Story-2
Story-2
“এ পৃথিবী ও তুমি”
Asfaqur Rahman
(Rakhin babu)
গল্পে গাথা ছন্দের সূরে, কিছু কথা ভালো-লাগে। আরো ভালো-লাগে, যদি গল্পটা পড়ে আনন্দে মন ছন্দে নাচে। স্বাগতম তোমাকে “এ পৃথীবি ও তুমি” প্রবন্ধে।
তুমি এমন একজন, যে হয়তোবা কাহারো পথ চেয়ে বসে আছো, আসবে সে তোমার কাছে অথবা তোমার পথ চেয়ে কেহ অপেক্ষায় আছে, তুমি যাবে কখন তাহার কাছে। কখনো এই অপেক্ষার শেষ হয়, আবার কখনও এই অপেক্ষা শুধু অপেক্ষায় রয়ে যায, শিশু থেকে কিশোর পর্যায়ক্রমে যৌবন থেকে বৃদ্ধ অপেক্ষার পূর্ণতা অথবা অপেক্ষা শুধু অপেক্ষায় রয়ে যায়।
সঠিকতায় সর্বোদা, যে কোনো ধরনের সম্পর্ককে সঠিক ভাবে ধরে রাখে কিন্তু বিশৃঙ্খলতায় আপন মানুষ ও ছেরে যেতে তৃতীয়-বার ভাবে না।
ছন্দের সূরে কবির বর্ণনায়…
সন্ধ্যায় পাখি আসবে ফিরে,
সারা দিন ব্যস্ত শেষে,
ঘুমাতে নীড়ে,
আসবে কি সে ফিরে, সেই নীড়ে,
যে নীড়ে, ঘুমাতে পারেনি সে,
গতকাল রাতে,
মুখের কথাই জীবন চলে না, জীবন চলে কর্মে। যে নীড়ে তোমার জীবন বেদনায় কাটে তুমি চাইবে সর্বদা সে নীড় ছেড়ে চলে যেতে। প্রকৃতির বুকে তুমি ও বন্য জীবন সর্বদা সুখের সন্ধানে।
প্রকৃতির পটে মানুষের জন্ম সেই কবে, আমিতো জন্মেছি সবে। বিভিন্ন ভাবে, সেই শুরু থেকে, মানুষ যাইতেছে মৃত্যুর কলে হারিয়ে। তবে রয়ে গেছে তাদের জীবনের অনেক ঘটনা ও অভিজ্ঞতা প্রকৃতির পঠে মানুষের ত্বরে।
বাস্তবতার স্তরে একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত, তুমি পাবে না কাউকে তোমার পাশে। জন্মের পর থেকে যতদিন না তুমি তোমার প্রয়োজনীয়তা বুঝতেছিলে ততদিন সবার কাছে তুমি ছিলে “কি কিউট সুন্দর বেবি” যখন তোমার অধিকার পেতে অন্যের স্বার্থের ব্যাঘাত করবে তখন তুমি তার কাছে “কি কিউট সুন্দর বেবি নয়”, শত্রুতে পরিণত হবে। তবে সর্বদা যে এমনই হয় তা কিন্তু নয় একটু ব্যতিক্রম ও আছে।
অবুজ জ্ঞানহীন স্বার্থের চাহিদা, ছিন্ন করে দৃঢ় সম্পর্ক, প্রিয় বন্ধুত্বের বন্ধন, বৃদ্ধি করে রাগ হিংসা ও শত্রুতা।
যে বাবা-মা কখনো তার সন্তানকে বোঝেনা, সন্তানের সঠিক মতামত কে সাপোর্ট করেনা, তারা আসলে বাবা-মা হবার যোগ্যই না, শুধু প্রকৃতির নিয়মে বিপরীত জীবের পারস্পারিক চাহিদার কর্ম হিসেবে সন্তান জন্ম দিয়ে বাবা-মা হয়ে থাকে মাত্র।
যে সম্পর্ক স্বার্থ ছাড়া কিছুই বোঝে না, সেটা কখনো সম্পর্ক হতেই পারে না, এই পৃথিবীর সকল সম্পর্ক একটি নির্দিষ্ট নিয়ম দ্বারা নির্ধারিত। এই নিয়মের বাহিরে কিছু করাটাই বিশৃঙ্খলা, নিয়ম মানা একটু কঠিন, তবে নিয়মের মধ্যে সব কিছুই সঠিক। তবে,”” যুগের চাহিদায় নিয়মের পরিবর্তন আবশ্যক””।
তোমার জন্ম যেখানেই হোক না কেন, পৃথিবী তোমাকে চিনে না, পৃথিবী চিনে কাজের মানুষ কে, যে ব্যক্তি কাজ জানে বা পারে পৃথিবী তাকে চাইবে। কর্ম হীন পৃথিবীর বুকে হাঁসির পাত্র হতে পারে মাত্র, তবে কর্মের পাত্র নহে। “” কর্ম দক্ষতা কোন কাজে পারদর্শিতার উপর নির্ভর করে””।
