কেন অসুস্থ অসহায় মানুষ ভেলোরে যায়

হোম পেজ

সম্পাদকীয়
জলাটা ফিরিয়ে দাও!

জমি দখল
ঢিঙ্কিয়া-গোবিন্দপুরে গ্রামবাসীরা ব্যারিকেডে 
উত্তর বিহারে ফরবেশগঞ্জে জমি অধিগ্রহণবিরোধী জনবিক্ষোভে পুলিশের গুলি, মৃত পাঁচ
জমি ফেরতেও খেতমজুর গ্রাম দোবাঁদির ক্ষতির পূরণ হয়না
পরিবেশ ছাড়পত্র ব্যবহার হচ্ছে জমি দখলে

নদী দখল
'পবিত্র' গঙ্গাবক্ষে সরকারি মদতে যথেচ্ছ পাথর খাদান প্রতিবাদে দীর্ঘ অনশনে মৃত হরিদ্বারের সাধু নিগমানন্দ

জল দখল
কোম্পানির বোতলজল প্ল্যান্ট চাষজমিতে আদিবাসী বর্গাদার উচ্ছেদ করে, গণস্বাক্ষরে রাঙ্গালিবাজনা

জলাভাব
মাটির নিচে জলসঙ্কটে কুয়ো শুকিয়ে যাচ্ছে, কল বিকল, গ্রীষ্মে গৃহস্থের জলাভাব মফস্বলে

জলা উদ্ধার
সুরধুনী পুনরুদ্ধারে

উচ্ছেদ
নোনাডাঙায় গুণ্ডা লাগিয়ে বসতি উচ্ছেদ

অসুখ
নামী সরকারি হাসপাতালের হাল
কেন অসুস্থ অসহায় মানুষ ভেলোরে যায় 

ক্যানসার রোগের চিকিৎসার সহজ উপায়ের খোঁজে (তৃতীয় পর্ব)

বন্দী স্বাস্থ্যকর্মী
আমরাও এক অদৃশ্য জেলখানা থেকে মুক্তি পেয়েছি, তবে তা প্যারোলে কিনা বলার সময় এখনও আসেনি

জনস্বাস্থ্যে পরমাণু
পরমাণু বিরোধী কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নে জনস্বাস্থ্যর ওপর তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

সুন্দরবন
আয়লার দু'বছর পর দেউলবাড়ি (শেষ পর্ব)

পরব
রাধাপুরের ধর্মপুজো (শেষ পর্ব)

চীন
জাতকের খোঁজে চীনে পা, ঊনবিংশ পর্ব

খবরে দুনিয়া
গণভোটে পরমাণু বিদ্যুতের বিরুদ্ধে রায় ইতালির 

আদিবাসী সংবাদ
কুর্মালি ভাষা সংরক্ষণের জন্য কমিটি 'কুর্মালি ভাখি জিয়াও বাইসি' গঠন









































































