লেখিকাঃ নুরজাহান উমা
Source: Jamuna TV
Source: Dainik Janata
ফেলানী - শুধু একটা নাম না, এক মায়ের আদরের মেয়ে।
একটা নিঃস্ব, দরিদ্র ঘরের সন্তান, যার হাসি মিশে ছিল বাবা-মায়ের জীবনের সমস্ত শূন্যতায়।
উত্তরাঞ্চলের এইসব প্রান্তিক জেলায় বহু পরিবার দারিদ্র্যের ভারে নুয়ে পড়ে। ভালোবাসা আছে, মায়া আছে — কিন্তু পেটের দায় সব অনুভূতিকে অনেক সময় চাপা দিয়ে দেয়। ছোট্ট মেয়েটি, ফেলানী খাতুন, বাবা নূরুল ইসলামের হাত ধরে নয়াদিল্লিতে গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়েছিল, শুধুই টিকে থাকার জন্য।
আর যেদিন সে ফিরছিল নিজের বাড়ি, নিজের মাটিতে... বাবার হাত ধরে বিয়ের স্বপ্ন নিয়ে - ঠিক সেদিনই দিনহাটার সীমান্তে ভারতের বিএসএফ তাকে গুলি করে হত্যা করে।
তার লাশ প্রায় ৫ ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে ছিল, এক মেয়ের মর্যাদা ও মানবাধিকারের করুণ পরিহাস হয়ে।
ফেলানী কাঁটাতারে ঝুলে ছিল, শুধু দেহ না, পুরো জাতি, আমাদের মানবতা, আমাদের চেতনা যেন ঝুলছিল তার সাথে।
সেই বিভৎস ছবি গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিএসএফকে খোলাখুলিভাবে 'খুনি বাহিনী' বলে অভিহিত করে। কিন্তু তবুও, বিচারের নামে হয় শুধুই প্রহসন। আজ ১৪ বছর পেরিয়ে গেছে। ফেলানীর বাবা সাক্ষী দিয়েছেন, মামা সাক্ষী দিয়েছেন, কিন্তু বিচার কি আদৌ এসেছে?
এদিকে, ২০২৪ সালের জুলাই, যেন আবার ফিরে এলো সেই একই ব্যথা, ভিন্ন নামে, ভিন্ন চেহারায়।
এইবার রিয়া গোপ, ছোট্ট এক সোনা চাঁদের টুকরো মেয়ে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের উত্তাল সময়ে, ছাদে খেলতে গিয়ে বাবার কোলে গুলিবিদ্ধ হয় সে।
বাবা দীপক গোপ নিজে উঠে গিয়েছিলেন তাকে নিরাপদে আনতে, বাবারা তো সবসময় ঢাল হয়ে দাঁড়ায়!
কিন্তু আচমকা এক গুলি শেষ করে দেয় সবকিছু। ICU এর ভেতরে আর বাইরে চলে এক অসম যুদ্ধ।
শেষ পর্যন্ত, ২৪ জুলাই, রিয়া আর ফিরে আসে না।
আমরা কেন বারবার আমাদের সন্তানদের হারাই? কেন ফেলানী বা রিয়া গোপ, আমাদের চোখের সামনে এভাবে হারিয়ে যায়, আর আমরা চুপ করে থাকি?
ফেলানী আমারই তো ছোট বোন।
রিয়া গোপ আমাদেরই তো সন্তান।
একটা দেশের সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হওয়া উচিত তার বাবা-মায়ের কোলে, অথচ এখানেই রক্ত ঝরে বারবার।
আমরা বিশ্বজিৎ, আবু সাইদ, আবরার, মুগ্ধ নামের তালিকা গুনে গুনে ক্লান্ত।
আমরা আর শুধুই সহানুভূতি চাই না। আমরা চাই দৃশ্যমান বিচার।
এমন বিচার যা হত্যাকারীদের কাঁপিয়ে দেবে, এমন বিচার যা ভবিষ্যতের ফেলানী কিংবা রিয়া গোপদের রক্ষা করবে।
আমরা আর কতদিন “শোক পালন” করবো? সময় এসেছে “শোককে শক্তিতে” রূপান্তর করার।
Writer: Ishatir Radiyah
Walter Murray Collegiate
Grade 9
A DATE THAT DOES NOT EXIST ON CALENDER!
NOT all tragedies have official dates. Some are so painful, so unforgettable, they live outside the calendar. That’s what 36 July is to Bangladesh. Even though the date doesn’t exist on paper, it exists in the hearts of every person who remembers what happened. It marks a dark moment in our history, one filled with loss, silence, violence, and complete betrayal by those in power. But it also marks something else: the strength of the people, and the hope that a better future is still possible.
