🌸🌸🌸পূণ্যময়ী জীবন গাঁথা🌸🌸🌸
____ এডভোকেট রিক্তা বড়ুয়া
পরম পূজনীয় ধুতাঙ্গ ভান্তে তুমি,
জগতের আলো।
জ্ঞান প্রজ্ঞার আলোয়,
বিকাশিত করেছ তুমি।
তোমার ধর্মের ছায়াতলে,
এসে মোরা হয়েছি ধন্য।
তোমাকে তারা চিনতে পারে নি,
অন্ধকার জীবন তাদের।
আলোর দিশা সামনে পেয়েও,
অবহেলা করছে যারা।
বুঝতে পারেনি তারা,
তারা যে কত নগন্য,
ধন্য তুমি ধন্য।
🙏🙏🙏সাধু সাধু সাধু 🙏🙏🙏সাধু
হে অনুবুদ্ধ _______
লোভ, দ্বেষ, মোহকে করেছো ক্ষয়,
প্রজ্ঞা দিয়ে মারকে করেছো জয়।
বিদ্যমান তোমার কাছে ত্যাগের অফুরন্ত সমাহার,
তারই প্রমাণ একনাগাড়ে ছিলে তখন ১১৬ দিন অনাহার।
তথাগত বুদ্ধের পুত্র তুমি অনুবুদ্ধ,
কর বুদ্ধের আরাধনা।
প্রার্থনা করি অনুবুদ্ধের কাছে,
অবিরত চলমান থাকুক,
সদ্ধর্মকে শ্রীবৃদ্ধির সাধনা।
শ্রদ্ধার্ঘ্য বন্দনায
ভদন্ত প্রজ্ঞাদর্শন ভিক্ষু (২০তম ভান্তে)
একবিংশ শতাব্দীর মহামানব আর্য্যশ্রাবক অর্হৎ অনুবুদ্ধ
ভদন্ত শীলানন্দ মহাস্হবির(ধুতাঙ্গ ভান্তে) মহোদয়ের আবির্ভাব।
________ভদন্ত সদ্ধর্মজ্যোতি স্থবির।
সুখো বুদ্ধানং উপ্পাদো সুখা সদ্ধম্মদেসনা
সুখা সঙ্ঘসস সামগ্গী সমগান্নং তপো সুখো।
অর্থাৎ জগতে বুদ্ধগণের আর্বিভার সুখ জনক। তৎসঙ্গে সদ্ধর্মের উপদেশ প্রচার সুখকর। আর সংঘের একতা সুখদায়ক এবং ঐক্যবদ্ধগণের তপস্যা সুখপ্রদ।
বুদ্ধগণের আবির্ভাবের কারণ
__________________________
বৌদ্ধ ধর্মীয় শাস্ত্রে উল্লেখ আছে যে একাধারে লক্ষ কল্পকাল ধরে দান, শীল, ভাবনা, সেবা-সম্মান, পুণ্য দান-পূণ্যানুমোদন, ধর্মদান, ধর্মশ্রবণ ও সম্যকদৃষ্টি নামক দশবিধ কুশল কর্ম করে দান, শীল, নৈষ্ক্রম্য, প্রজ্ঞা, বীর্য্য, ক্ষান্তি, মৈত্রী, সত্য, অধিষ্ঠান ও উপেক্ষা নামক দশবিধ পূণ্যপারমী পরিপূর্ণ করে নিজের সর্বদুঃখ মুক্তির জন্য বুদ্ধগণ আবির্ভূত হন। আর সেই সাথে অপরের (পারভীন পূণ্য ব্যক্তিদেরকে সদুপদেশ প্রধান করে) সর্ব দুঃখ থেকে মুক্ত করার জন্য বুদ্ধগণ এই পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়ে থাকেন। তৎসঙ্গে অপর দুঃখমুক্তিকামী, পূণ্যকামী, সকল সত্তগণের ভবিষ্যতে সর্ব দুঃখ থেকে মুক্তির পরম হেতু সৃষ্টি করে দেওয়ার জন্য দানে, শীলে, ভাবনায় আত্ম নিয়োজিত রাখার জন্য ধর্ম উপদেশ দিয়ে থাকেন এবং নিজের ও (বুদ্ধগণ) সর্বদা মৈত্রী, করুণা, মুদিতা, উপেক্ষা, শীল, সমাধি, প্রজ্ঞায় অপ্রমত্ত হয় অনুপাদিশেষ নির্বাণ কাল পর্যন্ত অভিরমিত থাকার জন্য এই ধরণীতে প্রাদুর্ভাব হয়ে থাকেন। ইহাই বুদ্ধগণের আবির্ভাবের মূল কারণ বা ধর্ম।
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, তাদের কুশল কর্মের পার্থক্যতার কারণে এক এক বুদ্ধগণের এক এক প্রভাব বিস্তার ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় পরিলক্ষিত হয়। যেমন- প্রজ্ঞা প্রধান সম্যক সম্বুদ্ধগণের প্রভাব এক ধরনের আর শ্রদ্ধা প্রধান সম্যক সম্বুদ্ধগণের প্রভাব এক ধরনের আর বীর্য্য প্রধান সম্যক সম্বুদ্ধগণের প্রভাব বিস্তার অন্য ধরনের হয়। এইভাবে তিন পর্যায়ে জ্ঞান লাভ করে ভিন্ন ভিন্ন প্রভাবে আবির্ভাব হয়ে থাকেন। এসব কারণ বা ধর্মানুসারের প্রবর্তিত হয়ে অন্যান্য প্রত্যেক বুদ্ধ, অনুবুদ্ধ, শ্রাবক বুদ্ধগণ সকলে আপন আপন ভিন্ন কার্য্য কারণ দ্বারা উৎপত্তি বা প্রাদুর্ভাব হয়ে থাকেন। অর্থাৎ কারোর ক্ষমতা একদিকে বেশি অপরদিকে কম বা একদিকে বেশি হলে অপরদিকে কমও হতে পারে। তারমানে এক কথায়, কুশল কর্মের পুণ্য পারমীর উপর নির্ভর করে বুদ্ধগণ আবির্ভূত হয়ে থাকেন। কিন্তু তাদের পুণ্যকর্মের তারতম্য থাকলেও সকল বুদ্ধগণের লক্ষ্য উদ্দেশ্য একই। তাহা হচ্ছে আগে নিজের দুঃখ মুক্তি নিশ্চিত করা। তারপর অন্যদেরকে মুক্তির পথে ধাবিত করার লক্ষ্যে স্থান, কাল, পাত্র ভেদে মুক্তিকামী সত্ত্বগণের দান, শীল, ভাবনা নামক কুশল কর্মের সুফল সম্পর্কে উপদেশ প্রদান করা আর অপরপক্ষে লোভ, দ্বেষ, মোহ, অবিদ্যা, তৃষ্ণা নামক সকল অকুশল পাপ কর্ম পরিহারের জন্য ধর্ম দেশনা করেন। অর্থাৎ সকল কর্মের কুফল সম্পর্কে অবগত করার জন্য দিকে দিকে ধর্মোপদেশ প্রদান করে থাকেন। ইহাই বুদ্ধগণের আবির্ভাবের মূল কারণ।
পূজনীয় ভদন্ত শীলানন্দ স্থবির (ধুতাঙ্গ ভান্তে)'র আবির্ভাব
__________________________________________________
উপরে উল্লেখিত ধারাবাহিকতার মাধ্যমে পরম পূজ্য ভদন্ত শীলানন্দ স্থবির (ধুতাঙ্গ ভান্তে) মহোদয় ও অতীতের কুশল কর্মের পরিপূর্ণতা সাধন করে ১৯৭৭ ইংরেজীর ২৬শে ডিসেম্বর এক পবিত্র পূর্ণিমা তিথিতে মাতা-পিতার খোল আলোকিত করে দুর্লভ মানব জন্ম লাভ করেছেন। তিনি মাত্র ১১ বছর বয়সে ১৯৮৮ ইংরেজীর ৫মে শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে দূর্লভের অপর ধাপে অর্থাৎ প্রবজ্যা ধর্মে উপনীত হন। তারপর তিনি বুদ্ধ ধর্মের শীল, সমাধি, প্রজ্ঞানুশীলন করতে করতে পরিপূর্ণ বয়সে (অর্থাৎ ২০ বছর পরিপূর্ণ বয়স) ১৯৯৮ ইংরেজীর ২৬শে জুন বিশেষ শুভদিনে পবিত্র উপসম্পদা প্রাপ্ত হয়ে ক্রমান্বয়ে উচ্চতর হইতে অধিকতর উত্তর শীল, সমাধি, প্রজ্ঞা অন্বেষণ করতে করতে একপর্যায়ে ১৯৯৯ ইংরেজীর ১০ই ডিসেম্ভর তারিখে বৌদ্ধ সাধনার চরম লক্ষ্য নিয়ে দৃঢ় সংকল্প বদ্ধ হয়ে খাগড়াছড়ির মাইসছড়ির উল্টাছড়িস্থ গহীন অরণ্যে একাকী কঠোর ধুতাঙ্গ সাধনায় আত্মমগ্ন হন। এই কঠোর ধুতাঙ্গ সাধনার চলমান ধারা পরিসমাপ্তি করেন ২০১১ সালে। এই সুদীর্ঘ ১২ বছর অবিরাম ত্যাগময় সাধনার বিনিময়ে তিনি অর্জন করেছেন সেই উচ্চতর জ্ঞান প্রতিসম্ভিদাসহ ষড়াভিজ্ঞা আর্হৎ অনুবুদ্ধ জ্ঞান। পূজ্য ধুতাঙ্গ ভান্তে'র যে গুণ জ্ঞান, যে ত্যাগ তা বর্তমানে কারোর পক্ষে অনুধাবন করা সম্ভব নয়। যার কারণে বিগত কয়েক বছর আগে ও বর্তমান সময়ে অনেক প্রশ্ন-
কীভাবে এই সময়ে প্রতিসম্ভিদাপ্রাপ্ত, ষড়াভিজ্ঞা জ্ঞান প্রাপ্ত অনুবুদ্ধ জ্ঞান লাভ করা সম্ভব হলো?
