হোম পেজ

এই সংখ্যার হোম পেজ


উন্নয়ন : দু'একটি প্রশ্ন

হালফিল কাশ্মীর আন্দোলন

কাশ্মীরে গণতন্ত্র হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে

সাক্ষাৎকার :

কাশ্মীর সমস্যার সমাধান কোন পথে

কাশ্মীর : এক সমাধানহীন সমস্যা

পশ্চিমবঙ্গের স্ব-নির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা

কি আর গরিব নয়? 

বাতিল শ্রমিক  

উপসাগরে তেল ছলকিয়ে পড়ল ----

পৃথিবীর গায়ে ফাটল


বিষ মিশছে জলে    
 

সম্পাদকীয়


হম কেয়া চাহতে? আজাদি


কাশ্মীরের মানুষ কী চায়, তারা যথেষ্ট স্পষ্টভাবে গত ষাট বছরে বলতে পেরেছে। তবু প্রতিবছর একবার ভারতীয় বাহিনীর বুলেটের মুখে দাঁড়িয়ে ঝাঁঝরা হতে হতে সেই কথাটা তাদের পুনরুচ্চারণ করতে হয়। আর প্রত্যেকবার কাশ্মীরকে নির্বিচারে দমন করার পর মিডিয়ায় তাদের প্রতি দিল্লি থেকে সমবেদনা জানানো হয়। এবছরও প্রধানমন্ত্রী চোস্ত উর্দুতে কাশ্মীরিদের জানিয়েছেন : তিনি কাশ্মীরিদের জন্য কতটা শোকাহত; তিনি মানছেন জঙ্গি আন্দোলনকে কাশ্মীরিরা বর্জন করেছে; তিনি বোঝেন আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট নিয়ে কাশ্মীরিরা কতটা ক্ষুব্ধ; এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে সংলাপ ও মীমাংসাই জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য একমাত্র পথ; ইত্যাদি ইত্যাদি ...

অথচ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সমেত এতাবৎ সমস্ত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীরা একবারের জন্যও কাশ্মীরিদের অন্তরের চাহিদাকে উচ্চারণ করতে চাননি। কারণ সেই তিন অক্ষরের শব্দটাকে নিয়েই তাঁদের যাবতীয় আতঙ্ক। এই আতঙ্কের বশবর্তী হয়ে তাঁরা কমপক্ষে সত্তর হাজার (অন্য হিসেব মতো এক লক্ষ পঁয়ত্রিশ হাজার) কাশ্মীরির জীবন নিয়েছেন; কয়েক লক্ষ বন্দুকধারী মোতায়েন করে কাশ্মীরকে জেলখানা বানিয়ে রেখেছেন। জাতীয় সংবাদমাধ্যমকে দিয়ে অজস্র মিথ্যার ফুলঝুরি ছড়িয়ে একটা ছোট্ট সত্যকে আড়াল করতে চেয়েছেন। কিন্তু সত্য বারবার পাহাড়ের গলি-বস্তি ছাপিয়ে রাজপথে এসে হাজির হয়েছে; ভারতীয় মূলস্রোত-রাজনীতিবিদদের হৃৎকম্পন বাড়িয়ে দিয়েছে।


আচ্ছা, একটা বাস্তব সত্যকে স্বীকার না করে কি কোন সংলাপ সম্ভব? যদি সেই সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার হাজার অসুবিধাও থাকে, তাহলেও তাকে চাপা দিয়ে কখনও কোন মীমাংসা হয় কি? দিল্লির শাসকেরা কি এই সহজ কথাটা জানে না? নিশ্চয় তারা জানে। তাই সংলাপ বা আলোচনার কথাটার মধ্যেও রয়েছে আর এক চাতুরি; নিজেদের গণতান্ত্রিক দেখানোর একটা ছল মাত্র।

তাহলে কি কাশ্মীরের জন্য ভারতের দিক থেকে কোন সমাধান নেই? এবারের মন্থনের কাশ্মীর সংক্রান্ত লেখা ও সাক্ষাৎকারে সেই নির্মম সত্যটাই উঠে এসেছে।

এরকম বেশ কিছু নির্মম সত্য এই মুহূর্তে আমাদের গলার কাঁটা হয়ে আছে। চাল, ডাল বা মাছ-সবজির বাজারের কথাটাই ধরা যাক। আমরা রোজ দুর্ভোগ পোয়াচ্ছি। এক বিপুল জনসমষ্টির দিনভর খেটেও পেটপুরে খাবার জোগাড় করার সাধ্য থাকছে না। তবু এর সমাধান আমাদের চালু রাজনীতির বাইরে।

সমুদ্রে তেল ছলকিয়ে পড়ে পরিবেশ-প্রকৃতির কী কাণ্ডটাই না হয়ে চলেছে। অথচ আমরা কি বলতে পারছি, মোটরগাড়ির ব্যবহার যথাসাধ্য কমিয়ে দেব? মোটেই তা পারছি না। তাই কাণ্ডজ্ঞানের মাথা খেয়ে আমাদের সমুদ্র-গর্ভ খুঁড়ে তেল তুলতেই হবে। এই অবস্থাকে মেনে কী আলোচনা হবে? কীসের মীমাংসা হবে?

আসলে আমরা আজ আমাদের শিক্ষা-দীক্ষা-অভ্যাসের দ্বারা পরাধীন। কাশ্মীরিরা এক ধরনের পরাধীনতার জ্বালা ভোগ করছে। আমরাও অন্য এক পরাধীনতায় মরছি।

হম কেয়া চাহতে? আজাদি।

ċ
Manthan Samayiki,
Sep 6, 2010, 7:51 AM
Comments