বড়োভূমি ও বড়ো জনজাতির ইতিহাস

হোম পেজ

সম্পাদকীয়

উনিশ বছর শরণার্থী শিবিরে


দাঙ্গা-বিধ্বস্ত বড়োভূমি থেকে ফিরে


বড়োভূমিতে দাঙ্গার দিনলিপি


বড়োভূমি ও বড়ো জনজাতির ইতিহাস


বড়ো মুসলমান সংঘর্ষের প্রেক্ষিত


১৯৯৬ সালের বড়ো আদিবাসী

সংঘর্ষের বৃত্তান্ত 


বড়ো মুসলমান সংঘর্ষের

অবসান কোন পথে


আত্মঘাতী সংঘর্ষ : সমাধান কোনপথে


কোকরাঝাড়ের ডায়েরি


বড়ো নেত্রীর চোখে

বড়ো মুসলমান সংঘর্ষ


শরণার্থী শিবির থেকে বলছি








 

বড়োভূমি এবং বড়ো জনজাতির ইতিহাস


 


১৮২৬ সালে প্রথম বার্মিজ যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে আসাম প্রথম ব্রিটিশ আশ্রিত রাজ্যে পরিণত হয়। ১৮৩২ সালে কাছাড়কে এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ১৮৩৫ সালে জয়ন্তিয়া পাহাড় অঞ্চলকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এলাকার মধ্যে ঢোকানো হয় এবং ১৮৩৯ সালে আসামকে বাংলার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। ১৮৭৪ সালে আসামকে বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে সেখানে একটা পৃথক চিফ কমিশনারের অধীনে শাসন চালানো শুরু হয়। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময়ে, আসামকে বাংলার পূর্বাংশের জেলাগুলোর সঙ্গে জুড়ে দিয়ে একজন লেফটেনান্ট গভর্নরের প্রশাসনভুক্ত করা হয়। ১৯১২ সাল থেকে আবার আসামকে আলাদা চিফ কমিশনারের আওতায় নিয়ে আসা হয় এবং ১৯২১ সালে পাকাপাকিভাবে এখানে আলাদা প্রশাসক নিযুক্ত করা হয়। ভারত ভাগ হওয়ার সময়ে, সিলেটের মুসলমান অধ্যুষিত জেলাগুলোর অধিকাংশ পূর্ববাংলার (পাকিস্তান) মধ্যে চলে যায়। ১৯৫১ সালে উত্তর কামরূপের দেওয়ানগুড়ি ভুটানকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ১৯৫৭ সাল থেকে যুক্তরাজ্য সরকারের প্রশাসনভুক্ত নাগা পাহাড়, জেলা নাগাল্যান্ডের অংশ হিসেবে পরিগণিত হয় ১৯৬২ সালে। আসামের মধ্যেই গারো, খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া পাহাড়ের জেলাগুলোর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা মেঘালয় নামক স্বায়ত্ত্বশাসিত রাজ্যের উদ্ভব ১৯৭০ সালের ২ এপ্রিল এবং ১৯৭২ সালে মেঘালয় সম্পূর্ণ স্বাধীন রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ওই একই সময়ে মিজো পাহাড়ের জেলাগুলোকে নিয়ে মিজোরাম নামক আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলও ঘোষিত হয়। সেই মিজোরামও এখন একটা আলাদা রাজ্য।

সূত্র : দি স্টেটসম্যান ইয়ারবুক ২০১২, ব্যারি টারনার সম্পাদিত।

 

আসাম নামক রাজ্যটির এই আধুনিক নাম ণ্ণআসাম' আসলে খুব বেশিদিন আগে হয়নি। ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে শান-রা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় হানা দিয়ে এই অঞ্চল দখল করে বসে। এরা অহম নামে পরিচিত ছিল এবং এদের থেকেই আসাম নামের সূত্রপাত। অহমদের পুরোনো ঐতিহ্য অনুসারে ণ্ণঅসম' শব্দ থেকে যে আজকের আসামের উৎপত্তি তার অর্থ হল ণ্ণঅনন্য' বা ণ্ণতুলনাহীন'। অহমদের মতে, তাদের এই বিশেষণে ভূষিত করেছিল উপত্যকার স্থানীয় উপজাতিরা। সেটা তারা করেছিল এই কারণে যে অহমরাজ উপত্যকা জয় করার সঙ্গে সঙ্গে উপজাতিদের মনও এমনভাবে জয় করেছিলেন যে তাঁর প্রশাসনের কায়দায় বশীভূত হয়ে উপজাতিরাই তাঁকে ণ্ণঅতুলনীয়' খেতাব দিয়েছিল। কাকাতি-র (বাণীকান্ত কাকাতির লেখা বই ণ্ণদি মাদার গডেস কামাখ্যা' দ্রষ্টব্য) মতে এরকমও হতে পারে যে পুরোনো আচাম শব্দটাকে সংস্কৃত করে পরে এটাকে ণ্ণআসাম বা অতুলনীয়' করা হয়েছে। তাই ভাষায় ণ্ণআচাম' শব্দের অর্থ ণ্ণপরাস্ত হওয়া'। অসমিয় ভাষায়, -উপসর্গ যোগে ণ্ণআ-সাম'-এর মানে হয় ণ্ণঅপরাজিত', ণ্ণবিজয়ী'। যদি সত্যিই শব্দটার উৎস ওরকম হয়, তাহলে জনসাধারণের দিক থেকে দেখলে তা এই দেশের পক্ষে সুপ্রযুক্ত বটে। যাই হোক, ণ্ণব্রাডেন-পাওয়েল'-এর কাছ থেকে আরেকরকম মতও পাওয়া যায় ণ্ণআসাম' নামের উৎস সম্পর্কে --- সেটা হল বড়ো শব্দ ণ্ণহা-কম' থেকেই এর উৎপত্তি, যার অর্থ হল নিচু বা সমতল দেশ।