এই প্রসঙ্গে আমি (সদ্ধর্মজ্যোতি স্থবির) বলতে পারি যে- আমরা অনেকেই জানি বুদ্ধ জ্ঞান বা বিমুক্তি জ্ঞান লাভ করতে হলে তিনটি বিষয়ের প্রয়োজন হয়।
১) অতীত জন্মের অনেক কুশল কর্মের পূণ্য পারমী
২) বর্তমান জন্মে দৃঢ় প্রচেষ্টা ও
৩) বুদ্ধগণের উপদেশ শ্রবণ বা স্মরণ বা অনুসরণ।
এই তিনের সমন্বয়ে যে কোন ব্যক্তি জ্ঞান প্রাপ্ত হয়ে থাকেন। এক কথায় বলতে গেলে, জ্ঞান লাভ করতে হলে অতীত বুদ্ধগণের পথ অনুসরণ করতে হবে। বুদ্ধগণের পথ অনুসরণ করতে পারলে যে কেউ কোন না কোন এক সময় সে জ্ঞান লাভ করতে সক্ষম হবেন। ইহাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে এখন বর্তমানে যে কিছুসংখ্যক মানুষের মনে প্রশ্ন শুধু উচ্চতর জ্ঞান অর্থাৎ প্রতিসম্ভিদা, ষড়াভিজ্ঞা, অনুবুদ্ধ এসব জ্ঞান কিভাবে লাভ করা সম্ভব এ প্রশ্নের উত্তরে প্রসঙ্গ ক্রমে আসে যে, প্রত্যেক সম্যক সম্বুদ্ধগণের জীবদ্দশায় হাজার হাজার ব্যক্তি সেই উচ্চতর জ্ঞান প্রতিসম্ভিদা, ষড়াভিজ্ঞা জ্ঞান লাভ করেছিলেন। এই কথা যদি সবাই জেনে থাকেন তাহলে বিজ্ঞ পাঠকমন্ডলীর নিকট আমার প্রশ্ন- " যারা বুদ্ধের সময়ে সেই উচ্চতর জ্ঞান লাভ করেছেন তারা কি শুধুমাত্র বুদ্ধের সাক্ষাৎ বা দর্শন পেয়ে সেই উচ্চতর জ্ঞান লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন না কি বুদ্ধের সময়কালে জন্মগ্রহণ করে সেই উচ্চতর জ্ঞান লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন? তদুত্তরে নিশ্চয়ই সবাই বলবেন যে- না তাহা কখনো সম্ভব নয়। তার কারণ হলো এই-
যদি বুদ্ধের সাক্ষাতে সেই উচ্চতর জ্ঞান লাভ করা যেতো তাহলে তো যারা বুদ্ধের দর্শন লাভ করতে পেরেছে বা দর্শন করতে পেরেছেন তারা সবাই সেই জ্ঞান লাভ করতে পারতো। কিন্তু তাহাতে হয় নি। আর যদি বুদ্ধের সময়কালে জন্মগ্রহণ করে সেই উচ্চতর জ্ঞান লাভ করা যেতো তাহলেও তো তখনকার সবাই উচ্চতর জ্ঞানী হতো। তাহাও তো হয়নি। তার কারণে ভগবান বুদ্ধ বসল সূত্রে বলেছেন যে-
"ন জচ্চা বসলো হোতি, ন জচ্চা ব্রাহ্মণো
কম্মুনা বসলো হোতি, কম্মুনা হোতি ব্রাহ্মণো।
অর্থাৎ জন্মের দ্বারা কেউ কখনো বসল (নিম্ন জাতি) হয় না আর ব্রাহ্মণও হয় না। একমাত্র কর্মের দ্বারা বসল হয় এবং কর্মের দ্বারা ব্রাহ্মণও হয়। অপর পক্ষে বুদ্ধ আরো ধর্মোপদে বলেছেন যে-
"ন জটাহি ন গোত্তেন ন জচ্চা হোতি ব্রাহ্মণো
যমহি সচ্চঞ্চ ধম্মো চ সো সূচী সো চ ব্রাক্ষণো।
অর্থাৎ জটা (ছন্দবেশ ধারণ) দ্বারা গোত্র বা জন্মের বংশ দ্ধারা কেউ ব্রাহ্মণ হয়না। হতেও পারে না। যাহার মধ্যে চারি আর্য্যসত্য ও নব লোকোত্তর ধর্ম বিদ্যামান আছে তিনিই পবিত্র এবং তিনিই ব্রাক্ষণ। এখানে ব্রাহ্মণ বলতে বিমুক্ত পুরুষকেই বলা হয়েছে। ইহাতেও প্রমাণিত হয় যে- কর্ম করে প্রত্যেক মানুষ বিমুক্ত হয়। কর্ম করে মানুষ জ্ঞানী হয়, উচ্চতর জ্ঞানী হয় এবং কর্ম করে মানুষ নিম্ন থেকে অধিকতর নিম্ন ও হতে পারে। এখন মূল কথা হলো সেই উচ্চতর জ্ঞান লাভের কর্মটা কি বা কেমন করে সেই উচ্চতর জ্ঞান করা যায়। তাহা সকলের জানা অতি আবশ্যক।
ভগবান বুদ্ধ জ্ঞান লাভের উপায় সম্পর্কে প্রতিসম্ভিদামার্গ দেশনায় বলেছেন যে- হে ভিক্ষুগণ, চারি প্রকার ধর্ম ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে স্রোতাপত্তি মার্গফল জ্ঞান লাভ হয়। সকৃদাগামী মার্গফল জ্ঞান লাভ হয়। আনাগামী মার্গফল জ্ঞান লাভ হয়। অরহত্ব মার্গফল জ্ঞান লাভ হয়। সেই চারি প্রকার ধর্ম কি কি? যথা-
১) পরপুরুষের সংস্রব
২) সদ্ধর্মদেশনা শ্রবণ
৩) উত্তমরূপে মনোযোগ প্রদান এবং
৪) ধর্মানুধর্ম আচরণ
এই চার প্রকার ধর্ম ভাবিত ও বহুলীকৃত হলে উক্ত জ্ঞান লাভের জন্য সংরক্ষিত হয়। অপর পক্ষে জ্ঞান লাভের মূল পর্যায়ে বুদ্ধ বলেছেন যে-
সর্ব সত্বগণের দুঃখ মুক্তি নির্বাণ লাভ বিমুক্ত জ্ঞান লাভের একমাত্র স্বরূপ সেই আর্য্য অষ্টাঙ্গিক মার্গের অনুসরণই একমাত্র পথ। যথাঃ সম্যক বাক্য, সম্যক কর্ম, সম্যক জীবিকা এই তিনটি মার্গতে রয়েছে শীলস্কন্ধ নামক বিমুক্ত জ্ঞান লাভের প্রথম সোপান। তারপর সম্যক ব্যায়াম, সম্যক স্মৃতি, সম্যক সমাধি এই তিনটি মর্গে রয়েছে সমাধিস্কন্ধ নামক বিমুক্ত জ্ঞান লাভের অপর সোপান এবং সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প এই দুইটি মর্গে রয়েছে প্রজ্ঞা স্কন্দ নামক বিমুক্ত জ্ঞান লাভের উত্তম সোপান।
এই শীল, সমাধি, প্রজ্ঞাস্কন্দ সমন্বিত মর্গ দ্বারা ত্রিবিদ্যা, ষড়াভিজ্ঞা, প্রতিসম্ভিদা জ্ঞান লাভ করা যায়। অর্থাৎ শীলস্কন্ধ দ্বারা সর্বোচ্চ ত্রিবিদ্যা জ্ঞান লাভ করা যায়। শীল, সমাধি, স্কন্ধ দ্বারা সর্বোচ্চ ষড়াভিজ্ঞা জ্ঞান লাভ করা যায় এবং শীল, সমাধি, প্রজ্ঞাস্কন্ধ দ্বারা সর্বোচ্চ প্রতিসম্ভিদা জ্ঞান লাভ করা যায়। তাছাড়া আরো এই শীল, সমাধি, প্রজ্ঞার সমন্বিত চারি স্মৃতি প্রস্হান, চারি সম্যক প্রধান, চারি ঋদ্ধিপাদক, পঞ্চইন্দ্রিয়, পঞ্চবল, সপ্ত বোধ্যঙ্গসহ আর্য্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ এই সাইত্রিশ (৩৭) প্রকার বোধিপক্ষীয় ধর্মের দ্বারা যাবতীয় বিমুক্ত জ্ঞান লাভ করা যায়। অপরপক্ষে জ্ঞান লাভের উচ্চতর সহায় শক্তি স্বরূপ সেই তের(১৩) প্রকার কঠোর সাধনা ধুতাঙ্গশীল প্রতিপালনের সুফল বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে- ধুতাঙ্গ শীল প্রতিপালনের দ্বারা শথম ও বিদর্শন ভাবনা পরিপূর্ণ হয়, যার ফলে শিক্ষা ও আচরণে পরিপূর্ণতা লাভ হয়। অর্থাৎ ধুতাঙ্গ পালনের দ্বারা চারি মার্গফল জ্ঞান, ত্রিবিদ্যা জ্ঞান, ষড়াভিজ্ঞা জ্ঞান, প্রতিসম্ভিদা জ্ঞান এবং সকল প্রকার বিমুক্ত জ্ঞান লাভ করা যায় বলে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রজ্ঞা লাভের উপায় সম্পর্কে বুদ্ধ প্রতিসম্ভিদা মার্গে দেশেনায় আরো বলেছেন যে-
