01) Are you 'Ahle-Quran'? / আপনি কি ভ্রান্ত 'আহলে-কুরআন'?

আপনি কি ভ্রান্ত 'আহলে-কুরআন'?

Are you 'Ahle-Quran'?



বিত্র-কুরআনের অনেক গুলো নাম আছে, যেমন- বুরহান (৪:১৭৪), ফুরকান (২:১৮৫), হিকমা (৫৪:৫), হাবিলিল্লাহ (৩:১০৩), বাইয়ান (৩:১৩৮) ইত্যাদি আবার আল্লাহতায়ালা কুরআনকে যেহেতু হাদীস (৩৯:২৩) বলেও ডেকেছেন, এই অজুহাতে অনেকে নিজেদেরকে 'আহলে হাদীস' নামক দলের অন্তর্ভূক্ত ভেবে তৃপ্তি বোধ করেন। তাদের মধ্যে অনেকে প্রায়ই আমাকে ভুল বুঝেন এবং প্রশ্ন করেন- আপনি কি 'আহলে হাদীস' নন?/ আপনি কি 'আহলে কুরআন' নামক ভ্রান্ত দলের অনুসারী?


    তাদের এই প্রশ্নের জবাব দেবার আগে আমি আল-কোরআনের বাণী পেশ করতে চাই-

    সূরা আল রাফ (মক্কায় অবতীর্ণ)

    (০৭:০১) আলিফ, লাম, মীম, ছোয়াদ।

    (০৭:০২) এটি একটি গ্রন্থ, যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে করে তুমি এর মাধ্যমে ভীতি-প্রদর্শন কর। অতএব, এটি পৌছে দিতে তোমার মনে কোনরূপ সংকীর্ণতা থাকা উচিত নয়। আর এটিই বিশ্বাসীদের জন্যে উপদেশ।

    (০৭:০৩) তোমরা অনুসরণ কর, যা তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য অভিভাবকদের অনুসরণ করো না। তোমরা তো খুব কম সংখ্যকই উপদেশ গ্রহণ কর।


    আল-কোরআনের উপরের আয়াতের শর্তমতে আমার কাছে 'আহলে হাদিছ' 'আহলে কুরআন' - দুটোর মধ্যে কোনই পার্থক্য নেই। সুতরাং কেউ আমাকে 'আহলে হাদিছ' বা 'আহলে কুরআন' ভাবলেও ভাবতে পারেন। প্রত্যেক মুসলিম মাত্রই একবাক্যে নির্দ্বিধায় আল-কোরআনে প্রদত্ত স্বয়ং আল্লাহতায়ালার হাদিছে/ বাণীতে বিশ্বাস স্থাপন করে বিশ্বাসীদের দলে অন্তর্ভূক্ত হওয়া চাই।


    শান্তির ধর্ম হলো ইসলাম। অজ্ঞানতা হেতু ধর্মের নামে অশান্তি সৃষ্টি করা কোন বিবেকবান মানুষের কাজ হতে পারে না। আল-কোরআন সম্পর্কে সাধ্যমত জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করা প্রত্যেক ইমানদারের জন্য ফরজ। তাই এই জ্ঞানের পরিধিকে বাড়াবার তাগিদ আমি সব সময়ই অনুভব করি এবং সর্বদা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমাকে প্রায়ই নানা রকম কটুক্তি প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। আমি তো কোন ছাড়; স্বয়ং আল্লাহর নবী রাসূল (সাঃ) -কে এর চেয়েও কটু কথা শুনতে কঠিন পরিস্থিতির সামনে পড়তে হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রেরিত কিতাবে যে বিধান স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তা অনুসরণের ব্যাপারে রাসূল (সাঃ) সর্বদাই বদ্ধপরিকর ছিলেন এবং যারা অবমাননা করত তাদের সাথে কখনই কোন আপোষ করেন নাই। ইমানদার মাত্রই এরূপ মনোভাবই পোষণ করা চাই। মহান আল্লাহতায়ালা যেন আমাদের সবাইকে একনিষ্ঠ সঠিকভাবে তাঁর বাণী অনুধাবন করার তৌফিক দান করেন।


    আল-কোরআনের ভাষ্য মতে হালাল হারাম স্পষ্ট। আল্লাহতায়ালা যা সরাসরি হারাম হিসেবে ঘোষণা করেন নাই, জোর করে টেনে হেঁচড়ে সেই ব্যপারে হারাম হিসেবে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়া আদৌ ঠিক কি? অন্য কারো যুক্তি শুনে আল্লাহর কিতাবে হারাম হিসেবে স্পষ্টরূপে ঘোষিত হয়নি এমন কোন বিষয়কে কেউ হারাম ভেবে আরাম বোধ করলে সেই দায় একান্তভাবে তারই। বিশ্বাসী মাত্রই এসব ব্যাপারে ঢালাওভাবে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবার আগে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।


    আসুন, সম্পর্কে প্রথমত মহান আল্লাহতায়ালার নিচের বাণী গুলো অনুধাবন করার চেষ্টা করি-

    সূরা আত তাওবাহ (মদীনায় অবতীর্ণ)

    (০৯:৩১) ওরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে ওদের পন্ডিত সংসার-বিরাগীদেরকে পালনকর্তারূপে গ্রহণ করেছে এবং মরিয়মের পুত্রকেও। অথচ ওদের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল একমাত্র মাবুদের ইবাদতের জন্য। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তারা তাঁর সাথে যে শরীক সাব্যস্ত করে, তার থেকে তিনি সর্বাত্মকভাবে পবিত্র।
    সূরা আল বাক্বারাহ (মদীনায় অবতীর্ণ)

   (২:১৭০) আর যখন তাদেরকে বলা হয়, “আনুসরণ কর যা আল্লাহতায়ালা নাযিল করেছেন”, তখন তারা বলে, “না, আমরা তাই অনুসরণ করব যাতে আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে দেখেছি।” যদিও তাদের বাপ-দাদারা কিছুই অবগত ছিলনা এবং তারা সত্যের পথেও ছিলনা।

    সূরা ইউনুস (মক্কায় অবতীর্ণ)

    (১০:৫৯) বল, আচ্ছা লক্ষ্য করে দেখ, যা কিছু আল্লাহ তোমাদের জন্য রিযিক হিসাবে দিয়েছেন সেগুলোর মধ্য থেকে তোমরা নিজেরাই কতককে হারাম আর কতককে হালাল সাব্যস্ত করে নিয়েছ কি? বল, আল্লাহ কি তোমাদেরকে তা করার অনুমতি দিয়েছেন, নাকি তোমরা আল্লাহর নামে মিথ্যা বানিয়ে বলছ?

