বড়ো মুসলমান সংঘর্ষের অবসান কোন পথে

হোম পেজ

সম্পাদকীয়

উনিশ বছর শরণার্থী শিবিরে


দাঙ্গা-বিধ্বস্ত বড়োভূমি থেকে ফিরে


বড়োভূমিতে দাঙ্গার দিনলিপি


বড়োভূমি ও বড়ো জনজাতির ইতিহাস


বড়ো মুসলমান সংঘর্ষের প্রেক্ষিত


১৯৯৬ সালের বড়ো আদিবাসী

সংঘর্ষের বৃত্তান্ত 


বড়ো মুসলমান সংঘর্ষের

অবসান কোন পথে


আত্মঘাতী সংঘর্ষ : সমাধান কোনপথে


কোকরাঝাড়ের ডায়েরি


বড়ো নেত্রীর চোখে

বড়ো মুসলমান সংঘর্ষ


শরণার্থী শিবির থেকে বলছি








 

বড়ো মুসলমান সংঘর্ষের অবসান কোন পথে

 


গুয়াহাটি বশিষ্ঠতে শান্তি সাধনা আশ্রমে ১১ সেপ্টেম্বর ২০১২ গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যাটিস্টিক্সের অধ্যাপক আবদুল মান্নান-এর বক্তৃতার অনুলিখন। অনুলিখন জিতেন নন্দী।


 


আজকের যুবক-যুবতীরা নিশ্চয় বার্টান্ড রাসেলের নাম শুনেছেন। তিনি ছিলেন এক বড়ো মাপের দার্শনিক, মানবতাবাদী এবং শান্তিকর্মী। ১৯৪২ সালে তিনি একটা ছোটো গল্প লিখেছিলেন। ব্রিটেনের এক ব্যারন --- খুব ধনী মানুষ --- তাঁর ইচ্ছা ছিল দুনিয়ার সবচেয়ে বড়ো ধনী হবেন। আগে থেকেই তাঁর প্রচুর ধন ছিল। কিন্তু তাঁর আরও দরকার। কী করা যায়? ওঁর তিনজন বন্ধু ছিল। একজন ওই দেশের এক বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্সের অধ্যাপক, একজন ওখানকার সবচেয়ে বড়ো সংবাদপত্রের সম্পাদক আর তৃতীয়জন এক অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সির প্রধান। চারজনে মিলে দিনের পর দিন আলোচনা করছিলেন কীভাবে বেশি বেশি ধন লাভ করা যায়। বহু আলোচনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্সের অধ্যাপক একটা মডেল হাজির করলেন। প্রচুর ধন লাভ হবে আমাদের, কিন্তু আজ থেকেই কাজ শুরু করতে হবে। প্রথমে সংবাদপত্রের সম্পাদককে তাঁর কাগজের ভিতর একটা সংবাদ প্রকাশ করতে হবে। কী সেই সংবাদ? মঙ্গলগ্রহ থেকে লন্ডনের মাটিতে একটা জীব এসেছে, সেই জীব লন্ডনের সমস্ত মানুষকে শেষ করে দেবে। এরপর সেই জীব পৃথিবীর সমস্ত মানুষকেই খতম করবে। এর ফলে মানব সভ্যতা শেষ হয়ে যাবে। এই খবরটা প্রথমে খুব ছোটো করে ভিতরের পাতায় থাকবে। তারপর অন্য পাতায় ছোটো করে থাকবে। আস্তে আস্তে এই খবরটা ব্যানার হেডলাইন হয়ে উঠবে। এইভাবে ওঁদের কাজ শুরু হল। কয়েক মাসের মধ্যেই ইংল্যান্ডের সমাজে হই চই পড়ে গেল। একটা দুষমণ এসেছে আর সরকার তাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য কিছুই করছে না। সরকারের বিরুদ্ধে কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলতে শুরু করল। সমাজ জুড়ে একটা আতঙ্ক সৃষ্টি হল। এর মধ্যে ওই সংবাদপত্রে আর একটা খবর বেরোল, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক একটা দূরবীন বানিয়েছেন, সেই জীব যদি সামনে থাকে তাহলে ওই দূরবীন দিয়ে তাকে দেখা যাবে এবং শীঘ্রই এই দূরবীন বাজারে ছাড়া হবে। দূরবীনটা কীরকম? একটা টিনের সিলিন্ডার, তার দুদিকে দুটো কাঁচ লাগানো, আর কিছু নেই। সেই সস্তার জিনিসটা কয়েক পাউন্ড দামে বিক্রি হতে লাগল। এই মেশিনটা লক্ষ লক্ষ বিক্রি হতে থাকল। ইংল্যান্ডের কোনো মানুষই বলল না যে ওই জীবটাকে সে দেখেনি। যদি কেউ বলত যে জীবটাকে সে দেখেনি, লোকে তাকে প্রহার করত। এইভাবে ওই ধনী ব্যক্তির হাতে কোটি কোটি পাউন্ড জমা হয়ে গেল। সেই ব্যারন ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড়ো ধনী মানুষ হয়ে গেল। তাঁর স্ত্রী ছিলেন একজন বড়ো শিল্পী। এই সময় ব্যারন তাঁর স্ত্রীকে বললেন, তুমি এমন এক ছবি আঁকো যা দেখে লোকে ঘাবড়ে যাবে। সেই মহিলা ওই দুষ্কর্মের এমন এক ছবি আঁকলেন যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। ইতিমধ্যে ইংল্যান্ডের কিছু নবীন বিজ্ঞানী দেখলেন, এই ব্যাপারটা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং মানুষকে প্রতারিত করা হচ্ছে। এঁদেরই একজন সেই মহিলার কাছে গিয়ে বললেন, আপনি তো ওই জীবটাকে দেখেননি। কিন্তু এমন এক ছবি এঁকেছেন যা দেখে লোকে সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছে। এটা অন্যায়। আপনি একটা পাপ করেছেন এবং এর জন্য একদিন আপনাকে ঈশ্বরের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। সেই মহিলা নিজের ভুল বুঝতে পারলেন এবং স্থির করলেন যে সত্যকে উদ্ঘাটন করতে হবে। গল্পের শেষে রাসেল দেখিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত পুরো বিষয়টা লন্ডন তথা সারা বিশ্বে মানুষের কাছে উন্মোচিত হয়।