অনিত্যানুদর্শন- ভাবিত, বদ্ধিত ও বহুলীকৃত হলে জবন নামক প্রজ্ঞা লাভ হয়।
দুঃখানুদর্শন- ভাবিত, বদ্ধিত ও বহুলীকৃত হলে নির্বেধিক প্রজ্ঞা লাভ হয়।
অনাত্মানুদর্শন- ভাবিত, বদ্ধিত ও বহুলীকৃত হলে মহাপ্রজ্ঞা লাভ হয়।
নির্বেদানুদর্শন- ভাবিত, বদ্ধিত ও বহুলীকৃত হলে তীক্ষ্ণপ্রজ্ঞা পরিপূর্ণ হয়।
বিরাগানুদর্শন- ভাবিত, বদ্ধিত ও বহুলীকৃত হলে বিপুল প্রজ্ঞা পরিপূর্ণ হয়।
নিরোধানুদর্শন- ভাবিত, বদ্ধিত ও বহুলীকৃত হলে গভীর প্রজ্ঞা পরিপূর্ণ হয়।
পরিত্যাগানুদর্শন- ভাবিত, বদ্ধিত ও বহুলীকৃত হলে অসমীপ্য প্রজ্ঞা পরিপূর্ণ হয়।
এইভাবে এক এক অনুদর্শন ভাবিত, বদ্ধিত ও বহুলীকৃত হলে প্রজ্ঞায় পণ্ডিত্যতা পরিপূর্ণ হয়। তারপর আবার রূপের প্রতি অনিত্যানুদর্শন, বেদনার প্রতি অনিত্যানুদর্শ,সংজ্ঞার প্রতি অনিত্যানুদর্শন, সংস্কারের প্রতি অনিত্যানুদর্শন, বিজ্ঞানের প্রতি অনিত্যানুদর্শন ও প্রজ্ঞা পরিপূর্ণ হয়। আবার রবের প্রতি দুঃখানুদর্শন, বেদনার প্রতি দুঃখানুদর্শন, সংজ্ঞার প্রতি দুঃখানুদর্শন, সংস্কারের প্রতি দুঃখানুদর্শন,, বিজ্ঞানের প্রতি দুঃখানুদর্শনে ও প্রজ্ঞা পরিপূর্ণ হয়। তারপর আবার রূপের প্রতি অনাত্মানুদর্শন, বেদনার প্রতি অনাত্মানুদর্শন, সংজ্ঞার প্রতি অনাত্মানুদর্শন, সংস্কারের প্রতি অনাত্মানুদর্শন, বিজ্ঞানের প্রতি অনিত্মানুদর্শন ও প্রজ্ঞা পরিপূর্ণ হয়। এসব প্রজ্ঞা দ্বারা চারি প্রতিসম্ভিদা জ্ঞান অধিগত হয়, সাক্ষাৎ হয় ও স্পর্শিত হয় বলে বুদ্ধ বলেছেন। ইহাতে প্রমাণিত হয় যে- বুদ্ধের সময়কালীর যেমন শীল, সমাধি, প্রজ্ঞাচারণ দ্বারা সেই উৎস উচ্চতর জ্ঞান করতে সক্ষম হয়েছেন। ঠিক তেমনি বর্তমান সময়ে পূজনীয় ভদন্ত শীলানন্দ মহাস্থবির (ধুতাঙ্গ ভান্তে) মহোদয় ও সেই শীল, সমাধি, প্রজ্ঞা ও ধুতাঙ্গ শীল প্রতিপালনের দ্বারা সেই দুর্লভ উচ্চতর জ্ঞান লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন। অর্থাৎ প্রতিসম্ভিদাসহ ষড়াভিজ্ঞা জ্ঞান লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন।
কিন্তু বড়ই দুঃখের বিষয় যে- বিগত কয়েক বছর থেকে বর্তমান অবধি পর্যন্ত যারা এই উচ্চতর জ্ঞান লাভের বিপক্ষে কথা বলেছেন অর্থাৎ বর্তমান সময়ে নাকি ষড়াভিজ্ঞা, প্রতিসম্ভিদা জ্ঞান লাভ করা কারোর পক্ষে সম্ভব নয়। এখন নাকি সেই সময় নয়। এ কথাটি বারবার বলে যাচ্ছেন। যারা এসব বলেছেন বা বলতেছেন, তাদের প্রতি আমার প্রশ্ন এই-আপনারাতো কিভাবে জ্ঞান লাভ করা যায়? কিভাবে প্রজ্ঞা লাভ করা যায়? কিভাবে বিমুক্ত হওয়া যায়? এসব জ্ঞানলাভের উপায়গুলো জনসাধারণের কাছে প্রচার করতেছেন না, প্রকাশ করতেছেন না। তাহলে কি আপনারা বুদ্ধের ধর্মের জ্ঞানলাভের উপায়গুলোর সম্পর্কে কিছুই জানেন না? নাকে শুধুমাত্র জ্ঞানলাভ না করা উপায়গুলো জানেন?
আপনারা কি আর্য্যঅষ্টাঙ্গিক মার্গের কথা স্মরণ করতে পারেন না? প্রচার করতে পারেন না সাইত্রিশ (৩৭) প্রকার বোধিপক্ষীয় ধর্মের কথা, ধুতাঙ্গ শীলের কথা যেগুলো আচরণের দ্বারা সকল প্রকার দুঃখ থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। সকল প্রকার জ্ঞান লাভ করা যায়। সমালোচনাকারীদের প্রতি আমার মৈত্রীময় অনুরোধ রইল আপনারা বুদ্ধের সঠিক ধর্ম প্রচার করুন। বুদ্ধের সেই ছয়টি গুনের কথা স্মরণ করূন। যথা- স্বাকখাতো ভগবতো ধম্মো সন্দিটঠিকো অকালীকো এহিপসসিকো ওপনাযিকো পচ্চত্তং বেদিতব্বো বিঞঞুহী'তি। (ভগবান বুদ্ধ কর্তৃক ধর্ম সুব্যাখ্যাত, প্রত্যক্ষ, ফলপ্রদ, ফলদানে অকালিক, "এস দেখ" বলিয়া আহ্ববান করিবার যোগ্য, নির্বাণের উপনয়নকারী ও বিজ্ঞগণ কর্তৃক স্বয়ং জ্ঞাতব্য)। যাই হোক এসব বিষয়ে আমি তেমন কিছু বলতে চাই না। বিজ্ঞ পাঠকমন্ডলী এসব বিষয়ে ভালমন্দ বিচার করবেন। এই প্রত্যাশায় অন্য প্রসঙ্গে চলে গেলাম।
সদ্ধর্মপ্রাণ উপাসক- উপাসিকাবৃন্দ আপনারা ইতিমধ্যে জানতে পেরেছেন যে-
পরম পূজনীয় ধুতাঙ্গ ভান্তে মহোদয় তার অর্জিত উচ্চতর জ্ঞান দ্বারা বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় শত স্থানে ধারাবাহিকভাবে সদ্ধর্মদেশনা প্রদান করে বৌদ্ধ সমাজে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন। এত অল্প সময়ে পূজ্য ভন্তের এত সুনাম, যশ কীর্তি কিভাবে অর্জিত হলো- তার কারণ সম্বন্ধে বুদ্ধ ফ
পুলিশ পঞঞতি দেশনায় বলেছেন যে- দেবমানবগণ সাধারণত চারটি কারণে বুদ্ধগণ কে শ্রদ্ধা, সম্মান, পূজা দিয়ে প্রসন্নতা লাভ করেন। যথা-
১) বুদ্ধগণ সাধারণত পা হইতে মাথা পর্যন্ত সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরিপূর্ণ হয়ে মহাপুরুষ লক্ষণ সম্পন্ন, রূপ লাবণ্যে, আকার-আকৃতিতে সর্বাঙ্গ সুন্দর দেহ লাভ করে থাকেন বিধায় সাধারণ জনতা, তাদেরকে দেখে প্রীতি প্রশান্তি লাভ করে থাকেন। তাই তাহারা বুদ্ধগণের প্রতি প্রসন্নতা হয়ে বারবার বুদ্ধের দর্শনে আকৃষ্ট হন।
২) বুদ্ধগণ সাধারণত সুললিত কন্ঠে, মধুর সুরে ভাবগম্ভীর্যপূর্ণ বাক্য ভাষণ করে থাকেন। তাহারা কখনো খারাপ বাক্য ভাষণ করেন না, সর্বদা অপরের কল্যাণের জন্য সৎবাক্য ভাষণ করেন। তাই সাধারণ জনতা বুদ্ধগণের সেই মধুর বাক্য শ্রাবণ করার জন্য বুদ্ধগণের নিকট বারবার ছুটে যান এবং বুদ্ধগণের প্রতি সর্বদা প্রসন্নতা হয়ে থাকেন।
৩) বুদ্ধগণ মাত্রই জ্ঞানী। আর জ্ঞানীর ধর্ম স্বভাবতই ত্যাগ। বুদ্ধগণ এমন ত্যাগ অনুশীলন করেন যা সাধারণ মানুষ কিংবা কোন দেবতার পক্ষে তাহা সম্ভব নয়। তাহারা সর্বদা অনিত্য, দুঃখ, অনাত্মা চিন্তা করে যথা লাভে সন্তুষ্ট থাকেন। বুদ্ধগণের সেই অসাধারণ ত্যাগ তিতিক্ষায় অভিভূত হয়ে সাধারণ জনতা তাদেরকে প্রসন্ন চিত্তে শ্রদ্ধা করে থাকেন।