    সূরা নাহল (মক্কায় অবতীর্ণ)

    (১৬:১১৬) তোমাদের মুখে যা আসে তা- বলে দিও না- এটা হালাল এবং ওটা হারাম। এতে করে আল্লাহর নামে সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা চালানো হবে। নিশ্চয় যারা আল্লাহর নামে এরূপ মিথ্যা কথা প্রচার করে, তারা কখনই কল্যাণ লাভ করতে পারে না।

    সূরা আল আন-আম (মক্কায় অবতীর্ণ)

   (৬:১১৫) তোমার প্রতিপালকের বাণী সত্য ও সুবিচারপূর্ণ। তাঁর বাণীর কোন পরিবর্তনকারী নেই। তিনিই সবই শোনেন, সর্বজ্ঞ।

    (৬:১১৬) আর যদি তুমি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের অনুসরণ কর, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা অনুমান ব্যতীত অনুসরণ করেনা এবং তারা মিথ্যা ব্যতীত কথা বলেনা।

    (০৬:১১৯) আর কি কারণে তোমরা সেসব আহার করবে না, যার উপর আল্লাহর নাম নেয়া হয়েছে? অথচ আল্লাহ যেগুলোকে তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন তা তো তিনি নিজেই সুস্পষ্ট ভিন্ন ভিন্ন করে তোমাদের জন্য বলে দিয়েছেন; কিন্তু সেগুলোও তোমাদের জন্যে হালাল, যখন তোমরা নিরুপায় হয়ে যাও। অনেক লোক আপন খেয়াল- খুশি মতো না জেনে অন্যকে বিপথগামী করে; তোমার প্রতিপালক সীমালংঘনকারীদের সম্বন্ধে যথার্থই জানেন।

    (৬:১৫৩) আর এটি আমার সরল পথ। অতএব, এ পথ অনুসরণ কর এবং অন্যান্য পথ অনুসরণ করিও না, তাহলে সেগুলো তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। তোমাদেরকে এর মাধ্যমে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যাতে তোমরা ন্যায়নিষ্ঠ হও।


    অনেকে আল-কোরআন থেকে আউট-অফ কন্টেক্স কিছু কিছু আয়াত তুলে ধরে হারাম নয় এমন কিছুকে ঢালাওভাবে হারাম বানাবার জন্য তর্কে লিপ্ত হন। এরূপ ক্ষেত্রে এই আয়াত গুলোর প্রকৃত বক্তব্য বোঝার ব্যাপারে সবারই অসুবিধা হতে পারে। বিশেষ করে কেউ যখন এগুলোকে ব্যবহার করে ভিন্ন প্রসঙ্গ টেনে এনে সেটাকে কথার মারপ্যাচে তাদের মত করে সাজানোর অপচেষ্টা করেন, তখন আল-কোরআন সম্পর্কে যারা ভালভাবে য়াকিবহাল নন এমন অনেকেই বিভ্রান্তিতে পড়ে যেতে পারেন।


    আল্লাহতায়ালা রাসূল (সাঃ) এর উপর সত্যসহ যে কিতাব আল-কোরআন নাযিল করেছেন তার নির্দেশ অনুসরণ করা এবং সেই অনুযায়ি বিচার ফয়সালা করাই তাঁর একমাত্র মিশন ছিল এবং কোনরূপ বাড়াবাড়ি না করে প্রত্যেক প্রকৃত বিশ্বাসীরও তাই হওয়া উচিত। প্রিয় ভাই বোনেরা, অন্য কারো কথা নয়, ধৈর্য সহকারে নিম্নে প্রদত্ত মহান আল্লাহতায়ালার বাণী-গুলো মনযোগ দিয়ে অনুধাবনের চেষ্টা করি। হালাল/ হারাম নির্ধারনের ব্যপারে এই কিতাবের মৌল নীতি নির্দেশের বাহিরে অতিরক্তি বাড়িয়ে বলার কোন এখতিয়ার রাসূল (সাঃ) এর ছিল না এবং এমনটি যে তিনি করতেই পারেন না, নিচের আয়াতগুলো সেই সাক্ষ্যই বহন করছে। শুধু তাই নয়, অনেকেই যে অনেক কথা বানিয়ে বলবার অপচেষ্টা করবে সে ব্যাপারেও সাবধান করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিশ্বাসীদের জন্য এই কিতাবের বক্তব্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় অর্থাৎ অপ্রাসঙ্গিক কোন (৪৫:০৬-১১), (৭৭:৪৯-৫০) হাদিছ অর্থাৎ কথা, গল্প, বানানো খবরে বিশ্বাস করাও যে নিষেধ, এখানে স্পষ্টভাবে সেই নির্দেশই দেয়া হয়েছে -

    সূরা আল-যুমার (মক্কায় অবতীর্ণ)

    (৩৯:২৩) আল্লাহ উত্তম হাদিছ (কথা/ গল্প/ খবর/ বিবৃতি) (aḥsana l-ḥadīthi) তথা কিতাব নাযিল করেছেন, যা সামঞ্জস্যপূর্ণ, ঘন ঘন আবৃত্ত। এতে তাদের চর্মে শিহরণ জাগে, যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে, এরপর তাদের চামড়া অন্তর আল্লাহর স্মরণে নিরুদ্বেগ/ বিনম্র হয়। এটাই আল্লাহর পথ নির্দেশ, এর মাধ্যমে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। আর আল্লাহ যাকে গোমরাহ করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই।

    সূরা আল জাসিয়া (মক্কায় অবতীর্ণ)

    (৪৫:০৬) এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমার কাছে আবৃত্তি করি যথাযথ রূপে। অতএব, আল্লাহ তাঁর আয়াতের পর তারা কোন হাদিছে (কথা/ গল্প/ খবর/ বিবৃতি) বিশ্বাস স্থাপন করতে চায়?

    (৪৫:০৭) প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপাচারীর দুর্ভোগ।

    (৪৫:০৮) সে আল্লাহর আয়াতসমূহ শুনে, অতঃপর অহংকারী হয়ে জেদ ধরে, যেন সে আয়াত শুনেনি। অতএব, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সংবাদ দাও।

    (৪৫:০৯) যখন সে আমার কোন আয়াত অবগত হয়, তখন তাকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করে। এদের জন্যই রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।

    (৪৫:১০) তাদের সামনে রয়েছে জাহান্নাম। তারা যা উপার্জন করেছে, তা তাদের কোন কাজে আসবে না, তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছে তারাও নয়। তাদের জন্যে রয়েছে মহাশাস্তি।

    (৪৫:১১) এটা সৎপথ প্রদর্শন, আর যারা তাদের পালনকর্তার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে, তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

    সূরা আল মুরসালাত (মক্কায় অবতীর্ণ)

    (৭৭:৪৯-৫০) সেদিন মিথ্যারোপকারীদের দুর্ভোগ হবে। অতঃপর কোন্ কথায় তারা এরপর বিশ্বাস স্থাপন করবে?

    সূরা আল হাক্বক্বাহ (মক্কায় অবতীর্ণ)

    (৬৯:৪০) নিশ্চয়ই এটি (কোরআন) একজন সম্মানিত রাসূলের (আনীতবাণী। 

    (৬৯:৪১) এবং এটা কোন কবির কালাম নয়; তোমরা কমই বিশ্বাস কর। 

    (৬৯:৪২) এবং এটা কোন অতীন্দ্রিয়বাদীর কথা নয়; তোমরা কমই অনুধাবন কর। 

    (৬৯:৪৩) এটা বিশ্বপালনকর্তার কাছ থেকে অবতীর্ণ। 

    (৬৯:৪৪) সে যদি আমার নামে কোন কথা রচনা করত

    (৬৯:৪৫) তবে আমি তার দক্ষিণ হস্ত ধরে ফেলতাম

    (৬৯:৪৬) অতঃপর কেটে দিতাম তার গ্রীবা। 

    (৬৯:৪৭) তোমাদের কেউ তাকে রক্ষা করতে পারতে না। 

    (৬৯:৪৮) এটা খোদাভীরুদের জন্যে অবশ্যই একটি উপদেশ। 

    (৬৯:৪৯) আমি অবশ্যই জানি যে, তোমাদের মধ্যে কতক মিথ্যা আরোপকারী রয়েছে। 

    (৬৯:৫০) নিশ্চয় এটা অবিশ্বাসীদের জন্যে অনুতাপের কারণ। 

    (৬৯:৫১) নিশ্চয় এটা সন্দেহাতীত সত্য। 

    (৬৯:৫২) অতএব, তুমি তোমার মহান পালনকর্তার নামের পবিত্রতা মহিমা ঘোষণা কর।

    সূরা আল মায়েদাহ (মদীনায় অবতীর্ণ)

