লাবিব আইটি সল্যুশন, থানা গেইট, হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহ।
গাছপালা আমাদের প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, পরিবেশকে সতেজ রাখে এবং মানুষের জীবনে খাদ্য, অক্সিজেন, ছায়া ও মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, উঠান, বাগান কিংবা ঘরের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানো যায়। গাছপালাকে সাধারণভাবে ফুল গাছ, ফল গাছ, শোভাবর্ধক গাছ ও ইনডোর প্লান্টসহ বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়।
নিচে ফুল গাছ, ফল গাছ ও ইনডোর প্লান্ট সম্পর্কে পরিচিতি, প্রকারভেদ, উপকারিতা, পরিচর্যা এবং চাষের পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
ফুল গাছ হলো এমন উদ্ভিদ, যেগুলোতে ফুল ফোটে এবং অনেক ক্ষেত্রে ফুল থেকে ফল ও বীজ তৈরি হয়। ফুলের রং, আকৃতি, সুগন্ধ ও সৌন্দর্যের কারণে এসব গাছ বাড়ির বাগান, ছাদ, বারান্দা, পার্ক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লাগানো হয়।
ফুল গাছকে জীবনকাল, ফুল ফোটার সময় এবং বৃদ্ধির ধরন অনুসারে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।
যেসব গাছ নির্দিষ্ট ঋতুতে ভালোভাবে বেড়ে ওঠে এবং সাধারণত কয়েক মাসের মধ্যে ফুল দেয়, সেগুলোকে মৌসুমি ফুল গাছ বলা হয়।
গাঁদা
শীতকালীন ফুল; টব ও বাগানের জন্য উপযোগী।
পিটুনিয়া
বিভিন্ন রঙের ফুল; শীতের বাগানে জনপ্রিয়।
জিনিয়া
উজ্জ্বল রঙের ফুল; রোদযুক্ত স্থানে ভালো হয়।
অন্যান্য মৌসুমি ফুলের মধ্যে রয়েছে ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, কসমস, পপি ও স্যালভিয়া।
যেসব গাছ একাধিক বছর বেঁচে থাকে এবং উপযুক্ত পরিবেশে বারবার ফুল দেয়, সেগুলো বহুবর্ষজীবী ফুল গাছ।
গোলাপ
বিভিন্ন রং ও সুগন্ধের ফুল; ছাঁটাই দরকার।
জবা
বাংলাদেশের আবহাওয়ায় সহজে জন্মায়।
জুঁই
সুগন্ধি ফুল; পর্যাপ্ত আলো পছন্দ করে।
এ ছাড়া বেলি, রঙ্গন, নয়নতারা, টগর ও বাগানবিলাসও জনপ্রিয় বহুবর্ষজীবী ফুল গাছ।
যেসব ফুল গাছ লতিয়ে বেড়ে ওঠে এবং কোনো অবলম্বন পেলে ওপরে উঠে যায়, সেগুলো লতানো ফুল গাছ।
বাগানবিলাস: উজ্জ্বল রঙের উপপুষ্পপত্রের জন্য বিখ্যাত; প্রচুর রোদ পছন্দ করে।
মাধবীলতা: সুন্দর ফুলের লতা; গেট, দেয়াল ও মাচা সাজাতে ব্যবহার করা হয়।
অপরাজিতা: নীল বা সাদা ফুলের লতা; বীজ থেকে সহজে জন্মানো যায়।
মধুমালতী: ফুলের রং পরিবর্তনশীল হতে পারে এবং সুগন্ধও রয়েছে।
যেসব ফুল থেকে মনোরম সুগন্ধ ছড়ায়, সেগুলো সুগন্ধি ফুল গাছ হিসেবে পরিচিত। যেমন—বেলি, জুঁই, গন্ধরাজ, রজনীগন্ধা ও হাসনাহেনা।
