মন্থন সাময়িকী : জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি ২০১৩

হোম পেজ

সম্পাদকীয়


বাংলাদেশের জনসমাজে

শাহবাগের প্রভাব


ফাঁসি ফাঁসির দাবি


তিহার জেলে

আফজল গুরুর সঙ্গে সাক্ষাৎকার



মৃত্যুদণ্ড :

বাতিলযোগ্য একটি দণ্ড


পাকিস্তানে

হাজারা শিয়া গণহত্যা চলছে


সাম্প্রতিক

শাহবাগ আন্দোলনের দিনপঞ্জি


সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর



তারুণ্যের আহ্বান



শাপ-মুক্তি ঘটুক বাংলাদেশের



শাহবাগ নিয়ে

মেটিয়াব্রুজ-মহেশতলায় আলাপ








 

ফাঁসি ও ফাঁসির দাবি


সৌরীন ভট্টাচার্য


প্রথমেই বলে নেওয়া যাক যে ফাঁসি ও ফাঁসির দাবি দুটো সম্পূর্ণ আলাদা সমস্যা$ কোনো একটা অপরাধে কারো ফাঁসি হবে কি হবে না সেটা আইনের প্রশ্ন$ দেশের আইনে যদি ফাঁসির বিধান থাকে আর আইনি প্রক্রিয়ায় যদি অপরাধ ফাঁসির যোগ্য বিবেচিত হয়ে থাকে তাহলে ফাঁসি হবে$ আইনে এরকম বিধান থাকা উচিত কিনা, তা নিয়ে আলোচনা এবং সে আলোচনায় মতপার্থক্য হওয়া খুবই সম্ভব$ শাস্তি হিসেবে ফাঁসি তুলে দেওয়া নিয়ে আলাপ আলোচনা অনেকদিন ধরেই চলছে$ বিভিন্ন দেশে চলছে, আমাদের এখানেও চলছে$ সে বিষয়ে অন্য সময়ে কথা বলা যেতে পারে$ আপাতত যা বলতে চাই তা এই যে ফাঁসি ও ফাঁসির দাবি দুটো আলাদা ব্যাপার$ ফাঁসি আইনের ব্যাপার আর ফাঁসির দাবি আবেগের ব্যাপার$

সমস্যা হিসেবে ফাঁসির দাবি নিয়ে আলাদা করে আলোচনা করার কারণ ঘটেছে$ কারণগুলোর পুরো তালিকা লিপিবদ্ধ করার দরকার নেই$ আর তা হয়তো সব মনে করে করে আমি এখন করতেও পারব না$ একটা দুটো বললেই বোঝা যাবে কেন আমি কথাটা তুলতে চাইছি$ গত কয়েক বছর আগে আমাদের এখানে ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের ঘটনা এখনো নিশ্চয়ই অনেকের মনে আছে$ যে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তার উপরে ন্যস্ত ছিল সেই স্কুলের এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা করার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে$ তখনকার মতো আইনি প্রক্রিয়ার শেষে তার ফাঁসির আদেশ হয়েছিল$ এই পর্যন্ত প্রশ্নটা আইনের$ কিন্তু তার পরে বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের এখানে যা ঘটেছিল তাকে বলা চলে রীতিমতো একটা কাণ্ড$ তখনকার খবরের কাগজ ওলটালে এখনও তার পরিচয় পাওয়া যাবে$ সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ ধনঞ্জয়ের ফাঁসির দাবিতে এত উদ্‌বেল হয়ে উঠেছিলেন যে সেটা তখন অনেককেই রীতিমতো অবাক করেছিল$ এমনকী পশ্চিমবঙ্গের তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী সপরিবার প্রায় যেন প্রচারে নেমে পড়েছিলেন ফাঁসির দাবিতে$

