মন্থন সাময়িকী : জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি ২০১১

হোম পেজ

এই সংখ্যার হোম পেজ


মিশর বিপ্লবের উৎস সন্ধানে

 

মিশরীয় জনঅভ্যুত্থানের সংক্ষিপ্ত দিনলিপি                                           

 

চেন গ্রামের অভিজ্ঞতায় বিপ্লব থেকে বিশ্বায়ন


অন্ধ্রপ্রদেশের মাওবাদী আন্দোলন

নঈ তালিম : একুশ শতকের প্রেক্ষিতে গান্ধীজির শিক্ষানীতি


চিঠিপত্র :

বিষয় : তৃতীয় পরিসর

 



 

সম্পাদকীয়


আরব দুনিয়া এবং তৃতীয় পরিসর 


অতীতের হেফাজতে থাকা আরব রাজনীতিতে সভ্যতার সংঘাত নামক যে জাতিবিদ্বেষী ধারণা ছিল, এইসব বিদ্রোহ অচিরেই এক ধরনের আদর্শনৈতিক পরিসর গড়ে তুলেছে, যেখানে ওই ধারণাগুলোকে ঝেঁটিয়ে সাফ করে দেওয়া হয়েছে। আরবেরা সেকুলার একনায়কতন্ত্র আর উন্মাদ ধর্মীয় শাসনের মধ্যে বেছে নেওয়ার ঘেরাটোপে বন্দী, কিংবা মুসলমানেরা আর যা-ই হোক স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে অযোগ্য, রাজনীতির এই ধরাবাঁধা ছকটাকে তিউনিস, কায়রো আর বেনগাজিতে জনতা একেবারে ধূলিস্যাৎ করে দিল। এমনকী এই আন্দোলনগুলোকে বিপ্লব বলাও মনে হয় ধারাভাষ্যকারদের বিপথগামী করতে পারে, যারা ধরে নেয় ঘটনাক্রম ১৭৮৯ অথবা ১৯১৭-র যুক্তিপথে চলবে, কিংবা কোনো অতীত ইউরোপীয় বিদ্রোহের পথে হাঁটবে।

--- মাইকেল হার্ট ও আন্তোনিও নেগরি

আরব দুনিয়া বললেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটা ছবি,  একটা মুসলিম দুনিয়া যেখানে জঙ্গি সন্ত্রাসবাদের আখড়া, যেখানে স্বৈরাচারী উৎপীড়ক শাসকেরা রাজ করে, যেখানে পেট্রোডলারের ওপর বসে মৌজ করে আরব-শেখরা ...। এই ছবিটা আমাদের মগজে এঁকে দিয়েছে পশ্চিমি  শিক্ষা আর প্রচারমাধ্যম। আসলে মুসলিম দুনিয়ার মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ বাস করে আরব দুনিয়ায়, অর্থাৎ উত্তর আফ্রিকা থেকে পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বাইশটা দেশে, যাদের পরিচয় আরব। আরব (জাতি, কৌম বা সমাজ) পরিচয় গড়ে উঠেছে মুসলমান (ইসলামি ধর্মীয়) পরিচয় গড়ে ওঠার অনেক আগে। খুব একটা অজানা নয় এসব তথ্য। তবু আমরা মনের কোণের সেই ছবিটাকে আঁকড়ে থাকি।


আরবের উৎপীড়ক শাসকদের আমরা অপছন্দ করি। কিন্তু পেট্রোলিয়ামের জন্য যে সভ্য পশ্চিমি শাসকেরা (মার্কিন রাষ্ট্র সহ) তাদেরই সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলে, তাদের আমরা গণতান্ত্রিক মনে করি। যে স্বৈরাচারী শাসকদের ধনসম্পদ পশ্চিমি দেশগুলোতে নিরাপদে বেড়ে চলেছিল, যখন আরব দুনিয়ায় বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে, ইঙ্গ-মার্কিন শাসকেরা ডিগবাজি খায়। এখন তারা গণতন্ত্রের পক্ষে, স্বৈরশাসনের বিপক্ষে! অথচ আমরা ভুলে যাই, এই ইঙ্গ-মার্কিন শাসকেরাই ইরাক-আফগানিস্তান-পাকিস্তানে এক লাগাতার নৃশংস তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। আসলে আমরা ক্ষমতার চোখ দিয়ে বিদ্রোহকে দেখতে চাই। আরব দুনিয়ার বিদ্রোহে তাই আমরা প্রশ্ন তুলি, কারা ক্ষমতায় যাবে? কে বিদ্রোহের প্রধান নেতা? কার ইন্ধন? কোন তাত্ত্বিক কাঠামো মেনে বিদ্রোহ হচ্ছে?

          আমরা শাসক-ক্ষমতা আর বিরোধী-ক্ষমতার পরিসরের মধ্যে বিদ্রোহকে মেপে নিতে চাই। কিন্তু তার বাইরে এক তৃতীয় পরিসর আরব দুনিয়ার বুকে জেগে ওঠে। আশু সাফল্য-ব্যর্থতার বাইরে অসীম সমুদ্রের মতো এক জীবনপ্রবাহের বুকে ছোটো-বড়ো-মাঝারি ঢেউয়ের মতো এখানে ওখানে জেগে ওঠে বিদ্রোহ।

 

প্রতিটি বিদ্রোহ অবশ্যই ব্যর্থ হতে পারে, উৎপীড়কেরা রক্তাক্ত দমনপীড়ন নামিয়ে আনতে পারে, সামরিক-চক্র ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করতে পারে, পুরনো বিরোধী গোষ্ঠীগুলো আন্দোলনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে আর ধর্মীয় শাসকেরা ঠকিয়ে তাতে লাগাম পরাতে পারে। কিন্তু যে রাজনৈতিক দাবি ও বাসনাগুলো উন্মুক্ত হয়েছে সেগুলোর মৃত্যু নেই; এক ভিন্ন জীবনের জন্য বুদ্ধিমান যুবসমাজের বিবিধ প্রকাশের মৃত্যু নেই --- সেই জীবন, যেখানে তারা তাদের সামর্থ্যকে কাজে লাগাতে পারবে।

--- মাইকেল হার্ট ও আন্তোনিও নেগরি



Ċ
Manthan Samayiki,
Mar 19, 2011, 10:06 PM
Comments