আসামের সবচেয়ে প্রাচীন অধিবাসীরা কিরাত ও সিনা নামেই পরিচিত ছিল, অন্যান্য উপজাতিদের বলা হত ম্লেচ্ছ এবং অসুর। মহাভারতে ভগদত্ত-র সৈন্যদলের বর্ণনায় সিনা ও কিরাতদের কথা বলা আছে --- এইসব উপজাতীয়দের সেনাবাহিনী ছিল স্বর্ণোজ্জ্বল বর্ণচ্ছটায় বিভূষিত।

পুরাণে কিরাতদের ণ্ণঅরণ্যচারী', ণ্ণবর্বর' ও ণ্ণপাহাড়ি' বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এর অর্থ হল এরা সব পূর্বভারতের পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসী। অন্য এক পুরাণে এদের বর্ণনা করা হয়েছে, ণ্ণবাংলার উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলের মেষপালক অধিবাসী হিসেবে। মহাভারতে দেখানো হয়েছে কিরাতেরা ব্রহ্মপুত্রের আশেপাশে থাকে। এই প্রাচীন কিরাতদের বংশধর হিসেবে যারা এখনও কিরাত নামেই পরিচিত, তারা থাকে সিকিমের পশ্চিমে নেপাল ও ভুটানের মাঝে মোরাং নামক পাহাড়ি অঞ্চলে। বর্তমানে কিরাত বলতে ভারতের সীমান্তের মঙ্গোলীয় ধাঁচের সব অধিবাসীকেই বোঝায়। কালিকাপুরাণে আসামের কিরাতদের বর্ণনায় বলা আছে, এরা মাথা ন্যাড়া করে রাখে এবং এদের গায়ের চামড়া পীতবর্ণের, এরা শক্তিশালী, হিংস্র, অজ্ঞ, এবং মদ ও মাংসে আসক্ত।

আসামের প্রাচীন অধিবাসীরা যে মন-খ্‌মের গোত্রের ইন্দো-চীন ভাষায় কথা বলত, তার বৈশিষ্ট্য অস্ট্রিক-গোষ্ঠীর ভাষার অন্তর্ভুক্ত। ঠিক কোন সময়ে অস্ট্রিকভাষীদের আসামে অনুপ্রবেশ ঘটল তার সাল তারিখ জানা না গেলেও তা অবশ্যই খ্রীস্টের জন্মের কয়েকশো বছর আগে এবং নিশ্চিতভাবে পশ্চিমদিক থেকে আর্যদের আক্রমণের অনেক পূর্বে। অসমিয় জনগণের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, রীতিনীতি ও আচার-আচরণের মধ্যে অস্ট্রিকভাষী মঙ্গোলীয়দের সংস্কৃতির বহু উপাদান আজও টিঁকে আছে।

