তলিয়ে যাচ্ছে ঘোড়ামারা দ্বীপ

হোম পেজ

এই সংখ্যার হোম পেজ

আন্দোলিত বাংলাদেশ
সীমান্তরক্ষী আন্দোলন বিদ্রোহের রূপ নিল

মংলা বন্দরের শ্রমিকদের আমরণ গণ অনশন

চাষবাস
আলু সরিষার পর এবার ধানেও ক্ষতি
আলু চাষির মরণ
নন্দীগ্রামে বোরো চাষের ফলে জল সংকট
পোস্ত চাষের অধিকার চাই
বোরো ধানের বদলে পেস্তা বাদাম চাষ হচ্ছে

ডানকুনি উপনগরী
ডানকুনির মেয়েদের কথা
রাস্তা অবরোধের কর্মসূচী
উড়ালপুলের জন্য ভাড়াটে দোকানির উচ্ছেদ


দ্বীপভূমি
তলিয়ে যাচ্ছে ঘোড়ামারা দ্বীপ
সুন্দরবন কি তলিয়ে যাবে?
সাগরদ্বীপে আলো নেই


শিল্পের হাল
ওষুধ পরীক্ষাগারে শরীর বেচছেন হীরা শিল্পী

অপচয়
মেটেবুরুজে আম দাওয়াত

বেতন বৃদ্ধি
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লো, কিন্তু খেটে খাওয়া গরীব মানুষ?

প্রশাসনিক গাফিলতিতে জাতিয় গ্রন্থাগারে কর্মচাড়িদের বেতন কমে গেল

অন্য জীবন
কলকাতায় বেদিয়া সম্মেলন


খবরে দুনিয়া
নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের দখলে চল্লিশ ঘন্টা
পাক সাংবাদিক মুসা খানকেলকে কে মেরেছে?

অসুস্থ কবি

সিরাজুল ইসলামের আর্থিক সাহায্য চাই

ক্ষমা নেই
গুমখুনের আসামি এগারো জন পুলিশ আজ একযুগ ফেরার

চিঠিপত্র

শেখ সুলেমান, চূণপুরি গ্রাম, ঘোড়ামারা মাডপয়েন্ট, ২৫ ফেব্রুয়ারি

আমাদের ঘোড়ামারা দ্বীপ তলিয়ে যাচ্ছে।  তা প্রায় পঞ্চাশ বছর হবে দ্বীপের ভাঙন চলছে। দশ-বারো বছর বয়েস থেকে দেখছি। গ্রাম ছিল সাতখানা। ভাঙতে ভাঙতে এখন মন্দিরতলা গ্রামটাই পুরো রয়েছে। চূণপুরি আর বাগপাড়ার আটআনা চলে গেছে। রায়পাড়া, হাটখোলা আর বৈষ্ণবপাড়ার চারভাগের একভাগ আছে। খাসিমারার আছে ওই টাকার দুআনা। সাগরদ্বীপ ব্লকের ১নং অঞ্চল ঘোড়ামারা। এখানে পঞ্চায়েতে একজন অঞ্চল প্রধান আর চারটে বুথে মোট পাঁচজন সদস্য। মৌজা হিসেবে ঘোড়ামারা টিকে রয়েছে, খাসিমারা কিঞ্চিৎ রয়েছে আর লোহাচর এক্কেবারে নিঃশেষ হয়ে গেছে।
আমাদের পরিবারে আমাকে নিয়ে এই তিনপিড়ি চলছে। পূর্ব পুরুষেরা এসেছিল নন্দীগ্রাম থেকে। আবার কেউ এসেছিল ডায়মন্ড হারবার থেকে। দ্বীপটায় ছিল আন্দাজ ২১,০০০ বিঘে জমি। বাপ-দাদাদের আমলে এক-একজন জমিদারের হাতে ছিল সাত-আটশ বিঘে। গল্প শুনেছি, জমিদারের ঘরের দুই ছেলে বেরিয়েছিল বাঘ শিকারে। দুজনেই ঘোড়ার পিঠে চেপে দু'দিক থেকে এসে বন্দুক তাক করেছে বাঘের দিকে। একজন গুলি করতেই মারা পড়ল একসাথে বাঘ, ঘোড়া আর তার সওয়ারি অন্য ছেলে। সেই থেকে নাম হয়েছিল ঘোড়ামারা।
    জলের নিচে বোল্ডার ফেলে তিন কিলোমিটার জুড়ে আগুনমারির বাঁধ দেওয়া হল। কেন? না, নদী গভীর হবে, হলদিয়ার চ্যানেলে যাতে নদীর ভাঁটার স্রোত এসে পড়ে, তাহলে বন্দরে জাহাজ যেতে পারবে। কিন্তু বাঁধটা লম্বায় কম হয়েছে।ওটা যদি কুলপি থেকে শুরু হত,
তাহলে স্রোতটা হলদিয়ার নদীতে পড়ত। তা না হয়ে স্রোতটা ঘোড়ামারার  
কোল দিয়ে গেছে। তার জন্য ভাঙন অব্যাহত আছে। হলদিয়ার নদীতেও চর  
পড়ে গেছে। এদিকে জাহাজ যাওয়াও বন্ধ আর ভাঙনও বেড়ে গেল।  
ঘোড়ামারার দক্ষিণে লোহাচর আর সুপুরিভাঙা দ্বীপ নিঃশেষ হয়ে গেছে।  
ঘোড়ামারার পশ্চিমে আগুনমারির চর, যাকে এখন বলে নয়াচর, ওটা আছে।
ছেলেবেলায় ওখানে লোকে মাছ ধরতে যেত, লিজ নিয়ে মোষ চরাতো।
জমি আর ভিটে হারিয়ে গেল। প্রথমে পুনর্বাসন দেওয়া হল  
সাগরদ্বীপের ফুলডুবিতে। তারপর বঙ্কিমনগর আর মূল সাগরে যেখানে মেলা  
হয়। আট বছর আগে লোকে গেছে জীবনতলা, কমলপুরে। সাড়ে চার বিঘে,
তিন বিঘে পাঁচ কাঠা এরকম সব জমি পেয়েছে। দেড় বিঘের ওপর বাস্তু আর
দাওয়া করে দিয়েছে সরকার। এখন ঘোড়ামারায় টিকে রয়েছে ৮০০ ঘর নিয়ে
মোট ৫২০০ মানুষ। ভাঙন ঠেকানো যাবে না।
প্রতি মাসের ১ ও ১৬ তারিখ সংবাদমন্থন প্রকাশিত হবে। ২ টাকার বিনিময়ে আপনার নিকটবর্তী স্টল বা কাগজবিক্রেতার কাছ থেকে সংগ্রহ করুন। সারা বছর ডাকযোগে পাওয়ার জন্য গ্রাহক হ'ন।
বার্ষিক গ্রাহক চাঁদা ৪০ টাকা।
Comments