বিষণ্ণতার সওদাগর

আসাদুজ্জামান রুমন

  If you don't see Bangla text : please click here

সারাদিনের ব্যস্ততার পর কম্পিউটারে ঝুঁকে কিছু একটা করছিলাম।

 হঠাৎই পেছন থেকে একজনের ডাক, “এই যে ইনিই সেই, যার কথা তোমাকে বলেছি”। চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে হাত বাড়ালাম, পরিচিত হলাম। খুব আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করলাম কাঁধেতে ল্যাপটপের ব্যাগ ঝোলানো মানুষটা নিজেকে “আইটি প্রতিবন্ধি” বিশেষণে বিশেষায়িত করছেন! সেদিন তাঁর সময় স্বল্পতার কারণে আলাপ খুব বেশিদূর গড়ায়নি।

 আমি তখন পর্যন্ত তাঁর পরিচয় বলতে জানি, তিনি ডয়েচে ভেলে-তে কর্মরত এবং নাম মাসকাওয়াথ আহসান।

 দুদিন পর আবারো দেখা হলো। এবার কথা হলো একটু বিশদাকারে। আমাদের সামনে ঘটে যাওয়া তাৎক্ষণিক একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি মুখে মুখে গল্প বানিয়ে চলেছেন। আমি হাসছি আর ভাবছি, একজন মানুষের মাঝে কী দারুণ সৃষ্টিশীলতা বিদ্যমান! আমি তখনো জানিনা আমার জন্য এর চাইতেও বড় চমক রয়ে গেছে!

  ডয়েচে ভেলে-র একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আমাদের মাঝে যোগাযোগ আরো বাড়ে। আমি আরেকটু কাছ থেকে মাসকাওয়াথ আহসানকে দেখার অবকাশ পাই। যতই তাঁর কাছাকছি যেতে লাগলাম, আমার আশ্চর্য হওয়ার পরিমান ততই বাড়তে থাকলো।

 শুভেচ্ছাসহ "ওপারে ভাসালে ভেলা" বইটি হাতে পেয়ে পড়া থেকেই “লেখক” মাসকাওয়াথ আহসানের সাথে আমার পরিচয়। পরপর বেশ কয়েকটি বই পড়া হলো তাঁর। “অদ্ভুত আঁধার এক”, বইটি পড়ে মুগ্ধতার আবেশ কাটাতে না কাটাতেই হাতে এলো তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস “মৃত্যুর শহর”।

 শব্দচয়ন, লেখার ঢঙ, বক্তব্যের বলিষ্ঠতা সব কিছুই যেনো আমাদের এই প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে। না হলে কেনইবা “বিষণ্ণতার শহর” পড়তে গিয়ে মনে হবে “এতো আমারই মনের কথা”! দেশ ছেড়ে, পরিবার-পরিজন ছেড়ে দূরদেশের কোন এক বড় শহরে এসেও বিষণ্ণতাকে কি “টাটা-বাইবাই” করা সম্ভব হয়েছে আদৌ! "সতত হে নদ”-এ শক্তিশালী বাক্য সম্ভারে ভরপুর বিভুঁইয়ের নানা কথার মাঝে উঠে এসেছে বাংলাদেশের কথা, হৃদয়ে বাংলাদেশ ধারণের কথা!

  সাধারণত বিগ প্রোফাইলের মানুষদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি আমি। কিন্ত কী করে যেন মাসকাওয়াথ আহসানের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে গেলাম। তাঁর সংস্পর্শে এসে সফলতা আর লক্ষ্য ব্যাপারটিই বদলে গেছে আমার কাছে।

 আমাদের দৃষ্টির বাইরেও যে জীবনকে দেখার আরো অনেক সুন্দর চোখ আছে সেটা হয়তো তাঁকে এতো কাছ থেকে না দেখলে এতো তাড়াতাড়ি উপলব্ধি করতে পারতাম না।

 এই উপলব্ধিটি আমার মতো আরো অনেকের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই মূলত তাঁর বইগুলো নিয়ে “অনলাইন আর্কাইভ” করার কথাটি মাথায় আসে প্রথম। মাসকাওয়াথ আহসান-কে জানাতেই সম্মতি মিললো, সাথে যোগ হলো উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা।

 “অনলাইন আর্কাইভ” কে উপলক্ষ্য করেই এই “ওয়েব সাইট” এবং আমার এই মুখবন্ধ! চিন্তা করে দেখলাম, আমার পক্ষেতো কোন স্বনামধন্য পত্রিকার রাশভারী সম্পাদকের মতো গুরুগম্ভির সম্পাদকীয় লেখা সম্ভব না। সেই দুঃসাহস নাহয় বরং অগ্রজপ্রতিম মাসকাওয়াথ আহসানের অনলাইন আর্কাইভের এই ওয়েব সাইটেই করে দেখি, আর বিচারের ভারটা নাহয় দিয়ে রাখি আপনাদেরই ওপর!

  এই সাইটে “প্রকাশিত বই সমূহ”  লিংক থেকে প্রতিটি বইয়ের রিভিউ আলাদাভাবে পড়া যাবে, ডাউনলোড করা যাবে বইয়ের পিডিএফ সংস্করণ। শুধু তাই নয়, বইটি সম্পর্কে আপনার মূল্যবান মন্তব্যও  ছেড়ে যেতে পারবেন আমাদের জন্য।  প্রয়োজনে নিচের ঠিকানায় আমাদের কাছে ইমেইলও করতে পারেন স্বচ্ছন্দে।

 পরিশেষে ধন্যবাদ জানাচ্ছি চঞ্চল ভট্টাচার্য্য এবং  মুনাযযা সিদ্দিকী-কে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে ওয়েব সাইটে লেখা দেওয়ার জন্য, বন্ধু মাহবুব মুর্শেদ সুমন-কে লেখার টেমপ্লেট গুলো বাংলার উপযোগী করে সরবরাহ করার জন্য এবং - অবশ্যই আপনাকে, এই ওয়েব সাইটের একজন সম্মানিত পরিব্রাজক হিসেবে।

  আপনার মতামত আমাদেরকে সাহায্য করবে সাইট টিকে আরও সুন্দর এবং আকর্ষনীয় করে তুলতে। 

আপনার পরিব্রাউজিং শুভ হোক!

 

 সবিনয় ধন্যবাদান্তে,
 
আসাদুজ্জামান রুমন  

 এই ঠিকানায় ইমেইল করতে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি : maskwaithahsan@gmail.com

 

 ভূমিকা : বাংলা                 ভূমিকা : ইংরেজী                 প্রকাশিত বই সমূহ                 প্রধান পাতা : Main Page