গঠনতন্ত্র
Association of Non-Government Educational Institute (ANGEIM)
মানিকগঞ্জ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমিতি (এনজিম)
ধারা ১: নাম ও পরিচিতি
১. সংগঠনের নাম “Association of Non-Government Educational Institute (ANGEIM)”।
২. এর বাংলা নাম “মানিকগঞ্জ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমিতি (এনজিম)”।
৩. এই সংগঠন একটি অলাভজনক, অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষা-উন্নয়নমূলক সমিতি।
৪. গঠনতন্ত্র অনুমোদনের তারিখ হতে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
ধারা ২: আইনগত অবস্থান
১. সংগঠনটি সমিতি নিবন্ধন আইন, ১৮৬০ অথবা বাংলাদেশে প্রচলিত প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী নিবন্ধনের জন্য যোগ্য।
২. সংগঠন একটি স্বতন্ত্র আইনগত সত্তা হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
৩. সংগঠনের আয়, সম্পদ ও তহবিল শুধুমাত্র নির্ধারিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যবহৃত হবে।
৪. কোনো সদস্য ব্যক্তিগতভাবে সংগঠনের সম্পদের মালিকানা দাবি করতে পারবেন না।
ধারা ৩: কার্যালয় ও কার্যপরিধি
১. সংগঠনের প্রধান কার্যালয় মানিকগঞ্জ জেলা, বাংলাদেশে অবস্থিত হবে।
২. কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে শাখা কার্যালয় স্থাপন করা যাবে।
৩. সংগঠনের কার্যপরিধি মানিকগঞ্জ জেলা জুড়ে বিস্তৃত থাকবে; প্রয়োজনে সম্প্রসারণ করা যাবে।
ধারা ৪: লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
১. মানিকগঞ্জ জেলার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক মান উন্নয়ন।
২. শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা পালন।
৩. শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মীদের প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজন।
৪. শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে সমন্বয় ও প্রতিনিধিত্ব করা।
৫. সদস্য প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান।
৬. শিক্ষার্থীদের নৈতিক, মানবিক ও দেশপ্রেমমূলক শিক্ষার বিকাশ।
৭. অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ।
৮. অনিন্ধিত প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনে সহযোগিতা করা।
ধারা ৫: সদস্যপদ
সদস্যের প্রকারভেদ:
১. সাধারণ সদস্য
২. আজীবন সদস্য
৩. সম্মানিত সদস্য
সদস্য হওয়ার যোগ্যতা:
১. মানিকগঞ্জ জেলার স্বীকৃত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা অনুমোদিত প্রতিনিধি হতে হবে।
২. সংগঠনের লক্ষ্য ও নীতিমালা মেনে চলার অঙ্গীকার করতে হবে।
৩. নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ ও অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।
সদস্যের অধিকার:
১. সভায় অংশগ্রহণ ও মতামত প্রদান।
২. ভোটাধিকার প্রয়োগ।
৩. নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া।
সদস্যের দায়িত্ব:
১. সংগঠনের নীতিমালা মেনে চলা।
২. নির্ধারিত চাঁদা প্রদান।
৩. সংগঠনের সুনাম রক্ষা করা।
ধারা ৬: সদস্যপদ স্থগিত ও বাতিল
১. সংগঠনের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপ।
২. টানা ৩ (তিন) মাস চাঁদা বকেয়া থাকা।
৩. শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অসদাচরণ।
৪. লিখিত কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান সাপেক্ষে কার্যনির্বাহী কমিটি সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে।
ধারা ৭: সাধারণ পরিষদ
১. সকল সাধারণ সদস্য নিয়ে সাধারণ পরিষদ গঠিত হবে।
২. সাধারণ পরিষদ সংগঠনের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষ।
৩. বার্ষিক বাজেট, প্রতিবেদন ও নির্বাচন অনুমোদনের ক্ষমতা থাকবে।
৪. সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
ধারা ৮: কার্যনির্বাহী কমিটি
১. ১৫ (পনের) সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি থাকবে।
২. কমিটির সদস্যবৃন্দ নিম্নরূপ:
সভাপতি – ১ জন
সহ-সভাপতি – ২ জন