ইন্দো-চীন হামলার দ্বিতীয় ধাক্কার প্রমাণ রয়েছে তিব্বতী-বর্মী ভাষায় কথা বলা বিভিন্ন জনসমাজের মধ্যে। এই ভাষাভাষীদের আদি বাস ছিল পশ্চিম চীনের ইয়াংসিকিয়াং ও হোয়াং হো নদীর কাছাকাছি। সেখান থেকে তারা ব্রহ্মপুত্র, চিনদুইন ও ইরাওয়াদ্দি নদীর অববাহিকা ধরে এগোতে এগোতে ভারতে ও বর্মায় ঢুকে পড়ে। এদের মধ্যে যে দলটা আসামে ঢোকে, তারা ধুবড়িতে ব্রহ্মপুত্রের বিশাল বাঁক বেয়ে এগিয়ে যায়। এদের মধ্যেই একটা অংশ দক্ষিণদিকে গিয়ে প্রথমে গারো পাহাড় ও পরে টিপ্পেরা পাহাড়ের রাজ্যটিকে দখল করে। অন্যরা মনে হয় কাপিলি উপত্যকায় উঠে যায় এবং আরেকটা ভাগ উত্তর কাছাড়ের পাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে হাজির হয়। কিন্তু উত্তর কাছাড় ও গারো পাহাড়ের অন্তর্বর্তী যে পাহাড়ি এলাকা খাসি ও জয়ন্তিয়া বলে পরিচিত সেই জায়গাগুলো ওরা দখল করতে পারেনি। মন-খমের ভাষাভাষী মানুষের দেশ হিসেবে এখনও এই অঞ্চল টিঁকে আছে। তিব্বতী-বর্মী ভাষাভাষীদের আরেক ঝাঁক ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার মাথায় গিয়ে আটকে যায় এবং দক্ষিণদিকের পথ ধরে। ওরা নাগা পাহাড় দখল করে আর এরাই হয়ে ওঠে সেই নাগাদের পূর্বপুরুষ, যারা এমন একগুচ্ছ উপজাতি, যাদের ঠিক নির্দিষ্টভাবে কোনো ভাষাগোষ্ঠীতে স্থান দেওয়া হয়েছে। এই বহিরাগতদের অন্য এক দঙ্গল প্রথমে চিনডুইন ও ইরাওয়াদ্দি নদীর উজানে বাসা বেঁধেছিল; পরে তারা ক্রমে আসামের দক্ষিণদিকে সরে আসে এবং লুসাই, কাছাড় এবং মণিপুর ও নাগা পাহাড়ের বেশ কিছু অংশ দখল করে উপনিবেশ গড়ে তোলে। তিব্বতী-বর্মী জাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপজাতি অংশের নাম বড়ো। আসামের অনার্য জনগোষ্ঠীর অসংখ্য উল্লেখযোগ্য অংশ গড়ে উঠেছে এই বড়োদের থেকেই। বড়ো গোষ্ঠীর মধ্যে যে উপজাতিগুলো পড়ে তার মধ্যে আছে কোচ, কাছারি, লালুং, ডিমাচা, গারো, রাভা, টিপরা, চুতিয়া ও মারান। বর্তমান কামরূপ জেলার পশ্চিমদিকে যে বড়ো সমাজ রয়েছে, তাদেরকে হিন্দু জনগোষ্ঠী মেচ নামে ডাকে। সম্ভবত এটা সংস্কৃত ম্লেচ্ছ শব্দের বিকৃত রূপ। কামরূপের পশ্চিমের ভিতরদিকে যারা থাকে তাদের কাছারি বলা হয়।

ভাষাতাত্ত্বিক বিচারে দেখা যায় যে একসময়ে বড়োরা এই গোটা রাজ্য এবং মণিপুর ও নাগা পাহাড়ের পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিল, বাদ ছিল খালি খাসি ও জয়ন্তিয়া পাহাড়। প্রকৃতপক্ষে এই রাজ্যের বহু গুরুত্বপূর্ণ জিনিসের নামকরণ তারা করেছিল বড়ো ভাষায়। যেহেতু বড়োরা বেশিরভাগই নদীর তীর ঘেঁষে থাকত, তাই পূর্ব আসামের নদীগুলোর নাম মূলত বড়ো ভাষাতেই পাওয়া যায়। বড়ো ভাষায় জলকে বলা হয় ণ্ণডি' (এটা পাহাড়ে এবং পূর্ব আসামে দেখা যায়)। বড়োরা, এমনকী একটা নদীর পুরোনো অস্ট্রিক ভাষার নাম পাল্টে দিয়েছিল তার আগে ণ্ণডি' উপসর্গ জুড়ে --- যার অর্থ তাদের ভাষায় জল। যেমন ডি-লং নামের নদীটি। এই নদীর পুরোনো অস্ট্রিক ভাষার ণ্ণলং' (জল) নামটার আগে বড়োরা ণ্ণডি' বসিয়ে নতুন নাম দান করেছে।  

ণ্ণবড়ো', ইংরেজিতে Bodo শব্দটার Bod শব্দে বড়ো ভাষায় বোঝায় ণ্ণজন্মভূমি'। বড়োরা একটা শক্তিশালী রাজ্য গড়ে তুলেছিল যাদের বিভিন্ন নামে বিভিন্ন পরিণতি হয়েছে --- যেমন চুতিয়া, কাছারি, কোচ ইত্যাদি। এরা বিভিন্ন ঐতিহাসিক পর্যায়ে আসামের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করেছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী বহু বহিরাক্রমণ এদের সহ্য করতে হয়েছে। এরা পূর্বদিকে বৃহৎ তাই-অহম জাতি এবং পশ্চিমদিকে আর্যবাহিনীর মাঝখানে আটকা পড়ে গিয়েছিল।   

