মন্থন সাময়িকী


বাংলায় দ্বিমাসিক ছোট পত্রিকা মার্চ-এপ্রিল ২০০৭

হোম পেজবর্তমান সংখ্যাপুরোনো সংখ্যামতামত জানান

নন্দীগ্রাম বিষয়ক প্রতিবেদনঃ

নন্দীগ্রামের নিজস্ব শিল্পায়নের ইতিহাস
বিয়াল্লিশের তাম্রলিপ্ত সরকার
তেভাগার নন্দীগ্রাম
শিল্পনগরী হলদিয়া, একটুকরো অভিজ্ঞতা
দখল আন্দোলন
সিয়াট্ল্ ব্যর্থতা
শিল্পের জন্য কৃষিজমি অধিগ্রহন বিষয়ে
প্রতিবেদনঃ
হরিপুর ও পরমাণু বিদ্যুত কেন্দ্র

চিঠিপত্রঃ
১. বিষয়ঃ নন্দীগ্রাম

কবিতায় নন্দীগ্রাম

 
রক্তের দাগ ছড়িয়ে পড়ছে 

 কাটা রাস্তার ওপরে রক্তের দাগ
তোমরা মুছে ফেলেছ
ভাঙ্গা পুলের ওপর রক্তের দাগ
তোমরা মুছে ফেলেছ
সাথে সাথে মুছে গেছে
তোমাদের ঝাণ্ডার লাল রঙটুকু
তোমরা দেখতে পাওনি।

তোমরা দেখতে পাচ্ছনা -
চোদ্দ, পঞ্চাশ, দু'শ
- যে ক'জনেরই রক্ত ঝরুক না কেন
রক্তের দাগ যারা নিজের চোখে দেখেছে তারা বাদেও
বাকিরা তার লাল রঙটুকু দেখতে পাচ্ছে -
যেন সূর্য অস্ত যাচ্ছে
শুধু পশ্চিমের আকাশকেই রাঙা করে
আর তার আভাটা ছড়িয়ে পড়ছে
উত্তরে-পূর্বে-দক্ষিণে - সমস্ত দিকে।    

অমিতাভ সেন, ১৮ মার্চ ২০০৭ 

 

স্বপ্নের রঙ কালো

আমি পেরিস্তান খুঁজছি।
সব জায়গা তন্ন তন্ন করে খুঁজছি।
কেন বলুন তো?
কারণ আমার আশপাশে ঘটে যাওয়া সমস্ত
অন্যায় থেকে দূরে সরে গিয়ে আমি একটা
নির্জন জায়গায় একলা বসে থাকতে চাই।
সেখানে নদীর বিক্ষুব্ধ ঢেউয়ের মাথায় একটা
ছোট্ট ডিঙি নৌকায় চড়ে আসবে আমার বন্ধু ---
বিশে আর তার কুকুর সিংহ।
সে আমায় দেখিয়ে দেবে যে প্রতিবাদের ইতিহাসের
ঘুমিয়ে পড়া পাতাগুলো কীভাবে জেগে উঠছে নন্দীগ্রামে।
আমায় সাহস জোগাবে সেখানকার রুমু, বোগি, ঠুলি,
আর তখনই আমি বুঝতে পারব যে কেন আমার
স্বপ্নের লাল রঙটা গাঢ় হতে হতে আরও গাঢ় হয়ে
আজ একেবারে কালো হয়ে গেছে।

চূর্ণী ভৌমিক, ১২ ই এপ্রিল ২০০৭।
[‘পেরিস্তান’ শব্দটা সদ্যপ্রয়াত শিশুসাহিত্যিক লীলা মজুমদারের ‘টংলিং’ উপন্যাস থেকে নেওয়া। রুমু, বোগি, ঠুলি, নানকু, গুপি --- এই চরিত্রগুলোও আমার প্রিয় লেখিকা লীলা মজমদারের লেখা বিভিন্ন গল্প থেকে নেওয়া। --- চূর্ণী] 

লাশের স্তূপে দাঁড়িয়ে

লাশের স্তূপে দাঁড়িয়ে ---
শতাব্দীর পর শতাব্দী ‘হরেক নীতি’র ডামাডোল
তবু, স্বার্থাণ্বেষী রঙগুলোর ঘেরাটোপে
ভিন্ন ভিন্ন ছত্রছায়ায় জমে উঠছে ভিড়
অথচ তারা জানে না
কে বা কারা কখন বলির পাঁঠা হবে
তাই তোমাদের হাতে গোলাপ দেখলে
প্রতারণার গন্ধ পাই
বরং আরও কিছু রক্ত খাও
আগুন জ্বলুক বুকে
যুগান্তরের আঁধার ভেঙে
বেজে উঠুক সূর্য ওঠার গান।

    শেখ মোজাম্মেল, ১৮ এপ্রিল ২০০৭।


তোমরা আমার ঠাকুরদার আঙুরক্ষেত দখল করেছ
আর কেড়ে নিয়েছ আমার জমি
যে জমি আমি চাষ করতাম
চাষ করত আমার ছেলেপুলেরা
তোমরা আমাদের জন্য
এই পাথরগুলো ছাড়া আর কিছুই রেখে যাওনি
আমি মানুষকে ঘৃণা করিনা
তবুও
যদি আমার খিদে পায়
আমাকে যারা উৎখাত করেছে
তাদের মাংস আমি খাব;
সাবধান!
আমার ক্ষুধা ও ক্রোধ থেকে সাবধান!

    মাহ্মুদ দারুইশ, প্যালেস্তাইন, ১৯৯৬