ধানের বৈচিত্র্য রক্ষার লড়াই চলছে বসুধাতে

হোম পেজ

এই সংখ্যার হোম পেজ

মহিলা বাহিনী
নেশা বিরোধী আন্দোলন : একটি প্রতিবাদের মৃত্যু

মেয়েদের কথা
হালতু খালপাড় থেকে উচ্ছেদ হয়ে নোনাডাঙায় পুনর্বাসন পাওয়া উত্তরা-রা কেমন আছেন

নারীদিবস
শতবর্ষে নারীদিবস

চাষবাস
গ্রীষ্মের আগে চাষবাসের হাল-হকিকত
ধানের বৈচিত্র্য রক্ষার লড়াই চলছে বসুধাতে


গৃহযুদ্ধ
ভারত সরকার আদিবাসীদের সঙ্গে কথা বলছে না, বন্দুক হাতে সেপাই পাঠাচ্ছে জমি কাড়তে, শান্তির সম্ভাবনা নষ্ট হচ্ছে তখনই

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল
ফলতা জোনের সামনে নৈনান মোড়ে দুপুর দু'টো দশ

শিক্ষা ব্যবসা
কারিগরি শিক্ষা-ব্যবসায়ী কলেজ ছাত্রদের চাকরির ব্যবস্থা নিতে নারাজ!

শিল্পের জমিতে আবাসন
বাটা রিভারসাইড প্রজেক্ট কর্তৃপক্ষকে আন্দোলনকারীদের ডেপুটেশন

জমি অধিগ্রহণ
ফুলিয়ায় জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণে জনমত অগ্রাহ্য করে জমি অধিগ্রহণ

লোকশিল্প
আওগ্রামের পটুয়ারা
অন্ধকারে ডুবে থাকা গ্রাম ভারতের কথা বলতে চায় চাম্পাহাটি লোকমেলা

ক্ষুদে কারবার
ঝালমুড়িওয়ালা দাদু

কৃত্তিবাস

'গ্রামরত্ন ফুলিয়া'য় চারদিনব্যাপী কৃত্তিবাস স্মরণোৎসব

পরব
পায়ে পায়ে শান্তিনিকেতন : এলোমেলো বসন্তবরণ
জঙ্গলমহলে ঝাড়খণ্ডী মকর পরব
বজবজ লিটল ম্যাগাজিন মেলার চতুর্থ বছর

খবরে দুনিয়া
অন্য আমেরিকা --- খাবার, অসততা ও বাঁচার




























নারায়ণ নন্দী, বেলিয়াতোড়, বাঁকুড়া, ৬ ফেব্রুয়ারি

 
রূপ-রস-গন্ধে ভরা বসুধায় প্রথমবার এসেই মনে হয়েছে --- বার বার আসতে হবে এখানে প্রাণের টানে, মাটির টানে।
    বসুধা একটি কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র, যার নাম দেওয়া হয়েছে বসুধা বিজ্ঞান বীথি। এখানে কৃষকরা জৈবকৃষি পদ্ধতি থেকে শুরু করে বিকল্প শক্তির ব্যবহার, জল সংরক্ষণ ও কম খরচে ঘর বানানোর প্রশিক্ষণ পায়। দেবল দেব এই বসুধার প্রতিষ্ঠাতা। ব্রীহি নামে আর একটি সাবেকি ধান সংরক্ষণ কেন্দ্র আছে বসুধার সাথে জড়িয়ে। পূর্ব ভারতে ব্রীহি-ই একমাত্র সাবেকি ধান সংরক্ষণ কেন্দ্র। বাঁকুড়া জেলার বেলিয়াতোড় থেকে কিছুটা পথ গেলে চোখে পড়বে বসুধা বিজ্ঞান কেন্দ্র। গাছগাছালিতে ভরপুর এ যেন এক শান্তির নীড়।
    বসুধাতে একটি মাটির বাড়ি রয়েছে, যা তৈরি  হয়েছে সম্পূর্ণ স্থানীয় পরিবেশ-বান্ধব স্থাপত্য রীতিতে। এই বাড়িটি তৈরি করতে কোন সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি, ব্যবহার করা হয়েছে চিরাচরিত দেশীয় পদ্ধতি। বাড়িটি এমনভাবে তৈরি যাতে গরমের সময় রোদ কম ঢোকে, আবার শীতেও যাতে পর্যাপ্ত রোদ ঢুকে ঘরগুলোকে গরম রাখতে পারে। রাতে আলো জ্বালানো হয় সূর্যের আলো থেকে। 
মাটির সাথে মানুষের নাড়ীর সম্পর্ক। চাষিসমাজের কাছে মাটির কোন বিকল্প নেই। আর এই মাটিকে সুস্থ রাখার জন্য প্রয়োজন চিরাচরিত কৃষি পদ্ধতিকে ধরে রাখা। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশীয় ধান ও ফসলের জৈব চাষ। পশ্চিমবাংলায় প্রায় ৫৬০০ প্রজাতির বিভিন্ন প্রকারের ধান চাষ হত। এই ধানগুলোর প্রত্যেকটার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ছিল যা চাষিরা পরম যত্নে সংরক্ষণ করে আসছিল। সবুজ বিপ্লবের সময় থেকে এই দেশীয় ধানগুলো বিলুপ্ত হতে শুরু করল। এই বিলুপ্তির পেছনে যাদের হাত রয়েছে তারা সবসময় খিদেকে বাঁচিয়ে রাখতে চায়, তারা চায় না আমাদের স্থানীয় অর্থনীতি সুস্থভাবে বেঁচে থাকুক। r
ব্রীহি কেন্দ্রে দেবল দেব প্রায় ৬১০ রকমের দেশীয় ধান সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। বাকি ৫০০০ প্রজাতির ধান জমি থেকে সম্পূর্ণ লুপ্ত হয়ে গেছে। এই ৬১০ রকমের ধান প্রতিবছর সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা হয় বসুধাতে। এই ধানগুলো পরে ইচ্ছুক চাষিদের দেওয়া হয় চাষের জন্য। এই ধানগুলো বিভিন্ন প্রতিকূল আবহাওয়াকে সহ্য করে বেড়ে উঠতে পারে। খুব কম পরিমাণ সার ও জল ব্যবহার করে এই চাষ করা যায়।
বায়োপাইরেসি বা বীজডাকাতির হাত থেকে কীভাবে ধানের বৈচিত্র্যকে রক্ষা করা যায়, তার জন্য দেবল দেব নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁর বসুধা বিজ্ঞান কেন্দ্রে।
প্রতি মাসের ১ ও ১৬ তারিখ সংবাদমন্থন প্রকাশিত হবে। ২ টাকার বিনিময়ে আপনার নিকটবর্তী স্টল বা কাগজবিক্রেতার কাছ থেকে সংগ্রহ করুন। সারা বছর ডাকযোগে পাওয়ার জন্য গ্রাহক হ'ন।
বার্ষিক গ্রাহক চাঁদা ৪০ টাকা।
Comments