    (০৫:৪৮) আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি সত্যগ্রন্থ, যা পূর্ববতী গ্রন্থ সমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর বিষয়বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। অতএব, তুমি তাদের পারস্পারিক ব্যাপার সমূহে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, সেই অনুযায়ী ফয়সালা কর এবং তোমার কাছে যে সৎ পথ এসেছে, তা ছেড়ে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবে না। আমি তোমাদের প্রত্যেককে একটি আইন পথ দিয়েছি। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তোমাদের সবাইকে এক উম্মত করে দিতেন, কিন্তু এরূপ করেননি-যাতে তোমাদেরকে যে ধর্ম দিয়েছেন, তাতে তোমাদের পরীক্ষা নেন। অতএব, দ্রুত কল্যাণকর বিষয়াদি অর্জন কর। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অতঃপর তিনি অবহিত করবেন সে বিষয়, যাতে তোমরা মতবিরোধ করতে।

    (০৫:৪৯) আর আমি আদেশ করছি যে, তুমি তাদের পারস্পরিক ব্যাপার সমূহে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তদনুযায়ী ফয়সালা কর; তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবে না এবং তাদের থেকে সতর্ক থাক- যেন তারা তোমাকে এমন কোন নির্দেশ থেকে বিচ্যুত না করে, যা আল্লাহ তোমার প্রতি নাযিল করেছেন। অনন্তর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রাখ, আল্লাহ তাদেরকে তাদের গোনাহের কিছু শাস্তি দিতেই চেয়েছেন। মানুষের মধ্যে অনেকেই নাফরমান।

    সূরা আন নিসা (মদীনায় অবতীর্ণ)

    (০৪:৬৪) আমরা কোন রাসূল পাঠিই নি এ (উদ্দেশ্য) ছাড়া- যেন তাকে অনুসরণ করা হয় কেবলমাত্র আল্লাহর আদেশ/ অনুমতি/ অনুমোদনক্রমে। (বস্তুতঃ আমি একমাত্র এই উদ্দেশ্যেই রসূল প্রেরণ করেছি, যাতে আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী তার অনুসরণ করা হয়।) যখন তারা নিজেদের উপর জুলুম করেছিল, তখন যদি তোমার কাছে আসত এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং রসূলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইত, তবে অবশ্যই তারা আল্লাহকে ক্ষমাশীল পরম-দয়ালু রূপেই পেত।

    (০৪:৭৯) তোমার যে কল্যাণ হয়, তা হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে আর তোমার যে অকল্যাণ হয়, সেটা হয় তোমার নিজের কারণে। আর আমি তোমাকে পাঠিয়েছি মানুষের প্রতি আমার রাসূল (পয়গামের বাহক) হিসাবে, আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।

    (০৪:৮০) যে রাসূলের অনুসরণ করবে সে আল্লাহরই অনুসরণ বা আনুগত্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি তোমাকে (হে মুহাম্মদ), তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি।


    মক্কায় অবতীর্ণ আয়াত সমূহ লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, রাসূলকে (সাঃ) আল্লাহতায়ালার কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করার জন্য নির্দেশ দিয়ে প্রথমত বিশ্বাসীদের মন ও মগজকে সেভাবে প্রস্তুত করে তোলা হয়েছে। আবার (০৪:৬৪) নং আয়াতের এই অংশটিতে (আমরা কোন রাসূল পাঠিই নি এ (উদ্দেশ্য) ছাড়া- যেন তাকে অনুসরণ করা হয় কেবলমাত্র আল্লাহর আদেশ/ অনুমতি/ অনুমোদনক্রমে।) স্পষ্ট ভাষায় আল্লাহর আদেশ/ অনুমতি/ অনুমোদনক্রমে অর্থাৎ নির্দেশানুযায়ী রাসূলের (সাঃ) অনুসরণ করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সুতরাং এই আয়াতগুলোর সাথে (০৪:৮০) নং আয়াতের বক্তব্যটি মিলিয়ে পড়লে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, প্রথমত রাসূলকে (সাঃ) আল্লাহর কিতাবের নির্দেশ (৫:৪৮, ৪৯) অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। আবার (০৪:৬৪) নং আয়াতে বিশ্বাসীদেরকে আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী রাসূলের (সাঃ) অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং আল্লাহর কিতাবে উল্লেখিত নির্দেশনা অনুসারে রাসূলের যে কোন ফায়সালা বা নির্দেশ অনুসরণ করা মানেই আল্লার অনুসরণ বা আনুগত্য করা। কাজেই এই অনুসরণ করা সম্পর্কিত রাসূলের (সাঃ) কোন বক্তব্য যে কখনই আল-কোরআনের নির্দেশকে অতিক্রম করতে পারেনা এবং করে নাই, তা বলার অপক্ষো রাখনা। যদি রাসূলের (সাঃ) নামে আল-কোরআনের নির্দেশনার সাথে অসঙ্গতীপূর্ণ এমন কোন অতিরঞ্জিত তথ্য বা বক্তব্য কোথাও থেকে থাকে, তাহলে তা অনুসরণ করার ব্যাপারে মুসলিমদেরকে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।


    সূরা আল-আনফাল (মদীনায় অবতীর্ণ)

    (০৮:২০) অর্থ- হে বিশ্বাসীরা! আল্লাহ তাঁর রসূলের আনুগত্য কর এবং তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না যখন তোমরা তাকে (তার কথা) শুনতে পাও।

    সূরা আল আহযাব (মদীনায় অবতীর্ণ)

    (৩৩:২১) অর্থ- নিশ্চয় তোমাদের জন্যে আল্লাহর রাসূলের মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে, যে কারো জন্যই যিনি আল্লাহ শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে,

    (৩৩:৩৬) আর একজন মুমিন পরুষের পক্ষে উচিত নয় এবং একজন মুমিন নারীরও নয় যে, যখন আল্লাহ তাঁর রাসূল কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তখন সে ব্যাপারে তাদের নিজস্ব কোন পছন্দ থাকে। আর যে কেউ আল্লাহ তাঁর রাসূলকে অমান্য করে, সে তো প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতে রয়েছে।


    সুতরাং (৩৩:২১) নং আয়াতের বক্তব্য অনুসারে সেই সময়ে উদ্ভুত যে কোন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন সাপেক্ষেই রাসূলের (সাঃ) উপস্থিতিতে সরাসরি তাঁর যে কোন নির্দেশ/ পরামর্শ মানা তাঁর সাথে অবস্থানরত মুসলিমদের জন্য একদিকে যেমন অবশ্য কর্তব্য ছিল। অপরদিকে তেমনি (০৮:২০) তাঁর মুখনিঃসৃত বক্তব্য নিজ কানে শুনেও অবজ্ঞা করে এর বিপরীত কিছু করাটা চরম বেয়াদবিই হত। (৩৩:৩৬) নং আয়াতের বক্তব্য অনুসারে আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রেরিত রাসূল অর্থাৎ পথপ্রদর্শক সুসংবাদদাতার মাধ্যমে তাঁর কিতাবে যে ফয়সালা জানিয়ে দিয়েছেন তা সর্বকালের জন্যই শাশ্বত সার্বজনিন এবং এগুলো অমান্য করা বা কম-বেশি করা প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতে থাকারই সামিল।


    সূরা ইউনুস (মক্কায় অবতীর্ণ)