এই ফাঁসির দাবি নিয়ে পক্ষে- বিপক্ষে তখন যা যা ঘটেছিল বা যা বলা হচ্ছিল তা কিন্তু ফাঁসির প্রশ্ন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটা ব্যাপার হিসেবে দাঁড়িয়ে গেল$ এবং সে ব্যাপারের মধ্যে প্রধান উপাদান ছিল আবেগ$ যুক্তি না, বিচারবিবেচনা না, শুধুই আবেগ$ এরকম একটাজঘন্য অপরাধের অপরাধী একটাই শাস্তি$ তা হল মৃত্যুদণ্ড$ একে মৃত্যুদণ্ডের আইনি প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়$ তার উপরে মৃত্যুদণ্ড বিষয়ে আধুনিক মনে একটা কুণ্ঠা আছে$ এইসব দ্বিধাদ্বন্দ্বই কিন্তু সেদিনের আবেগমথিত পশ্চিমবঙ্গে বা এই কলকাতা শহরে খড়কুটোর মতো ভেসে গিয়েছিল। এতটা তপ্ত আবেগের দিনেও অন্য কণ্ঠস্বর যে কিছু ছিল না বা শোনা যায়নি একেবারে তা কিন্তু নয়$ যে ধরনের কথাবার্তা বা অনুভবকে সাধারণত মানবতাবাদী বলে চিহ্নিত করা হয় তা সেদিনও শোনা গিয়েছিল$ মানবাধিকার রক্ষার দাবিতে যাঁরা আন্দোলন করেন সেরকম স্বীকৃত কিছু সংগঠনের তরফেও ওই বিতর্কের দিনে অবস্থান নেওয়া হয়েছিল$ খানিকটা এইসব বিরোধিতার জবাবেই সম্ভবত আইনি প্রক্রিয়ার তরফে উঠে এসেছিল আর একটা শ্লোগান$ Rarest of Rare, বিরলের মধ্যে বিরলতমঅপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডই বিধেয়$ ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের অপরাধও তখনকার মতো সেই গোত্রের বলে বিবেচনা করা হয়েছিল$

প্রশ্ন হিসেবে ফাঁসি আর ফাঁসির দাবি যে আলাদা হয়ে উঠছিল তার অন্য লক্ষণও শনাক্ত করা সম্ভব ছিল$ ধনঞ্জয়ের ফাঁসি কত জরুরি সেই প্রসঙ্গে উঠে এসেছিল ফাঁসির আদেশ বহাল করার মতো উপযুক্ত প্রশিক্ষিত লোকেরও প্রশ্ন$ ফাঁসি তো আর ঠিক হরবকত হয় না$ তাই ফাঁসি দেবার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোকও খুব সহজে মেলে না$ তখনকার মতো একজনের সন্ধান শেষ পর্যন্ত মিলেছিল$ নাটা মল্লিক$ তখনই তাঁর যথেষ্ট বয়স$ এই নাটা মল্লিকের সন্ধান ও এই কাজে তাঁর সম্মতি পাবার পরে সে কী স্বস্তি$ এবং জনমনের উল্লাসে নাটা মল্লিক কিছুদিনের মতো লোককল্পনায় বীরের সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন$ তাঁকে নিয়ে তখন যাত্রাপালাও তৈরি হয়েছিল$

আমাদের সাম্প্রতিক স্মৃতিতে ধনঞ্জয় ছাড়াও ফাঁসির পক্ষে উত্তাল দাবির আরো বেশ কিছু নজির তৈরি হয়ে গেল$ সংসদ ভবনেসন্ত্রাসবাদীআক্রমণেরতদন্তবিচারপ্রক্রিয়ার পরে আফজল গুরুর ফাঁসির আদেশ দেওয়া হল$ তারপর রাষ্ট্রপতির কাছে আফজল গুরুর তরফে মার্জনা ভিক্ষা চাওয়া হল$ রাষ্ট্রপতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে দু-একটা বিষয়ে পরিষ্কার হতে চাইলেন$ যতদূর জানা আছে মন্ত্রকের তরফে রাষ্ট্রপতির সে প্রশ্নের জবাব আজও মেলেনি$ ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের মনে ফাঁসির পক্ষে একটা জমি এমনিতেই তৈরি হয়ে ছিল$ বিশেষত সংসদ ভবন আক্রমণের মতো ঘটনায় জাতীয় বোধের একটা সঞ্চার মানুষের মনে সহজেই ঘটে যায়$ তার সঙ্গে কাশ্মীর সমস্যা জড়ানো পাকিস্তানের প্রশ্ন মিশে গেলে জাতীয়তাভিত্তিক গণদাবি সহজেই মাথা চাড়া দেয়$ এখানেও তাই হল$ তাও আফজল গুরুর ক্ষেত্রে রাষ্ট্র যে-তৎপরতার সঙ্গে শেষের দিকটায় এসে ফাঁসি দেওয়ার কাজটা সম্পন্ন করল তাতে গণদাবি ঠিক উত্তাল হয়ে ওঠার সময় বা অবকাশ দেওয়াই হয়নি$ বস্তুত জনমনের প্রতিশোধ স্পৃহা যত সহজে এই ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় আকাঙক্ষায় রূপান্তরিত হল তাতে গণদাবি উত্তাল হওয়ার প্রয়োজনটাই আর দেখা দিল না$ এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় আইনের সব শর্ত ঠিকমতো পূরণ করা গেল কিনা সে কথা তেমন করে তোলাই গেল না$ অনেকেই মনে করেন পূরণ করা হয়নি$ আর রাষ্ট্র কাজ সম্পন্ন করল কেবল দ্রুত গতিতে নয়, যথেষ্ট গোপনেও বটে$ এমনকী ন্যূনতম মানবাধিকারও ঠিকমতো রক্ষা করা হয়নি$

