খাঁটি গাওয়া ঘি।
‘পদ্মার ইলিশ আর পাবনার ঘি নতুন জামাইয়ের পাতে দিলে আর লাগে কি?’ ঘি নিয়ে এ প্রবাদ শুধু পাবনাই নয়, দেশের অনেক এলাকাতেই প্রচলিত। আর এই সোনার বাংলাদেশে পাবনা বিখ্যাত হলো খাঁটি ঘি এর জন্য। যান্ত্রিক শহরে আমরা নির্ভেজাল খাবারের স্বাদ প্রায় একদম ভুলতেই বসেছি।
এই ভেজালপূর্ণ বাজারেও আমরাই দিচ্ছি পাবনার বিখ্যাত খাঁটি গাওয়া ঘি।
ফুল ফাইবার রাইস, স্বাস্থ্যের একাধিক সমস্যার সমাধান এক নিমেষে!
ভাতের সাথে বাঙালির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। চিকিৎসকের হাজার নিষেধ সত্ত্বেও ছিন্ন হয় না এই বন্ধন। এক বেলা ভাত না খেলে যেন গোটা দিনটাই যেন মাটি হয়ে যায়! তাই কথাতেই আছে 'ভেতো বাঙালি'। সাধারণত আমরা হোয়াইট রাইস খেতে অভ্যস্ত, আবার স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ খান ব্রাউন রাইস, কিন্তু ফুল ফাইবার রেড রাইস-র কথা শুনেছেন কি? ''ফুল ফাইবার রাইস', নামটা শুনেই হয়তো ভাববেন সেটা আবার কী!
এই ফুল ফাইবার রাইস কিন্তু স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপকারি। একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান হয় রেড রাইস খেলে। দুনিয়াতে প্রায় ৪০ হাজার রকমের চাল রয়েছে। প্রত্যেকটির আলাদা আলাদা খাদ্যগুণ। এর মধ্যে একটি হল ফুল ফাইবার রেড রাইস।
এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ম্যাগনেসিয়াম। যেগুলো একাধিক রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস, অ্যাজমার সমস্যা মিটবে রেড রাইস খেলে। তাহলে জেনে নিন এর বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ:
ইনসুলিন লেভেলকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে রেড রাইস। এর লো গ্লাইসেমিক সূচক সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে, তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এই চাল খুবই উপকারি।
অ্যাজমা প্রতিরোধে:
পালমোনারি ফাংশনকে নিয়ন্ত্রণ করে রেড রাইস। এই চালে রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম যা দেহের অক্সিজেনের সার্কুলেশন ঠিক রাখে। অ্যাজমা প্রতিরোধে সাহায্য করে রেড রাইস।
অক্সিজেন:
রেড রাইসে আছে আয়রন, এটি খেলে অক্সিজেন শোষণে সাহায্য করে এবং দেহের সমস্ত সেল এবং টিস্যুতে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। দেহে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক থাকলে আপনি থাকবেন এনার্জিতে ভরপুর।
হজমে সাহায্য :
রেড রাইস ফাইবারের দুর্দান্ত উৎস। এটি দেহ থেকে টক্সিন বের করে অন্ত্র ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
হার্টের সমস্যাকে দূরে রাখে :
রেড রাইসে থাকা উপাদান দেহে খারাপ কোলেস্টেরলের লেভেল কমাতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক থাকলে হার্টের সমস্যাও থাকবে দূরেl
আয়রনে ভরপুর :
আয়রনের অভাবে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ক্লান্ত হয়ে পড়বেন, কাজে মন বসবে না। রেড রাইসে আছে আয়রন, যা আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে।
ভিটামিন বি-৬:
আমাদের দেহ ভিটামিন বি-৬ তৈরি করতে পারে না। তাই এমন খাবার খেতে হবে যেগুলো থেকে এই ভিটামিন মিলবে। লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে ভিটামিন বি-৬ লাগে। এর অভাবে একাধিক অসুস্থতা বাসা বাঁধবে শরীরে।
স্থূলতার ঝুঁকি কমায়:
অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার, ফ্যাটজাতীয় খাবার খেলে স্থূলতা বাড়ে। রেড রাইস ফ্যাট ফ্রি হওয়ায় এটা খেলে আপনি মোটা হবেন না বা মেদ বৃদ্ধি হবে না।
হাড় মজবুত করে রেড রাইস :
রেড রাইসে থাকে ম্যাগনেশিয়াম যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি। তাই এই রাইস খেলে হাড় ক্ষয়ে যাবে না। জয়েন্টের সমস্যাও দূর করবে রেড রাইস।
ক্লান্তি দূর করে:
যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তাদের জন্য রেড রাইসের কোনও বিকল্প নেই। এতে থাকা উপাদান শরীরের ক্লান্তি দূর করে, আপনি থাকবেন চনমনে।
ওজন কমাবে রেড রাইস
রেড রাইসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা পাচনতন্ত্রের জন্য উপকারি এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দূর করে। এটি মেদ বৃদ্ধি করে না। তাই ওজন কমানোর ক্ষেত্রে রেড রাইস খেতেই পারেন।
স্বাস্থ্যোজ্জ্বল স্কিন:
রেড রাইসে থাকা আয়রন ও ভিটামিন রেড ব্লাড সেল বা লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। রেড রাইসে থাকা উপাদানগুলি স্কিনের জন্য খুব উপকারি। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনার স্কিনের বয়স বাড়তে দেবে না।
কথায় বলে মাছে-ভাতে বাঙালি। ভাত ছাড়া বাঙালির মধ্যাহ্নভোজ সম্পূর্ণ হয় না। তবে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ এখন ভাত থেকে দূরেই থাকেন। কারণ অনেকের ধারণা ভাত খেলে মেদ বাড়ে। তবে আর চিন্তা নেই। আজ থেকে খান ফুল ফাইবার রাইস।
এই চাল উচ্চ ফাইবার ও জিং সমৃদ্ধ তাই এই চাল ডায়াবেটিক রোগী, উচ্চ রক্ত চাপ,স্থূলতার ঝুঁকি ও হৃদরোগীদের জন্য আদর্শ ভাতের চাল।
পারফেক্ট এক কাপ চা এর জন্য
পারফেক্ট এক কাপ চা এর জন্য প্রয়োজন পারফেক্ট চা পাতা।
সিলেটের শ্রীমঙ্গল এর চা বাগানে উৎপাদিত সেরা চা সংগ্রহ করে নিয়ে আসছে আপনাদের জন্য। আমাদের প্রিমিয়াম ব্ল্যাক চা ও রেগুলার চা অত্যন্ত উন্নত মানের। তবে বাজারের অন্য চা-র মতো বাড়তি কোন কিছু মেশানো থাকেনা। আর এর স্বাদ বাজারের যেকোন চা-কে হার মানাবে। আমাদের প্রিমিয়াম ব্ল্যাক চা ও রেগুলার চা আপনাকে দিবে সর্বোচ্চ মানের স্বাদ, রং ও ঘ্রাণের অভিজ্ঞতা।
যবের ছাতু
যবের ছাতু
ছাতুঃ ছাতু এমন একটি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যা শরীরের নানা সমস্যা সমাধানে সহায়ক।
ছাতুর উপকারীতাঃ ছাতু একসময় শুধু ক্ষুদা নিবারনের জন্য খাওয়া হলেও বর্তমানে পুষ্টিবিদরা ছাতুর বহুবিধ উপকারীতা সম্পর্কে জানিয়েছেন। সংক্ষেপে চলুন জেনে নেই কিছু উপকারিতাঃ
১.হজম শক্তি বৃষ্টি করে
২.শরীর ঠান্ডা রাখতে খুবই উপকারী ও শরীরে বল ও পুষ্টি বৃদ্ধি করে।
৩.হার্ট ও কিডনি ভালো রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
৪. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে যবের ছাতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৫.যারা ডায়েট করেন তাদের খাদ্য তালিকায় যবের ছাতু রাখতে পারেন। কেননা এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
৬. কোলেস্টেরলের ঘনত্ব কমিয়ে রক্ত চলাচল সচল রাখে।
৭. শিশু, কিশোর, কিশোরীদের জন্য যবেরছাতু ব্রেইন ও বডি ডেভোলপ করে।
খাওয়ার নিয়মঃ
১. মিষ্টি দিয়েঃ চিনি/গুড়/মধু দিয়ে পানি/দুধের সাথে গুলিয়ে খেতে পারেন।
২. ঝাল দিয়েঃ পেয়াজ, মরিচ ও পানি দিয়ে মাখিয়ে গোলা তৈরি করে খেতে পারেন।
৩. সরবত করেঃ এক গ্লাস পানিতে ২চামচ ছাতু এড করে সরবত বানিয়ে খেতে পারেন।
৪. গমের আটার সাথে যবের ছাতু মিশিয়ে রুটি তৈরি করে খেতে পারেন।
সুন্দরবনের খলিষা ফুলের মধু
মধুর পুষ্টিগুণ নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। মানুষের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং মিনারেলসের সুষম মিশ্রণ রয়েছে এতে।
মধু প্রায় ৪৫টির অধিক উপকারী খাদ্য উপাদানে ভরপুর। যার ফলে এর উপকারীতার কমতি নেই কোন অংশে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, পতঙ্গ দ্বারা উৎপাদিত মধুই একমাত্র খাবার যা মানুষের খাদ্যযোগ্য।
শরীরের পর্যাপ্ত অ্যান্টি অক্সিডেন্টের যোগান দিয়ে বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা দেয় এই মধু। পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় সুস্থ থাকতে নিয়মিত মধু খাবার কোন বিকল্প নেই।
তাই, মধু না খেয়ে ঝুঁকি নিচ্ছেন না তো?