এ ধরনের গাছ বাড়ির প্রবেশপথ, বারান্দা ও বাগানে লাগালে পরিবেশ আরও মনোরম হয়।
বাড়ি ও বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
মৌমাছি, প্রজাপতি ও অন্যান্য পরাগবাহীদের আকর্ষণ করে।
কিছু ফুল সুগন্ধি, আতর ও প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
ফুল বিক্রির মাধ্যমে আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
বাগান করার মাধ্যমে মানসিক প্রশান্তি ও অবসর বিনোদন পাওয়া যায়।
ফুল গাছের পাতা ও ডালপালা মাটিতে জৈব পদার্থ যোগ করতে পারে।
ধাপ ১: মাটি প্রস্তুত করুন
ঝুরঝুরে দোআঁশ মাটির সঙ্গে পচা কম্পোস্ট ও পানি নিষ্কাশনে সহায়ক উপাদান মেশান। টবের নিচে পানি বের হওয়ার ছিদ্র থাকতে হবে।
ধাপ ২: বীজ বা চারা লাগান
ফুলের জাত অনুযায়ী বীজ বপন করুন অথবা সুস্থ চারা লাগান। গাছের শিকড় যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
ধাপ ৩: আলো ও পানি দিন
অধিকাংশ ফুল গাছ প্রতিদিন প্রায় ৪–৬ ঘণ্টা বা তার বেশি সূর্যালোক পেলে ভালো ফুল দেয়। তবে গাছের প্রজাতি অনুযায়ী আলোর চাহিদা ভিন্ন হয়।
ধাপ ৪: নিয়মিত পরিচর্যা করুন
শুকনো ফুল ও রোগাক্রান্ত পাতা সরিয়ে ফেলুন। প্রয়োজন অনুযায়ী সার দিন এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ পরীক্ষা করুন।
6
ফল গাছ হলো এমন উদ্ভিদ, যেগুলোতে খাওয়ার উপযোগী ফল উৎপন্ন হয়। ফল আমাদের শরীরে ভিটামিন, খনিজ, আঁশ, পানি ও বিভিন্ন উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদান সরবরাহ করে। অনেক ফল গাছ কাঠ, ছায়া ও অর্থনৈতিক সুবিধাও দেয়।
বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় নানা ধরনের ফল গাছ ভালো জন্মায়।
আম গাছ
গ্রীষ্মকালীন ফল; পর্যাপ্ত রোদ ও জায়গা দরকার।
কাঁঠাল গাছ
বাংলাদেশের জাতীয় ফলের গাছ; বড় জায়গায় উপযোগী।
লিচু গাছ
মৌসুমি ফল; উপযুক্ত আবহাওয়া ও পরিচর্যা প্রয়োজন।
এ ছাড়া পেয়ারা, জাম, নারকেল, সুপারি ও জলপাইয়ের মতো গাছও বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ করা হয়।
পেয়ারা
সহজে জন্মায়; বাড়ির বাগান ও টবেও চাষ সম্ভব।
লেবু
রোদযুক্ত বারান্দা ও ছাদে টবে লাগানো যায়।
ডালিম
উষ্ণ আবহাওয়া ও ভালো পানি নিষ্কাশন পছন্দ করে।
ছোট ফল গাছের মধ্যে আরও রয়েছে কামরাঙা, আমড়া, সফেদা, বরই ও বিভিন্ন জাতের কমলালেবু।
ড্রাগন ফল
অবলম্বন ও ভালো নিষ্কাশনযুক্ত মাটি প্রয়োজন।
আঙুর
মাচা বা ট্রেলিসে চাষ করা যায়; জাত নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।
প্যাশন ফল
লতানো উদ্ভিদ; শক্ত অবলম্বন প্রয়োজন।
