সুপার ফুড স্পিরুলিনা
সুপার ফুড স্পিরুলিনা
স্পিরুলিনা হলো এক ধরণের নীল-সবুজ শেত্তলা যা স্বাদু পানিতে জন্মে। এটি প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। স্পিরুলিনার পুষ্টিগুণের কারণে এটি সুপারফুড হিসেবে পরিচিত।
স্পিরুলিনার পুষ্টি উপাদান এবং গুণাগুনঃ
প্রোটিনঃ স্পিরুলিনায় ৬০-৭০% প্রোটিন থাকে, যা মাংসের চেয়েও বেশি। এতে সমস্ত প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিডও রয়েছে।
ভিটামিনঃ স্পিরুলিনায় B-complex (B1, B2, B3, B6, B12), C, E এবং K ভিটামিন থাকে। ভিটামিন B12 রক্ত কণিকা তৈরিতে সাহায্য করে।
খনিজঃ স্পিরুলিনায় আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, ফসফরাস এবং জিঙ্ক থাকে। স্পিরুলিনায় থাকা আয়রন শরীরে লোহিত রক্ত কণিকা তৈরিতে সাহায্য করে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টঃ স্পিরুলিনায় বিটা-ক্যারোটিন, ফাইকোসায়ানিন এবং গ্লুটাথায়ন এর মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। ফাইকোসায়ানিন স্পিরুলিনাকে নীল রঙ প্রদান করে।
স্পিরুলিনা সংগ্রহ করার একটি দৃশ্য।
ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রোধে স্পিরুলিনা সহয়তা করে।
স্পিরুলিনার উপকারিতাঃ
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিঃ স্পিরুলিনায় থাকা ভিটামিন A, C এবং E রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ভিটামিন A সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।
হৃদরোগঃ স্পিরুলিনায় থাকা খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণঃ স্পিরুলিনায় থাকা পটাসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
কোলেস্টেরলঃ স্পিরুলিনায় থাকা ফাইবার রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।
মধুমেহ / ডায়াবেটিসঃ স্পিরুলিনায় থাকা গ্লুটাথায়ন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
ক্যান্সার প্রতিরোধঃ স্পিরুলিনায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। বিটা-ক্যারোটিন ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রোধে সাহায্য করে।
ওজন কমানোঃ স্পিরুলিনায় থাকা প্রোটিন এবং ফাইবার ওজন কমাতে সাহায্য করে। প্রোটিন দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরা রাখে।
ত্বক ও চুলঃ স্পিরুলিনায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বক ও চুলের জন্য ভালো।
সেবন বিধিঃ সকালে এবং সন্ধ্যায় ১ টি করে স্পিরুলিনা ক্যাপসুল কুসুম গরম পানি দিয়ে খেতে হবে । খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে, খালি পেটে খাওয়াই সবচেয়ে বেশি কার্যকরি ।