আলু চাষির মরণ

হোম পেজ

এই সংখ্যার হোম পেজ

আন্দোলিত বাংলাদেশ
সীমান্তরক্ষী আন্দোলন বিদ্রোহের রূপ নিল

মংলা বন্দরের শ্রমিকদের আমরণ গণ অনশন

চাষবাস
আলু সরিষার পর এবার ধানেও ক্ষতি
আলু চাষির মরণ
নন্দীগ্রামে বোরো চাষের ফলে জল সংকট
পোস্ত চাষের অধিকার চাই
বোরো ধানের বদলে পেস্তা বাদাম চাষ হচ্ছে

ডানকুনি উপনগরী
ডানকুনির মেয়েদের কথা
রাস্তা অবরোধের কর্মসূচী
উড়ালপুলের জন্য ভাড়াটে দোকানির উচ্ছেদ


দ্বীপভূমি
তলিয়ে যাচ্ছে ঘোড়ামারা দ্বীপ
সুন্দরবন কি তলিয়ে যাবে?
সাগরদ্বীপে আলো নেই


শিল্পের হাল
ওষুধ পরীক্ষাগারে শরীর বেচছেন হীরা শিল্পী

অপচয়
মেটেবুরুজে আম দাওয়াত

বেতন বৃদ্ধি
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লো, কিন্তু খেটে খাওয়া গরীব মানুষ?

প্রশাসনিক গাফিলতিতে জাতিয় গ্রন্থাগারে কর্মচাড়িদের বেতন কমে গেল

অন্য জীবন
কলকাতায় বেদিয়া সম্মেলন


খবরে দুনিয়া
নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের দখলে চল্লিশ ঘন্টা
পাক সাংবাদিক মুসা খানকেলকে কে মেরেছে?

অসুস্থ কবি

সিরাজুল ইসলামের আর্থিক সাহায্য চাই

ক্ষমা নেই
গুমখুনের আসামি এগারো জন পুলিশ আজ একযুগ ফেরার

চিঠিপত্র

বসিরুদ্দিন, রোহিনীপুর, বীরভূম, ২৫ ফেব্রুয়ারি

এবার আলুচাষে ক্ষতিগ্রস্ত পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সব চাষি। ব্যতিক্রম নয় রোহিনীপুরের চাষিরাও। মাঠের আলু তোলা শেষ। অন্য বছর আলু তুলতে লেগে যেত গোটা ফাল্গুন মাস। এমনকী চৈত্র মাসেও এসে যেত। এবার ফাল্গুন মাস অর্ধেক না যেতেই মাঠ ফাঁকা। যে মাঠে আলু চাষ হয়েছিল, চাষিরা মনে করছে, আলুর দাম তো পাবেই না, উল্টে পেঁয়াজ, বেগুন আর শুকতির দাম বেড়ে না যায়। কারণ আলুর যা সাইজ হয়েছে তাতে পেঁয়াজ-বেগুন দিয়ে শুকতির তরকারি রাঁধা যাবে। সেটা গাঁয়ের মানুষের প্রিয় তরকারি। এত ছোটো ছোটো আলু দিয়ে আর কীই বা হবে!
    যাই হোক, কথা বললাম রোহিনীপুরের এক উল্লেখযোগ্য চাষি আবদুস সালামের সঙ্গে। তিনি সাড়ে ছ' বিঘা আলু চাষ করেছিলেন। কত খরচ হয়েছিল আর কত ফলন হয়েছে, তার হিসাব তিনি দিলেন।
১ বিঘা জমির চাষে লেগেছে :
সার ১০-২৬-২৬ তিন বস্তা, দাম ১৫৬০ টাকা; ইউরিয়া এক বস্তা, দাম ২৮০ টাকা; কীটনাশক, দাম ৩০০ টাকা; বীজ সাত বস্তা (২১০০ টাকা) ঘরেই ছিল, গতবছরের আলু থেকে; আলু রোপন থেকে তোলা অবধি ২০টি শ্রমিক বাবদ খরচ ১৮০০ টাকা; সেচ খরচ ৪০০ টাকা; ট্রাক্টরে চাষ বাবদ খরচ ৮০০ টাকা। মোট এক বিঘাতে খরচ ৭২০০ টাকা। এই হিসাব মতো সাত বিঘাতে খরচ পড়েছে ৪৭,০৬০ টাকা। তিনি মোট আলু পেয়েছেন ১৭৭ বস্তা। সেখানে অন্য বছর আলু পাওয়া যেত প্রায় ৬০০ বস্তার মতো। এই ১৭৭ বস্তা আলুর বর্তমান দাম ৩৫,৪০০ টাকা। অর্থাৎ ১১,৬৬০ টাকা লোকসান হয়েছে তাঁর। বিঘা প্রতি ধরলে, গড়ে দু'হাজার টাকা লোকসান। তিনি কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন। কীভাবে ঋণ শোধ করবেন এই ভেবে আবদুস সালাম ঘোর দুশ্চিন্তায়। তিনি বললেন, 'সরকার সাহায্য করলে মরণ থেকে উদ্ধার হব'।
    কথা বলেছিলাম নুনী বিবির সঙ্গেও। তিনি ১৫ কাঠা জমির মালিক। এই পুরো জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। আলুর সাইজ কুলের মতো হয়েছে। খদ্দের কিনতে চাইছে না। যে বীজটা লাগালাম, সেই বীজটাও পাওয়া গেল না। ১৫ কাঠায় ছ' বস্তা বীজ দিয়েছিলেন, পেয়েছেন পাঁচ বস্তা আলু। এতই ছোটো আলুগুলো, অবহেলায় রেখে দিয়েছেন আঙিনার নিচে। ছেলেরা রাজমিস্ত্রির কাজ করে যে টাকা এনেছিল, তা দিয়ে আলু চাষ করেছিলেন নুনী বিবি, দু' পয়সার মুখ দেখবেন বলে। কিন্তু সে আশা বৃথা। তিনি বলেছেন, 'সরকার যদি কিছু সাহায্য করে খেতে পাব, না হলে বাটি হাতে বেরোতে হবে।'    
প্রতি মাসের ১ ও ১৬ তারিখ সংবাদমন্থন প্রকাশিত হবে। ২ টাকার বিনিময়ে আপনার নিকটবর্তী স্টল বা কাগজবিক্রেতার কাছ থেকে সংগ্রহ করুন। সারা বছর ডাকযোগে পাওয়ার জন্য গ্রাহক হ'ন।
বার্ষিক গ্রাহক চাঁদা ৪০ টাকা।
Comments