It all began with a peaceful protest. Students across Bangladesh were speaking out against an unfair job quota system that reserved 30% of government jobs for people connected to the political elite and privileged groups. This meant that regular students, those who worked hard, studied endlessly, and dreamed of a better life, were being pushed aside for people who had connections. It wasn’t fair, and the students were brave enough to say so.
The protests weren’t violent. Students were marching, holding signs, and demanding justice in the most peaceful way. But instead of listening, the government responded with brutal force. Police opened fire on unarmed students. Then things got even worse.
The government used RAB helicopters to shoot civilians from above. They shut down the entire internet across the country so no one could contact the outside world. They wanted to hide what they were doing, to silence not just the students, but the whole country. But the truth still found a way out.
The world may not have seen it immediately, but the people who lived through it did. Families were destroyed. Students disappeared. Social media was cut off. Bangladesh, for those days, was isolated, completely shut off from the rest of the world.
This was not just a tragedy. It was a deliberate act of violence against the people by their own government. And it left scars that the country still hasn’t healed from. So, we don’t celebrate 36 July. There’s nothing joyful about it. BUT we remember it.
We remember it to honour the lives that were lost. We remember it to keep the truth alive. And we remember it because if we forget, then we let those in power get away with it.
JULY REVOLUTION IS ALL ABOUT STANDING UP
This date has become a SYMBOL, not just of what went wrong, but of what could still be made right. It reminds us that silence can be deadly, and that speaking out, even when it’s dangerous, matters. It’s a reminder that the youth of Bangladesh are not weak. They are strong, brave, and powerful. And they are the ones who will shape the future of this country.
Some people think a revolution always means violence or war. But the July Revolution wasn’t about taking up arms. It was about standing up, even after being shot down.
This revolution lives in memory. It lives in the way people tell the truth about what happened, even when it’s risky. It lives in every person who lights a candle in silence, in every student who still speaks up about justice, and in every young person who hasn’t given up on Bangladesh.
Even with no internet, no global media coverage, and a blackout across the nation, people still found ways to remember and resist. That’s what makes this revolution powerful.
The government tried to erase it. But instead, they made it unforgettable.
36 JULY TEACHINGS AND WHAT KIND OF BANGLADESH ARE WE GOING TO BUILD
IF there’s one thing 36 July taught us, it’s that we cannot stay quiet. The students who were killed didn’t die for nothing. Their deaths weren’t just a loss; they were a warning. And they were also a challenge: what kind of Bangladesh are we going to build now?
First, justice needs to be real. The people who ordered and carried out the shootings must be held accountable. It doesn’t matter how powerful someone is, if they kill innocent people, they must face the law.
Second, freedom of speech and internet access must be protected. No government should be allowed to silence an entire country by turning off the internet. That is not democracy, that is control. If we want a better future, the people must be allowed to speak, protest, post, and share the truth.
Third, we need fairness in opportunity. The 55% quota system showed us how the system is rigged. Future Bangladesh should be a country where jobs go to the most qualified people, not the most connected ones. Hard work should be rewarded, not ignored.
Fourth, we must protect students and youth voices. They were the first to speak out. And they were the first to be attacked. But youth are not threats, they’re the future. We should invest in education, listen to student unions, and create platforms for young people to participate in decision-making.
Fifth, we need to demand transparency. In the digital age, a government should not be able to turn off the lights and hide in the dark. We need laws that protect access to information, freedom of the press, and open records. We should know where our money is going. We should know what our leaders are doing.
VOICES FORWARD: A FIGHT FOR TRUTH, FAIRNESS, AND DIGNITY
36 July will NEVER appear on a calendar, BUT it is CARVED into the history of Bangladesh. It will never be a holiday, but it will always be a day we remember with heavy hearts. The students who were killed wanted nothing more than fairness, justice, and a future. And for that, they were silenced.
But we carry their voices forward. We remember not to stay stuck in the past, but to build a different future. One where peaceful protest doesn’t lead to mass shootings. One where the internet can’t be turned off to cover up violence. One where youth are protected, not punished. One where Bangladesh belongs to its people, not its politicians.
The July Revolution isn’t over. It’s not a war of guns, it’s a fight for truth, fairness, and dignity. And it lives on in everyone who refuses to forget.