৪) বুদ্ধঘোষ মাত্রই অকুতোভয় সম্পন্ন হয়ে সদাসর্বদা আত্ম ও পরহিতের জন্য কালবাদী, ভূতবাদী, ধর্মবাদী, বিনয়বাদী ও সত্যবাদী হয়ে সকল স্থানে সমভাবে ধর্ম প্রচার করে থাকেন। মিথ্যাদৃষ্টি পরিহারের জন্য ধর্মোপদেশ দিয়ে থাকেন। জনসাধারণের অনেক অজানা বিষয় কে তাহারা জ্ঞাত করিয়ে দেন। যাহা সত্য তাহা উৎঘাটন করেন। মিথ্যাকে চিরতরে উৎপাটিত করার চেষ্টা করেন। ন্যায়কে ন্যায় আর অন্যায়কে অন্যায়রূপে প্রকাশিত করে ধর্ম দেশনা প্রদান করেন। সর্বদা শীল সমাধি, প্রজ্ঞানুশীলন করার জন্য ধর্মোপদেশ দিয়ে থাকেন। যার কারণে সাধারণ জনতা তাদের ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয় সবসময় প্রসন্ন হয়ে থাকেন।
এই চারটি অসাধারণ গুণে মুগ্ধ হয়ে সাধারণ জনগণের প্রতি প্রসন্নতার মূল কারণ। যার হেতুতে পরম পূজনীয় প্রতিসম্ভিদাসহ ষড়াভিজ্ঞা অর্হৎ অনুবুদ্ধ শীলানন্দ মহাস্হবির (ধুতাঙ্গ ভান্তে) মহোদয়েকে আবাল বৃদ্ধ সকল জনতা নির্বিশেষে শ্রদ্ধা, সন্মান, পুজা করে থাকেন। অর্থাৎ পূজনীয় ভান্তের সেই সৎপুরুষ লক্ষণ সুলোলিত মধুর কণ্ঠস্বর, শীল, সমাধি, প্রজ্ঞানুশীলনে অসাধারণ ত্যাগ তিতিক্ষা সম্পন্ন, দৃঢ় পরাক্রম সম্পন্ন সংকল্প এবং শাসন উন্নতি অপরের কল্যাণার্থে দিনরাত্রি অতন্দ্র প্রহরী হয়ে দিনরাত গভীর প্রজ্ঞা সংযুক্ত সদ্ধর্মের সত্যবাণী দিকে দিকে প্রচার করে যাচ্ছেন। তাই তিনি যে দিকে যাচ্ছেন সেদিকে হাজার হাজার ভক্ত ও পুজারী অনুরাগী, অনুসারী তাহার দর্শন, সেবা পূজা করার জন্য উদার আগ্রহে ছুটে যাচ্ছেন এবং তৎসঙ্গে সঙ্গে তাহারা অচিন্তনীয় সুফল ও পাচ্ছেন। যার কারণে বুদ্ধধর্মপদে বলেছেন যে-
"সীলদসসনং সম্পন্নং ধম্মটঠং সচ্চবেদিনং
অত্তনো কম্মকুব্বানং যংজনো কুরুতে পিযং।"
অর্থাৎ যিনি শীলবান, সম্যকদর্শন সম্পন্ন, সদ্ধর্মে স্থিত, সত্যবাদী ও আত্মকর্তব্য সম্পাদনে নিযুক্ত তিনি জনসাধারণের প্রিয় হন। অপরপক্ষে বুদ্ধ আরো বলেছেন যে-
" সদ্ধোসীলেন সম্পন্নো যসোভোগসমপ্পিতো
যংযং পদেসং ভজতি তথ তত্থেব পূজিতো।"
অর্থাৎ যাহারা ত্রিরত্নের প্রতি অটল শ্রদ্ধাবান, শীলবান, যশস্বী পারমী সম্পন্ন, তাহারা যে যে স্থানে কিংবা যে যে প্রদেশে উপস্থিত হন সেখানেই যথার্থভাবে সম্মানিত হন, পূজিত হন।
সাধু সৎপুরুষ বুদ্ধগণকে দর্শনের সুফল
___________________________________
মহাসময় সূত্রে উল্লেখ আছে যে- একপূণ্যকামী দেবতা ভগবান বুদ্ধকে বলেছিলেন যে-
মে কেচি বুদ্ধং সরণং গতাসে ন তে গমিসসন্তি অপায় ভূমিং পহায
মনুসসং দেহং দেবকাযং পরিপুরেসসম্ভি।"
অর্থাৎ যদি কেউ শ্রদ্ধা চিত্তে বুদ্ধের দর্শন কিংবা বুদ্ধের শরণাপন্ন হন তাহলে তাহারা অপায় ভূমিতে গমন করেন না। তাহারা মানব দেহ ত্যাগ করে বা মৃত্যুর পর দেবলোক প্রাপ্ত হন। অপরপক্ষে ধজাগ্র সূত্রে উল্লেখ আছে যে- যাহারা বুদ্ধের শরণাপন্ন হন তাদের কোন ধরনের ভয় থাকে না।
আবার ধর্ম পথে উল্লেখ আছে যে-
সাধু দসসনমরিযানং সন্নিবাসো সদাসুখো
অদসসনেন বালানং নিচ্চমেব সুখী সিরা। ধম্মপদ-২০৬
অর্থাৎ সাধু সৎপুরুষ আর্য্যগণের দর্শন শুভজনক। সর্বদা তাহাদের সান্নিধ্য লাভ সুখকর এবং মূর্খগণের আদর্শনে মানুষ সততই সুখী হইয়া থাকে। তাই চন্দ্র যেমন নক্ষত্র পথ অনুসরণ করে ঠিক তদ্রুপ প্রত্যেক ব্যক্তির প্রজ্ঞাবান, শীলবান, ধুতাঙ্গ ব্রত পরায়ণ মেধাবী আর্য্যপুরুষের অনুসরণ করা একান্ত উচিত।
যেহেতু মূর্খগণকে দর্শনে ও তাদের সাথে সহবাসের কারণে মানুষ বহু দুঃখে পতিত হয়। তাই মূর্খের সঙ্গে বাস করা মানে সর্বদা শত্রু সহবাসের ন্যায় মহা বিপদ জনক এবং জ্ঞানী পন্ডিত এর সঙ্গে বাস করা পরম হিতকামী আত্মীয়ের ন্যায় সুখকর হয়।
বুদ্ধগণকে সেবা পূজার সুফল
__________________________
মহামঙ্গল সূত্রে উপদেশে উল্লেখ আছে যে-
" অসেবনা চ বালানং পণ্ডিতানঞ্চ সেবনা
পূজা চ পূজনীয়ানং এতং মঙ্গল মুত্তমং"
অর্থাৎ মূর্খ লোকের সেবা পূজা না করা, জ্ঞানী, পন্ডিত সাধু সৎপুরুষদের সেবা পূজা করা, পূজনীয় ব্যক্তিদেরকে পূজা করাই উত্তম মঙ্গল। অপরদিকে ধর্মপদে উল্লেখ আছে যে-
"পূজারোহে পূজযতো বুদ্ধে যদি ব সাবিকে,
পপঞ্চসমতিককন্তে তিণ্নসোকপরিদ্দবে। ধম্মপদ-১৯৫
তবে তাদিসে পূজয়তো নিব্বুতে অকুতোভযে
ন সককা পুঞঞং সংখাতুং ইমেত্তম'পি কেনচি। ধম্মপদ-১৯৬
অর্থাৎ যাহারা তৃষ্ণামুক্ত, সম্যক দৃষ্টিসম্পন্ন, মান-অভিমান হতে মুক্ত সকল প্রকার পাপ হইতে মুক্ত, শোক-পরিতাপ থেকে উত্তীর্ণ নির্মাণে উপনীত ও নির্ভয় হইয়াছেন তাদৃশ বুদ্ধদিগকে যাহারা পূজা করেন। কেহ তাহাদের পুণ্যর পরিমাপ করতে পারেন না। যার কারণে সীবলী পরিত্রাণ সূত্র উল্লেখ আছে যে-
এবং অচিন্তিযা বুদ্ধাবুদ্ধা অচিন্তনীযা
অচিন্তিযেসু পসন্নানং বিপাকো হোতি অচিন্তনীযো।
অর্থাৎ বুদ্ধের গুন অচিন্তনীয়, বুদ্ধের ধর্মের গুণ ও অচিন্তনীয় এই অচিন্তনীয় গুণসম্পন্ন বুদ্ধ ও ধর্মের প্রতি যাহারা শ্রদ্ধাশীল সম্পন্ন তাহাদের এই প্রসন্নতা, বিশ্বাসের ফল ও অচিন্তনীয় হয়।
বুদ্ধগণের হিতোপদেশ শ্রাবণ ও পালনের সুফল
________________________________________
মহামঙ্গল সূত্র উল্লেখ আছে যে,
"কালেন ধম্ম সবনং এতং মঙ্গল মুত্তমং"
অর্থাৎ উপযুক্ত সময়ে ধর্মদেশনা শ্রবণ করা উত্তম মঙ্গল। কারণ যথাসময়ে শ্রাবণের দ্বারা ভালো-মন্দ জানা যায়। ন্যায় অন্যায় বুঝা যায়। কুশল অগ্রসর হওয়া যায়। এভাবে পাপ পুণ্য, ত্যাগনীয়, গ্রহণীয়, শিক্ষনীয়, আচরণীয়, ভাবনীয়, অভাবনীয়, অর্জনীয়, বর্জনীয়, করণীয়, অকরণীয়, বহুলীকরণীয় ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত জ্ঞাত হওয়া যায়। যার ফলে তৎদ্দ্বারা সকল দুঃখ থেকে নিবৃত্তি লাভ করতে সহজ হয় এবং অবশেষে পরম সুখের অধিকারী হওয়া যায়। অপরদিকে বুদ্ধগণের হিতোপদেশ প্রতিফলনের দ্বারা মানবীয় সুখ, রাজকীয় সুখ, দিব্যসুখ, স্বর্গসুখ, ব্রাহ্মসুখ সহ জগতের সকল প্রকার সুখ লাভ করা যায়। অর্থাৎ লৌকিক সুখ, অলৌকিক সুখ এবং অন্তিমে লোকোত্তর সুখ নির্বাণ লাভ করা যায়।
অনুবুদ্ধ কাহাকে বলে?
