মন্থন সাময়িকী


মে-জুন ২০০৯  

 

 

 

Home Page

            

 

আইলার হুঁশিয়ারি  

ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে সুন্দরবন 

বরিশাল কামান, অতলতল ও সুন্দরবনের অবনমন

বাংলাদেশে ঝঞ্ঝা নিয়ন্ত্রণ

সুন্দরবন কি সমুদ্রে তলিয়ে যাবে?

সিলেবাসে নেই

নবীননগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একদিন

চিঠিপত্র :                                                    

১.বিষয়: সম্পাদকীয়/পরিবর্তনের হেঁয়ালি                    

২. বিষয় : সম্পাদকীয়/পরিবর্তনের হেঁয়ালি

ঝাড়গ্রামবাসীর চোখে লালগড়-রাজনীতি

ক্রোমিয়াম ক্রমে আসিতেছে 

বাসন্তীর গ্রামে ঘূর্ণীঝড়ের রাতে 

 

 

সম্পাদকীয়

সুন্দরবন ও লালগড় : সভ্যতার ঠ্যালা !

 

সভ্যতা কী? ব্যাকরণ ও সংজ্ঞায় যা-ই লেখা থাকুক, একটা অর্থ সমাজে দাপিয়ে বেড়ায়। সেই অর্থে সুন্দরবনের নদীর কোল ঘেঁষে বা জঙ্গলে যে কাওড়া, বাগদি, চাঁড়াল, পোদ জাতির মানুষ বাস করে, যারা সেই দ্বীপগুলোর আদিবাসীপাড়ায় বাস করে কিংবা যারা লালগড় বা জঙ্গলমহালে বাস করে তারা একেবারেই সভ্য নয় --- অসভ্য। আর সবচাইতে সভ্য হল আমেরিকা-লন্ডনের সাহেবরা। পশ্চিমি সভ্যতাকে তো আমরা সেই কবে থেকে সভ্যতার মাপকাঠির মাথায় বসিয়েছি। আমাদের কাছে উন্নত জীবন মানে ঠেলেঠুলে সেই সভ্যতার ধারেকাছে পৌঁছানো। আর প্রতিদিন সেখানে পৌঁছানোর মারমুখী প্রতিযোগিতায় আমরা একদল মানুষকে কনুইয়ের ঠ্যালায় পিছনে ছিটকে ফেলি। সুন্দরবন ও লালগড় হল সেই অর্থে অভিন্ন --- সভ্যতার ঠ্যালা খাওয়া মানুষের দেশ।

          আর এক অর্থেও সুন্দরবন ও লালগড় আজ অভিন্ন --- হাজার হাজার ঘরছাড়াদের পরিচয়ে। কেন তারা ঘরছাড়া? একটাই কারণ --- হিংসা। হিংসা মানে লাঠি-গুলি-পুলিশের ত্রাস তো বটেই। হিংসা মানে আরও কিছু।

          ৯ জুলাই ২০০৯ ইতালিতে ছিল জি-আট বড়োলোক রাষ্ট্রের (পুরনো বনেদি!) কর্ণধারদের সঙ্গে বড়োলোক-হতে-চাওয়া (উঠতি বড়োলোক!) জি-পাঁচ রাষ্ট্রের কর্ণধারদের শীর্ষ-বৈঠক। ইতালির সরকার চেয়েছিল, এই বৈঠকে কর্ণধারেরা ২০৫০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস উদ্গীরণের মাত্রা অর্ধেক কমিয়ে আনার বিষয়ে একমত হবে; পৃথিবীর গড় উষ্ণতাবৃদ্ধি প্রাক-শিল্পযুগের থেকে ২ সেন্টিগ্রেডের মধ্যে ধরে রাখার বিষয়েও একমত হবে। এতে খরা, বন্যা, তাপপ্রবাহ ও সমুদ্রতলের উঠে আসার ভয়াবহতাকে রোধ করা যাবে। যেসব বড়ো অর্থনীতির দেশ (আমেরিকা, ব্রিটেন, ইতালি ইত্যাদি) এই পুরো উদ্গীরণের ৮০ শতাংশের জন্য দায়ী, তারা আগেভাগে ইতালিতে মিলিত হয়েছিল। ইতালির বিদেশমন্ত্রী ফ্রাঙ্কো ফ্রাত্তিনি-কে এই মর্মে এক চুক্তিপত্রের খসড়া তৈরি করার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চীন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো উঠতি সভ্য দেশের কর্ণধারেরা সেটা মানলেন না। কারণ তাঁদের সভ্যতার টার্গেটে সুন্দরবনের মতো উপকূলভাগের অসভ্য-রা নেই, আছে আমেরিকা-ব্রিটেন।

          ৯ জুলাই জি-আট বড়োলোক রাষ্ট্রের কর্ণধারেরা আর একটা ঘোষণাপত্রে একমত হয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, আমরা এবিষয়ে সহমতে রয়েছি যে সন্ত্রাসবাদকে একমাত্র বহুমুখী, সম্মিলিত এবং সংযুক্ত উদ্যোগের মাধ্যমে --- বিশেষত তথ্য আদান-প্রদান ও সামর্থ-অর্জনের ক্ষেত্রে --- কার্যকরভাবে পরাজিত করা সম্ভব।

          একদিকে মনমোহন সিং-দের বেপরোয়া মনোভাব --- পরিবেশ-টরিবেশ চুলোয় যাক, আগে সভ্য তো হই; অন্যদিকে সভ্য পশ্চিমি রাষ্ট্রগুলোর সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার নামে দেশে দেশে যুদ্ধ ও মারণাস্ত্র ব্যবসার ফিকির --- এ দুইয়ের মধ্যেই অভিন্ন হল হিংসার মনোভাব। এই হিংসার বলি আজ সুন্দরবন ও লালগড়। সেই হিংসার পরিণামেই আজ হাজার হাজার মানুষ ছেলেপুলে নিয়ে ঘরছাড়া --- সভ্যতার ঠ্যালায়!