    (১০:১৫) অর্থ- আর যখন তাদের কাছে আমার প্রকৃষ্ট আয়াত সমূহ পাঠ করা হয়, তখন যাদের আশা নেই আমার সাক্ষাতের, সে সমস্ত লোক বলে, নিয়ে এসো কোন কোরআন এটি ছাড়া, অথবা একে পরিবর্তিত করে দাও। তাহলে বলে দাও, একে নিজের পক্ষ থেকে পরিবর্তিত করা আমার কাজ নয়। আমি সে নির্দেশেরই আনুগত্য করি, যা আমার কাছে আসে। আমি যদি স্বীয় পরওয়ারদেগারের নাফরমানী করি, তবে কঠিন দিবসের আযাবের ভয় করি।

    (১০:১৬) অর্থ- বলে দাও, যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে আমি এটি তোমাদের সামনে পড়তাম না, আর নাইবা তিনি তোমাদেরেকে অবহিত করতেন সম্পর্কে। কারণ আমি তোমাদের মাঝে ইতিপূর্বেও একটা বয়স অতিবাহিত করেছি। তারপরেও কি তোমরা চিন্তা করবে না?


    মহান স্রষ্টার বাণীই আমার জন্য যথেষ্ট। যেখানে আলে-কোরআনের নির্দেশ পরিবর্তনের ক্ষমতা স্বয়ং রাসূলকেই (সাঃ) দেয়া হয় নাই। সেখানে আল-কোরআনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ সহী হাদিছ ছাড়া আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের নামে চালানো অন্য কারো বাণীকে স্রষ্টা প্রেরিত ঐশী বাণীর উপরে প্রাধান্য দেয়ার কোন প্রয়োজনই থাকতে পারে না। কারন যখন মানুষ আল-কোরআনের নির্দেশকে উপেক্ষা করে অন্য কারো নির্দেশ, কথা কর্মকে বেশি প্রাধান্য দেবে, তখনই তারা গোমরাহি বিভেদে লিপ্ত হয়ে পড়তে বাধ্য। কাজেই কোন হাদিছের বক্তব্য যদি আল-কোরআনে প্রদত্ত কোন বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক বা বিপরীত ধর্মী হয়, তাহলে সে ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করাই শ্রেয়।


    অনেকে আল-কোরআনের আয়াত খন্ডিতভাবে ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করে থাকেন। এর মাধ্যমে তারা আল্লাহতায়ালার ঘোষিত হালাল ও হারামের বিধানকে ছাপিয়ে অতিরঞ্জিত বিধি নিষেধ আরোপ করে তা রাসূলের (সাঃ) নামে চালাবার প্রয়াশ নিয়ে থাকেন। যা শুধু গোনাহের কাজই নয়, বরং স্বয়ং স্রষ্টা মানুষের স্বভাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ (হালাল/ হারামের) যে বিধান দিয়েছেন, তা বাড়ানো বা কমানোর ফলে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। যার সুদূরপ্রসারী মন্দ প্রভাব বড়ই মারাত্মক। যেমন অনেকে (৫৯:০৭) নং আয়াতের এই অংশটুকু (রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা) ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে রাসূলকে (সাঃ) হালাল/ হারামের বিধানদাতা বানিয়ে নিজেদের অভিরুচি অনুযায়ি মতামত প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে থাকেন। কিন্তু এটি এর পূর্বের (৫৯:০৬) নং আয়াতের সাথে মিলিয়ে দেখলে আসল বক্তব্য স্পষ্ট হয়ে যায়-

    সূরা আল হাশর (মদীনায় অবতীর্ণ)

    (৫৯:০৬) আল্লাহ নির্বাসিত ইহুদিদের (বনু-বনুযায়রের) কাছ থেকে তাঁর রসূলকে যে ধন-সম্পদ দিয়েছেন, সেজন্যে তোমরা ঘোড়ায় কিংবা উটে চড়ে যুদ্ধ করনি, কিন্তু আল্লাহ যার উপর ইচ্ছা, তাঁর রসূলগণকে প্রাধান্য দান করেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।

    (৫৯:০৭) আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রসূলকে যা দিয়েছেন, তা আল্লাহর, রসূলের, তাঁর আত্নীয়-স্বজনের, ইয়াতীমদের, অভাবগ্রস্তদের এবং মুসাফিরদের জন্যে, যাতে ধনৈশ্বর্য্য কেবল তোমাদের বিত্তশালীদের মধ্যেই পুঞ্জীভূত না হয়; আর রসূল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।


    *সূরা আনফালে গনীমত (যুদ্ধ জেহাদের ফলশ্রুতিতে লব্ধ সম্পদ) ফায় (যুদ্ধ বা জেহাদ ছাড়াই শত্রুরা যে সম্পদ ফেলে পালিয়ে যায়) এর মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছিল। পরবর্তীতে এই আয়াতে ফায় এর সম্পদের হকদার নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। আল্লাহতায়ালা হকদার নির্দিষ্ট করার নির্দেশ দেবার পর কে কতটুকু পাবে তার ভার রাসূল (সাঃ) উপর ন্যাস্ত করার ইংগিতও দিয়ে দিয়েছেন এবং এই ক্ষেত্রে রাসূলের (সাঃ) সিদ্ধান্তকে মেনে নেয়াকে তাঁরই আনুগত্য করার সাথে তুলনা করে সেই নির্দেশকেই জোরদার করেছেন।


    উপরের এই আয়াতগুলোর শর্তমতে আমি একবাক্যে নির্দ্বিধায় সেই আহলে হাদিছ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভূক্ত হতে রাজি নই, যারা হালাল/ হারাম নির্ধারনের ব্যপারে আল্লাহর কিতাবে প্রদত্ত সুস্পষ্ট বিধানের সাথে সামঞ্জস্যহীন অর্থাৎ অপ্রাসঙ্গিক কোন হাদিছে (কথা, গল্প, খবর) একবাক্যে নির্দ্বিধায় বিশ্বাস স্থাপন করে ভ্রান্ত পথের অনুসারী হতে চায়।


    হাদিছ গ্রন্থে আল্লাহর বাণী কোরআনের সাথে সামঞ্জস্যহীন অনেক কথা কিচ্ছা কাহিনী আছে যা কোন বিবেক সম্পন্ন মানুষ অন্ধভাবে গ্রহণ করতে পারেন না। যতই আমার প্রিয় রাসূলের (সাঃ) অকাট্য বক্তব্য বলে চালানোর চেষ্টা করা হোক না কেন, আল-কোরআনের বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক ও মানুষের বানানো কোন কিছুরই আমার কাছে গ্রহণযোগ্যতা খুবই কম। আল্লাহর বাণীকে ছাপিয়ে এসব আমার অন্তরকে মোটেই ছুঁতে পারেনি। আল-কোরআনে যা সরাসরি হারাম বলা হয়নি সেই বিষয়কে সরাসরি হারাম মানাটাও গোনাহের কাজ। তবে এমন কোন বিষয় যদি থেকে থাকে যা আল-কোরআনে সরাসরি হারাম হিসেবে ঘোষিত হয়নি, কিন্তু রাসূল (সাঃ) এর সহী হাদিছে সেই সম্পর্কে সাবধানতা অবলম্বনের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, তাহলে সেই বিষয়টিকে আল-কোরআনে ঘোষিত হারাম বিষয়গুলোর মত হারাম হিসেবে নয়, বরং সেই সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বনে আমি বদ্ধ পরিকর এবং এক্ষেত্রে আমি সর্বদা মধ্যপন্থাই অবলম্বন করি। কারন আমি বিশ্বাস করি যে, চরম পন্থা মানুষকে কখনই শান্তি দিতে পারে না। চরম-পন্থীরা নিজেরা যেমন শান্তি পায়না, তেমনি অপরকেও শান্তি থেকে বঞ্চিত করে। তাই ভাই সাবধান!