এ ছাড়া তরমুজ, শসা ও লাউয়ের মতো ফলধারী লতানো উদ্ভিদ রয়েছে। উদ্ভিদবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এগুলো ফল হলেও রান্নায় সাধারণত সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বাড়িতে পর্যাপ্ত জমি না থাকলেও বড় টব বা ড্রামে কিছু ফল গাছ চাষ করা যায়।
লেবু
পেয়ারা
ডালিম
ড্রাগন ফল
বামন জাতের আম
উপযোগী জাতের কমলা
স্ট্রবেরি
টবে চাষের ক্ষেত্রে গাছের জাত, টবের আকার, শিকড়ের বিস্তার, সূর্যালোক ও পানি নিষ্কাশনের দিকে বিশেষ নজর দিতে হয়। কলম বা গ্রাফটিং করা গাছ অনেক ক্ষেত্রে বীজের গাছের তুলনায় দ্রুত ফল দিতে পারে, যদিও ফল ধরার সময় জাত ও পরিচর্যার ওপর নির্ভরশীল।
পুষ্টিগত উপকারিতা: বিভিন্ন ফল ভিটামিন সি, ক্যারোটিনয়েড, পটাশিয়াম, আঁশ ও পানি সরবরাহ করে। যেমন, পেয়ারা ভিটামিন সি ও আঁশের ভালো উৎস এবং আমে ক্যারোটিনয়েড থাকে।
পরিবেশগত উপকারিতা: ফল গাছ ছায়া দেয়, কার্বন সঞ্চয় করে, মাটির ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে এবং পাখি ও উপকারী প্রাণীর আবাস তৈরি করতে পারে।
অর্থনৈতিক উপকারিতা: ফল বিক্রি করে আয় করা যায়। বাড়িতে ফল উৎপাদন করলে বাজার থেকে ফল কেনার খরচও কিছুটা কমতে পারে।
পারিবারিক উপকারিতা: পরিবারের জন্য তাজা ফল পাওয়া যায় এবং শিশুদের বাগান ও প্রকৃতি সম্পর্কে শেখানো সহজ হয়।
১. সঠিক জাত ও চারা নির্বাচন
স্থানীয় আবহাওয়ার উপযোগী, রোগমুক্ত ও নির্ভরযোগ্য নার্সারি থেকে চারা নির্বাচন করুন। দ্রুত ফল পেতে পরিচিত জাতের কলমের চারা বিবেচনা করতে পারেন।
২. উপযুক্ত স্থান নির্বাচন
বড় ফল গাছের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখুন। বেশির ভাগ ফল গাছ প্রতিদিন প্রায় ৬–৮ ঘণ্টা সরাসরি রোদ পেলে ভালো ফলন দেয়, যদিও কিছু গাছের চাহিদা আলাদা।
৩. মাটি, পানি ও সার ব্যবস্থাপনা
জৈব পদার্থসমৃদ্ধ মাটি ব্যবহার করুন। চারার গোড়ায় পানি দিন, তবে জলাবদ্ধতা এড়িয়ে চলুন। গাছের বয়স ও প্রজাতি অনুযায়ী সার প্রয়োগ করুন।
৪. রোগ-পোকা নিয়ন্ত্রণ ও ছাঁটাই
আক্রান্ত ডাল, শুকনো পাতা ও পচা ফল সরিয়ে ফেলুন। ফলের মাছি বা অন্যান্য পোকা দেখা দিলে উপযুক্ত সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করুন।
ফল গাছ
সাধারণভাবে উপযুক্ত সময়
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
আম
বর্ষার শুরুতে
পানি নিষ্কাশন ও পর্যাপ্ত জায়গা
কাঁঠাল
বর্ষার শুরুতে
গভীর মাটি ও জলাবদ্ধতামুক্ত স্থান
পেয়ারা
বর্ষা বা সেচের সুবিধা থাকলে অন্য সময়েও
রোদ ও নিয়মিত পরিচর্যা
লেবু