   আমি আজ একথা বলতে পারি না যে, আসামে বিদেশি বা বাংলাদেশি নেই। কারণ আজকের আধুনিক যুগে অভিবাসন রয়েছে। জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ এক দেশ থেকে অন্য দেশে পাড়ি দেয়। মানুষ আসতে পারে এবং আসে। আমি জানি না যে তারা কত সংখ্যায় আসছে। কত শত, কত হাজার, কত লক্ষ বা কোটি আমার জানা নেই। আসামে তো এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, আমাদের এক প্রাক্তন রাজ্যপাল এস কে সিন্‌হা দেশের রাষ্ট্রপতির কাছে একটা রিপোর্ট পাঠিয়েছিলেন, তাতে তিনি বলেছিলেন যে প্রতিদিন ছয় হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে আসামে ঢুকছে। সংখ্যাটা ভেবে দেখুন! দিনে ছয় হাজার মানে মাসে এক লক্ষ আশি হাজার, বছরে প্রায় কুড়ি লক্ষ, পাঁচ বছরে এক কোটি! তাহলে ওই রাজ্যপালের মেয়াদকালে আসামে এক কোটি বাংলাদেশি প্রবেশ করেছে। তারপর তিনি কাশ্মীরে রাজ্যপাল হয়ে গেলেন। এলেন অজয় সিংহ। তারপর আরও দুজন। তাহলে আরও আট-নয় বছরে আরও দু-কোটি। তিন কোটি বহিরাগত যদি এসে থাকে, আসামের মোট জনসংখ্যাই তিন কোটি, তাহলে এখানকার স্থানীয় বাসিন্দা কেউ নেই! এইভাবে তথ্যবিকৃতি ঘটে এবং মানুষকে প্রতারিত করা হয়।