লেখকঃ ছামিউল আমিন চৌধুরী
ছাত্র ও গবেষণা সহকারী,
কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড এপিডেমিওলজি বিভাগ,
ইউনিভার্সিটি অব সাস্কাচোয়ান, কানাডা
Source: AI Generated
সারাদিনের ক্লান্ত শরীর নিয়ে সোফায় বসেছিলাম। সেদিন যেখানে ছিলাম এটা সাস্কাটুন সিটি থেকে বহু দূরে - শ শ মাইল উত্তরের ছোট একটি আদিবাসী কমিউনিটিতে। এখানে মোবাইল হাতে নিয়ে সোফার ওই কর্নারটাতে সবাই বসার চেষ্টা করে, কারণ ওই কর্নারটা ছাড়া ঘরের অন্য কোথাও ইন্টারনেট কানেকশন ভালমতো পাওয়া যায় না। এখানে মোবাইল ইন্টারনেটও ভাল ছিল না, এজন্য সারাদিন চলে গেলেও দেশের খবর নিতে পারিনি।
ফোন খুলতেই চোখ পড়লো দুই বাহু প্রসারিত করে কেউ একজন দাড়িয়ে যেন অমরত্বের দিকে পাড়ি দিচ্ছে, এ যেন এক পাহাড়সম সাহস, যা আধুনিক দুনিয়ার আগ্নেয়াস্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে, বুক চেতিয়ে দাঁড়িয়ে।
লোকটার নাম আর বলার প্রতীক্ষা রাখে না, সে আমাদের আবু সাইদ; এক অভ্যুত্থানের নায়কের নাম।
যাই হোক ভিডিও দেখে হিতাহিত জ্ঞান বুদ্ধি এবং দেশপ্রেম থাকা মানুষের ন্যায় আমারও হৃদয় দুমড়ে মুচড়ে গেলো। কি হচ্ছে লাল সবুজের এই দেশে? বার বার বিবেকের কাছে প্রশ্ন আসতে শুরু করলো - কি করা যায়? আবার এও মনে হলো - সাত সাগর আর তের নদীর এপার থেকে কিইবা করার আছে?
আমাদের জেনারেশন যারা ২০০৯-১০ থেকে দেশ এবং দেশের রাজনীতি বুঝতে শুরু করেছি তারা হরহামেশাই এই ধরনের আন্দোলন দেখে অভ্যস্ত। পুলিশের গুলি, গুম আর হত্যাযজ্ঞ দেখতে দেখতে যেন আমরা দশ থেকে বিশের কোটা পাড়ি দিচ্ছিলাম। এটাকে লং লাস্টিং ট্রমাই বলব। ফ্যাসিবাদ ছিলো ঘর থেকে ঘরে - পত্রিকা থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। স্বাধীনভাবে কথা বলা কিংবা মত প্রকাশের স্বাধীনতাটাও কেড়ে নেয়া হয়েছিলো ।
তাই সব কিছু মিলিয়ে ২৪ এর আন্দোলনকে আর অতো আলাদা ভাবে দেখা হয়নি। তার কারন অবশ্যই দেশকে উপেক্ষা করা না; কারন থিসিসের ব্যস্ততা আর প্রত্যন্ত অঞ্চলে আদিবাসী কমিউনিটিতে ভিজিট থাকার কারণে সেই সময়টাতে প্রতিদিন ভালো করে দেশের খবর নেয়া আমার জন্য যথেষ্ট কঠিন ছিলো। যাইহোক ভিডিও দেখার পর আরো কিছু খবর নিলাম - জানলাম ফ্যাসিবাদিরা আবারো মেতে উটেছে বুনো উল্লাসে আর দেশকে পরিণত করেছে লাশের কারখানায়।
আমি সহ কিছু বাংলাদেশী শিক্ষার্থী আর সাথে আরো প্রায় ৪/৫ টা দেশের কয়েকজন মিলে আমাদের টিম। প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমরা সবাই একসাথে বসতাম। কি করলাম না করলাম কিংবা পরের দিনের প্ল্যান কি - এইগুলো নিয়ে কথা বলতাম আমরা। সেদিন আমি সবাইকে বাংলাদেশের কথা জানালাম। বললাম - আমি জানি আমার কিংবা তোমাদের এখানে বসে তেমন কিছুই করার নেই, কিন্তু আমরা যদি সবাই মিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টগুলো শেয়ার দেই, কিংবা লিখি তাহলে হয়তো কিছুটা কাজে আসবে - বিশ্বের অন্য অনেকের কাছে পৌঁছবে আসলেই কি ঘটছে বাংলাদেশে।