বর্ষা বা সেচের সুবিধাসহ উপযুক্ত মৌসুমে
পানি জমতে দেওয়া যাবে না
লিচু
বর্ষার শুরুতে চারা লাগানো সুবিধাজনক হতে পারে
অঞ্চল ও জাত অনুযায়ী পরিচর্যা
ড্রাগন ফল
উষ্ণ মৌসুমে
শক্ত অবলম্বন ও পানি নিষ্কাশন
এগুলো সাধারণ নির্দেশনা। স্থানীয় আবহাওয়া, চারার ধরন এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
10
ইনডোর প্লান্ট হলো এমন গাছ, যেগুলো ঘরের ভেতরে, অফিসে, বারান্দার ছায়াযুক্ত স্থানে বা জানালার পাশে চাষ করা যায়। এ ধরনের গাছ সাধারণত ঘরের আলো, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, সব ইনডোর প্লান্ট অল্প আলোতে ভালো থাকে না। অধিকাংশ গাছেরই কোনো না কোনো মাত্রায় প্রাকৃতিক আলো প্রয়োজন।
স্নেক প্লান্ট
কম আলো সহ্য করতে পারে; পানি কম লাগে।
জেডজেড প্লান্ট
পরিচর্যা সহজ; ঘন ঘন পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
পথোস
লতানো গাছ; তাক ও ঝুলন্ত টবে ভালো মানায়।
এখানে কম আলো বলতে উজ্জ্বল পরোক্ষ আলোর তুলনায় কম আলো বোঝায়। একেবারে অন্ধকার ঘরে দীর্ঘদিন কোনো গাছই স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে না।
মনস্টেরা
বড়, কাটা নকশার পাতার জন্য জনপ্রিয়।
ক্যালাথিয়া
নকশাযুক্ত পাতা; আর্দ্রতা ও পরোক্ষ আলো পছন্দ করে।
অ্যাগলোনিমা
সবুজ, গোলাপি বা লালচে পাতার জাত পাওয়া যায়।
অন্যান্য জনপ্রিয় পাতাবাহার গাছ হলো ডাইফেনবাকিয়া, ফিলোডেনড্রন, ফার্ন, রাবার প্লান্ট ও অ্যারেকা পাম।
পিস লিলি
উজ্জ্বল পরোক্ষ আলো পছন্দ করে; মাটি কিছুটা আর্দ্র রাখা দরকার।
অর্কিড
পরোক্ষ আলো ও বাতাস চলাচলকারী শিকড়ের পরিবেশ দরকার।
ক্যালানকোই
উজ্জ্বল আলো পছন্দ করে; অতিরিক্ত পানি ক্ষতিকর।
পিস লিলি, অর্কিড ও ক্যালানকোই ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে পারে। তবে এগুলোর আলো, পানি ও ফুল ফোটার চাহিদা এক নয়।
মানি প্লান্ট বা পথোস: সহজে বংশবিস্তার করা যায় এবং ঝুলন্ত টবে ভালো দেখায়।
স্পাইডার প্লান্ট: সরু বাঁকানো পাতা ও ছোট চারার জন্য পরিচিত।
ইংলিশ আইভি: লতানো উদ্ভিদ; পর্যাপ্ত আলো ও উপযুক্ত পরিচর্যা দরকার।
স্ট্রিং অব পার্লস: ঝুলন্ত মুক্তার মতো পাতার জন্য পরিচিত; অতিরিক্ত পানি সহ্য করে না।
1. ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি: বসার ঘর, শোবার ঘর, অফিস ও পড়ার টেবিলকে আকর্ষণীয় করে।
2. মানসিক প্রশান্তি: গাছের পরিচর্যা ও সবুজ পরিবেশ অনেকের মানসিক চাপ কমাতে এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।
