মন্থন সাময়িকী : জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি ২০১৩

হোম পেজ

সম্পাদকীয়


বাংলাদেশের জনসমাজে

শাহবাগের প্রভাব


ফাঁসি ফাঁসির দাবি


তিহার জেলে

আফজল গুরুর সঙ্গে সাক্ষাৎকার



মৃত্যুদণ্ড :

বাতিলযোগ্য একটি দণ্ড


পাকিস্তানে

হাজারা শিয়া গণহত্যা চলছে


সাম্প্রতিক

শাহবাগ আন্দোলনের দিনপঞ্জি


সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর



তারুণ্যের আহ্বান



শাপ-মুক্তি ঘটুক বাংলাদেশের



শাহবাগ নিয়ে

মেটিয়াব্রুজ-মহেশতলায় আলাপ








 

সম্পাদকীয়

রাজনীতির সাম্প্রদায়িক চরিত্র    

একুশে ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গ বাংলা একাডেমি ও অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টসের সামনে ভাষা দিবস নিয়ে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। দেশপ্রিয় পার্কে আর একটি অনুষ্ঠান হয়। প্রথমটিতে ছিলেন সিপিএমের বেশ কয়েকজন নেতা, পরেরটিতে ছিলেন তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ এবং স্বয়ং মহাশ্বেতা দেবী। শুনেছি কার্জন পার্কেও একটি সভা হয়েছে। এইসব সভায় প্রথামতো বাংলাদেশের ভাষাশহিদদের স্মরণ করা হয়েছে। কিন্তু সেই ভাষাশহিদদের কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় আজ যে গণআন্দোলন চলছে বাংলাদেশের শাহবাগ স্কোয়ারে, তার সামান্য উচ্চারণ পর্যন্ত করা হয়নি।

আসলে বড়ো মিডিয়ার মধ্যস্থতায় রাষ্ট্রের কূট-নীতি নামক বস্তুটার সঙ্গে আমাদের এলিট শিল্পী-সাহিত্যিকরাও বেশ জড়িয়ে পড়েছেন। কিন্তু ভয়ের কথা, এই কূটনীতির সঙ্গেই সহাবস্থান করে আমাদের সাম্প্রদায়িকতা।

একবছর আগে একটা সরকারি নির্দেশ এসেছিল, পাবলিক লাইব্রেরিতে নির্দিষ্ট ১৩টি সংবাদপত্রের মধ্যে থেকেই কেবল সংবাদপত্র কেনা যাবে। এর মধ্যে ছিল দৈনিক স্টেট্‌সম্যান, সংবাদ প্রতিদিন এবং কলম।

আমরা সকলেই জানি, বাম সরকারের আমলে দৈনিক স্টেট্‌সম্যান এবং সংবাদ প্রতিদিন কীভাবে সরকার বিরোধী কার্যক্রমের সংবাদ প্রকাশে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিল। সরকারের প্রতি বিরূপ মনোভাবের অন্যতম প্রকাশ ঘটেছিল, এই খবরের কাগজগুলোর পাঠকসংখ্যা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে।

হালফিল একটা খবর পেলাম মেটিয়াব্রুজের একজন খবরের কাগজ বিক্রেতার কাছে। এর আগে মেটিয়াব্রুজে আনন্দবাজার বা দৈনিক স্টেট্‌সম্যানের চেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল সংবাদ প্রতিদিন। ইদানীং দেখা যাচ্ছে, সংবাদ প্রতিদিনের বাজারটা খেয়ে নিচ্ছে কলম। মেটিয়াব্রুজে কলমের দৈনিক বিক্রি এখন আনুমানিক পাঁচ হাজার।

কলম একটা নতুন পত্রিকা। শাহবাগ আন্দোলনের বিরুদ্ধে এবং জামাত--ইসলামির পক্ষে খোলাখুলি দাঁড়িয়েছে এই পত্রিকা।

জামাত--ইসলামি এক সচেতন রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। দেশভাগের আগে থেকেই এই প্রক্রিয়া চলছে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তৈরি হল জামাত--ইসলামি হিন্দ এবং জামাত--ইসলামি পাকিস্তান। বাংলাদেশ গঠনের পরে তৈরি হল জামাত--ইসলামি বাংলাদেশ। প্রক্রিয়াটি কিন্তু অভিন্ন। ১৯৩০-এর দশকে অবিভক্ত ভারতে যখন আধুনিক জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটছে, তখন এই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্ম, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আমাদের ভূখণ্ডে মানুষের ওপর খোদা ব্যতীত আর কারও শাসন-কর্তৃত্ব থাকবে না।


আমাদের ক্ষমতার রাজনীতি সাম্প্রদায়িক এই অর্থেই যে তা সবসময় ক্ষমতা অর্জনের জন্য নানারকম ভিন্ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে বেপরোয়াভাবে আপোস করতে থাকে। এমনকী, পরস্পরবিরোধী প্রক্রিয়ার সঙ্গেও, যেমন পরস্পরবিরোধী ধর্মীয় মৌলবাদের সঙ্গেও। সেটা যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে দাঙ্গার চেহারা নেয়, তখন ওই ক্ষমতার প্রতিনিধিরাই দাঙ্গা থমাতে যায়। এই চক্রে সমাজ আর কতদিন ক্ষতবিক্ষত হতে থাকবে?
Comments