ফাঁসি আর ফাঁসির দাবি যে আলাদা ব্যাপার সে কথা এখানেও বেশ পরিষ্কার$ আফজল গুরুর বিচার যথাযথ হয়েছে কিনা সে প্রশ্ন আইনের$ অনেকেই মনে করেন মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তির জন্য উপযুক্তভাবে গুরুরঅপরাধপ্রমাণিত হয়নি$ হয়েছে কি হয়নি সে বিচার আইনের বিচার$ কিন্তু এসব কথা বাদ দিয়েও, আদৌ সে কথা হিসেবে না নিয়ে জনমনের যে-অংশ গুরুর ফাঁসি দাবি করে সে অংশ কিন্তু আবেগতাড়িত$ তাই ফাঁসির দাবির প্রশ্নটা ফাঁসির বিচার সংক্রান্ত প্রশ্নের থেকে আলাদা করে বিবেচনা করা উচিত$

২৬/১১-র মুম্বই হামলায় অভিযুক্ত আজমল কাসভের ঘটনাও এই প্রসঙ্গে আমাদের মনে আসবে$ মুম্বইয়ের ওই জঘন্য আক্রমণ ও হত্যাকাণ্ডের পরে একজন অভিযুক্তই মাত্র ধরা পড়েছিল$ আজমল কাসভ$ তারও বিচার হল, বিচারের শেষে ফাঁসির আদেশ হল$ বিচারের সময় তার প্রাপ্য আইনি সাহায্যের ব্যবস্থাও হয়েছিল$ ভারতীয় গণতন্ত্রের পক্ষে সেটা ভালো কথা$ ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল কিনা, কাসভের বিচার যথাযথ হয়েছিল কিনা সেসব অন্য প্রশ্ন$ এবং সেই সব আইনি প্রশ্নের বাইরে কাসভের ফাঁসির দাবি জনমনে প্রায় শুরু থেকেই দানা বাঁধতে থাকে$ এখানেও রাষ্ট্রপতির কাছে মার্জনা ভিক্ষা, তা নাকচ হওয়া এবং ফাঁসি দেবার ব্যাপারটা সম্পন্ন হয়ে গেল বেশ দ্রুততার সঙ্গে$ বস্তুত কাসভের ফাঁসি হয়ে গেছে আফজল গুরুর ফাঁসি হবার অনেক আগেই$ যদিও ২৬/১১-র ঘটনা অনেক পরের ঘটনা$ আগে পরে নিয়ে আরো অন্য প্রশ্নও আছে$ আফজল গুরুর আগেরও অনেক আসামীর ফাঁসির আদেশ হওয়া সত্ত্বেও তাদের ফাঁসি এখনো হয়নি, এরকম নজিরও আছে$ তা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে$ আসলে ফাঁসির দাবি ও জনমনের ভাবাবেগের কাছে রাষ্ট্র বেশ অসহায়ের মতো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাচ্ছে$ তার নিজস্ব আইন আদালতের প্রক্রিয়ার কথাও আর ঠিক তেমন করে খেয়াল থাকছে না$

এরকম একটা বড়ো ঘটনা ঘটে গেল জানুয়ারি মাসে দিল্লির গণধর্ষণকে কেন্দ্র করে$ এক কলেজ ছাত্রী ও তার বন্ধুর উপরে বাসে অত্যাচার করে ঠেলে ফেলে দিয়ে প্রায় খুন করার চেষ্টা করা হয়$ অভিযুক্তরা ওই বাসেরই কর্মী বা তাঁদের বন্ধুবান্ধব$ ছেলেটি বেশ কিছুদিন চিকিৎসার পরে সুস্থ হয়$ মেয়েটি গুরুতরভাবে অসুস্থ থাকে$ সরকারি তৎপরতায় কয়েকদিন দিল্লিতে চিকিৎসা হয়, তারপর তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়$ কয়েকদিনের চিকিৎসার পরে মেয়েটি সেখানে মারা যায়$ ঘটনার পর থেকেই দিল্লির রাজপথ প্রতিবাদে ও মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে$ এই প্রতিবাদ মূলত নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ$ স্বীকৃত প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের ভূমিকা বিশেষ আমল পায়নি$ এই আবেগের প্রত্যক্ষ প্রকাশ ছিল অপরাধীর ফাঁসির দাবিতে$ আইনি বিচার শুরু হবার আগে থেকেই এই দাবি ওঠে অত্যন্ত স্পষ্ট করে$ এই জোরালো দাবির সামনে সরকার আবার কেঁপে যায়$ ধর্ষণ সংক্রান্ত আইনের সংশোধন করা হয় তড়িঘড়ি$ দেশের তরুণ মনেও ফাঁসির দাবি অত্যন্ত জোরালো ছিল$ দিল্লির গণধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের আর কোনো শাস্তিই আমাদের তরুণ মনে গ্রাহ্য নয়$ দু-একজনের মনে, তাঁরা অবশ্য ঠিক তরুণও নন, এ নিয়ে দ্বিধা ছিল না তা নয়$ অনেকেই ভাবছিলেন ফাঁসিতে কি মূল সমস্যার কোনো সমাধান আছে$ কিন্তু তখনকার আবেগের সামনে এসব দ্বিধা কুণ্ঠা তেমন ঠাঁই পায় না$ ফাঁসির দাবিই একমাত্র বিবেচ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়ে যায়$