3. ঘরের পরিবেশ উন্নত করা: গাছ পাতার মাধ্যমে কিছু পানি বাষ্পীভূত করে, ফলে আশপাশের আর্দ্রতায় সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে।
4. শিক্ষামূলক ব্যবহার: শিশুদের উদ্ভিদ, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে শেখানো যায়।
5. ছোট জায়গায় বাগান: জমি না থাকলেও টব, তাক ও জানালার পাশে গাছ রাখা সম্ভব।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ইনডোর প্লান্টকে ঘরের বায়ুদূষণ দূর করার প্রধান উপায় হিসেবে ধরা ঠিক নয়। স্বাভাবিক বাড়িতে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণ সাধারণত বেশি কার্যকর।
আলোর ব্যবস্থা
জানালার পাশে উজ্জ্বল পরোক্ষ আলোতে অনেক ইনডোর প্লান্ট ভালো থাকে। সরাসরি তীব্র রোদে পাতায় পোড়া দাগ পড়তে পারে, আবার অতিরিক্ত অন্ধকারে বৃদ্ধি থেমে যেতে পারে।
সঠিক পরিমাণে পানি
পানি দেওয়ার আগে মাটির আর্দ্রতা পরীক্ষা করুন। স্নেক প্লান্ট ও জেডজেড প্লান্টের মাটি শুকাতে দেওয়া যায়, কিন্তু ফার্ন ও ক্যালাথিয়ার মাটি সাধারণত তুলনামূলক আর্দ্র রাখা প্রয়োজন।
টব ও মাটি নির্বাচন
টবের নিচে ছিদ্র রাখুন। পানি জমে থাকে এমন ভারী মাটি এড়িয়ে প্রজাতি অনুযায়ী ঝুরঝুরে পটিং মিক্স ব্যবহার করুন।
পাতা পরিষ্কার ও সার প্রয়োগ
পাতায় জমে থাকা ধুলো আলতোভাবে পরিষ্কার করুন। গাছ সক্রিয়ভাবে বেড়ে ওঠার সময় প্রয়োজনমতো উপযুক্ত সার দিন; অতিরিক্ত সার ব্যবহার করবেন না।
সমস্যা
সম্ভাব্য কারণ
করণীয়
পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া
অতিরিক্ত পানি, আলোর ঘাটতি বা পুষ্টির সমস্যা
মাটির আর্দ্রতা ও আলোর অবস্থা পরীক্ষা করুন
পাতার ডগা বাদামি হওয়া
অনিয়মিত পানি, শুষ্ক বাতাস বা লবণ জমা
পরিচর্যার নিয়ম ঠিক করুন
গাছ লম্বা কিন্তু দুর্বল হওয়া
পর্যাপ্ত আলোর অভাব
ধীরে ধীরে উজ্জ্বল স্থানে নিন
গোড়া পচে যাওয়া
জলাবদ্ধতা ও শিকড়ের ক্ষতি
পচা অংশ সরিয়ে পানি নিষ্কাশন উন্নত করুন
পাতায় ছোট পোকা দেখা
এফিড, মিলিবাগ বা মাকড়সা মাইটের আক্রমণ
আক্রান্ত গাছ আলাদা করে পরীক্ষা ও উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন
সতর্কতা: কিছু ইনডোর প্লান্ট, যেমন পিস লিলি, পথোস ও ডাইফেনবাকিয়া, পোষা প্রাণী বা শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে যদি খাওয়া হয়। গাছের প্রজাতি অনুযায়ী নিরাপত্তা যাচাই করুন এবং শিশু ও পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরে রাখুন।
বৈশিষ্ট্য
ফুল গাছ
ফল গাছ
ইনডোর প্লান্ট
প্রধান উদ্দেশ্য
ফুল ও সৌন্দর্য
ফল ও পুষ্টি
ঘরের সৌন্দর্য ও সবুজ পরিবেশ
চাষের স্থান
বাগান, ছাদ, বারান্দা
