দ্বিতীয় শ্রেণীর বাচ্চাদের অ্যাডভান্স এডুকেশন মানে এমন বিষয় শেখানো যা তাদের বয়স ও মানসিক বিকাশের উপযোগী হলেও তাদের জ্ঞান, দক্ষতা, এবং সৃজনশীলতাকে একটু চ্যালেঞ্জ করে। এটি তাদের মেধার বিকাশে সহায়ক হয়। নিচে কয়েকটি অ্যাডভান্স শিক্ষা ধারণা দেওয়া হলো:
১. ভাষা এবং যোগাযোগ দক্ষতা
শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধকরণ: প্রতিদিন ৫-১০টি নতুন শব্দ শেখানো এবং তা বাক্যে ব্যবহার।
ছোট গল্প লেখা: একটি ছবি দেখে গল্প লেখা বা তাদের কল্পনার গল্প তৈরি।
বই পড়ার অভ্যাস: সহজ ও মজার গল্পের বই পড়া এবং তা থেকে শিক্ষণীয় অংশ ব্যাখ্যা করতে শেখানো।
বিভিন্ন ভাষার পরিচিতি: নতুন ভাষার মৌলিক শব্দ বা বাক্য শেখানো (যেমন, ইংরেজি, বাংলা, হিন্দি)।
২. গণিতের দক্ষতা
মৌলিক গাণিতিক ধারণা: বড় সংখ্যা যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ শেখানো।
সমস্যা সমাধান: গল্প বা বাস্তব জীবনের উদাহরণ দিয়ে গাণিতিক সমস্যা সমাধান শেখানো।
গণিতের খেলা: পাজল, সুদোকু, বা সংখ্যার ধাঁধা খেলানো।
সময়ের ধারণা: ঘড়ি দেখে সময় বলা এবং দিন, মাস, বছর সম্পর্কে জ্ঞান।
৩. বিজ্ঞান এবং পরিবেশ
পরীক্ষা ও অনুসন্ধান: সহজ বিজ্ঞান পরীক্ষা, যেমন—পানির মধ্যে কী ভাসে বা ডোবে, রঙ মিশানো ইত্যাদি।
প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ: গাছ, পশু, পাখি এবং তাদের বৈশিষ্ট্য শেখানো।
পৃথিবী এবং মহাকাশ: গ্রহ, তারা, এবং পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে সহজ ধারণা।
পরিবেশ রক্ষা: বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গাছ লাগানোর গুরুত্ব শেখানো।
৪. সৃজনশীল কার্যক্রম
চিত্রাঙ্কন ও হস্তশিল্প: ছবি আঁকা, কাগজের কারুকাজ, বা পুনর্ব্যবহৃত জিনিস দিয়ে কিছু তৈরি।
গল্প বলা: তাদের নিজের কথা বলার সুযোগ দেওয়া, যা আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
গান ও নাচ: তাদের পছন্দমতো শিশুতোষ গান ও নাচ শেখানো।
লেখালেখি অনুশীলন: কবিতা বা ছোট বাক্য তৈরি।
৫. প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিতি
বেসিক টেকনোলজি: বাচ্চাদের জন্য উপযোগী লার্নিং অ্যাপ ব্যবহার।
টাইপিং শেখানো: কিবোর্ডের মাধ্যমে বর্ণমালা টাইপ করা শেখানো।
অনলাইন শিক্ষা: YouTube বা শিশুদের জন্য বানানো অনলাইন কোর্স দেখানো।
৬. যুক্তি ও চিন্তন দক্ষতা
পাজল ও ধাঁধা সমাধান: বয়স উপযোগী ধাঁধা বা লজিক্যাল গেম।
কল্পনা শক্তি বৃদ্ধি: "যদি তুমি একটি সুপারহিরো হতে, কী করতে?"—এমন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া।
লজিক্যাল চিন্তা: "কোনটি কেন হয়?" এই ধরনের প্রশ্ন করা।
৭. শারীরিক দক্ষতা
ইউগা বা ব্যায়াম: সহজ ব্যায়াম বা শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল।
হাতের কাজ: পুতুল তৈরি, লেগো খেলা।
আউটডোর গেমস: বল খেলা, লাফানো বা দড়ি লাফ।
৮. সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষা
সহমর্মিতা: বন্ধু বা পরিবারের প্রতি কেয়ারিং মনোভাব তৈরি করা।
সামাজিক শিষ্টাচার: হ্যালো, ধন্যবাদ, ক্ষমা প্রার্থনা শেখানো।
দলগত কাজ: দলবদ্ধ খেলাধুলা বা প্রজেক্ট কাজ শেখানো।
৯. জ্ঞানের বিস্তার
বিশ্ব পরিচিতি: দেশের রাজধানী, পতাকা, প্রধানমন্ত্রীর নাম শেখানো।
মানচিত্র: পৃথিবীর মানচিত্র দেখানো এবং বাংলাদেশের অবস্থান।
ইতিহাস: মুক্তিযুদ্ধের সহজ ধারণা বা দেশের ইতিহাস।
১০. অর্থনৈতিক ধারণা
টাকার ব্যবহার: টাকার নোট চিনতে শেখানো এবং কীভাবে সঞ্চয় করতে হয়।
দোকান খেলা: টাকা দিয়ে কেনাকাটা শেখানো।
মূল্যবোধ: "কেন আমরা কিছু নষ্ট করি না"—এই ধরনের শিক্ষা দেওয়া।
শিক্ষার ধরন
খেলার মাধ্যমে শেখানো: বাচ্চারা খেলতে খেলতে বেশি শেখে।
উৎসাহ দেওয়া: তাদের প্রতিটি চেষ্টায় প্রশংসা করা।
প্র্যাকটিক্যাল অ্যাপ্রোচ: বাস্তব জীবনের উদাহরণ দিয়ে শেখানো।