হারাধন জাল, ঝাড়গ্রাম, ১৪ জুন


গত ২৫ মে রাত্রি দশটা চল্লিশ মিনিটে খড়গপুর থেকে হাওড়া জব্বলপুর এক্সপ্রেসে ভেলোরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম। প্রায় তিরিশ ঘন্টা যাত্রার পর সাতাশ তারিখ ভোররাত্রিতে কাটপাডি স্টেশনে নামলাম। স্টেশন থেকে সিএমসি হাসপাতালের দূরত্ব মাত্র ছয় কিলোমিটার। এই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন থেকে প্রায় সমস্ত রাজ্যে যাওয়া যায়। ভেলোর দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের একটি জেলা শহর। এখানে যাওয়ার উদ্দেশ্য আমার এক বন্ধুর শরীরে খুব ছোটোবেলা থেকে যে রোগটি বাসা বেঁধে আছে, তাকে নির্মূল করা। রোগটি হল সাইনাসের সমস্যা। তার থেকে শ্বাসনালীতে দীর্ঘদিন ধরে একটু একটু করে প্রলেপ জমা হওয়া, বা মাংস গজিয়ে ওঠা। যা থেকে নাকে কোনও জিনিসের গন্ধ পাওয়ার সমস্যা, এমনকী শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা। যাই হোক, কাটপাডি স্টেশন থেকে তামিলনাড়ু সরকারের বাসে মাত্র তিনটাকা ভাড়ায় ভেলোর সিএমসি হাসপাতালে পৌঁছলাম।
 দীর্ঘ ট্রেন যাত্রায় প্রচুর মানুষের সাথে আলাপ পরিচয় হল। কোথা থেকে আসছেন, কী সমস্যা নিয়ে আসছেন এসব প্রশ্নও জিজ্ঞেস করেছি। সকলেরই একটাই কথা, সুচিকিৎসা পাওয়ার জন্যই এখানে আসা। কৌতুহলবশত জানার ইচ্ছেটা সামান্য বেড়েই গেল। কেন দলে দলে লোক ভেলোর সিএমসি-তে আসে। কেন উত্তর পূর্ব ভারতের সমস্ত রাজ্য থেকে, এমনকী বাংলাদেশ মায়ানমার থেকেও রোগীরা আসে। পশ্চিমবঙ্গ থেকেও আসে। মোট রোগীর নাকি আশি শতাংশই বাঙালি। ভেলোর শহরটি যেন এক মিনি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া। 
 বাঙালি রোগীদের আত্মীয় স্বজন বন্ধুদের সাথে আলাপ শুরু হয়ে গেল। শুনলাম তাদের মুখে তাদের অসহায়তার কাহিনী। তাদের হতাশার কথা। শুনেছি তাদের কাছে পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসা ব্যবস্থায় অসৎ অসাড় লোকেদের বাড়বাড়ন্তের কথা। সরকারি ব্যর্থতার কথা। কথা হচ্ছিল পুরুলিয়ার গুনেশ মাহাত, ধনেশ মাহাতর সঙ্গে। তাঁরা বললেন, তাঁরা পরপর তিনবার ভেলোর এলেন। প্রথমে এসে ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ নিয়ে গেছেন। তারপর আবার। তৃতীয়বার ফাইনাল চেক আপের জন্য। কেমন আছেন? এখন সম্পূর্ণ ভালো। কত টাকা খরচ হয়েছে? বললেন, এখানে দেড় লাখ। আর ওখানে কলকাতায় তিন লাখ। পিয়ারলেস, ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক হসপিটাল, মেডিক্যাল কলেজ --- কিন্তু আমার পেট ব্যথা গ্যাসের সমস্যা এবং আরও কিছু সমস্যা কিছুতেই ভালো হয়নি। দু বছর ধরে চিকিৎসা করিয়েছি। ভালো না হওয়ায় এখানে আসা। আমার জমা এবং জমি বিক্রির টাকা সব শেষ হয়ে গেল। পশ্চিমবঙ্গের হাসপাতালের ওপর আমাদের আস্থা নেই। চোরেদের বাসা। একই কথা রানীগঞ্জের আশিস ঘোষের। আমার বাবা-মা-ভাই-বোনের চিকিৎসা এই ভেলোরে হয়। আমার বাবার কোমরে যন্ত্রণা, তাই চিকিৎসা করানোর জন্য এখানে এসেছি। দু বছর আগে মায়ের হার্টের চিকিৎসা এখান থেকেই করিয়ে নিয়ে গেছি। সাঁতরাগাছির সুজয় বাবু মর্মান্তিক কাহিনী শোনালেন, আমাদের কলকাতার কথা কী বলব দাদা। আমরা একদম সর্বস্বান্ত হয়ে গেলাম। আমার দিদির সামান্য একটা যন্ত্রণা ব্যাথাকে কেন্দ্র করে ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে আমাদের চল্লিশ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। তারা নামমাত্র একটা অপারেশন করে ছেড়ে দেয়। তারপর দিদির ব্যাথা যন্ত্রণা আবার বাড়ে। তখন আমরা পিয়ারলেসে নিয়ে যাই। তারা বেড চার্জ প্রভৃতি নিয়ে আশি হাজার টাকা বিল করে। একটা অপারেশন করে। তারপরও দিদির পেট ফুলে নিচের দিকে যখন নেমে যাচ্ছে তখন তারা আবার দেখে বলে, এবার এক লাখ টাকার ওপরে খরচ পড়বে। তখন আমরা এক দাদার সহায়তায় ভেলোরে চলে আসি। চল্লিশ হাজার টাকা নিয়ে এখানে অপারেশন করে দিয়েছে, এখন ছুটি নিয়ে বাড়ি যাব।
 ক্রমশ


প্রতি মাসের ১ ও ১৬ তারিখ সংবাদমন্থন প্রকাশিত হবে। ২ টাকার বিনিময়ে আপনার নিকটবর্তী স্টল বা কাগজবিক্রেতার কাছ থেকে সংগ্রহ করুন। সারা বছর ডাকযোগে পাওয়ার জন্য গ্রাহক হ'ন। 
বার্ষিক গ্রাহক চাঁদা ৪০ টাকা।
Comments