   ইতিহাসে তাই বা শান (যার অর্থ আমাদের দল) জাতির উত্থান দেখা গেছে ইউনান অঞ্চলে এবং সেখান থেকে তারা ছড়িয়ে পড়ে বর্মার উত্তরাঞ্চলে, ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ণ্ণঅহম' নামে এদেরই এক উপজাতি আসাম আক্রমণ করে দখল করে এবং দখলীকৃত জায়গার নাম দেয় আসাম। শান গোষ্ঠীর অন্যান্য উপজাতির মধ্যে যারা ণ্ণঅহম'-দের অনুসরণ করেছিল তাদের মধ্যে খামতি, ফাকিয়াল, নারাস ও আইতোনিয়ারা আসামের পূর্বাঞ্চলে এসে বসবাস শুরু করে। গোটা রাজ্যে, উপত্যকায় এবং পাহাড়ে যারা বসবাস করে তাদের বড়ো অংশটাই বর্তমানে তিব্বতী-বর্মী ও শান জাতির। ইতিহাসের ঠিক কোন পর্যায়ে আর্যভাষীরা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় হাজির হয়েছিল তা আমরা জানতে পারি না। কিন্তু আর্যপ্রভাব এত বিস্তার লাভ করেছিল এবং এত গভীরে প্রবেশ করেছিল যে সাধারণ মানুষের জীবনে এমনকী ছোটোখাটো বৈদিক প্রথাও শিকড় গেঁড়ে রয়েছে।

সূত্র : এ কালচারাল হিস্ট্রি অফ আসাম (আর্লি পিরিয়ড),

প্রথম খণ্ড, লেখক বিরিঞ্চি কুমার বড়ুয়া, ১৯৬৯ (দ্বিতীয় সংস্করণ)।

 

ব্রিটিশ শাসনে বড়ো এবং আসামের অন্য জনজাতি (ট্রাইব) অনুভব করে যে ট্রাইবাল বেল্ট্‌স অ্যান্ড ব্লক্‌স-এর জমি ক্রমান্বয়ে ধনী জমিদার এবং নবাগত চাষিদের হাতে চলে যাচ্ছে। ১৯৬০-এর দশকে তারা প্লেন্‌স ট্রাইবাল্‌স কাউন্সিল অফ আসাম গঠন করে। ১৯৬৭ সালে তারা আসাম থেকে একাংশ ভেঙে উদয়াচল নামে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল দাবি করে। সেই দাবি পূরণ হয়নি। ১৯৮০-র দশকের শেষের দিকে অল বড়ো স্টুডেন্ট্‌স ইউনিয়ন গড়ে ওঠে। ১৯৮৭ সালের ২ মার্চ উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মের নেতৃত্বে আলাদা স্বাধীন রাজ্য বড়োল্যান্ড-এর দাবি ওঠে। আওয়াজ ওঠে ডিভাইড আসাম ফিফটি-ফিফটিবড়ো পিপ্‌লস অ্যাকশন কমিটি গঠন করা হয়। ১৯৯৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আসাম সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয় এবং বড়ো অটোনমাস কাউন্সিল গঠন করা হয়। চুক্তির বহু ধারা কার্যকর হয়নি। আবার আন্দোলন শুরু হয়। এবারে সশস্ত্র সংগঠন বড়ো লিবারেশন টাইগার (বিএলটি) গড়ে ওঠে। ২০০৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় সরকার, আসাম সরকার এবং বিএলটি-র মধ্যে চুক্তি হয়। ভারতীয় সংবিধান সংশোধন করে গঠিত হয় স্বশাসিত বড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল (বিটিসি) এবং বড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডিস্ট্রিক্টস। এই কাউন্সিলের হাতে ভূমি সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন এবং রাজস্ব সংগ্রহের অধিকার আসে। বিএলটি-র জায়গায় আসে বড়োদের নতুন রাজনৈতিক দল বিপিএফ (বড়োল্যান্ড পিপল্‌স ফ্রন্ট)। আর একটি গোষ্ঠী ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট অফ বড়োল্যান্ড (এনডিএফবি) অবশ্য এই চুক্তি মানেনি। তারা আলাদা রাজ্যের দাবি করেছে।

           সূত্র : উইকিপিডিয়া।

সমস্ত অনুবাদ করেছেন তমাল ভৌমিক।


Comments