সুন্দরবনের খলিষা ফুলের চাকভাঙ্গা মধু
সুন্দরবনের খাঁটি মধুর কদর দেশজোড়া। সুন্দরবনকে মধুর স্বর্গরাজ্য বলা হয়। দেশে উৎপাদিত মধুর ২০% যোগান দেয় সুন্দরবনের মধু।
সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার। যার প্রায় ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত।
সুন্দরবনে বিভিন্ন ধরনের ফুল ধরে থাকে, যার মধ্যে খলিষা, গড়ান, কেওড়া, বাধন গাছ অন্যতম। তার মধ্যে সবচেয়ে দামী মধু হল খলিষা ফুলের মধু। যা বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত মধু।
খলিষা ফুলের মধু সুন্দরবনের অর্গানিক মধু।
এটি সাধারণত পাতলা হয়
এবং বুনো ঘ্রাণ থাকে
সাদা লালচে রং এর হয়।
এর সাথে গড়ান, কেওড়া, হরগোজা,পশুর ও কাকঁড়া ফুলের নেকটার থাকে।
পেটের অসুখে এই মধু খুব ভালো কাজ করে (বিশেষ করে বাচ্চাদের)
তিসির তেলের
তিসির তেলের গুনাগুন সম্পর্কে আমরা অনেকেই অবগত নই। একটু কষ্ট করে গুগলে ঘাটাঘাটি করলেই তিসির তেলের (Flax seeds Oil) গুনাগুন সম্পর্কে জানতে পারবেন। তিসির তেলের গুনাগুন জানলে আপনিও আপনার প্রিয়জনদের জন্য এটি ব্যবহার করতে চাইবেন।
সয়াবিন জাতীয় তৈলগুলো যদি আমাদের হার্ট এর জন্য চরম শত্রু হয়ে থাকে তবে তিসির তৈল আমাদের পরম বন্ধু।
তিসি বীজ আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী যাকে বলে প্রাকৃতিক ঔষধ ।
নবীন প্রবীণ সকলের জন্য প্রোটিনের একটি দারুন উৎস ।
প্রতিদিন ঘুমানোর আগে বা সকালে নাস্তার সঙ্গে খেতে হবে । প্রতিদিন চা চামচের এক চামচ তিসি ই যথেষ্ট স্বাস্থের জন্য ।
এর চেয়ে পরিমাণে বেশি খেলে ডায়রিয়া বা পেটে গ্যাসের সমস্যা হতে পারে ।
তিসি গুঁড়া করে পাউডার অথবা তিসির তেল দুই ভাবেই খাওয়া যায় ।
তিসির জেল ত্বকের জন্য ভীষন উপকারী ।
তিসি উদ্ভিদের কান্ড থেকে তন্তু বা ফাইবার পাওয়া যায় ।এই তন্তু লিনেন কাপড় , সুতা ,দড়ি ,প্যান্ট বা রং করার ক্যানভাস তৈরি করতে কাজে লাগে ।
গবেষণা বলছে Alpha Linolenic acid ও Lignas সমৃদ্ধ তিসির তেল আমাদের শরীরে ওমেগা 3 এর যোগান দেয়ার মাধ্যমে হার্টের সমস্যার সমাধান ও ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। বাচ্চাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশেও এটি দারুন কার্যকরী।