______________________
যিনি আর্য্যশীল, আর্য্য সমাধি, আর্য্যপ্রজ্ঞা ও আর্য্যবিমুক্তি জ্ঞান উপলব্ধির মাধ্যমে সম্যকরূপে জ্ঞাত হয়ে ভব তৃষ্ণাকে সমূলে উৎপাটিত করেছেন, পুনঃর্জন্মকে ক্ষয় সাধন করেছেন, শাড়ি আর্য্যসত্য প্রকৃত রূপ দর্শন করেছেন, চারি মার্গফল জ্ঞন অধিগত করেছেন তিনি অনুবুদ্ধ। আবার তিনি শীল, সমাধি, প্রজ্ঞা ও বিমুক্তি সম্পর্কে মার্গফল জ্ঞান দ্বারা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে উপলব্ধি করেছেন, পুনঃজন্মের ভব কৃষ্ণার রজ্জু সম্পূর্ণ ক্ষয় সাধন করেছেন, তিনিই অনবুদ্ধ। আবার যিনি তথাগত সম্যক সম্বুদ্ধের ধর্মকে যথার্থভাবে নিজেই উপলব্ধি করেছেন, পুনঃজন্মের সকল তৃষ্ণা ক্ষয় সাধন করেছেন এবং অপরকেও বুদ্ধের ধর্ম সম্পর্কে যথাযথভাবে বুঝাতে সক্ষম তিনিই অনূবুদ্ধ।
অনুবুদ্ধ শব্দের অর্থ-কল্পিত, চিন্তিত, অনুমোদিত, পরিচিত, অভিজ্ঞাত, অবধারিত, জ্ঞানে জাগ্রত, চেনা, স্বীকৃত, দৃষ্ট ইত্যাদি। আবার অপরদিকে বুদ্ধ শব্দের অর্থ জ্ঞানী, জ্ঞানপ্রাপ্ত, জাগরিত, উদ্বোধিত ইত্যাদি। অনু শব্দের অর্থ ছোট, অল্প, পরে, পশ্চাৎ, অনুরূপ, সাদৃশ্য, যোগ্যতা ইত্যাদি বুঝায়। কাজে প্রকৃত বুদ্ধগণকে চিনুন, জানুন এতদ সঙ্গে বুদ্ধ গনকে দর্শন করুন, সেবা করুন, পূজা করুন। তাদের ধর্মোপদেশ শ্রবণ করুন, শিক্ষনীয় বিষয় শিক্ষা করুন, আচরণীয় বিষয় আচরণ করুন। ইহাতে বুদ্ধের ধর্ম রক্ষা হবে শ্রীবৃদ্ধি হবে এবং সকল প্রাণীর হিত সাধন হবে।
সাধু সৎপুরুষের সঙ্গে বিরুদ্ধাচারনের কুফল
_______________________________________
যো সানং অরহতং অরিযানং ধম্মজীবিনং
পটিককোসতি দুম্মেধো দিটঠিং নিসসায পাপিকং;
ফলানি কটঠকসসে'ব অত্তঘঞঞায প্রতি।ধম্মপদ১৬৪
অর্থাৎ যে মূর্খ মিথ্যা ধারণাবশতঃ অজ্ঞানতা বশত বা ভুল বশতঃ শীলবান, বীর্যপরায়ণ, আর্য্যপুরুষ, অর্হৎগণের শাসন অনুশাসনের প্রতি হিংসা করে, ক্রোধ পরায়ন হয়ে কিংবা আক্রোশ করে, তাহলে সে বাঁশের ফল উৎপন্নের ন্যায় নিজের ধ্বংসের জন্য ফলবান হয়। আর তখন সে যেখানেই থাকুক না কেন তাহার পাপ কর্ম থেকে রক্ষা পাবার মত কোন স্থান বিদ্যমান নেই।
তাইতো বুদ্ধ ধর্মপদে বলেছেন যে-
ন অন্তলিকখে ন সমুদ্দমজঝে
ন পব্বতানং বিবরং পবিসস
ন বিজ্জতি সো জগতিপ্পদেসো
যত্থটঠিতো মুঞ্চেয্য পাপকম্মা।ধম্মপদ-১২৭
অর্থাৎ আকাশে কিংবা সমুদ্রে অথবা পর্বতবিবরে যেখানেই থাকুন না কেন, জগতে এমন কোন স্থান বিদ্যমান নাই যে, যেখানে লুকিয়ে থাকিয়া কৃত পাপ কর্মের ফল ভোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
যার কারণ স্বরূপে বুদ্ধ ধর্মপদে দেশনা করেছেন যে-
যো অপ্পদুটঠসস নরসস দুসসতি
সুদ্ধসস পোসসস অনঙ্গনসস
তমেব বালং পচ্চেতি পাপং
সুখূমো রজো পটিবাতং'ব খিত্তো। ধম্মপদ-১২৫
অর্থাৎ যে নির্দোষ, নিরপরাধ, নিষ্পাপ, নির্মল চরিত্র সম্পন্ন লোকের শত্রুতাচরণ করে তবে বাতাসের দিকে নিক্ষিপ্ত ধূলিকণার ন্যায় তাহার কৃত পাপ তাহাকে প্রত্যাঘাত করে। সেই ব্যক্তি যেই হোক না কেন অর্থাৎ দায়ক হোক কিংবা দায়িকা হোক কিংবা ভিক্ষু হোক ভিক্ষুণী হোক তাহাকে অবশ্যই ফল ভোগ করতে হবে। সেই ফল যতই দুঃখদায়ক হোক, কষ্টকর হোক, ভয়ংকর হোক সেই পাপ কর্মের ফল অবশ্যই ভোগ করতেই হবে। উদাহরণ স্বরূপ যেমন- ভগবান বুদ্ধের জীবদ্দশায় কোকালিক নামক ভিক্ষু তিনি বুদ্ধের অগ্রশ্রাবক সারিপুত্র ও মোগ্গলায়ন ভান্তে দ্বয়ের প্রতি অপ্রসন্ন হয়ে অনাত্মকভাবে শত্রুতাচরণ করেছিলেন।
তখন স্বয়ং বুদ্ধ কোকালিক ভিক্ষুকে বার বার নিষেধ করার পরেও তাহার চেতনা অপ্রসন্নতার ফলে কোকালিক ভিক্ষুর সর্বাঙ্গ শরীরে প্রথমে সরিষা বীজ পরিমাণে ব্রণ (ফোঁড়া) উৎপন্ন হয়েছিল। তারপর সেই ব্রণগুলো বড় হতে হতে যথাক্রমে- মুগডাল পরিমাণ, মুগডাল থেকে কলারবীজ, ফুলবীজ, আমলকী, কাঁচা বেল(ছোট বেলা) পাকা বেল(বড় বেল) পরিমাণ হয়ে ফাটিয়া পূজঁসহ রক্ত বাহির হতে লাগল এবং সে এই কঠিনতম রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। তারপর তিনি মরনের পর সে সারিপুত্র ও মোগ্গলায়ন ভান্তে দ্বয়ের প্রতি অবজ্ঞাসূচক নিন্দনীয় বাক্য ভাষণের ফলেৎপদুম নামক নরকে পতিত হন। এই প্রসঙ্গ ভিক্ষুসংঘের সামনে উপস্থাপিত হইলে অপর একজন ভিক্ষু পদুম নরকের আয়ুষ্কাল সম্পর্কে ভগবান বুদ্ধ কে জিজ্ঞাস করলে তদুত্তরে বুদ্ধ জ্ঞানযোগে বলেছেন যে-