সাধারণ সম্পাদক – ১ জন
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক – ১ জন
সাংগঠনিক সম্পাদক – ১ জন
কোষাধ্যক্ষ – ১ জন
দপ্তর সম্পাদক – ১ জন
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক – ১ জন
শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক – ১ জন
আইন বিষয়ক সম্পাদক – ১ জন
সদস্য – ৪ জন
৩. কার্যনির্বাহী কমিটি সংগঠনের দৈনন্দিন প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
ধারা ৯: নির্বাচন ও মেয়াদ
১. কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ ২ (দুই) বছর।
২. সাধারণ সভায় গোপন ব্যালট বা উন্মুক্ত ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
৩. নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন গঠন করা যাবে।
৪. কোনো পদ শূন্য হলে উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে পূরণ করা যাবে।
ধারা ১০: সভা ও কোরাম
১. মাসিক সভা প্রতি মাসে অন্তত ১ বার অনুষ্ঠিত হবে।
২. বার্ষিক সাধারণ সভা বছরে অন্তত ১ বার অনুষ্ঠিত হবে।
৩. জরুরি সভা সভাপতির অনুমোদনে আহ্বান করা যাবে।
৪. কোরাম হবে মোট সদস্যের ন্যূনতম এক-তৃতীয়াংশ উপস্থিতি।
ধারা ১১: অর্থ ও তহবিল
১. সংগঠনের অর্থের উৎস:
সদস্য চাঁদা
অনুদান ও দান
সেমিনার ও প্রশিক্ষণ ফি
আইনসম্মত অন্যান্য উৎস
২. সংগঠনের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হবে।
৩. সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ অথবা সাধারণ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক পরিচালিত হবে।
৪. বছরে অন্তত ১ (এক) বার নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
ধারা ১২: উপদেষ্টা পরিষদ
১. ৫–৯ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ থাকবে।
২. প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা, প্রশাসনিক উপদেষ্টা ও আর্থিক উপদেষ্টা মনোনীত করা যেতে পারে।
৩. উপদেষ্টাগণ ভোটাধিকারবিহীন হবেন।
৪. তারা পরামর্শমূলক ভূমিকা পালন করবেন।
১২.১ গঠন
১. সংগঠনের কার্যক্রমকে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে।
২. উপদেষ্টা পরিষদ ৩ থেকে ৭ জন বিশিষ্ট হতে পারে।
৩. কার্যনির্বাহী কমিটির সুপারিশক্রমে সাধারণ পরিষদের অনুমোদনে উপদেষ্টা মনোনীত হবেন।
১২.২ যোগ্যতা
১. শিক্ষা, প্রশাসন, আইন, সমাজসেবা বা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ও সুনামধারী ব্যক্তি হতে হবে।
২. অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, আইনজীবী বা সমাজনেতা উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত হতে পারবেন।
১২.৩ দায়িত্ব ও ক্ষমতা
১. সংগঠনের নীতিনির্ধারণী বিষয়ে পরামর্শ প্রদান।
২. জটিল বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া।
৩. সংগঠনের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা রক্ষায় সহায়তা করা।
৪. প্রয়োজনে সভায় উপস্থিত থেকে মতামত প্রদান।
১২.৪ মেয়াদ
১. উপদেষ্টার মেয়াদ ২ (দুই) বছর।
২. পুনঃমনোনয়নযোগ্য।
৩. ব্যক্তিগত কারণে লিখিতভাবে পদত্যাগ করতে পারবেন।
১২.৫ সীমাবদ্ধতা
১. উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যগণ ভোটাধিকার প্রাপ্ত হবেন না।
২. সংগঠনের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রমে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।
ধারা ১৩: গঠনতন্ত্র সংশোধন
১. সাধারণ সভায় উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গঠনতন্ত্র সংশোধন করা যাবে।
২. সংশোধিত গঠনতন্ত্র নিবন্ধন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।
ধারা ১৪: বিলুপ্তি
১. তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংগঠন বিলুপ্ত করা যাবে।
২. বিলুপ্তির ক্ষেত্রে সংগঠনের সম্পদ শিক্ষা উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হবে।
ধারা ১৫: বিবিধ
১. এই গঠনতন্ত্রের আওতায় সংগঠনের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
২. কোনো ধারা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।