মন্থন সাময়িকী 



মার্চ-এপ্রিল ২০০৮

Maps of Tibet

 

তিব্বত : কালানুক্রমিক ঘটনাপঞ্জি 

 

তিব্বত আন্দোলন : দিনপঞ্জি ২০০৮ 

 

পায়ে হেঁটে তিব্বতের উদ্দেশ্যে ---

পদযাত্রী তেনজিন সুনদু-র সঙ্গে 

সাক্ষাৎকার

 

তিব্বতী মানুষের সংগ্রাম ন্যায়সঙ্গত

 

রাজনৈতিক তিব্বত বনাম সামাজিক তিব্বত 

 

লাসা বিদ্রোহ ১৯৫৯ : আনা লুই স্ট্রং 

 

লাসা বিদ্রোহ ১৯৫৯ :

ডেলি মেল পত্রিকার সঙ্গে 

দলাই লামার সাক্ষাৎকার

 

তিব্বতী প্রতিনিধিদের সঙ্গে 

আলোচনা : মাও সেতুঙ 

 

সংখ্যালঘু জাতিসত্তার 

প্রশ্ন : মাও সেতুঙ 

 

তিব্বত নিয়ে কিছু 

কথা : এডগার স্নো 


চিঠিপত্র :

. বিষয় : নন্দীগ্রাম ও পুঁজির 

সাম্রাজ্য

. বিষয় : বার্ড ফ্লু

. বিষয় : এক টুকরো মুম্বাই

 

সম্পাদকীয়

 

 

অলিম্পিক বয়কট এবং ‘আমি’

 

 

 

অলিম্পিকের ইতিহাসে ৮০ বছরেরও বেশি সময় জুড়ে, কেবল দুটি দেশ --- হিটলারের জার্মানি এবং ব্রেজনেভের সোভিয়েত ইউনিয়ন --- তাদের অলিম্পিক গেম্স আয়োজনকালে আগ্রাসী যুদ্ধে জড়িয়ে থেকেছে। ইতিহাস প্রমাণ করবে আজ মস্কো অলিম্পিক বয়কট করা সঠিক হয়েছে ঠিক ততটাই, ১৯৩৬-এ হিটলার আয়োজিত অলিম্পিক বয়কট না-করা যতটা ভুল হয়েছিল।

লি জিয়ান, বেজিঙ রিভিউ, ৫ মে ১৯৮০


১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিক বয়কটে সবচেয়ে বড়ো ইন্ধন ছিল আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের। ৫৮টি দেশ বয়কট করেছিল সেদিন। আজকের মতোই প্যারিসের রাস্তায় বিক্ষোভ দেখানো হয়েছিল। ফ্রাঙ্কফুর্টের রাস্তায় বিক্ষোভের প্ল্যাকার্ডে লেখা হয়েছিল : মস্কোতে ১৯৩৬-এর নাৎসি অলিম্পিকের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে। তখনও সোভিয়েত রাশিয়া আমেরিকার বিরুদ্ধে সাবোতাজ-এর অভিযোগ তুলেছিল। তাতে অবশ্য সেদিন চীনের কিছু আসে যায়নি। তারা বলেছিল, ২৪ মের আগে সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ আফগানিস্তান থেকে সমস্ত সৈন্য সরিয়ে নিলে আমরা অলিম্পিকে অংশ নেব।

আফগানিস্তানের সঙ্গে তিব্বত-প্রশ্নের তুলনা করার জন্য ১৯৮০-র পরিস্থিতি স্মরণ করানো হচ্ছে না। শুধু এটুকুই বলার, অলিম্পিকের আদর্শ, সাবোতাজ, সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত শব্দগুলো আজ আবার বেজিঙ অলিম্পিকের প্রাক্কালে ফিরে এসেছে। দুর্ভাগ্যের কথা, সোভিয়েতের বদলে আজ তা চীনা কর্তৃপক্ষের মুখে!

তিব্বতী সমাজের দিক থেকে তাদের আত্ম-নিয়ন্ত্রণের দাবিতে বেজিঙ অলিম্পিক বয়কটের ডাক এসেছে। কেন সেই পুরনো কায়দায় তাদের দাবি থেকে পাশ কাটানো হবে? কেন বিকাশআর উন্নয়ন-এর ফিরিস্তি দিয়ে সামরিক শক্তির দাপটে তিব্বতী সমাজকে চুপ করিয়ে রাখা হবে?

কিন্তু আমি কী করব? আমি তো অ্যাথলেট নই। অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেজিঙে আমন্ত্রিত কেউ নই। আমার চোখের ওপর রঙীন বর্ণচ্ছটায় আছড়ে পড়বে অলিম্পিক, মিডিয়ার সেই আগ্রাসনকে আমি কীভাবে উপেক্ষা করব? আমার সমর্থন-অসমর্থন, বয়কট-অংশগ্রহণকে তো সে তোয়াক্কা করবে না। কীভাবে বাস্তবায়িত হবে আমার আত্ম-নিয়ন্ত্রণ?