   আমি মনে করি, প্রশ্নটা রাজনৈতিক এবং তার রাজনৈতিক সমাধান দরকার। আমি মনে করি আপনারা যারা এখানে উপস্থিত হয়েছেন, সেই গান্ধীবাদীদের সমাজে একটা সম্মানজনক অবস্থান রয়েছে। মানুষ আপনাদের মত জানতে চায়। এর একটাই সমাধান, প্রথমে আমাদের হিসেব করা দরকার কতজন বাংলাদেশি আমাদের সমাজে রয়েছে। এটা বার করা খুব সহজ। কীভাবে? রাজনৈতিক নেতারা বলছেন, আদবানির মতো অতি সম্মানীয় রাজনৈতিক নেতা বলছেন, এটা দুই ভারতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ নয়, এটা অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি ও বড়োদের মধ্যে সংঘর্ষ। আমি আপনাদের মাধ্যমে ওঁর কাছে প্রশ্ন করতে চাই, আদবানিজী তো ছয় বছর স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন একসময়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে কতজন বাংলাদেশিকে তিনি শনাক্ত এবং বহিষ্কার করতে পেরেছিলেন? এখানে ওখানে অনেকেই বলছেন, আমাদের ভোটার লিস্টে বাংলাদেশির নাম ভর্তি। তাহলে মানুষকে জানান, কোন কোন নির্বাচনকেন্দ্রে তারা বেশি সংখ্যায় রয়েছে। ভোটার লিস্ট স্ক্রুটিনি করে সেইসব লোকের পরিচয় সংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখলেই পাওয়া যাবে কতজন বাংলাদেশি রয়েছে। যদি কেউ বাংলাদেশি হয়, সে প্রমাণ দেখাতে পারবে না যে ১৯৭১ সালের আগে সে বা তার ভাই কিংবা বাবা এখানে ছিল। অতএব হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত কোনো বিচারকের তত্ত্বাবধানে একটা নির্ভরযোগ্য সিভিল সোসাইটি গ্রুপকে দিয়ে সমস্ত রেকর্ড পরীক্ষা করা দরকার। সমস্ত জাতীয় স্তরের সংগঠন ও দলের সামনে সেই রিপোর্ট রাখা যেতে পারে। সকলের সহমতে জানা যাবে, কত শতাংশ বাংলাদেশি এখানে রয়েছে। সংখ্যালঘু বা মুসলমান কেউই সেই তথ্যকে অস্বীকার করতে পারবে না। কেন্দ্রীয় সরকারকে তখন স্থির করতে হবে কীভাবে সেই চিহ্নিত মানুষদের ব্যবস্থাপনা হবে।

   কিন্তু কেউই এই কাজটা করতে চায় না। কারণ প্রত্যেকেই জানে প্রত্যেকে রাজনীতিতে আগ্রহী! ১৯৭৮-৭৯ সালে শ্লোগানটা কী ছিল? বহিরাগত। প্রেমকান্ত মহান্ত অসমিয় ভাষায় একটা বই লিখেছিলেন। এতে তিনি বিস্তারিতভাবে বলেছিলেন, কখন কীভাবে এবং কেন বহিরাগত থেকে বিদেশি এবং তারপর বাংলাদেশি কথাটা এল। আজ তিনি বেঁচে নেই। এই বই পড়লে আসাম আন্দোলনের পশ্চাদপট পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়। ওই আন্দোলন শুরু হয়েছিল ১৯৭৯ সালে। আজ তেত্রিশ বছর পার হয়ে গেছে। আমার মনে হয় এই আন্দোলন চলবে  --- এই রূপে অথবা অন্য রূপে --- কারণ বিষয়টা রাজনৈতিক।

   ১৯৭৮ সালে আসাম বিধানসভার একটা নির্বাচন হয়েছিল। কংগ্রেস সেই প্রথম আসামে তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা হারাল। দুলাল বরবরার নেতৃত্বে জনতা দল ক্ষমতায় এল। সেই সময় নাজিরায় একটা সভা হয়েছিল। রাজ্যে ক্ষমতা হারালেও আমাদের পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী হিতেশ্বর শইকিয়া এমএলএ হয়েছিলেন। নাজিরার মানুষ তাঁকে সম্বর্ধনা দেওয়ার জন্য একটা সভার আয়োজন করেছিল। তিনি ওই সভায় তাঁর বক্তৃতায় বলেছিলেন, আমরা হেরে গেছি, জনতা ক্ষমতায় এসেছে, কিন্তু আপনারা ঘাবড়াবেন না, এটা একটা হাওয়া। হাওয়া এসেছে, আবার তা চলেও যাবে।

   কিন্তু একটা জিনিস আমাদের মনে রাখা উচিত, সেই নির্বাচনে ২৫ জন বামপন্থী এমএলএ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর মধ্যে সিপিএমের ছিল ১১ জন। যখন আন্দোলন শুরু হল, প্রথমে তার টার্গেট ছিল বহিরাগত, তারপর বিদেশি এবং পরে বাংলাদেশি। কিন্তু কেন ১৯৭৯-৮০ সালে প্রায় পঞ্চাশজন বামপন্থী ছাত্র খুন হল? তার মধ্যে আমার নিজের ৩-৪ জন ছাত্রও ছিল। এক কৃষক নেতাকে জীবন্ত মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল। এঁরা কি বহিরাগত, বিদেশি বা বাংলাদেশি ছিলেন? এঁরা তো ভূমিপুত্রই ছিলেন। নগাঁওয়ের কৃষক নেতা বীরেশ্বর ভুঁইয়া এই মাটিরই সন্তান ছিলেন। এগুলো পুলিশ রেকর্ডে রয়েছে। তাই সমস্ত সমস্যাটা রাজনৈতিক, বিষয়টাও সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। যদি কোনো রাজনৈতিক দল এর সমাধান চায়, তাহলে তারা তা করতে পারে। কিন্তু আমার ভয় হয়, কোনো রাজনৈতিক দলই এর সমাধান চায় না।

