মন্থন সাময়িকী সেপ্টেম্বর অক্টোবর ২০১১

হোম পেজ

সম্পাদকীয়

এক নতুন ইজরায়েলি সমাজ উঠে দাঁড়িয়েছে

স্পেনের ১৫ মে আন্দোলন

বিপ্লবের শুরু নিজের ঘর থেকেই

নিউ ইয়র্ক শহর দখল নেওয়ার ঘোষণাপত্র

আমেরিকার পড়ন্ত আর্থিক অবস্থার বিশ্বজোড়া ফলাফল  

এক মার্কিন সাইকেলচালকের চোখে ওয়াল স্ট্রিট দখল

আমরা স্বপ্নদর্শী নই

অকুপাই ওয়াল স্ট্রিটের চমৎকার সাফল্য

আন্দোলনের নতুন ধারা

আন্দোলন ছিনতাই হয়ে যাওয়া ...

হার্ভার্ডের অকেজো পাঠক্রম নিয়ে ছাত্রদের প্রতিবাদ

হিপস্টার : পাশ্চাত্য সভ্যতার শেষ দশা

বাতিল শিল্পশহরে নতুন স্কুল

ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলন নিয়ে আলোচনাসভা




 

সম্পাদকীয়


বিশ্ব-প্রতিরোধ আন্দোলনের এক নতুন প্রজন্ম


২০১০ সাল থেকেই মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশে দেশে এক নতুন আন্দোলনের ধারা গড়ে উঠেছে। এক নতুন প্রজন্মের সরাসরি অংশগ্রহণে গড়ে উঠেছে আন্দোলনের এক নতুন প্রজন্ম। আমেরিকায় যেদিন থেকে অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট নামে এক আন্দোলন তৈরি হল আর ছড়িয়ে পড়ল দিগ্‌বিদিকে, আমাদের বড়ো সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেলগুলো প্রথমে কিছুটা ঘাপটি মেরে চুপ করে রইল। হয়তো ভেবেছিল, ও দুদিনের হইচই! কিন্তু যখন আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করল, তখন সম্পাদকীয়, উত্তর সম্পাদকীয় বা তালিকাভুক্ত বুদ্ধিজীবীদের দিয়ে লিখিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা হল। আন্দোলনের একমাস কেটে যাওয়ার পরও তা নিয়মিত খবরের মর্যাদা পেল না। ধন্য আমাদের নির্ভিক, নিরপেক্ষ আর সত্যের পূজারী সংবাদমাধ্যম!

        কিন্তু আরও আশ্চর্য হয়ে যেতে হল, যখন জানতে পারলাম, আমেরিকার আন্দোলনের অনেক আগে আরও ব্যাপকতর গণ-আন্দোলন হয়ে গেছে ইজরায়েল, স্পেন, পর্তুগাল এবং অন্য কিছু দেশে। তিউনিসিয়া, মিশর, গ্রিস ইত্যাদি দেশের খবর তো আগেই আবছাভাবে শুনতে পাচ্ছিলাম। এদের কারও ভাষা আরবি, কারও গ্রিক, কারও হিব্রু আর কারও স্প্যানিশ। সরাসরি ওইসব ভাষার ওয়েবসাইট বা ব্লগে যে চর্চা হচ্ছিল, তা আমাদের অনেকেরই এতটুকু বোধগম্য ছিল না। লন্ডনের কিশোর বিদ্রোহ বা আমেরিকার ওয়াল স্ট্রিটের ওয়েব-সংলাপ ছিল ইংরেজিতে, কোনোভাবে খুঁজে-পেতে পৌঁছাতে পারলে বুঝে নেওয়া সম্ভব ছিল, অন্তত ইংরেজি শিক্ষিত ভদ্রলোকেদের পক্ষে।

        যদিও সমস্যাটা শুধু ভাষার নয়। আমাদের মন এবং অভ্যাসের কিছু সমস্যা বোধহয় এই আন্দোলন থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে রেখেছে। প্রথমত, আমরা ইদানীংকালে ইস্যু ও দাবিভিত্তিক আন্দোলনে বেশি আগ্রহ দেখিয়ে এসেছি। এই নতুন আন্দোলনের কোনো বিশেষ ইস্যু বা দাবি নেই। ফলত, আমাদের মনকে তা আপসে টেনে নেয়নি। দ্বিতীয়ত, এই আন্দোলন ছিল প্রথম থেকেই আপাদমস্তক রাজনৈতিক। কিন্তু রাজনীতি বলতে দল, যুতসই নেতা এবং মহান আদর্শের যে ছবি এতদিন আমাদের মনে আঁকা রয়েছে, সেখানে এই আন্দোলন বলছে, আমাদের কোনো নেতা নেই; আমাদের কোনো প্রতিনিধি নেই; পূর্বানুমান বা আদর্শ যদি তোমার কিছু থাকে, তবে তা বাড়িতে রেখে আসাই ভালো। এ আবার কী কথা? আমাদের মনে এ কেমন হেঁয়ালি ঠেকে। গান্ধী, মার্ক্স-লেনিন বা নেতাজিকে যদি নাও পাওয়া যায়, নিদেন পক্ষে আন্না হাজারে বা উঠতি রাহুলের মতো তো একটা দরকার, নাহলে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে কে?

        তৃতীয়ত, আমরা তাও মুম্বাইয়ের দালাল স্ট্রিটে, কিংবা কলকাতার রাস্তায় সামান্য কিছু মিছিল করেছি 'ওয়াল স্ট্রিট দখল-এর সমর্থনে। এ নিয়ে ফেসবুকে আর ওয়েবসাইটে কিছু চর্চাও অল্পসংখ্যক শিক্ষিত মানুষ করছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে আমরা ইজরায়েল, স্পেন, গ্রিস বা মিশর নিয়ে নীরব। একটা মিছিল বা পথসভাও বোধহয় এই আন্দোলনগুলো নিয়ে আমাদের চারপাশে হয়নি। অন্তত আমার তো চোখে পড়েনি। এব্যাপারে মনে হয় আমাদের ভদ্দরলোক বা এলিট মনের সংস্কার ও শিক্ষা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের ঔপনিবেশিক এলিট মনে ইংল্যান্ড-আমেরিকার বেশ কদর রয়েছে। আজও আমেরিকা মানে আমাদের কাছে স্বর্গ, আমাদের স্বপ্নের দেশ। তাই সেখানকার আন্দোলনও আমাদের স্বাভাবিক আগ্রহ আদায় করে নেয়। ইজরায়েল, মিশর বা স্পেন সেটা পায় না।

        তবু আশা জাগে। যখন আমেরিকান কিশোরী রাস্তার ওপর প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে ঘোষণা করে, “'আমেরিকান স্বপ্ন এমন এক শ্লোগান যা জনসাধারণকে নিজেদের মৃত্যুর জন্য কাজ করতে সৃষ্টি করা হয়েছে; অথবা যখন ওয়াল স্ট্রিটের তরুণ-তরুণীরা তাদের নতুন পত্রিকার প্রথম পাতায় (অকুপায়েড ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, প্রথম সংখ্যা) শিরোনামে লেখে, লার্নিং ফ্রম দ্য ওয়ার্ল্ড অর্থাৎ দুনিয়ার কাছ থেকে শিখছি, তখন আশা জাগে। এই নতুন প্রজন্মের আন্দোলনকারীদের কথাবার্তায় অন্তত ভণ্ডামি আর সভ্যতার বড়াই নেই।


Ċ
Manthan Samayiki,
Dec 2, 2011, 9:38 AM
Comments