মন্থন সাময়িকী : জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি ২০১৩

হোম পেজ

সম্পাদকীয়


বাংলাদেশের জনসমাজে

শাহবাগের প্রভাব


ফাঁসি ফাঁসির দাবি


তিহার জেলে

আফজল গুরুর সঙ্গে সাক্ষাৎকার



মৃত্যুদণ্ড :

বাতিলযোগ্য একটি দণ্ড


পাকিস্তানে

হাজারা শিয়া গণহত্যা চলছে


সাম্প্রতিক

শাহবাগ আন্দোলনের দিনপঞ্জি


সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর



তারুণ্যের আহ্বান



শাপ-মুক্তি ঘটুক বাংলাদেশের



শাহবাগ নিয়ে

মেটিয়াব্রুজ-মহেশতলায় আলাপ








 

বাংলাদেশের জনসমাজে শাহবাগের প্রভাব : কিছু প্রশ্ন


বাংলাদেশ : দ্য নেক্সট আফগানিস্তান? পুস্তকের লেখক হিরন্ময় কার্লেকারকে আমরা বর্তমান শাহবাগ আন্দোলন নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন করেছিলাম। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি যে জবাব পাঠিয়েছেন, সেটা এখানে রাখা হল। বাংলায় তরজমা করেছেন জিতেন নন্দী।

প্রশ্ন : আপনি কি এখনকার শাহবাগের প্রতিবাদকে এক ধরনের সিভিল সোসাইটি বা নাগরিক সমাজের আন্দোলন মনে করেন? আমার জানতে ইচ্ছে করে, গ্রামসমাজের ওপর এর প্রভাব কীরকম? আমার কিছু বন্ধুর মুখে শুনেছি, যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ, সেই সমস্ত প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এই আন্দোলন দুর্বল।

শাহবাগের প্রক্রিয়াটি নাগরিক সমাজের একটি আন্দোলন। কিন্তু সমস্ত নাগরিক সমাজের আন্দোলনের একই ধরনের শক্তি এবং প্রসার থাকে না। আমরা দেখেছি, এটা ঢাকা এবং অন্য কয়েকটি শহরাঞ্চলে শক্তিশালী। এখনও পর্যন্ত আমি জানি না, গ্রামাঞ্চলে এটা কত শক্তিশালী। কারণ এসব তথ্যের জন্য আমাকে সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করতে হয়। বাংলাদেশ এবং অন্যত্র সংবাদমাধ্যম এই বিষয়ে যথেষ্ট আলোকপাত করেনি। এটা স্পষ্ট বুঝতে গেলে আর একটু সময় লাগবে।

প্রশ্ন : আমি বাঙালি ছাড়া অন্য সমাজ, যেমন চাকমা কোচ রোহিঙ্গা এবং আদিবাসী সমাজের ওপর এই আন্দোলনের প্রভাব কেমন জানতে চাই।

বাঙালি ছাড়া অন্য কৌমসমাজের ওপর এই আন্দোলনের প্রভাব নিয়ে এখনও কোনো তথ্য পাইনি। এই কৌমগুলি জামাতের বিরুদ্ধে। এদের ওপর জামাত প্রায়শই সাম্প্রদায়িক কারণে হামলা করেছে। বৌদ্ধ, মূলত আদিবাসীদের ওপর জামাত সমর্থকদের আক্রমণ, পরে বার্মার রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় হিংসাত্মক ঘটনা এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া, বেগম জিয়া, বিএনপি ও জামাতের তুলনায় শেষ হাসিনা এবং আওয়ামি লিগ জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি সহনশীল।

প্রশ্ন : আপনার বইতে আপনি জামাত--ইসলামির নেটওয়ার্ক, যোগাযোগ এবং আর্থিক মদতের ওপর লিখেছেন। কিন্তু এদের সামাজিক ভিত্তি কী?

জামাতের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব বাংলাদেশের এলিটশ্রেণীর প্রতিনিধি, এদের মধ্যে রয়েছে ব্যারিস্টার, অ্যাডভোকেট, অন্য পেশাজীবী এবং শিক্ষকেরা। জামাতের মধ্যস্তরের নেতারা আসে গ্রাম ও জেলাশহরের মধ্যবিত্ত শ্রেণী থেকে --- জমির মালিক, ব্যবসায়ী, মাদ্রাসার শিক্ষক ইত্যাদি। সাধারণ কর্মীদের মধ্যে রয়েছে শহর ও গ্রামের গরিবেরা এবং শহর ও আধা-শহরের লুম্পেনরা।

প্রশ্ন : গ্রামের চাষি, শহরের অসংগঠিত শ্রমিক, যেমন পোশাক শিল্পের মহিলা-শ্রমিক এবং খেটে খাওয়া মানুষেরা শাহবাগ নিয়ে কী ভাবছে?

চাষি, শহরের শ্রমিক এবং খেটে খাওয়া মানুষের শাহবাগের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কী, আমার জানা নেই। সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য গণমাধ্যমে এদের মনোভাব প্রকাশিত হয় না। এটা দুঃখজনক যে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাবলীতে এদের স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগ দেওয়ার মতো যথেষ্ট শক্তি বাংলাদেশে কোনো দল বা সংগঠনের নেই।

প্রশ্ন : হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০১২ সালে আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে এর সঙ্গে কি এখনকার যুব-বিদ্রোহের কোনো সংযোগ রয়েছে?

হিউম্যান রাইট্‌স ওয়াচের মতো সংগঠনগুলোর বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করতে আমি বিরত থাকতে চাই। এধরনের সংগঠনগুলো ঠান্ডাযুদ্ধের সময়ে, এমনকী আজও যে ভূমিকা নেয় সেটা স্মরণ রাখা দরকার। তাছাড়া, মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রশ্ন উঠবে, তার মাপকাঠিটা কী? মানবাধিকার সংক্রান্ত বাংলাদেশের পরিস্থিতি ২০০৪ সালের চেয়ে খারাপ কখনো হয়নি। তখন কুখ্যাত বাংলাভাইয়ের নেতৃত্বে জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে কমিউনিজম প্রতিরোধের নামে যে সন্ত্রাস নামিয়ে এনেছিল অথবা সেইবছর এবং তার পরে জামাতের নেতৃত্বে মৌলবাদী ইসলামিরা প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী বিরোধী রাজনীতিকদের ওপর যে ধারাবাহিক আক্রমণ হেনেছিল, তার তুলনা নেই।

শাহবাগ আন্দোলন নিয়ে আমার সহানুভূতি রয়েছে। কারণ এরা ধর্মনিরপেক্ষতাকে উর্ধে তুলে ধরেছে এবং ১৯৭১ সালে যারা ভয়াবহ অপরাধ করেছিল তাদের বিচার হচ্ছে এখন। তাছাড়া, এইসব গণকার্যকলাপ যে আমূল অদলবদলের প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে চাইবে, তা এখনই না হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এক পরিবর্তনকারী চরিত্র নেবে।

Comments