ওই কমিউনিটিতেই থাকা অবস্থায় শুনলাম ইউনিভার্সিটি অব সাস্কাচোয়ানে বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রীরা সবাই মিলে মানববন্ধন করেছেন - প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তার কিছুদিন পর আমি ওই কমিউনিটি থেকে সাস্কাটুনে ফিরে আসি। দীর্ঘ ভ্রমনের ক্লান্তি নিয়ে যখন সাস্কাটুনে এসে পৌছালাম, তখন আমার রুম পৌছার আগেই খবর পেলাম পাশের মসজিদে আমার মতো আরো অনেকেই পোষ্টার বানাতে বসেছে। আমার ভিরতে চাপা উত্তেজনা দমিয়ে রাখতে পারলাম না, কোন রকম বিশ্রাম না নিয়েই সোজা চলে গেলাম মসজিদে আর সবাই মিলে পোস্টার-প্লাকার্ড বানালাম পরের দিনের র্যালী আর প্রতিবাদ কর্মসূচীর জন্য।
ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরীতে আমার প্রায়ই যাওয়া হতো। সেদিন ফেরার সময় হঠাৎ মনে পড়লো একটা ইমেইল পেয়েছিলাম, যেখানে বলা ছিলো বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে বসা হবে, এই সময়ে বাংলাদেশ নিয়ে তাদের কথা শুনবে সবাই। সাইকেল ঘুরিয়ে আবার গেলাম সে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। দেখলাম কিছু বাংলাদেশী ভাইবোন সেখানে উপস্তিত হয়েছেন, তবে অনুষ্ঠান এখনও শুরু হয়নি। কিছুক্ষণ পরেই শুরু হল মূল পর্ব - তারা উপস্থিত সবাইকে একজন একজন করে তাদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে কিছু বলার আমন্ত্রণ জানালেন। একজন প্রথমেই কথা বলার সুযোগ পেলেন যেহেতু উনি সামনের দিকে বসা ছিলেন। তিনি বললেন, “দেশের সবকিছুই ঠিক হয়ে যাচ্ছে, যেটুকু বাকি আছে তা সরকার দুই এক দিনের মধ্যে ঠিক করে ফেলবে” এই বলে তিনি এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যে কথা শেষ করলেন।
আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম! এরপরেই সুযোগ এলো আমার, আমি কথা বললাম ৬-৮ মিনিট। জানালাম দেশের সার্বিক পরিস্তিতি। তারপরে আরো অনেকে কথা বললেন - জানালেন নিজেদের উদ্বেগের কথা। এদের মধ্যে কেউ কেউ আবার এমন ভঙ্গি করলেন যেন উনারা কিছুই জানেননা, কিংবা এ নিয়ে তাদের তেমন মাথা ব্যথা নেই বললেই চলে।
যাইহোক, আমরা পরবর্তিতে সাস্কাটুনে অনেকগুলো মানববন্ধন এবং র্যালি করেছি। দেশি বিদেশী অনেকেই এসেছিলেন সে প্রোগ্রামগুলোতে - কথা বলেছিলেন আমাদের সাথে এবং জানিয়েছিলেন তাদের উদ্বেগ ও সহমর্মিতা।
আর এজন্যই - লাল জুলাই এর বেদনাময়ী আবেদন ছড়ায়নি কেবলমাত্র বাংলাদেশের পথে প্রান্তরে, বরঞ্চ ছড়িয়েছিলো সাত সাগর আর তেরো নদীর ওপারেও - ভিন্ন ভিন্ন দেশে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ভিন দেশী মানুষের ভিতরেও তৈরি করেছিল গভীর ক্ষত।
বাংলাদেশে একটা বিপ্লব হবেই সেটা অধিকাংশ সবারই ধারনা ছিলো, কারণ পৃথিবীর প্রায় সকল সৈরাচারের পতন হয়েছে কোন না কোন অভুত্থানে, তবে জুলাই এত দ্রুত লাল সবুজের দেশকে মুক্ত করবে তা ছিল ধারণাতীত।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়,
কি নিয়ে এসেছিলো জুলাই? কার দাবি পূরণ হলো ?
কিইবা ছিলো প্রত্যাশা, তার কতটুকুই বা পাওয়া হলো ?
সে প্রস্নগুলোর উত্তর খুঁজার সময় কি এখনো হয়নি ?
বুক টান করে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ আবু সাঈদ কি কেবল পতন চেয়েছিলো ফ্যাসিবাদের - নাকি স্বপ্ন দেখেছিলো এক নতুন ভোরের?
প্রত্যাশার কতটুকু পূরণ হয়েছে তাঁর, সে হিসাব কি আমরা চাইব না?
