মন্থন সাময়িকী : জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি ২০১২

হোম পেজ

সম্পাদকীয়

বিদেশি হাত


এক প্রবীণ চাষির ভাবনায়

চাষের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ


চাষের প্রযুক্তি ও পরিচালন


চাষির সঙ্গে কথাবার্তা

বিষয় চাষির কাছে ধানচাষ কতটা উপযোগী


চাষির টীকাটিপ্পনী


কৃষি-সংকট জাতীয় সংকট

আমাদের বিবেকের সংকট


চিঠিপত্র :

বিষয় : আমরি-কাণ্ড













 

সম্পাদকীয়

আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে ...


দুধের আশ অনেকদিনই মিটে গেছে। এখন প্যাকেটের দুধেই ভরসা। কিন্তু ভাত আমাদের চাই-ই। এই বাংলার ছেলেমেয়েরা অন্য রাজ্যেই যাক, কিংবা বিদেশেই যাক, ভাত না খেলে এখনও পেট ভরে না, অন্তত একবেলা তো চাই-ই। যুগ যুগ ধরে সেই ভাতের জোগান দিয়ে এসেছে আমাদের বাংলার চাষিসমাজ। আমরা ভালো করে খেয়ালই করিনি, কবে থেকে যেন আমাদের পাতে এই গ্রামবাংলার চালের ভাত অদৃশ্য হতে শুরু করেছে। আমরা খাচ্ছি অন্ধ্রপ্রদেশের চালানি মাছ আর চাল। শুনছি থাইল্যান্ডের চালও নাকি আসছে। এ নিয়ে ছুতমার্গ করা মানে সংকীর্ণতা। এখন তো বিশ্বায়নের যুগ। আমাদের বিশ্বমানব হয়ে ওঠার পর্ব।

        অন্ধ্রের চাল বা ধান উৎপাদনে আমাদের গর্বিতই হওয়া উচিত। যেমন আমরা আশান্বিত হয়েছিলাম ভূমিসংস্কারের পর ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে এই বাংলার চাষিদের চাষবাসের উন্নতির কথা শুনে। কিন্তু আজ যখন জানতে পারি সেই অন্ধ্রের সবচেয়ে উর্বর পূর্ব গোদাবরী জেলার কোনাসীমা অঞ্চলের চাষিরা এক লক্ষ একর জমিতে কোনো ধান চাষ করেনি, আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে। শুনতে পাই, চাষিরা ধানের দাম পাবে না বলে চাষ করেনি।

        ধানচালের উৎপাদনে এগিয়ে থাকা বর্ধমানে গিয়ে যখন আমরা শুনতে পাই, চাষি ধান চাষে উৎসাহ হারাচ্ছে, আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে। তারা বলে, কী করব চাষ করে, দাম পাব না। বাংলাদেশে যে চাল যেত এদিক থেকে সেটাও নাকি বন্ধ হয়ে গেছে।

        এরকম এক পরিস্থিতির মধ্যে আমরা এই পত্রিকার পক্ষ থেকে চাষিদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে শুরু করি; বোঝার চেষ্টা করি কোথায় সংকট। সংকট হয়তো অনেক বড়ো পরিসর জুড়ে পরিব্যাপ্ত। কিন্তু আমরা ধান চাষের বিষয় থেকেই কথা শুরু করেছি। প্রথাগত সমীক্ষার মতো আমরা কোনো সার-সংকলন করতে পারিনি। বরং চাষিদের পুঞ্জত অভিজ্ঞতা যেভাবে তাদের বিচিত্র মনোভঙ্গি তৈরি করে চলেছে, সেটাই সাজিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। কাজটা সম্পূর্ণ নয়, আরও কিছুটা কথা আমাদের এই বিষয়ে বলতে হবে।

Č
Ċ
Manthan Samayiki,
Apr 16, 2012, 10:24 PM
Comments