মন্থন সাময়িকী : মার্চ-এপ্রিল ২০১২

হোম পেজ

সম্পাদকীয়

বন্দিমুক্তিরআবেদনের ভঙ্গিমা প্রসঙ্গে : একটি সংলাপ


যদিভালোবাসো পৃথিবীকে


এই একটাইপৃথিবী আমাদের


বিপন্ন বিশ্বপ্রকৃতি


সামগ্রিক পরিবেশসহায়ক কৃষিই এগোনোর পথ


বসুন্ধরা দিবসেরসভা একটি বিবরণ


পাবলিকলাইব্রেরি, ছোটো পত্রিকা এবং সাম্প্রতিক সরকারি নির্দেশনামা


উচ্ছেদএবং পুনর্বাসন : কিছু ভাবনা



মন্থন সাময়িকী : ২০১১ সালের আয়-ব্যয়ের হিসেব

     









 

সম্পাদকীয়

ধরিত্রীর দৃষ্টি থেকে ... 


পৃথিবীর দৃষ্টি থেকে দেখার অভ্যাস আমার ছিল না। পৃথিবী একটা গ্রহ। তার অপর নাম ধরিত্রী, ধরা, বসুন্ধরা ...। এইসব নামকরণের মধ্যে রয়েছে অনেকগুলো ধারণা বা বিশ্বাস। তাকে মাতৃরূপে দেখা এবং এমন এক পরিসর হিসেবে দেখা, যা আমাদের ধারণ করে রাখে। আমাদের বলতে শুধু মানুষ নয়, সমস্ত প্রাণ-অপ্রাণের সমাহার।

          যখন আমরা বসুন্ধরা বা ধরিত্রী দিবস পালন করছি, তখন কলকাতার পূর্বপ্রান্তে নোনাডাঙায় উচ্ছেদ হওয়া মানুষের টানাপোড়েন চলছে। একটা যেন লোভের জিব এগিয়ে আসে! যত কিছু মিঠে ছিল গ্রাস করেও তৃপ্ত নয় সে, নোনা ডাঙাটুকুও ওর চাই! আমেরিকার হালফিল অকুপাই আন্দোলনে আওয়াজ উঠেছে, কর্পোরেট গ্রিড-এর বিরুদ্ধে। কিন্তু খেয়াল করলে বেশ বুঝতে পারি, কর্পোরেট মানে শুধু আমার শরীরের বাইরের কোনো সত্ত্বাই নয়, গ্রিড বা লোভ শুধু কোনো দাপুটে ব্যবসায়ীর নয়, এ আমার প্রবৃত্তি। কর্পোরেট আজ শুধু কিছু বিশ্বমাপের ব্যবসা-সংগঠনই নয়, সরকার দল এনজিও পাড়ার ক্লাব সমাজসেবা সবকিছুর মধ্যেই কর্পোরেট-মেজাজ।

          আজ নোনাডাঙায় কে কত বেশি আন্দোলন করবে, কে কত বেশি বুদ্ধিজীবীকে শামিল করবে, কে কত মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, তা নিয়েও যেন প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতা! সেটাও তো এক কর্পোরেট গুণই বটে!

সকলেরই মুখে এক বুলি, নোনাডাঙার বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন চাই! পুনর্বাসন মানে? সরকার আর বড়োলোকেদের দয়া চাই। চাইছি করুণা, অথচ কর্পোরেট কায়দায়! যে মানুষ (কিংবা কোনো প্রাণ) এই পৃথিবীতে জন্ম নিয়েছে, তার বেঁচে থাকার অধিকার কি কোনো সরকার, কোনো আইন, কোনো রাষ্ট্র কেড়ে নিতে পারে? হ্যাঁ পারে --- গায়ের জোরে, ক্ষমতার জোরে, অন্যায়ভাবে পারে। কিন্তু পৃথিবী তা মানবে কেন? তার ধর্ম তো একটাই, প্রাণ আর অপ্রাণকে ধারণ করা। উচ্ছেদ করা তার ধর্ম নয়। আমি যদি পুনর্বাসন নিয়ে ওকালতি করি, তাহলে আমি উচ্ছেদের অধিকারের পক্ষে।

          আন্দোলনকারী বন্ধু বলবেন, আপনি অবাস্তব কথা বলছেন। উচ্ছেদ হয়ে গেছে যারা, তাদের পুনর্বাসন ছাড়া আর গতি কী?

          আমি বলব, বস্তিবাসীরা উচ্ছেদ হতে চায়নি। তাদের গায়ের জোরে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তারা সাময়িকভাবে নিরুপায় হয়ে সরকারি পুনর্বাসনকে মেনেও নিতে পারে। কিন্তু আপনি বা আমি, একজন সহানুভূতিশীল বাইরের বন্ধু হিসেবে কোন বিচারে পুনর্বাসনের কর্পোরেট আগ্রাসী বুলি আওড়াব? বলুন তো, স্বাধীনতার পর থেকে যত উন্নয়নের কাজ হয়েছে --- ডিভিসি থেকে শুরু করে নর্মদা বাঁধ --- কোথায় মানুষ স্বস্তিতে বাঁচার মতো পুনর্বাসন পেয়েছে? কেন মিছে স্তোকবাক্য আওড়াব? কেন আমার মতোই আর একজন মানুষকে দয়া-করুণা করব?  

          আমি বাঁচতে চাই। যে-আমি এই পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছি, উপযুক্ত বাসস্থান-জীবিকা-অন্নসংস্থান তার প্রকৃতিগত অধিকার। আজ সারা পৃথিবী জুড়েই এই আওয়াজ উঠছে।

Comments