কেন জুলাইয়ের পরের বাংলাদেশে নৃশংসভাবে চলে যেতে হলো তোফাজ্জল কিংবা সোহাগদের?
কেনইবা দেশটাতে চাঁদাবাজি রয়েই গেলো?
আর কতদিন লাগবে এই ছোট্ট দেশটাকে ঘুরে দাঁড়াতে?
আজ এক বছর পর আমদের এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে তা ভাবতেই কষ্ট লাগে!
সময় এবং সুযোগ পেলে একান্তে একজন প্রবাসীকে জিজ্ঞেস করবেন - তার দেশে ফেরার আকুলতা কেমন? জিজ্ঞেস করবেন তাদের বুকের ভেতরটা এখনো কাঁদে কি-না? তারা বিদেশে রংচঙয়ের জীবন পেয়েও কি বাংলাদেশ নিয়ে ভাবেন?
উত্তর পাবেন, নিশ্চয়ই তারাও স্বপ্ন দেখেন, লাল সবুজের দেশে কোন একদিন থাকবেনা কোন বৈষম্য কিংবা সুধ, ঘুষ, আর নৃশংসতা; এবং সেখানে থাকবে ন্যুনতম জীবনের নিরাপত্তা। তারা স্বপ্ন দেখেন সেইদিনের - যেদিন বুক ফুলিয়ে আবু সাঈদের মত বিশ্বমঞ্চে দাঁড়াবে বাংলাদেশ ।
হয়তোবা সেদিন তারাও ফিরবেন প্রাণের বাংলাদেশে, ব্যাগ গুছাতে গুছাতে বলে উঠবেন - জুলাই আজ সফল হয়েছে!
লেখিকাঃ সাদিয়া শারমিন উর্মি
Source: collected
স্বৈরাচার স্বৈরাচার
বুঝবি কি তুই মানুষের অধিকার
স্বৈরাচার স্বৈরাচার
বুঝবি কি তুই মানুষের হাহাকার
স্বৈরাচার স্বৈরাচার
বুঝবি কি তুই মানুষের মত মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার অধিকার
স্বৈরাচার স্বৈরাচার
বুঝবি কি তুই মানুষের কষ্টার্জিত অর্থের অধিকার
স্বৈরাচার স্বৈরাচার
বুঝবি কি তুই মানুষের বাকস্বধীনতার অধিকার
স্বৈরাচার স্বৈরাচার
বুঝবি কি তুই সন্তানকে গড়ে তোলার আকুল চেষ্টার
স্বৈরাচার স্বৈরাচার
বুঝবি কি তুই সাধ্যের মধ্যে সংসার চালানোর প্রানবন্ত চেষ্টার
স্বৈরাচার স্বৈরাচার
বুঝবি কি তুই শিক্ষা অর্জনের ব্যাকুলতার প্রাঁধীকার
স্বৈরাচার স্বৈরাচার
বুঝবি কি তুই মানুষের মনের ভিতরের ঝড়ের আবির্ভাব
স্বৈরাচার স্বৈরাচার
বুঝবি কি তুই মানুষের চরম অপমানের প্রতিকার॥
লেখিকাঃ তানভীনা সিরাজী
Source: AI Generated
দু’টি চোখে দেখি চারপাশ,
মানুষের মুখ, শহরের আভাস।
কে হাসে, কে কাঁদে, দেখি সবই,
তবু নিজের ভিতরটা দেখি কমই।
আমার আয়নায় যাকে দেখি,
সেতো আমারই সামনের দৃষ্টি।
নয় তা আমার মনের খোঁজ,
যেন আলোর আড়ালে লুকানো বোধ।
চোখ ব্যস্ত পরের ভুলে,
নিজের পাপ গোনে না মনে।
অন্যের কথায় ওঠে বিতর্ক,
নিজের গল্পে থাকে নীরব শর্ত।
দৃষ্টি ফিরিয়ে যদি --
নিজেকেই দেখা যেতো,
তবে জানা হতো,
ঠিক কতখানি আঁধার লুকিয়ে থাকে,
ঐ চেনা আলোর আড়ালে।
অন্যের গল্প পড়ে ব্যস্ত সে বিচারে,
নিজের পাতাটাই পড়ে না সে ভুলে।
অন্যের দোষে ফেলে যত আলো,
নিজের ভুলে থাকে অন্ধকালো।
নিজেকে দেখা শেখে যে জন,
সে বোঝে সত্য, সে বোঝে মন।
নিজেকে দেখার সেই দৃষ্টিভঙ্গি,
সহজেই দিবে হৃদয়ের মুক্তি।