   আমাদের রাজ্যের সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী কিছুদিন আগে সমস্ত রাজনৈতিক দলের একটা সভা ডেকেছিলেন। সেই সভায় তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, আসুন আমরা সমস্ত রাজনৈতিক বিরোধকে দু-মাসের জন্য মুলতুবি রাখি এবং দু-মাস যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করি। আমরা একে অন্যের বিরুদ্ধে দোষারোপ বন্ধ রেখে চুপ থাকি যাতে পরিস্থিতি শান্ত হতে পারে। একথা কেউই মানবে না।

   তাই সিভিল সোসাইটির এটা দায়িত্ব, গান্ধী পিস ফাউন্ডেশনের মতো সংগঠন যদি এই দায়িত্ব নেয়, তাহলে সমস্যার সমাধান হবে। আসল শক্তি তো জনগণেরই। আমি দু-তিনটে কথা আপনাদের বলব। দয়া করে সরকারকে বোঝান, বেআইনি সমস্ত অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হোক। এতে ৭০-৮০ ভাগ সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

   বড়োল্যান্ডে এখন পরিস্থিতিটা কী? আমি যে নগাঁও জেলায় বাস করি, সেই নগাঁও সদর থেকে ৩৫-৪০ কিমি দূরে প্রায় ১২০ ঘর বড়ো পরিবার রয়েছে, তার চারপাশে রয়েছে প্রায় চল্লিশ হাজার মুসলমান বাসিন্দা। এই বড়ো পরিবারগুলির নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে ওই মুসলমান পরিবারগুলি। এই ছোট্ট গ্রামটার নাম দবগাঁ।

   আর একটা ঘটনা বলি। চিরাং জেলায় বিজনি শহর থেকে ২৭ কিমি দূরে আমাগুড়ি উচ্চ-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শরণার্থী শিবিরে সাত-আট হাজার মুসলমান আশ্রয় নিয়েছে। ওই শিবিরে সরকারি ত্রাণের চাল-ডাল ছাড়া বেসরকারি কোনো ত্রাণ পৌঁছায়নি। কারণ ওখানে যেতে গেলে ২৭ কিমি পথ বড়ো এলাকার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। পাঁচ-ছদিন পর বরপেটা জেলার একটা ত্রাণ-দল কিছু ত্রাণ সংগ্রহ করে ১৬টা মিনি ট্রাকে ভর্তি করে যাত্রা শুরু করে। চিরাং জেলার প্রশাসন এদের ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয় এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে। ওই দলের মধ্যে আমার দুজন ছাত্রও ছিল। ওরাই আমাকে তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানায়। নয়-দশ কিমি যাওয়ার পর ওরা দেখে একটা সেতু এমনভাবে ভেঙে রয়েছে যে ওর ওপর দিয়ে ট্রাক যেতে পারবে না। ওই সেতুর পাশেই একটা বড়ো গ্রাম। কিছু করার নেই, ফেরত আসতে হবে। এমন সময় কিছু বড়ো যুবক ওখানে হাজির হল। তাদের মধ্যে দু-তিনজন ত্রাণ-দলকে বলল, তোমরা অপেক্ষা করো, দেখি আমরা সেতুটা মেরামত করতে পারি কিনা। এই যুবকেরা নিজেদের ঘর থেকে কাঁধে চাপিয়ে ভারী ভারী কাঠের পাটাতন নিয়ে এল। সেতুটা নিজেদের হাতে মেরামত করল ওরা। তারপর ওই সেতুর ওপর দিয়ে নিরাপদে ট্রাকগুলো যেতে পারল। ওই যুবকেরা জানত, ত্রাণ-দলটা মুসলমানদের এবং তারা এক মুসলমান শিবিরে যাচ্ছে। তারা এটাও জানত, বড়ো বন্দুকধারীরা জানলে কী দশা হতে পারে তাদের।

     এটাই প্রকৃত সত্য। কারণ বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ সংঘর্ষ চায় না। সে বড়ো বা মুসলমান যে-ই হোক। কিছু মানুষ তাদের সংকীর্ণ স্বার্থসিদ্ধির জন্য এই সংঘর্ষ সৃষ্টি করেছে।
Comments