মন্থন সাময়িকী

জানুয়ারী ফেব্রুয়ারি ২০০৮ 

ব্যবসাভিত্তিক কৃষি ব্যর্থ হবেই

বার্ড ফ্লু

বিকল্প জৈব চাষ             

বিকল্পের ভেনেযুয়েলা                                                  

আর একবার হিংসা অহিংসা                

 

চিঠিপত্র

১. বিষয় :  

বিকল্প লিট্ল ম্যাগাজিন মেলা

২. বিষয় : খেজুরির ঘরছাড়া

 পুস্তক পরিচিতি :  

কয়লা ও পরমাণু দূষণ-মুক্ত বিদ্যুৎ :আমেরিকার জন্য বিকল্প পরিকল্পনা

 

 

সম্পাদকীয়

বড়ো পশুখামার, বেশি অসুখ

উচ্চ-প্রশংসিত খাদ্য বিষয়ক লেখক মাইকেল পোলান কয়েক বছর আগে লিখেছিলেন, আধুনিক ফ্যাকট্রি খামারের অবস্থা --- যেখানে হাজার হাজার মুরগি, শুয়োর আর গরুকে একসঙ্গে আটকে রাখা হয়েছে --- তাঁকে মধ্যযুগীয় শহরগুলির কথা মনে করিয়ে দেয়। গাদাগাদি করা, নোংরা আর দুর্গন্ধময় এইসব ফ্যাকট্রি খামার রোগের উৎপত্তি আর প্রসারের পক্ষে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। এর মধ্যে রয়েছে অধিক রোগবাহী E. coli (যা ১৯৮০-র দশকে গোবরের মধ্যে আবিষ্কৃত হয়েছিল) আর H5N1 (মারণ এভিয়ান ফ্লু, যা ২০০৩ সাল থেকে ছড়িয়ে পড়েছে)। ফ্যাকট্রি খামার থেকে একইভাবে পশু ও মানুষের মধ্যে শ্বাসজনিত অসুখ হতে পারে। আর এইসব জায়গায় অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার ও অপব্যবহারের কারণে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধ তৈরি হওয়ার ক্ষেত্রে এগুলি এক বড়ো অপরাধী।

সোমবার ইউনাইটেড নেশন্স ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (FAO) তাদের পক্ষে অবাক করার মতোই এক ভবিষ্যদ্বাণী করে  --- এইসব সমস্যা আরও খারাপের দিকে যাবে, কারণ মানুষ ও পালিত পশুর সংখ্যা বাড়ছে আর আমাদের মাংসের খিদেও বেড়ে চলেছে। এখন বিশ্বের জনসংখ্যার অর্ধেক বাস করে শহরাঞ্চলে আর দ্রুতই সেগুলি ফ্যাকট্রি খামারের গন্তব্য হয়ে উঠছে, বিশেষত উন্নয়নশীল বিশ্বে। ২০০৬ সালে মাংস উৎপাদন আড়াই শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ২৭৬০ লক্ষ টন আর তা ২০০৭-এ আরও ৩ শতাংশ বেড়ে ২৮৫০ লক্ষ টনে দাঁড়াবে।

FAO-এর মতে, শিল্পগত পশুচাষের মধ্যে শুয়োর ও পোলট্রি হল দ্রুততম বেড়ে ওঠা ক্ষেত্র --- শুয়োরের মাংসের উৎপাদন বেড়েছে ২.৬% আর পোলট্রি-উৎপাদন বেড়েছে ৩.৭%, শুধুমাত্র গত এক দশকে। আর যেহেতু আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে এইসব পশুবাণিজ্য চলেছে, রোগের বিপদ বাড়ছে।

অতীতে FAO, ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা নানান কারণে শিল্পগত পশুচাষ বৃদ্ধিতে উৎসাহ দান করেছে। একটি কারণ হল, কৃষিতে বিদেশি বিনিয়োগ উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে আশির্বাদ হয়ে উঠতে পারে। তাছাড়া, এইসব সংগঠন বিশ্বাস করত, অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করে এবং নিয়ন্ত্রিত তাপ ও আলোর ব্যবস্থায় গৃহমধ্যে পশু পালন করলে তারা রোগের প্রসার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ক্রমাগত বেশি বেশি প্রামাণিক তথ্য কিছু রোগের প্রসারের উৎকেন্দ্র হিসেবে ফ্যাকট্রি খামারের দিকেই আঙুল তুলছে।

এখনকার মতো অন্তত দেখা যাচ্ছে, FAO তার সুর হয়ত পাল্টাচ্ছে। FAO-এর লাইভস্টক পলিসি এক্সপার্ট জোয়াসিম ওটে বলেন, বৃহদায়তন শিল্প উৎপাদন কেন্দ্রগুলিতে অতিরিক্ত পশুর চাপ পরিহার করা উচিত এবং জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্য উচ্চ বায়োসিকিউরিটি ও উন্নত রোগ সতর্কীকরণ ব্যবস্থাকল্পে যথেষ্ট বিনিয়োগ করা দরকার। ছোটো ছোটো খামার, আরও জিনগত বৈচিত্র্য এবং একই সঙ্গে খামারের শ্রমিক ও পশুদের জন্য আরও মানবিক ব্যবস্থা হয়ত রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো পথ হতে পারে।

ড্যানিয়েল নিরেনবার্গ, গবেষক, ওয়ার্ল্ড ওয়াচ ইন্সটিট্যুট, ২০ সেপ্টেম্বর ২০০৭