গণদাবির স্তরে ফাঁসির প্রশ্নে বাংলাদেশ এই মুহূর্তে উত্তাল$ সেখানকার প্রশ্ন হয়তো আরো জটিল$ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা পাকিস্তান বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করেছিলেন বাঙালি জাতীয়তাবাদী চিন্তায় তাঁরা ধিক্কৃত হবেন সেটা স্বাভাবিক$ তাঁদের সঙ্গে আবার ইসলামি মৌলবাদ জড়িয়ে গেলে ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি গণজাগরণের চোখে তা আরো বিপদের চেহারা নেবে$ রাজাকার সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ এখন ঠিক সেই সংকটের মুখোমুখি$ একদিকে জামাত সমর্থকরা তাঁদের নখদন্ত প্রকাশ্যে জাহির করছেন$ তার সমর্থনে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে পাওয়া যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে$ আর রাজনৈতিক সংস্পর্শ রহিত নাগরিক সমাজের বড়ো অংশ পথে নেমেছে মৌলবাদ ও রাজাকার ধ্বংসের লক্ষ্য সামনে নিয়ে$

কলকাতায় বসে বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির খুঁটিনাটি জানা সব সময়ে সম্ভব হয় না$ আর এত জটিল রাজনৈতিক আবহের স্বর-অনুস্বরের সন্ধানও ঠিক ঠাহর করা যায় না$ তবু খুব দ্বিধার সঙ্গে একটা কথা বোধহয় বলে ফেলা যায়$ রাজাকারের প্রতি ধিক্কারের মানসিকতাকে সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়েও ফাঁসির দাবি নিয়ে প্রশ্ন তোলা আমাদের মনে হয় জরুরি$ যুদ্ধাপরাধী হিসেবে রাজাকারের বিচারের প্রশ্ন আইনের প্রশ্ন$ ‘রাজাকারের ফাঁসি চাই, আর কোনো শাস্তি নাই, এই শ্লোগান আবেগের শ্লোগান$ কট্টর ইসলামপন্থীর হাত থেকে দেশ বাঁচানোর দায় সবটুকু স্বীকার করে নিয়েও আমাদের বলতে ইচ্ছে করেবাঁশের লাঠি তৈরি করো, জামাত শিবির ধোলাই করো, এই শ্নোগান তপ্ত আবেগের শ্লোগান$ আবেগ শ্রদ্ধেয়, নির্বিচার আবেগ বিপজ্জনক$ দূরে বসে বাংলাদেশের আন্দোলন সম্বন্ধে কোনো কথাই উচ্চারণ করা চলে কিনা প্রশ্ন নিশ্চয়ই প্রাসঙ্গিক$ তবুও ফাঁসির দাবি এত জোরে ক্রমাগত উচ্চারণ করতে থাকলে বিশ্বময় যে-ফাঁসিবিরোধী মন যতটুকু-বা তৈরি হচ্ছে তা বড়ো ধাক্কা খাবে$ আমাদের রাষ্ট্রপতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে মৃত্যুদণ্ডের মার্জনা ভিক্ষার ফাইল আপাতত আর তাঁর কাছে না পাঠাতে অনুরোধ করেছেন$ হয়তো কৌশলগত কারণেই এই সিদ্ধান্ত$ হয়তো তাঁর এই অনুরোধ নীতিগত নয়$ তবুও এই ছোট্ট পদক্ষেপ আমরা স্বাগত জানাচ্ছি$ মৃত্যুদণ্ড নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে$ প্রতিপক্ষ সম্বন্ধে আমাদের মনোভঙ্গি কী হবে তা নিয়েও আমাদের ভাবতে হবে$


Comments