মন্থন সাময়িকী


বাংলায় দ্বিমাসিক ছোট পত্রিকা                                                                              জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি ২০০০

হোম পেজ   বর্তমান সংখ্যা   পুরোনো সংখ্যা   মতামত জানান

সংবাদ-মন্থনঃ কাশ্মীরে আর একটা নিষ্ফল লোকসভা নির্বাচন
কান্দাহার অপহরণ-কাণ্ড এক চলমান যুদ্ধের অংশ মাত্র

কাশ্মীরঃ কালানুক্রমিক ঘটনাপঞ্জী
ভারতের অন্তর্ভুক্তি পর্যন্ত কাশ্মীরের ইতিহাস
কার্গিল-কাশ্মীরঃ চাই প্রকৃত অনুসন্ধান
কার্গিলের শিক্ষা
পাকিস্তান থেকে কাশ্মীরে
কাশ্মীরঃ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের দলিল
দেশের উপদ্রুত এলাকায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিশেষ রূপ
ইসলামী জিহাদ পাকিস্তানেরই এক বিকৃত মুখ
রিপোর্টঃ কার্গিল যুদ্ধের জন-প্রতিক্রিয়া, গগনগীর-কার্গিল যুদ্ধের একটি শরণার্থী শিবির, রাষ্ট্রসংঘের কমিশন কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত, ১৯৪৯ এবং সিমলা চুক্তি, ১৯৭২

সম্পাদকীয়
কেন কাশ্মীর প্রসঙ্গ, বারবার

পত্রিকার জুলাই- আগষ্ট ১৯৯৯ সংখ্যাটি সংশোধিত ও সামান্য বর্ধিত আকারে পুনর্মুদ্রণ করা হল । যাঁরা 'মন্থন' এর ঐ সংখ্যাটি সম্পর্কে শুনেছেন, কিন্তু পড়তে পারেন নি, সংগ্রহ করতে পারেন নি-তাঁদের জন্য এই পুনর্মুদ্রণ ।
'মন্থন' কাশ্মীর সংখ্যার পুনর্মুদ্রণ হোক বা না হোক, কাশ্মীর প্রসঙ্গ বারবার পত্রপত্রিকার পাঠক সমাজ তথা আপামর সাধারন মানুষের মনের দুয়ারে করাঘাত করে চলেছে । আমরা এই বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের মধ্যে দিয়ে কেবল যথাযথভাবে কাশ্মীর প্রসঙ্গটির মুখোমুখি হওয়ার চেষ্টা করেছি । পাঠকের কাছেও আমাদের সেটাই আবেদন ।
কার্গিল-যুদ্ধের সময় দুটি কথা ছিল সরকারি পক্ষের । এক, আনুপ্রবেশকারীদের তাড়াবো । দুই, কাশ্মীরকে আন্তর্জাতিক ইস্যু করতে দেবো না । নির্বাচনি যুদ্ধের কার্গিল বিধায়ক সওয়াল-জবাবে আনুপ্রবেশের কিছু ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে । ভারতীয় জনতা পার্টির নেত্রী উমা ভারতী (টাইম্‌স্‌ অব্‌ ইণ্ডিয়া, ২০শ জুলাই ১৯৯৯ ) প্রশ্ন তুলেছেনঃ "কার্গিল সেক্‌টরে সীমান্তের প্রহরা কবে থেকে প্রয়োজন হয়েছে - বিগত ১৫ মাস (অর্থ্যাত বিজেপি শাসনকালে) না বিগত ২৭ বতসর যাবত ?" আর একটা তথ্য পাওয়া গেছে ১১ই জুলাই ১৯৯৯ 'পাঞ্চজন্য' পত্রিকায় । কার্গিল শহর থেকে নির্বাচিত জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের মন্ত্রী কামার আলী আখোন তাঁর সাক্ষাতকারে বলেছেনঃ "আড়াই-তিন বছর ধরে নিয়মিত এখানে গোলাগুলি চালাছে । সমস্ত ক্ষেত্রে ক্ষতি হচ্ছে । স্কুল বন্ধ । আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে । পর্যটকদের আসা বন্ধ হয়ে গেছে । " আর আজ জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা কান্দাহার অপহরন-কাণ্ডের সময় এসে বলেছেন, যে, রাজ্যের হিংসাত্মক ঘটনা ইতিমধ্যে বেড়ে গেছে...। কারা ঘটায় এসব হিংসাত্মক ঘটনা ? রাষ্ট্র-প্রতিনিধিরা সকলে আঙুল তুলবেন পাকিস্তানের দিকে । অথচ গতকাল এরাই সাড়ম্বরে কার্গিল যুদ্ধের বিজয়োতসব পালন করেছেন !
সবটাই যেন কাশ্মীর-প্রশ্নকে আড়াল করার রাষ্ট্রীয় সোরগোল মাত্র । সরগোলে চাপা পড়ে যায় জম্মু ও কাশ্মীরের পাহাড়ী গ্রাম, উপত্যকার একএকটি মানুষের কন্ঠস্বর । তাঁদের প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত পাকিস্তান ও ভারতের রাষ্ট্র ও রাষ্ট্র-অনুমোদিত সশস্ত্র সংঘর্ষ, বিস্ফোরনে সন্ত্রস্ত । স্বজন হারানোর কান্না ও যন্ত্রনায় তাঁদের নববর্ষ উদ্‌যাপন ! তাঁদের প্রতিটি মহল্লায় প্রায় প্রত্যেক পরিবারে রচনা কাটিয়ালের মতই স্বামীহারা মেয়েরা গুমরে কাঁদেন । গুমরে কাঁদেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোতায়েন বাহিনীর কয়েক হাজার মৃত জওয়ানের বৌ-ছেলেপুলেরা । সংসারের অভাবের মোকাবিলা করতে তাঁরা 'দেশরক্ষার উর্দি' পরে গিয়েছিলেন সীমান্তে-উপত্যকায় ।
কাশ্মীর 'আন্তর্জাতিক ইস্যু' হবে কি হবে না, তাই নিয়ে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কলহের অন্ত নেই । এ অন্তহীন কলহ অসমাধিত অবহেলিত কাশ্মীর-প্রসঙ্গেরই স্বীকৃতি মাত্র । কিন্তু কাশীর-প্রশ্নের আলোচনা কি জম্মু, কাশ্মীর উপত্যকা আর লাদাখের মানুষকে বাদ দিয়ে হতে পারে? পাঠক কি বলেন?