    সূরা ইমরান (মদীনায় অবতীর্ণ)  

    (৩:১৭৫) এই তো সেই শয়তান, তোমাদেরকে শুধু তার রক্ষক/ অভিভাবক/ সহযোগী/ সহচরদের ভয় দেখায়। সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো না। তোমরা যদি মু'মিন হও তবে ভয় কর আমাকেই।


    সুতরাং আল্লাহতায়ালাকেই ভয় করতে হবে এবং শয়তান ও তার রক্ষক/ অভিভাবক/ সহযোগী/ সহচরদের ভয় ও আনুগত্য ছেড়ে সরল ও মধ্যমপন্থায় দ্বীন পালন করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যেতে হবে। 


    এরপরও "আহলে হাদিছ বা আহলে কোরআন"- এই দুটি দলের কোন একটির মাঝে কেউ আমাকে খুঁজতে চেষ্টা করলে, সেটা তাদের অভিরুচি। আমি আবারও স্পষ্ট ভাষায় জানাচ্ছি- আল-কোরআন আমার কাছে সবার ঊর্ধে, এরপর আল্লাহর বাণীর সাথে বিন্দুমাত্র সাংঘর্ষিক নয়, রাসূলের (সাঃ) এরূপ হাদিছকে আমি পৃথিবীর অন্য সবকিছুর চাইতে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেই এবং মানতে চেষ্টা করি। আশাকরি বিষয়টি পরিষ্কার করতে পেরেছি।


    সুতরাং আসুন, আর দেরি না করে 'আহলে হাদিছ বা আহলে কোরআন' নামক দলাদলি দূর করার প্রয়াশ নেই। অযথা কটুক্তি, বাড়াবাড়ি বিদ্বেষ ছেড়ে আল্লাহর রজ্জু আল-কোরআন এবং এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হাদিছ/ সুন্নাহ অর্থাৎ রাসূলের (সাঃ) আদর্শকে চিনে বুঝে পালন করার জন্য দৃপ্ত অঙ্গীকার গ্রহণ করি।

..........................................

    একজন বলেছিলেন:- মুসলমানদের মধ্যে নানান ভেদাভেদগুলাই ইসলামের অসারতা প্রমাণ করে। কারা এই বিভেদগুলো সৃষ্টি করেছে? তারা কি সত্যিই আল্লাহতে বিশ্বাস করে? আল্লাহ এবং আল্লাহর বিচারে আন্তরিক বিশ্বাস থাকলে কি কেউ এর মধ্যে নিজের মত ঢুকাইতে সাহস পাইতো?

    ধরেন, আপনে বিশ্বাস করেন যে আপনে ব্যাংক ডাকাতি করলে আপনেরে পুলিশে ধরবেই ধরবে। তাহলে কি আপনি এই রিস্কি কাজটা করতে যাইবেন?

    বিষয়টা ক্লিয়ার করলে খুশি হতাম। আপনে হয়ত বলতে পারেন, আমার/ আমাদের মতটাই সঠিক এবং ওদেরটা বেঠিক। কিন্তু এইটা কোন গ্রহনযোগ্য কথা না। দুইয়ে দুইয়ে চার হয় এইটা যে বলে সে অংকের লোক (যোগফল হিসাবে), আর দুইয়ে দুইয়ে চারের বদলে যে পাঁচ, ছয় বা অন্য যে কোন সংখ্যা বলে তার সাথে অংকের কোন সম্পর্ক নাই। কাজেই আপনের মতে কে মুসলমান আর কে মুসলমান না- জবাব দিয়া আমার মনের অন্ধকার দূর করিবেন আশা করি।

.................................

    আমার জবাব: ভেদাভেদ তৈরির জন্য মানুষই দায়ী, তাই ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে ভেদাভেদ/ মতভেদ থাকলেই তা কখনই ইসলামের মৌল গ্রন্থ আল্লাহতায়ালার বাণী আল-কোরআনের অসারতা প্রমাণ করেনা।

    ডাকাতি করলে যে পুলিশ ধরতে পারে, আবার নাও ধরতে পারে, আবার ধরলেও কিছু হাতে ধরিয়ে পার পাওয়াও যেতে পারে- এই বিষয়গুলো কোন্ ডাকাত জানেনা!!?? তাদের মধ্যে কেউ সাথে সাথেই ধরা পড়ে, কেউ অনেকদিন পরে ধরা পড়ে, কেউ আবার গুলি খেয়েও মরে। কিন্তু তবুও তারা ডাকাতি করে।

    এবার বাকী কথার উত্তর দেবার জন্য আল্লাহতায়ালার গ্রন্থ আল-কোরআন থেকে তাঁরই বাণী তুলে ধরছি-

    সূরা আল বাক্বারাহ (মদীনায় অবতীর্ণ)

    (০২:০১) আলিফ লাম মীম।

    (০২:০২) সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই, পরহেযগারদের জন্য এটি পথ প্রদর্শনকারী,

    (০২:০৩) যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যা দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে

    (০২:০৪) এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেসব বিষয়ের উপর যা কিছু তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেসব বিষয়ের উপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। আর আখেরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে।

    (০২:০৫) তারাই নিজেদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সুপথ প্রাপ্ত, আর তারাই যথার্থ সফলকাম।

    এবার লক্ষ্য করুন-

    (০২:১৭৭) সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর, কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।

    সত্যিকারের মুসলিমের পরিচয় মহান স্রষ্টা তাঁর কিতাবে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।

    (০৫:৫০) তারা কি (জাহেলিয়াতের) অজ্ঞানতার ফয়সালা/ বিচার/ সিদ্ধান্ত কামনা করে? কার ফয়সালা/ বিচার আল্লাহর চাইতে উত্তম সেই সম্প্রদায়ের জন্য যারা দৃঢ় বিশ্বাসী?           

    (:১৫৪) অতঃপর তিনি তোমাদের উপর শোক-সঙ্কটের পর নিরাপত্তা-শান্তি অবতীর্ণ করলেন, যা ছিল তন্দ্রার মত। সে তন্দ্রায় তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ ঝিমোচ্ছিল আর কেউ কেউ প্রাণের ভয়ে ভাবছিল। আল্লাহ সম্পর্কে তাদের ধারণা ছিল সত্য বিমুখ- (জাহেলিয়াতের) অজ্ঞানতার কল্পনা মাত্র। তারা বলছিল, " ব্যাপারে আমাদের কি কিছুই করার নেই?" তুমি বল, "নিঃসন্দেহে ব্যাপারটি সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর।" তারা যা কিছু মনে লুকিয়ে রাখে- তোমার নিকট প্রকাশ করে না সে সবও। তারা বলছিল, "আমাদের যদি কিছু করার থাকতো, তাহলে আমরা এখানে নিহত হতাম না।" তুমি বল, "তোমরা যদি নিজেদের ঘরেও থাকতে তবুও যাদের মৃত্যু লিখে দেয়া হয়েছে তারা অবশ্যই নির্ধারিত স্থানে গিয়ে হাজির হতো।" আর আল্লাহ যেন যাঁচাই করে নিতে পারেন যা আছে তোমাদের বুকের ভেতরে, আর যেন নিংড়ে বের করে নিতে পারেন যা আছে তোমাদের অন্তরে। আর আল্লাহ বুকের ভেতরের সবই জানেন।          


    (৩৩:৩৩) তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে এবং নিজেদেরকে প্রদর্শন করোনা (জাহেলিয়াতের) অজ্ঞানতার প্রদর্শনীতে। নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহ তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে। হে নবী পরিবারের সদস্যবর্গ। আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে।

    বুদ্ধিমানদের বোঝার জন্য এই ইশারাই যথেষ্ট। সুতরাং জাহেলিয়াত অর্থাৎ অজ্ঞানতার পথে আর নয়। আসুন! অমুক তমুকের কথায় কান না দিয়ে আল্লাহর প্রেরিত বিধানকে আকড়ে ধরার জন্য বদ্ধপরিকর হই।

    আরও ডিটেইল্স বুঝতে হলে বোধ বিবেক সহ নিজেকেও চেষ্টা করতে হবে-   

    ........................................