এ পৃথিবীতে সবাই সবার নিজের মত। কেহ কাহারো মত নয়। তুমি যে কাজ করতেছো সে কাজে কেহ একজন পারদর্শী, তাহার গুন গাহিয়া তোমার নিজের সময় নষ্ট করিয়া কোন কাজ নাই। যে কাজটা তুমি করো সে কাজটা “যার গুন-গাহ তুমি” সে বেশি পারে, তুমি কেন বেশি পারোনা, কারণ তুমি তাহার গুন-গাহিতে বেশি ব্যস্ত থাকো, কাজটা বেশি বেশি করে তাহা মত বা তাহার চেয়ে বেশি দক্ষতা অর্জন করতে তুমি ব্যস্ত নও। যদি পারো তাহা থেকে কিছু নাও তুমি ও তাহার মত দক্ষ হয়ে যাও।
যে ঘুমিয়ে থাকে তাকে ঘুম থেকে ওঠানো অনেক কষ্টের, কিন্তু যে নিজেকে ঘুম থেকে উঠাতে কঠোর চেষ্টা করে, সে দ্রুত ঘুম থেকে উঠতে পারে, তাকে থামাতে কেহ পারবে না।
অন্যের অতিরিক্ত গুন-গাহিয়া তোমার সময় নষ্ট করিও না, নিজ কর্ম বারে-বারে কোরিয়া অর্জন করো অনেক দক্ষতা, যে অনেক দক্ষ সেও তো মানুষ, তুমি কেন পারবে না বল, নিজের উপর বিশ্বাস রেখো, তুমি পারবে “”নতুন দিগন্তের পথ পাড়ি দিতে””।
আজকের পৃথিবী সৃজনশীল মানুষদের মাথায় করে রাখতে জানে। মনে রেখো, তুমি হতে পারো বিশ্ব বিখ্যাত।
এ পৃথিবির, তুমিও একজন সদস্য, তুমি চাইলে এ পৃথিবীর পরিবর্তন সাধন করতে পারো, তবে, তোমাকে আগে বিখ্যাত হতে হবে, বিখ্যাত হবার সহজ পদ্ধতি হল, তুমি যে বিষয়ে পড়াশোনা করতেছো, সেই বিষয়ের বিশেষ কিছু আবিষ্কার করে বিশ্বের সম্মুখে তুলে ধরতে হবে, বিজ্ঞান হল জ্ঞানীর মাথায় হাতে খড়ি আর জ্ঞানী হয় যে জ্ঞানের চর্চা করে।
এ পৃথিবীতে অনেক কিছুই বিশৃংখল, অনেক কিছু নর্দমায় পচা গন্ধে পচে গিয়েছে। স্বাভাবিক মানুষের জীবন যাত্রা একটু পরিবর্তন ও তার পূর্ব পুরুষের ধারাই ধারাবাহিকতায় পরিচালিত হয়ে থাকে। তবে, তার পূর্ব পুরুষ যে’কি বিখ্যাত ছিল, সেই গল্পেই বলিয়ান। হাঁ, তার পূর্ব পুরুষ বিখ্যাত কাজ করেছিল ভালো কথা, কিন্তু সে কি নিজে কোন বিখ্যাত কাজ করেছে, সে তার পূর্ব-পুরুষের গল্পেই আত্মহারা, তার পূর্বপুরুষ অনেকদিন আগেই মৃত্যুবরণ করেছে কিন্তু আজ সারা পৃথিবী তার পূর্বপুরুষ কেই স্মরণ করে কারণ তিনি নতুন কিছু আবিষ্কার করেছিলেন।
তুমি হয়তো বা বুঝতে পারছ তোমার এখন কি করা উচিত, তোমাকে তোমার নিজের কর্মে অটল থাকতে হবে, নিজের কর্মে বিখ্যাত হতে হবে। অন্যের জীবনের গল্পে তোমার জীবন চলবে না, তবে, ক্ষনিকের একটু ফ্রিতে আনন্দ বা দুঃখ লাভ হবে। অন্যের জীবনের গল্প পড়বে, তার জীবনের সঠিক দিক-নির্দেশনা গুলো জেনে নিজের জীবনে এপ্লাই করে তোমার জীবন সুন্দর করবে, যে মারা গিয়েছে, সে মারা গিয়েছে, সে কখনো এই পৃথিবীর উন্নয়ন বা পরিবর্তন করতে পারবে না কিন্তু তুমি পারবে। শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করো সেই আবিষ্কারকের প্রতি যে নতুন কিছু আবিষ্কার করেছে। তবে তাহার গল্পে কান্না করে কোন লাভ নেই তোমার জীবনে। তোমার জীবনের কর্ম দক্ষতা নির্ধারণ করবে তোমার জীবন-যাত্রার মান দন্ড।