হে ভিক্ষুগণ, পদুম নরকের আয়ু এত দীর্ঘ যে তাহা এত বছর কিংবা একশত বছর কিংবা এত হাজার বছর কিংবা এত লক্ষ বছর বলিয়া নির্ণয় করা যায় না। থাই ভগবান বুদ্ধ উপমা দ্বারা বলেছেন যে-যেমন, একটি বিংশতি খারি তিলের ভার বিশিষ্ট কোশলক হইতে কোন ব্যক্তি যদি প্রতি একশত বছরের পর এক একটি তিল সরিয়ে ফেলা হয় তাহলে সেই সমস্ত তিলগুলি সরিয়ে ফেলিতে মে সময় প্রয়োজন হয়, তার চেয়ে বেশি একটি অব্বুদ নরকের আয়ুষ্কাল।
হে ভিক্ষুগণ, তেমনি আরো বিংশতি অব্বুদ নরক একটি নিরব্বুদ নরকের সমান। তেমনি বিংশতি নিরব্বুদ নরক একটি অবব নরকের সমান। তেমনি বিংশতি নিরব্বুদ নরক একটি অহহ নরকের সমান। তেমনি বিংশতি অটট নরক একটি কমুদ নরকের সমান। তেমনি বিংশতি কমুদ নরক একটি সোগন্ধিক নরকের সমান। তেমনি বিংশতি সোগন্ধিক নরক একটি উপ্পলক নরকের সমান। তেমনি বিংশতি উপ্পলক নরক একটি পুন্ডরীক নরকের সমান। তেমনি বিংশতি পুন্ডরিক নরক একটি পদুম নরকের সমান।
হে ভিক্ষুগণ, কোকালিক ভিক্ষু সারিপুত্র ও মোগ্গলায়নদের প্রতি প্রদুষ্ট চিত্তে শত্রুতাচরণের হেতুতে সেই পদুম নরকে উৎপন্ন হয়েছে। যারা এভাবে আর্য্যদেরকে অবজ্ঞা করেন, নিন্দা করেন, তিরস্কার করেন, ছাড়া মরনের পর উপরে উল্লেখিত দশটি নরকের মধ্যে যে কোন একটিতে পতিত হন। তাই সকলের প্রতি ভয়ানক কর্ম পরিহার করা একান্ত কর্তব্য।
কাজে খুব সাবধান, সতর্ক হোন। সাধু সব পুরুষের আর্য্য অর্হৎ এখনো পৃথিবীতে বিদ্যমান আছেন। তাই তাদের বিষয়ে খারাপ মন্তব্য করা মানে নিজেই নিজের বিপদ তৈরি করা।
পরিশেষে এইটুকু আহ্বান-
মহা দুঃখের পথিক হইও না। সেই সাথে
অপরকেও মহা দুঃখে পতিত করবেন না।
সকলে সত্য ও ন্যায়ের পথে অগ্রসর হউক। সকলে মিথ্যাদৃষ্টি, কুসংস্কার, অজ্ঞান দূরীভূত হোক।
সকল প্রাণীর সর্বদা সুখী হউক।
জয়াতু বুদ্ধ সাসনম।
জয়তু ধুতাঙ্গ ভান্তে।
লেখক- আরণ্যিক ভিক্ষুসংঘের অনুহংঘনায়ক
ভদন্ত সদ্ধর্মজ্যোতি স্থবির
অধ্যক্ষ, ধর্মচূড়া ভাবনা কুঠির, পক্ষীমূড়া, সিন্দুকছড়ি, গুইমারা, খাগড়াছড়ি।
সম্পাদনা- সৈকত চাকমা
এডমিন, আর্য্যপুরুষ শীলানন্দ ধর্মোদয় বিহার।
[ বিদ্রঃ উপরোক্ত লেখাগুলো সব মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লেখা হয়েছে, তাই পালি শব্দ গুলোতে (্) চিহ্নতি ব্যাবহার করা যায়নি, তাই আন্তরিকভাবে দুঃখিত ]
🙏🙏🙏 সাধু সাধু সাধু 🙏🙏🙏
আর্যশ্রাবক অর্হৎ ভদন্ত শীলানন্দ মহাস্থবির (ধুতাঙ্গ ভান্তে'র সদ্ধর্ম দেশনা)- সিরিজ ১
🌸🌸🌸দেশনার বিষয়ঃ সম্যকদৃষ্টি, মিথ্যাদৃষ্টি ও নির্বাণ🌸🌸🌸
দেব মানব পূজ্য, পরম কল্যাণমিত্র প্রতিসম্ভিদাসহ ষড়াভিজ্ঞা অর্হৎ ভদন্ত শীলানন্দ মহাস্থবির (ধুতাঙ্গ ভান্তে) মহোদয় দীর্ঘ সাতটি বছর কঠোর সাধনার পর বুদ্ধের নব লোকোত্তর ধর্মকে প্রচারের জন্য ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধপল্লী মহামুনি পাহাড়তলী গ্রামে 23 শে মার্চ 2007 ইং রোজ শুক্রবার একক সদ্ধর্মদেশনা অনুষ্ঠানে বলেনঃ
বুদ্ধ নব লোকোত্তর ধর্মকে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে দেশনা করেছেন। তারমধ্যে মিথ্যাদৃষ্টি সম্পর্কে বলতে গিয়ে বুদ্ধ বলেছেন-
দ্বীহি ভিকখবে দিটঠিগতেহি পরিযুটঠিতা দেবমানুসসা
ওলীযন্তি একে অতিধাবন্তিএকে চকখুমন্তো বা পসসন্তি।
কতংচ ভিকখবে 'ওলীযন্তি' একে? ভবারামা ভিকখবে দেবমনুসসা
ভবরতা ভবসম্মুদিতা। তেসং ভব নিরোধায ধম্মে দেসিয়মানে চিত্তং
ন পকখন্দতি, নপ্পসীদতি, ন সন্তিটঠতি, নাধিমুচ্চতি। এবং খো ভিকখবে
ওলীযন্তি একে। কতংচ ভিকখবে অতিধাবন্তি একে ভবেনেব খো
পনেকে অটঠিযমানা হরায়মানা জিণ্ডচ্ছমানা বিভবং অভিনন্দন্তি
যতো কির ভো অত্তা কাযসস ভেজা উচ্ছিজ্জতি, বিনসসতি না হোতি
পরম্পরনা, এতং হন।তং পনীতং এতং যথাবন্তি, এবং খো ভিকখবে
"অতিধাবন্তি একে" কতং চ ভিকখবে চকখুমন্তো ব পসসন্তী?
ইধ ভিকখবে ভিকখু ভুতং ভূততো পসসতি ভূতং ভূততো দিস্বা
ভূতসস নিব্বিদায বিরাগায় নিরোধায় পটিপন্নো হোতি।
এবং খো ভিকখবে চকখুমন্তো পসসন্তী'তি (প্রজ্ঞাভাবনা পৃঃ ১৬)
অর্থাৎ এই মানবলোকে, স্বর্গলোকে এবং ব্রাহ্মলোকের মধ্য যত প্রকারের সত্ত্ব রয়েছে প্রত্যেকে দুই প্রকারের দৃষ্টিযুক্ত হয়ে অপাই এবং নরকের দিকে ধাবিত হয়। সেই দুইটি দৃষ্টি কি?
ওলীযন্তি একে এবং অতিধাবন্তি একে?