    একজন বলেছিলেন:- মানুষ স্বভাবতই অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত না দেখে শুধুমাত্র তাত্বিক আলোচনা দ্বারা খুব বেশী প্রভাবিত হয় না - যার জন্য আল্লাহও শুধুামত্র লিখিত কোরআন নাজিল না করে সাথে একজন মানুষ মুহাম্মদ (.) কে দৃষ্টান্ত হিসেবে পাঠিয়েছেন। 

    আর ইসলামের প্রচার প্রসার তাত্ত্বিক আলোচনা/ গ্রন্থ/ লেখনি/ তলোয়ার দ্বারা যতটা হয়েছে, তার চেয়ে মানুষ আলেম ওলামা ওলী আউলিয়াদের কাছ থেকে দেখে ইসলামের সৌন্দর্য অনেক বেশী অনুধাবন করেছে এবং তাদের হাতেই ইসলাম সর্বাধিক প্রসার লাভ করেছে।

    তাই সত্যিকারের কোন পরিবর্তন আনতে চাইলে নিজেকে সেই মত গড়ে তুলতে হবে- আশা করি আমার বক্তব্য বুঝতে পেরেছেন।

    .....................

    আমার জবাব: //মানুষ স্বভাবতই (নামমাত্র অনুকরনীয় নয়) অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত না দেখে শুধুমাত্র তাত্বিক আলোচনা দ্বারা খুব বেশী প্রভাবিত হয় না -যার জন্য আল্লাহও শুধুমাত্র লিখিত কোরআন নাজিল না করে সাথে একজন মানুষ মুহাম্মদ (.)-কে দৃষ্টান্ত হিসেবে পাঠিয়েছেন// - আপনার এই বক্তেব্যের সাথে সহমত

    রাসূল (সাঃ) কে আমি আল-কোরআনের বাস্তব দৃষ্টান্ত বলে স্বীকার করি। তাই আল-কোরআনের বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক কোন হাদিছকে আমি নির্দ্ধিধায় গ্রহণ করতে প্রস্তুত নই। রাসূল (সাঃ) এর আদর্শের সেই দৃষ্টান্তকেই আমি যেমন আমার জীবনে বাস্তবায়ন করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি যা আল-কোরআনের বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। সকলকেই সেটাই করা উচিত বলে মনে করি। আর সে কারণেই আমার এই প্রচেষ্টা। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, আল-কোরআনে জীবন ঘনিষ্ট যে সব বিষয়কে সহজভাবে পেশ করা হয়েছে, নানা মুনির নানা মতের কবলে পড়ে সেগুলো কঠিন রূপ ধারন করেছে। আবার কিছু বিষয়কে নিজেদের সুবিধামত এমনই ঠুনকোভাবে মানুষের সামনে পেশ করা হয়ে থাকে যে, এতে করে অনেক সময়ই হীতে বিপরতি হয়ে যায়। এছাড়া স্পষ্ট বিষয় নিয়ে মতভেদ তো আছেই। এর ফলে মাঝ পথে অনেকেই খেই হারিয়ে ফেলেন। তারা (অনুসরণ করার বদলে) অনুকরণ সর্বস্ব ছলনার আশ্রয় নিয়ে নিজে বিভ্রান্ত হয় এবং অপরকেও বিভ্রান্ত করে থাকেন

    মত বিনিময়ের জন্য আলোচনা/ গ্রন্থ/ লেখনি/ তলোয়ার- এই বিষয়গুলোর প্রয়োজনীয়তা নিতান্তই নগন্য ভাবলেও কিন্তু ভুল হবে। ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতি ভেদে এগুলোর ব্যবহার ও প্রয়োজনীয়তাও যে প্রকট হয়ে দেখা দিতে পারে- সেটাও মাথায় রাখতে হবে।

    আশা করি আপনি আমার বক্তব্য বুঝতে পেরেছেন-

    .......................................

    একজন বলেছিলেন:- ভাই আপনি অনেক কথা বললেন কিন্তু কোথাও একবারও বললেন না যে আহলে হাদিস কি কি ভ্রান্ত রীতি অথবা কুরআন বিরুদ্ধ কাজ করে। আহলে হাদিস নামকরন সম্পর্কে আপনার ধারনাটাও ভুল। আহলে হাদিসের অনুসারীরা সহিহ হাদিসের অনুসরন এর চেষ্টা করেন, তাই তাদের আহলে হাদিস বলে। রাসুল (সাঃ) যা করেছেন তা করার চেষ্টা করেন। নিশ্চয় রাসুল কুরানের বিরুদ্ধে কোন কিছু করেননি। আহলে হাদিস কুরআন এর বিরুদ্ধে যায় আমন কোন হাদিস মানেনা। তারা কুরআন অমান্য করছে এটা কোথায় শুনেছেন বা দেখেছেন কিনা জানিনা। উল্লেখ করবেন আশা করি।

    ...................

    আমার জবাব: ভাই, ভুল বুঝবেন না। আমি কিন্তু আমার আলোচনার তৃতীয় প্যারায় বলেছি-

    সূরা আল রাফ (মক্কায় অবতীর্ণ)

    (০৭:০১) আলিফ, লাম, মীম, ছোয়াদ। (০৭:০২) এটি একটি গ্রন্থ, যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে করে তুমি এর মাধ্যমে ভীতি-প্রদর্শন কর। অতএব, এটি পৌছে দিতে তোমার মনে কোনরূপ সংকীর্ণতা থাকা উচিত নয়। আর এটিই বিশ্বাসীদের জন্যে উপদেশ।

    (০৭:০৩) তোমরা অনুসরণ কর, যা তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য অভিভাবকদের অনুসরণ করো না। তোমরা তো খুব কম সংখ্যকই উপদেশ গ্রহণ কর।

    আল-কোরআনের উপরের আয়াতের শর্তমতে আমার কাছে 'আহলে হাদিছ' 'আহলে কুরআন' - দুটোর মধ্যে কোনই পার্থক্য নেই। সুতরাং কেউ আমাকে 'আহলে হাদিছ' বা 'আহলে কুরআন' ভাবলেও ভাবতে পারেন। প্রত্যেক মুসলিম মাত্রই একবাক্যে নির্দ্বিধায় আল-কোরআনে প্রদত্ত স্বয়ং আল্লাহতায়ালার হাদিছে/ বাণীতে বিশ্বাস স্থাপন করে বিশ্বাসীদের দলে অন্তর্ভূক্ত হওয়া চাই।

