায়_*। তখন থেকে স্কুলটি সর্বসাধারণের জন্য উৎসর্গ করা হল। শুরু হয়ে গেল নতুন উদ্যোগ । নিজস্ব স্কুল বাড়ি কেনার উদ্যোগ। সিদ্ধান্ত হলো জনসাধারণের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহের। আমি মুগ্ধ হলাম জনসাধারণের অভূতপূর্ব সাড়ায়। তাদের সকলকে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সশ্রদ্ধ প্রণতি ও অভিবাদন জানাচ্ছি। কেনা হলো মিলন বাবুর বাড়িটি। 1998 সালের 25 ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয় এর নতুন নাম হলো *বৃন্তক শিক্ষা নিকেতন*। এই নামে শুরু হল নিজস্ব জায়গায় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। আর সেই থেকে 25 শে ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতিবছর 25 শে ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। মার্জনা করবেন আমার বক্তব্যে যদি কোথাও ভ্রান্তি থাকে। 3 রা জুন এর প্রাক্কালে অর্থাৎ বিদ্যালয়ের সূচনা দিবসের প্রাক্কালে আমরা মিলিত হয়ে এই দিনটি উদযাপন করতে পারছিনা বলে আমার এই লেখার অবতারণ। ভয়ানক পরিস্থিতি আমাদের সামনে । তাই সমারোহ করে এই দিবস প্রতিপালন করতে পারলাম না। আমার লেখার যে আয়োজন তা শুধু এলাকাবাসীর উন্নত চিত্তের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, তা ছাড়া আর কিছু নয়। জীবনের জয় হোক। শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছান্তে।
বিনীত নিবেদক
*(মনোজ কান্তি সরকার)*
স্বাক্ষর
তারিখ- 3/6 /2021 ইং
*সম্পাদক*
*ম্যানেজিং কমিটি*
*বৃন্তক শিক্ষা নিকেতন*
*বাইখোড়া, দক্ষিণ ত্রিপুরা*