এই দেহ জগৎকে নিয়ে প্রত্যেক মানুষ তথা সমস্ত সত্ত্বগণ চিন্তা করে থাকে। এই দেহ কোথা থেকে উৎপন্ন হয়েছে? এই দেহের পরিণতি কি? এই দেহের লক্ষণ কি? এই দেহকে নিয়ে বিভিন্ন চিন্তা করে থাকে। চিন্তা করে দুই প্রকারের মতবাদী হয়। একটি হচ্ছে ওলীযন্তি একে অর্থাৎ এই মতবাদের বিশ্বাসী মানুষ বা সত্ত্বগণ জন্ম-জন্মান্তর বিশ্বাস করে। কিন্তু জন্মনিরোধ বিশ্বাস করে না। অথচ জন্ম লাভ করে থাকে। তাদেরকে বুদ্ধ ওলীযন্তি একে বা শ্বাশতবাদী বলেছেন। অতিধাবন্তী একে বলতে বুদ্ধ বলেছেন, এই দেহ জগতকে নিয়ে যারা কোনো বিশ্বাস করে না। অর্থাৎ এই দেহের ইহাই বিনাশ যখন দেহের প্রাণ বায়ু বিলীন হয়ে যাবে তখনই এদেহের কোন অস্থিত্ব থাকবে না তাদেরকে বুদ্ধ অতিধাবন্তি একে বা উচ্ছেদবাদী বলেছেন। তাই এই মতবাদ গুলো তে যারা বিশ্বাসী তারা এই দেহের প্রতি আসক্ত হয়। কাম, রূপ, অরূপ এই ত্রিলোকের প্রতি আসক্ত হয়ে ভব থেকে ভবান্তরে পরিভ্রমণ করে, সুখ লাভ করার জন্য পরিভ্রমণ করে। তারা এই ভাবে ষড়ইন্দ্রিয়ের প্রতি আসক্ত হয়। ফলে তারা ভব থেকে ভবান্তরে ধাবিত হয়। কোন সময় নির্বাণ বা মুক্তির দিকে ধাবিত হয় না। যদি নির্বাণের কথা বলা হয়, দেশনা করা হয়, তারা সেগুলো শুনতে চায় না। তাই যারা শাশ্বতবাদী ও উচ্ছেদবাদী এই দুই প্রকার মতে বিশ্বাসী হন। তারা নির্বাণ পথ বা মুক্তির পথ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকে। সেই জন্যে বুদ্ধ বলেছেন যে__
ভবেনেব খো পনেকে অটঠিযমানা হরায়মানা জিণ্ডচ্ছমানা বিভিবং অভিনন্দন্তি,
যতো কির ভো অত্তা কাযসস ভেদা উচ্ছিজ্জতি, বিনসসতি ন হোতি পরম্পরনা।
অর্থাৎ এই দেহ বিনাশ প্রাপ্ত হলে আর এই দেহের কোন অস্থিত্ব থাকে না, এই দেহে আর কোন কিছু অবশিষ্ট থাকে না। যা কিছু পাপ পূণ্য করুক না কেন তার কোন কিছু থাকে না। তাহলে এই প্রকারে যারা বিশ্বাসী হয় তারা নির্বাণের পথ, মুক্তির পথ অন্বেষণ করে না। সেজন্য বুদ্ধ এ দুই প্রকারের কর্ম পথকে পরিহার করতে বলেছেন। কোন পথকে অবলম্বন করতে বলেছেন? সেটি হচ্ছে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিগণই একমাত্র তা দেখতে পারে। এখানে পূজ্য ভান্তে উপমায় বলেন, একজন মানুষ যদি রোগাগ্রস্থ হয় তবে রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা করে থাকে। ঠিক তেমনি বুদ্ধ বলেছেন যে, এই দেহের উৎপত্তি স্থান দর্শন করার জন্যে; কোথায় থেকে এই দেহ উৎপত্তি হয়েছে, কোথায় এই দেহের বিনাশ বিনাশ প্রাপ্ত হবে; যেহেতু এই দেহ তৃষ্ণা দ্বারা আবদ্ধময়- এই তৃষ্ণা যদি বিনাশ করতে পারে, ধ্বংস করতে পারে তাহলে দেহ হতে মুক্তি লাভ করবে। যতদিন তৃষ্ণা থাকবে ততদিন এই অবান্তর থাকবে। যে মাত্র তৃষ্ণা মুক্ত হবেন, তিনি এই ভবান্তরে থাকবেন না। এটিকে যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে হলে এমন কর্ম গ্রহণ করতে হবে যা দ্বারা তার মনে নির্বাণ এর দিকে ধাবিত হয়। সকল প্রকার তৃষ্ণায় ক্ষয় করে আর আস্রবক্ষয় জ্ঞান লাভ করে মারকে জয় করতে পারে। সেজন্য বুদ্ধ বলেছেন, একমাত্র যারা মানবলোকে, দেবলোকে, ব্রাহ্মলোকে চক্ষুষ্মান ব্যক্তি তারাই এই দুই প্রকারের মিথ্যা দৃষ্টি পরিহার করে নির্বাণ লাভ করেতে পারে।
পূজ্য ভান্তে সে সম্পর্কে দেশনায় বলেন, মনে করুন বুদ্ধের সময়কালে বুদ্ধ ধর্ম প্রচার করেছিলেন ণির্বাণ চিরবিমুক্তি, সর্ব আস্রবক্ষয় জ্ঞান এবং তৃষ্ণা বিমুক্তি। তখন অন্য মতবাদীরা বুদ্ধের নির্বাণ ধর্মকে অন্যরূপে ব্যাখ্যা করেছেন। যা নির্বাণ নয় তা নির্বাণ বলে ব্যাখ্যা দিয়েছে। সেটি যখন বুদ্ধের কানে আসলো তখন বুদ্ধ (৬২) প্রকার মিথ্যাদৃষ্টি সম্পর্কে দেশনা করেছেন। ৬২ প্রকার মিথ্যাদৃষ্টিতেও কয়েক প্রকার মতবাদ রয়েছে। তারমধ্যে দৃষ্টধর্ম নির্বাণবাদ যেই নির্বাণকে বিমুক্ত নির্বাণ বলেছেন, তাকেই দৃষ্টধর্ম বলেছেন। তাহলে এই নির্বাণকে দৃষ্টধর্ম বলেছেন; কোন নির্বাণকে দৃষ্ট ধর্ম বলেছেন? এই যে যারা মিথ্যাদৃষ্টি প্রতিপন্ন হয়ে বুদ্ধের নির্বাণ ব্যাখ্যাকে অপব্যাখ্যা করার জন্য বুদ্ধের সেই নির্বাণ প্রদত্ত সুখকে বিরূপ ব্যাখ্যা করেছেন; সেই প্রেক্ষিতে দৃষ্ট ধর্ম নির্বাণবাদ বলেছেন, অর্থাৎ যা নির্বাণ নয় তা নির্বাণ বলে উপলব্ধি করা, নির্বাণ বলে মেনে নেওয়া, নির্বাণ বলে বিশ্বাস করা তাই হচ্ছে দৃষ্টধর্ম নির্বাণবাদ। এ প্রসঙ্গে ভান্তে বলতেছেন যে, তারা যা মুক্তি নয় তা মুক্তি বলে ব্যাখ্যা করে থাকে; মুক্তি নয় অথচ মুক্তি বলে থাকে, তাহলে বলতে হবে দৃষ্টধর্মে মুক্তিবাদ।যারা মার্গলাভ না করে থাকে, তারা যদি মার্গ লাভ করে বলে আখ্যা দিয়ে থাকে; তাদেরকে জানতে হবে যে, দৃষ্টধর্ম মার্গবাদ। যা মার্গ নয়, যা নির্বাণ নয়, তা মুক্ত নয় অর্থাৎ সত্যকে মিথ্যা বলা আর মিথ্যাকে সত্য বলা। যা সত্যকে সত্য, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা তা হচ্ছে সম্যকদৃষ্টি, বুদ্ধের পরিভাষায় তাকে সম্যকদৃষ্টি বলে। এই পথকে অবলম্বন করার জন্য বুদ্ধ বলেছেন। ভান্তে, মিথ্যাদৃষ্টি ও সম্যকদৃষ্টি সম্পর্কে অর্থাৎ বুদ্ধের পরিভাষায় দৃষ্টি পথের কথা দেশনা করেছেন।
এরপর পূজ্য ভান্তে মু্ক্তির চরম লক্ষ্য নির্বাণ সম্পর্কে দেশনায় উপমা দিয়ে বলেন,
যদি একজন মানুষকে জিজ্ঞেস করা হয়- আপনি কোথায় গেছেন? লোকটি বলল আমি রিয়াজ উদ্দিন বাজারে গেছি, নিউমার্কেটে গেছি। কিসের জন্য?
নির্বাণ দর্শনের জন্য।
তাহলে রিয়াজউদ্দিন বাজারে, নিউ মার্কেটে গিয়ে নির্বাণ দেখছেন তো।
-হ্যাঁ দেখেছি
-চিনেছেন তো?
-হ্যাঁ চিনেছি
-তা কেমন লেগেছে
-এখানে এনেছেন তো?
-এনেছি।
সে দেখেছে চিনেছে, কিনেছে এবং বাড়িতেও নিয়ে এসেছে। ভান্তে, এই এ প্রসঙ্গে কি বলছে এখনো অনেকেই বুঝতে পারেননি। ভান্তে বলতেছে যে লোকটি যে নির্বাণের কথা বলতেছে সেটি "নির্বাণ মোমবাতি"মোমবাতির প্যাকেটটি, সে দেখেছে, চিনেছে এবং থলেতে করে বাড়িতে নিয়ে এসেছে। তাহলে নির্বাণ কি রিয়াজউদ্দিন বাজারে, নিউ মার্কেটে পাওয়া যায়? পাওয়া যায় না। প্রকৃত নির্বাণ কোথায় পাওয়া যাবে? কিভাবে পাওয়া যাবে? এখন ভান্তে বুদ্ধের নির্বাণের কথা বলবে। বুদ্ধ বলেছেন,
ইধানন্দ ভিকখু অরঞঞগতো বা রুকখমূলগতো বা সুঞঞাগারগোতো বা
ইতিপটিসংচিকখতি, এতং সন্তং এতং পণীতং, যদিদং সব্ব সংখার সমথো
সব্বু পধিপটিনিসসগগো তনহকখযো, বিরাগো নিব্বাণন্তি।
আনন্দকে উপলক্ষ করে বুদ্ধ বলেছেন, হে আনন্দ যাতে মেলা, বাজার এগুলো চোখে না পড়ে, যা কিছু চোখে পড়লে মন বিক্ষিপ্ত হয় সেই ধরনের স্থান বর্জন করবে, লোকালয় ত্যাগ করবে। হে ভিক্ষু তুমি প্রথমে অরণ্য বা বৃক্ষমূলে বা শূন্যঘরে যাও; যেখানে গেলে তোমার চিত্তকে শান্ত করতে পারবে এবং নির্বিঘ্নে সাধনা করতে পারবে। অরণ্যর মধ্য বৃক্ষতলে এবং খোলা আকাশ তলে যখন সাধনা করবে, তখন তুমি মনে মনে এই ভাব এই সিদ্ধান্ত নেবে এই চিন্তা করবে-সকল প্রকার সংস্কারের সমথ করা, স্তব্ধ করা, বন্ধ করা, সর্ব উপাধি পরিহার করা, যা দ্বারা তৃষ্ণা, উপাদান উৎপন্ন হয়, অবিদ্যা ভাব জাগ্রত হয় সেটি পরিহার করা। তোমার চিত্তে প্রতিনিয়ত বিরাগভাব জাগ্রত হলে, নিরোধভাব জাগ্রত হলে সকল প্রকার তৃষ্ণা ক্ষয়প্রাপ্ত হলে; সেটি হচ্ছে নির্বাণ। বিরাগ ও নিরোধের অপর নাম নির্বাণ। তৃষ্ণাক্ষয় করার পর বিরাগ চিত্ত উৎপন্ন হলে সে নির্বাণ লাভ করবে এবং নিরোধ প্রাপ্ত হলে নির্বাণ দর্শন করবে। যিনি নির্বাণ লাভ করবেন, নির্বাণ দর্শন করবেন-তাহারা কামলোকের প্রতি রূপলোকের প্রতি, অরূপ লোকের প্রতি আর কোন তৃষ্ণা বা আসক্তি থাকবে না। তৃষ্ণা ক্ষয় সাধন করাকে বুদ্ধ প্রকৃত নির্বাণ বলেছেন। আগে ভান্তে যে রিয়াজউদ্দিন বাজারের এবং নিউমার্কেটের নির্বাণের কথা বলেছেন তা তৃষ্ণা কয় সাধন নির্বাণ নয়। যা টাকা দিয়ে কেনা যায়, থলে করে আনা যায়। একজনের হাত থেকে আরেকজনের হাতে দেয়া যায়, বুদ্ধ সেই নির্বাণের কথা বলেননি, বুদ্ধ সেই ধরনের নির্বাণকে দৃষ্টধর্ম নির্বাণবাদ বলেছেন।
পূজ্য ভান্তে দেশনায় আরো বলেন,
যারা মিথ্যাদৃষ্টি প্রতিপন্ন তাদের কি গতি হয়?