    মূলত আমি এসব দলাদলির পক্ষে নই। সকল মুসলিমের একটাই দল, একটাই মত একটাই পথ হওয়া চাই। আর তাই তো আমি আরও বলেছি- "আহলে হাদিছ বা আহলে কোরআন"- এই দুটি দলের কোন একটির মাঝে কেউ আমাকে খুঁজতে চেষ্টা করলে, সেটা তাদের অভিরুচি। আমি আবারও স্পষ্ট ভাষায় জানাচ্ছি- আল-কোরআন আমার কাছে সবার ঊর্ধে, এরপর আল্লাহর বাণীর সাথে বিন্দুমাত্র সাংঘর্ষিক নয়, রাসূলের (সাঃ) এরূপ হাদিছকে আমি পৃথিবী অন্য সবকিছুর চাইতে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেই এবং মানতে চেষ্টা করি।

    সুতরাং এই শর্তের মধ্যে আপনি বা অন্য যারাই পড়ুক না কেন, আমিও তাদেরই একজন।

    কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, আল-কোরআনে জীবন ঘনিষ্ট যে সব বিষয়কে সহজ ভাবে পেশ করা হয়েছে, নানা মুনির নানা মতের কবলে পড়ে সেগুলো কঠিন রূপ ধারন করেছে। আবার কিছু বিষয়কে নিজেদের সুবিধামত এমনই ঠুনকোভাবে মানুষের সামনে পেশ করা হয়ে থাকে যে, এতে করে অনেক সময়ই হীতে বিপরতি হয়ে যায়। এছাড়া স্পষ্ট বিষয় নিয়ে মতভেদ তো আছেই। এর ফলে মাঝ পথে অনেকেই খেই হারিয়ে ফেলেন। তারা (অনুসরণ করার বদলে) অনুকরণ সর্বস্ব ছলনার আশ্রয় নিয়ে নিজে বিভ্রান্ত হন এবং অপরকেও বিভ্রান্ত করে থাকেন।

    আশাকরি বিষয়টি পরিষ্কার করতে পেরেছি। আল-কোরআন এবং হাদিছের বক্তব্যকে পাশাপাশি রেখে জীবন ঘনিষ্ট বিষয়গুলোকে একে একে সহজভাবে বোঝার চেষ্টা করলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। সুতরাং আসুন, আর দেরি না করে 'আহলে হাদিছ বা আহলে কোরআন' নামক দলাদলি দূর করার প্রয়াশ নেই। অযথা কটুক্তি, বাড়াবাড়ি বিদ্বেষ ছেড়ে আল্লাহর রজ্জু আল-কোরআন এবং এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সুন্নাহ অর্থাৎ রাসূলের (সাঃ) আদর্শকে চিনে বুঝে পালন করার জন্য দৃপ্ত অঙ্গীকার গ্রহণ করি।

    .......................................

    একজন বলেছিলেন:- আপনি বলেছেন- //"আল-কোরআন আমার কাছে সবার ঊর্ধ্বে, এরপর আল্লাহর বাণীর সাথে বিন্দুমাত্র সাংঘর্ষিক নয়, রাসূলের (সাঃ) এরূপ হাদিছ/ সুন্নাহকে আমি পৃথিবী অন্য সবকিছুর চাইতে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেই এবং মানতে চেষ্টা করি।"// --- আপনার এই কথাটির সাথে আমি একমত। 

    আমাদের সবার এটাই করা উচিৎ। আমরা সবাই মুসলমান, কোন দলাদলি থাকা উচিৎ নয়। কিন্তু আহলে হাদিস ছাড়াও আরও অনেক দলাদলি আছে, আপনি তাদের নাম কেন একবারও উচ্চারন করলেন না। অনেকে তাদের মাজহাবের ইমাম কি করেছেন সেটা নিয়ে পড়ে থাকেন। আপনি সত্যি সত্যি দলাদলির বিপক্ষে হলে আপনার লেখায় সেইসব মাজহাবের নাম অন্তর্ভুক্ত করাও উচিত ছিল। আপনার অবস্থান নির্দিষ্ট একটি দলের বিরুদ্ধে কিনা আশাকরি তা পরিষ্কার করবেন।

    ...................

    আমার জবাব: ভাই, কোরআনকে সবার উপরে প্রাধান্য দেয়ার কথা বলার কারণে যারা  'কুরআন অনলি বা আহলে কুরআন' অর্থাৎ হাদিছ অস্বীকারকারীদের দলের অন্তর্ভূক্ত ভাবেন ও একঘরে করে রাখতে চান- আমার লেখাটি মূলত তাদের উদ্দেশ্যে। সম্ভবত কারনেই আমার লেখাটির বক্তব্য আপনার বুঝতে একটু অসুবিধা হচ্ছে। একটু কষ্ট করে আমার অন্যান্য লেখাগুলো পড়ার অনুরোধ রইল।

    আপনি মাযহাবের ব্যপারে আমার মতামত জানতে চেযেছেন। যদিও ভিন্ন প্রসঙ্গ, তারপরও কিছুটা বলছি। আমি কোন মাযহাবের ইমাম সাহবের মহান ত্যাগ ও সাধনাকে অপ্রয়োজনীয় মনে করি না। আমি খুব বুদ্ধিমান না হলেও, যুগের প্রযোজনে তাদের ভূমিককে খাঁট করে দেখার মত নির্বোধ নই। তবে তথ্য প্রবাহের যুগে এসে মাযহাবের নামে ছোটখাট সব মতভেদকে দূর করার প্রয়াস না নিলে আমাদেরই ক্ষতি।

    যেহেতু আল-কোরআন আমার কাছে সবার ঊর্ধ্বে, এরপর আল্লাহর বাণীর সাথে বিন্দুমাত্র সাংঘর্ষিক নয়, রাসূলের (সাঃ) এরূপ হাদিছকে আমি পৃথিবী অন্য সবকিছুর চাইতে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেই এবং মানতে চেষ্টা করি। তাই আমি মনে করি, যে যার মত কোরে তাদের ইমামকে নিয়ে বসে না থেকে আরও বৃহত্তর পরিসরে আমাদের ভাববার সময় এসেছে। সকল ইমামের মতামতকে আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করে সকল দলাদলি নিরসনের পদক্ষেপ নিতে হবে। মহান আল্লাহর বাণীকে সবার ঊর্ধ্বে প্রাধান্য দিলে ইনশাল্লাহ আমরা কামিয়াব হবই।

    ....................................

    একজন প্রশ্ন করেছেন- ৪ মাজহাবের ভিত্তি কি? মাজহাবের ইমামরা কি ইসলামের অথার? যদি সেটাই হয়ে থাকেন তবে সেই অথরিটি তারা কার কাছ থেকে পেয়েছেন? আল্লাহ বা তার রসুল সাঃ এর কাছ থেকে? কুরান এবং সহীহ হাদিসের আলোকে জানিয়ে বাধিত করবেন।

    ..................