বর্তমান পৃথিবী টেকনোলজি ও আবিষ্কারের যুগ। তুমি হয়তো ভাবছো, তুমি কিছুই পারো না, কিছু বোঝনা, কিভাবে তুমি আবিষ্কার করবে।
ব্যাপারনা চল আলোচনা করি
নতুন একটি আবিষ্কার মূখী সমস্যা তোমার সামনে, এখন তোমার কি করা উচিত, এখন তুমি সমস্যাটি নিয়ে ভাবতে থাকবে, কিভাবে সমাধান করবে। মনে রেখো আমি বিশ্বাস করি,
যে কোনো কর্ম পদ্ধতি ওই কর্মের মধ্যেই অন্তর্নিহিত রয়েছে শুধু অপেক্ষা খুঁজে বের করে বিশ্বের সম্মুখে তুলে ধরার, তবে, এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় নির্ভর করে তোমার উপর, তুমি কাজটি কীভাবে করবে একটি কাজ করার বিভিন্ন পদ্ধতি থাকবে তবে মৌলিক পদ্ধতি একই।
একটি সমস্যা যখন তোমার সম্মুখে আসবে, তখন তুমি সমস্যাটি নিয়ে ভাববে। ওই সমস্যা সম্পর্কে সকল তথ্য সংগ্রহ করবে, তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করবে, প্রয়োজনে নতুন যুক্তি-যুক্ত তথ্য দ্বার করাবে এবং ধাপে ধাপে সমস্যাটি সমাধান করবে এবং প্রতিটি ধাপে বিপরীতে কি সমস্যা আসতে পারে, কেউ কি কোন একটি ধাপের বিরুদ্ধে কোন প্রশ্ন উঠাতে পারে, আর কি কি প্রশ্ন উঠাতে পারে সব প্রশ্নের সৃষ্টি করবে, যাতে কেহ, তোমার লজিকের বিরুদ্ধে কোন কথা বলতে নিম্নপক্ষে দশবার ভাবে, এভাবে তুমি এগিয়ে যাও, আমি জানি তুমি পারবে, নিজের উপর বিশ্বাস রেখো, অন্যের কথায় কান দিয়ে ভেঙ্গে পড়ে কোন কাজ নেই, পৃথিবীর তোমাকে প্রয়োজন, তুমি এগিয়ে চলো।
তবে আবিস্কারের বিষয়ে একটি বিষয় অবশ্যক, তোমাকে ভাবুক-চিন্তাশীল হতে হবে, তুমি চিন্তা করতে পারোনা, এটা মিথ্যা কথা, বলতে পারো, তুমি চিন্তা করতে চাওনা।
কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্ক যুক্ত সকল তথ্য বিশ্লেষণ ও যুক্তি-যুক্ত নতুন তথ্য দ্বার করানো ও কম্বিনেশন করার জন্য চিন্তা-ধারা বা গবেষণা ওই বিষয়ে কর্ম পদ্ধতি আবিষ্কারের পূর্ব শর্ত।
প্রবন্ধের শেষ প্রান্তে আর কিছু বলার নেই, তুমি তোমার নিজেকে জিজ্ঞাসা করো, তুমি যাদের আবিষ্কারের তথ্য এত কষ্ট-করে পড়ো, প্রাক্টিকেল করো, সেই তথ্যগুলো কি তাদের আগেই কেহ আবিষ্কার করেছিল, না’কি যার তথ্য হিসাবে পরিচিত, সেই আবিষ্কার করেছিল।
ছোট্ট একটি এক্সাম্পল এ দেখা যাক :-
নিউটনের যে তথ্যগুলো তুমি পড়ো, সে তথ্যগুলো কি নিউটন’ই আবিষ্কার করেছিল না’কি নিউটনের জন্মের আগেই অন্য কেহ আবিষ্কার করে রেখেছিলেন, নিউটন শুধু তথ্যগুলো প্রকাশ করেছিল মাত্র। আসলে নিউটনের জন্মের আগেই অনেক মানুষ ছিল কিন্তু তথ্যগুলো নিউটনের আবিষ্কার করেছিল, তাই, নিউটন আজ পৃথিবীর বুকে চিরস্মরণীয়।
ঠিক এমনিভাবে তোমার আশে-পাশে অনেকেই আছে কিন্তু তোমাকেই আবিষ্কার করতে হবে, অন্যের কথায় কি যায় বা আসে, আবিষ্কার করে দেখো বিশ্ব তোমায় মাথায় করে রাখবে।
@Eng.Rakhin babu.
------Finished----