যারা সম্যকদৃষ্টি প্রতিপন্ন তাদের কি গতি হয়?
অবজ্জে বজ্জমতিনো বজ্জে চা বজ্জদসসিনো
মিচ্ছাদিটঠি সমাদানা সত্তা গচ্ছন্তি দুগ্গতিং।
বজ্জঞ্চ বজ্জতো ঞত্বা অবজ্জঞ্চ অবজ্জতো,
সম্মাদিটঠি সমাদানা সত্তা গচ্ছন্তি সুগ্গতিং।
এখানে বুদ্ধ বলেছেন যে, যা পরিত্যাগের বিষয় তা যদি সে পরিত্যাগ না করে, যা গ্রহণের বিষয়ে তা যদি সে গ্রহণ না করে; মোট কথা সত্যকে মিথ্যা বলে এবং মিথ্যাকে সত্য বলে জানবে, পাপকে পুণ্য এবং পূণ্যকে পাপ বলে জানবে সে হচ্ছে মিথ্যা দৃষ্টি প্রতিপন্ন। দিনে পরিত্যাগের বিষয় পরিত্যাগ করে, গ্রহণের বিষয় গ্রহণ করে তিনি সম্যক দৃষ্টি প্রতিপন্ন। যিনি মিথ্যাদৃষ্টি প্রতিপন্ন তিনি কখনও প্রকৃত সুখ লাভ করতে পারে না। মিথ্যাদৃষ্টি প্রতিপন্ন হলে সমস্ত মানব সত্ত্বা, ব্রক্ষ্রা, প্রত্যকেই দুর্গতি প্রাপ্ত হয়। যারা সম্যকদৃষ্টি প্রতিপন্ন থারা সুগতি প্রাপ্ত হয়। আজকে যারা এখানে এসে বুদ্ধের ধর্ম ভান্তের কাছে শ্রাবণ করেছেন, প্রত্যেকে নিজের অন্তরে বেধে রাখব, নিজের অন্তরে জাগিয়ে তুলব, নিজের সুখ শান্তি এবং নির্বাণ মুক্তির পথকে দিন দিন বর্ধিত করব। যাতে চারি অপায় দ্বারা থেকে, নরক যন্ত্রণা থেকে, রোগ-শোক-ভয় উপদ্রব থেকে মুক্ত হয়ে প্রতিনিয়ত চির শান্তিময় স্থানে যেতে পারি, সেই রূপে নিজেরা প্রার্থনা রাখবেন। শুধু প্রার্থনা রাখলে হবে না। সে অনুযায়ী কাজ ও করে যেতে হবে। বুদ্ধের সেই কর্মপথ অনুশীলন করতে হবে, প্রতিপালন করতে হবে। যদি প্রতিপালন করেন, বুদ্ধের সেই ধর্ম জ্ঞান তা অবশ্যই লাভ করবেন। বুদ্ধ বলেছেন যে, আমি শুধু বি মুক্ত নয়। এই মানব লোকের মধ্যেই যেই যেই মুক্তি চাই, বিমুক্ত সুখ চাই, যে সংসার থেকে দুঃখ থেকে নিবৃত্তি লাভ করতে চাই- সে যদি সেইরূপ কর্মে নিয়োজিত থাকে নিশ্চয়ই সেটি লাভ করবে। শুধু আমি সম্যক সম্বুদ্ধ নয় প্রত্যকে সে জ্ঞান লাভ করতে পারবে। ভান্তে সে প্রসঙ্গে বুদ্ধের কথা বলবেন, যখন বুদ্ধ শ্রাবস্তীর জেতবন বিহারে অবস্থান করছিলেন, ঠাকুর দেবতাদের মধ্যে ঐরূপ সংশয় উৎপন্ন হয়েছিল সর্বজ্ঞতা জ্ঞান কারা লাভ করতে পারে। তখন এই সংশয় নিরসনের জন্য এক দেবতা বুদ্ধের কাছে প্রশ্ন জিজ্ঞাসার জন্য গেলেন। তখন বৌদ্ধ দেবতা কে যেভাবে উত্তর দিয়েছেন- ভান্তে এখন সে কথা দেশনা করবে-
অন্তো জটাহি বহি জটাহি জটায় জটিতা পজা,
তং তং গৌতম পুচ্ছামি, কো ইমং বিজটয়ে জটন্তি;
দেবতা বুদ্ধকে প্রশ্ন করেছেন- এই দেহ কে নিয়ে মানুষেরা যে নানান প্রকারের জালে আবদ্ধ, জটায় আবদ্ধ। কিভাবে এই জটা থেকে মুক্ত হওয়া যায়? আমরা সাধারণত আঞ্চলিক ভাষায় গিট্টা বলি। বুদ্ধ সে গিট্টার কথা এভাবে দেশনা করেছেন- এই দেহের বাহিরের গিট্টা কি? অর্থাৎ বাহিরের জটা কি? ভিতরের জটা কি? বাহিরের জটা হচ্ছে- রূপ, শব্দ, গন্ধ, রস স্পর্শ যা দ্বারা সত্ত্বগণ নির্বাণ সত্য উপলব্ধি করতে পারে না।
এই জটাগুলোর দ্বারাই তৃষ্ণা উৎপন্ন হয়। যা দেখলে চিত্ত বিক্ষিপ্ত হয়। যা শুনলে চিত্ত চঞ্চল হয়; তখন বৌদ্ধ দেবতা কে বলেন, " সীলে পতিটঠায় নরো সপঞঞো, সিত্তং পঞঞঞ ভাবযং" অর্থাৎ নিজের চিত্তকে সমাধিস্থ করে, শান্ত করে নিজে এমন কর্ম করবে। চিত্তকে শান্ত- দান্ত সমাহিত করে এমন কর্ম করবে যা দ্বারা প্রজ্ঞা দর্শন করবে। যদি তিনি সমথ ও বিদর্শন দ্বারা প্রজ্ঞ দর্শন করতে পারে তাহলে অতাপী নিপকো ভিক্ষু, সো ইমং বিজটয়ে জটন্তি, অর্থাৎ যিনি বীর্যবান শ্রদ্ধাবান সাধক তিনি প্রজ্ঞা লাভ করে সেই আসবক্ষয় জ্ঞান লাভ করে থাকে। যাই হোক আজকে মহামুনি পাহাড়তলী গ্রামের শ্রদ্ধাবান দায়ক-দায়িকা কর্তৃক আয়োজিত সদ্ধর্মদেশনা অনুষ্ঠানে যারা ভান্তের দেশনা শ্রবণ করেছেন তারা যাতে বুদ্ধের কথা, বুদ্ধের বাণী, বুদ্ধের জ্ঞান, বুদ্ধের শিক্ষা, বুদ্ধের ধর্মের প্রকৃত বাণী সারমর্ম উপলব্ধি করে নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠিত করে সুখ শান্তি লাভ করে জন্ম-জন্মান্তরে সুপথে ধাবিত হয় পরম শান্তি নির্বাণ সুখ লাভ করতে পারে। সেই সুখ শান্তি কামনা প্রার্থনা করে প্রত্যেকে তিনবার সাধুবাদ প্রদান করুন।
🙏🙏🙏সাধু সাধু সাধু 🙏🙏🙏
সম্পাদনাঃ সৈকত চাকমা
এডমিন, আর্য্যপুরুষ শীলানন্দ ধর্মোদয় বিহার।
[ বিঃদ্রঃ উক্ত দেশনাটি সম্পূর্ণ মোবাইলে টাইপ করা হয়েছে, তাই বরাবরের মতো এবারও পালি ভাষায় (্) চিহ্নটি ব্যবহার করা যায় নি। ]