মন্থন সাময়িকী


নভেম্বর ডিসেম্বর ২০০৮

সম্পাদকীয়

আসুন, সন্ত্রাসবাদের ওপর [মার্কিনি] যুদ্ধের সৈনিক হই! 

২৭ ডিসেম্বর আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রশ্ন করা হয়েছিল মার্কিন পরামর্শ মেনে পাকিস্তানের সঙ্গে কি এখনই আলোচনা করা উচিত? জবাবে ৮০% হ্যাঁ বলেছেন, না বলেছেন মাত্র ২০%। কিন্তু আমি তো পাল্টা প্রশ্ন করতে চাই, মার্কিন পরামর্শ আমাদের কেন এত দরকার? পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করব কিনা, তা কি আমরা আমেরিকাকে বাদ দিয়ে ভাবতে পারছি না? আমেরিকা ইরাক ও আফগানিস্তানে যুদ্ধে জড়িয়ে রয়েছে, আমরা তো তাতে শামিল নই। আমেরিকা গৃহঋণের মর্টগেজ নিয়ে খেলতে গিয়ে একটা বড়ো সংকট তৈরি করেছে। তৎকালীন ফেডারেল রিজার্ভের প্রধান অ্যালান গ্রিন্‌সম্যান তো স্বীকারও করেছেন এব্যাপারে তাঁর কিছু ভুল হয়েছিল। আমেরিকা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর সন্ত্রাসবাদের ওপর যুদ্ধ জারি করেছে এবং গোটা দুনিয়াকে সেই যুদ্ধের মধ্যে এনে ফেলতে চাইছে। আর্থিক সংকটে জেরবার পাকিস্তান সেদিনই তড়িঘড়ি আমেরিকার এই সন্ত্রাসবাদের ওপর যুদ্ধ-এর জোটে সরাসরি শামিল হয়েছিল। আটবছরে সন্ত্রাস বহুগুণ বেড়ে গেছে। আমেরিকা এখন মনুষ্যবিহীন প্রিডেটর যুদ্ধবিমানে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে ওয়াজিরিস্তানের গ্রামে গ্রামে আল কায়দা আর তালিবানের খোঁজে তাণ্ডব চালিয়ে বেড়াচ্ছে। আর যুদ্ধ ও সন্ত্রাসের দাবানল দেশ থেকে দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ছে।

আজ মুম্বাইয়ের ঘটনার পর আমাদের জাতীয় নেতারা কেবল মার্কিন পরামর্শের জন্যই কাতর নন, সমস্ত কাজে মার্কিন মডেলকে নকল করার জন্য অতিব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১-এর ঘটনার পর মার্কিন দেশে যেভাবে সুদের হার কমানো হয়েছিল, যেভাবে গৃহ ও গাড়ি ঋণে সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, যেভাবে শিল্পের নামে জমিজায়গা-রিয়েল এস্টেট আর বড়ো বড়ো ইমারত গড়ার দিকে ঝোঁক বাড়ানো হয়েছিল, আমরাও সেই পথেই পরিত্রাণ পেতে চাইছি। এমনকী আমেরিকা যেভাবে সন্ত্রসবাদের মোকাবিলায় পেট্রিয়ট অ্যাক্ট বানিয়েছিল, আমরাও সেইভাবে নতুন আইন বানাতে চলেছি। ১৫ ডিসেম্বর পি চিদাম্বরম তো আনলফুল অ্যাক্টিভিটিজ (প্রিভেনশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০০৮-এর উদ্দেশ্য বলতে গিয়ে সেই একই কথা বললেন, যা ২০০১-এ জর্জ বুশ বলেছিলেন --- সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বায়িত লড়াইয়ের প্রথম সারিতে ভারত ...। তাহলে পাকিস্তানের পিছু পিছু আমরাও সন্ত্রাসবাদের ওপর [মার্কিনি] যুদ্ধ-তে নেমে পড়লাম!

 

 
মুম্বাইয়ের ঘটনার প্রতিক্রিয়া মানে কি ক্রোধে অন্ধ হয়ে যাওয়া বা দুঃখে ভেঙে পড়া? নাকি এর কার্যকারণকে খুঁটিয়ে খুঁজে দেখা? আমরা এবারের পত্রিকায় ওই ঘটনার নানান দিকের যোগসূত্রগুলোকে খুঁজে দেখতে চেয়েছি। সবটাকে মেলাতে পারিনি, কিন্তু আলাদা আলাদা করে খুলে দেখতে চেয়েছি। পাঠকও আশা করি এই কার্যকারণের জট খুলতে হাত লাগাবেন।