উঠান, বাগান, ছাদ বা বড় টব
ঘর, জানালা, বারান্দা
আলোর চাহিদা
অধিকাংশের প্রচুর রোদ দরকার
অধিকাংশের প্রচুর রোদ দরকার
প্রজাতিভেদে কম থেকে উজ্জ্বল আলো
পানির চাহিদা
প্রজাতিভেদে ভিন্ন
গাছের বয়স ও মৌসুম অনুযায়ী
প্রজাতিভেদে ভিন্ন
ফল পাওয়ার সময়
অনেক গাছে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস
কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর
কিছু গাছে ফুল হয়, অনেক গাছ মূলত পাতার জন্য
পরিচর্যার ধরন
ছাঁটাই, সার ও ফুলের পরিচর্যা
মাটি, সার, ছাঁটাই ও ফলের সুরক্ষা
আলো, পানি ও পাতার পরিচর্যা
আপনি যদি নতুনভাবে বাগান শুরু করতে চান, তাহলে নিচের তালিকা থেকে নিজের জায়গা ও সময় অনুযায়ী গাছ বেছে নিতে পারেন।
ফুলের বাগানের জন্য
গাঁদা, জবা, নয়নতারা ও বাগানবিলাস।
উপযোগী স্থান: ছাদ, উঠান ও রোদযুক্ত বারান্দা।
ফল পাওয়ার জন্য
লেবু, পেয়ারা ও উপযুক্ত বামন জাতের ফল গাছ।
উপযোগী স্থান: রোদযুক্ত ছাদ বা উঠান; বড় টব ব্যবহার করতে হবে।
ঘরের ভেতরের জন্য
স্নেক প্লান্ট, জেডজেড প্লান্ট ও পথোস।
উপযোগী স্থান: জানালার কাছাকাছি উজ্জ্বল পরোক্ষ আলোযুক্ত জায়গা।
0/9 সম্পন্ন
প্রতিদিন
মাটির আর্দ্রতা ও গাছের অবস্থা পরীক্ষা করা
নতুন পোকা, দাগ বা শুকনো পাতা দেখা
প্রয়োজন হলে পানি দেওয়া
প্রতি সপ্তাহে
পাতার ধুলো পরিষ্কার করা
টবের পানি নিষ্কাশন পরীক্ষা করা
আক্রান্ত পাতা ও শুকনো ফুল সরানো
প্রতি মাসে বা প্রয়োজনমতো
গাছের বৃদ্ধি ও শিকড়ের অবস্থা দেখা
প্রয়োজন অনুযায়ী সার প্রয়োগ
গাছের জন্য টব বা জায়গা পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি না দেখা
চেকলিস্ট আবার শুরু করুন
মনে রাখবেন, সব গাছের পরিচর্যার নিয়ম এক নয়। মাটি শুকানোর আগে পানি দেওয়া, অতিরিক্ত সার ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত আলো ছাড়া গাছ রাখা—এই তিনটি ভুল নতুন বাগানপ্রেমীদের মধ্যে বেশ সাধারণ।
ফুল গাছ আমাদের চারপাশকে রঙিন ও মনোরম করে, ফল গাছ পুষ্টিকর খাদ্য ও অর্থনৈতিক সুবিধা দেয়, আর ইনডোর প্লান্ট ঘরের পরিবেশকে সবুজ ও আকর্ষণীয় করে তোলে। সঠিক গাছ নির্বাচন, উপযুক্ত মাটি, পর্যাপ্ত আলো, পরিমিত পানি এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে অল্প জায়গাতেও সুন্দর বাগান তৈরি করা সম্ভব।
বিশেষ করে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় জবা, গাঁদা, নয়নতারা, লেবু, পেয়ারা, স্নেক প্লান্ট ও পথোস দিয়ে সহজেই বাগান শুরু করা যায়। নিজের জায়গা, সময় ও পরিচর্যার সুবিধা অনুযায়ী গাছ নির্বাচন করাই সফল বাগান তৈরির প্রথম ধাপ।