    আমার জবাব-

    এক সময় আমার মনেও এ ধরনের প্রশ্নের উদয় হত। যে কোন সত্য সন্ধানীর ক্ষেত্রেই এমনটি হওয়াই স্বাভাবিক। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় আমি যতটা জানতে ও বুঝতে পেরেছি সে অনুসারে কিছু বলার চেষ্টা করছি। বিষয়টি ব্যাপক হলেও আশাকরি সংক্ষেপে যতটা তুলে ধরছি তার মাঝেই আপনরা প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন-


    এখনও এমনও অনেকে আছেন যারা নাম স্বাক্ষর করা ছাড়া লেখাপড়া তেমন জানেন না বললেই চলে অপরদিকে এমনও অনেকে আছেন যারা ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার কিংবা ডক্টরেট ডিগ্রিধারী হয়েও ছোটকালে হুজুরের কাছে নামমাত্র আরবীতে কোরআন পড়তে শিখেছিলেন। একটু বড় হওয়ার পর থেকে নানামুখি ব্যস্ততার চাপে আরবীতে কোরআন পড়া ছাড়া ইসলাম সম্পর্কে সার্বিকভাবে জ্ঞানলাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিতই থেকে গেছেন। নিজেরা না জানার কারণে প্রথমত তাদেরকে ধর্ম সম্পর্কে তাদের চাইতে ভাল জানেন এমন কাউকে অনুসরণ করার প্রয়োজন হতেই পারে। এক সময় ছিল যখন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত মানুষের সংখ্যাই বেশি ছিল। ধর্মানুরাগের কারণেই হোক বা জন্মসূত্রেই হোক, ধর্ম অনুসরণের জন্য তাদেরকে ধর্মগুরুর শিষ্যত্ব গ্রহণ করতে হত। এখনও একই নিয়মই চলছে। একপক্ষ অন্ধভাবে অনুসরন করেন এবং তাদের গুরুকে অনুসরণ করাকেই ধর্ম পালনের মূল হিসেবে বিশ্বাস করেন। আবার আরেক পক্ষ প্রাথমিক বিষয়াদি জেনে নিয়ার পর শেকড়ের সন্ধানে সময় ও শ্রম দেন। আর বাকিরা সত্য জানার চেষ্টা না করেই ভিন্ন মত ও পথের পথিক হয়ে যান। পৃথিবীর নানান অঞ্চলে এখনও কিন্তু এ ধরনের মানুষের অভাব নেই।


    জ্ঞান অর্জনের জন্য গুরুর শিষ্যত্ব গ্রহণ করাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে গুরুকে অন্ধভাবে অনুসরণ করতে গিয়ে শেকড়কে না জানার মানসিকতা মোটেই ভাল নয়। কারণ অন্ধ অনুসরণ হলো সেই মানসিক ব্যাধি, যা মানুষকে শিরকের দিকে ধাবিত করতে পারে। আর সত্যানুসন্ধান মানুষকে শেকড়ের কাছাকাছি নিয়ে যায়।


    চার মাযহাবের ইমামগণ ইসলাম সম্পর্কে প্রগাঢ় জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। নিঃসন্দেহে তাদের মূল ভিত্তি ছিল কোরআন ও হাদিছ। তারা কখনই নিজেদেরকে ইসলামের অথর হিসেবে দাবি করেন নাই। কারণ তারা ভাল করেই জানতেন ও বিশ্বাস করতেন যে, ইসলামের মূল ভিত্তি হলো স্রষ্টা প্রেরিত ঐশী কিতাব আল-কোরআন। আর তারা সে অনুসারেই আমল ও প্রচার করেছিলেন। প্রত্যেকেই প্রজ্ঞা, ইমান ও আখলাক এর দিক থেকে তাদের সময়কার সেরা ছিলেন বলেই তাদের অনুসারীদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। কিন্তু তাই বলে তারা সবই সঠিক জানতেন এমন ভেবে নেয়া মোটেই ঠিক হবে না। তারা নিজেরাও নিজেদেরকে সবজান্তা ভাবতেন না এবং তারা কখনই মুসলিমদের মাঝে বিভাজন চাইতেন না। তাদের উদ্যেশ্য নিঃসন্দেহে সৎ ছিল এবং তারা ইসলামের স্বার্থেই জীবনপাথ করেছিলেন। যুগের প্রয়োজনে তাদের এই সৎ প্রচেষ্টাকে খাঁট করে দেখা মোটেই উচিত হবেনা। আবার তাদের নিঃস্বার্থ কর্মকে পুঁজি করে যে স্বার্থবাদীরা স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে নাই, এমনটি হলফ করে বলা ঠিক হবেনা। মৌলিক বিষয়াদি সম্পর্কে যে তাদের মতের মাঝে তেমন কোন অমিল ছিলনা তা সর্বজন স্বীকৃত। তবে কালের প্রবাহে পরবর্তীতে তাদের কথা ও কাজের মাঝে অন্ধ অনুসারিদের কারণে অতিরঞ্জন ও মিথ্যার সংমিশ্রন ঘটে যাওয়াই স্বাভাবিক। আর সে কারণেই মাযহাব পন্থী মানসিকতা ও দলাদলির উদ্ভব ঘটেছে। তাই কোন মাযহাবকেই অন্ধভাবে অনুসরণ নয়। তবে তাদের মূল্যবান কথা ও ব্যাপক কর্মযজ্ঞকে উপেক্ষা না করে বিচার বিশ্লেষণ ও সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার প্রয়োজন রয়েছে। তথ্য প্রবাহের এ যুগে এসে মাযহাবের নামে ছোটখাট সব মতভেদকে দূর করার প্রয়াস না নিলে আমাদেরই ক্ষতি।


    আমাদেরকে অবশ্যই ভুললে চলবে না যে, পবিত্র কোরআনই হলো মানব জাতির জন্য মহান স্রষ্টা প্রেরিত ভাল ও মন্দের মধ্যে পার্থক্যকারী সর্বশেষ জীবনবিধান, যা মানুষকে আঁধার জগতে হাতছানি থেকে বের করে আলোর দিকে নিযে যায়। তাই নানা মুনির নানা মতের অনুসরণ নয় বরং সব সময়ের জন্যই প্রথমত আল্লাহর রজ্জু আল-কোরআন এবং তারপর এর সাথে সাংঘর্ষিক নয় এমন সহী হাদিছগুলো সম্পর্কে সঠিকভাবে জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং সঠিকভাবে প্রচারের জন্য সময় ও শ্রম দিতে হবে এবং মুসলিমদের জীবন পরিচালনার মূল সোর্স হিসেবে ধারন ও অনুসরণ করতে হবে। তাহলেই সকল দলাদলি ও বিভাজনের হাত থেকে মুক্তি মিলবে, ইনশাল্লাহ।

    .................................

    একজন বলেছিলেন:- আমি কুরআন যা পাব তা আগে মানবো। যেটার ব্যাখ্যা প্রয়োজন সেটা সহিহ হাদিস গ্রন্থ থেকে নিব। কোন সম্প্রদায় বা মাজহাবে কি লেখা আছে সেটা দেখব না। সহিহ হাদিস গ্রন্থের পরে যাব মাজহাবে। তবে কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক কোন হদিস কখনো মানব না। 

    আর আমি আপনাকে বলতে চাই যারা আহলে হাদিস সম্প্রদায় ভুক্ত তারা কখনো সহিহ হাদিস এর বাইরে/ কুরআনের বাইরে কিছু করেননা।
    ......................

    আমার জবাব: আপনি বলেছেন- //আর আমি আপনাকে বলতে চাই, যারা আহলে হাদিস সম্প্রদায় ভুক্ত তারা কখনো সহিহ হাদিস এর বাইরে / কুরআনের বাইরে কিছু করেন না।//

    যদি তাই হয়, তাহলে তো তারা খাঁটি মুসলিম। এই পরিচয়টাই যথেষ্ট নয় কি? এরপর আবার 'আহলে হাদিছ' নামের আরেকটি দল বানানোর প্রয়োজন আছে কি?

    মত বিনিমযের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

    .....................................

    একচজন বলেছিলেন:- মুসলমানদের নাম আহলে হাদিস রাসুল (সা) নিজেই দিয়েছেন এই হাদিসটি দেখুন; আবু সাইদ খুদরি (রা) হতে বর্নিত- যে তিনি যখন কোনো যুবককে দেখতে পেতেন তখন বলতেন, রাসুল (সা) এর অসিয়াত অনুযায়ী আমি তোমাকে স্বগতম জানাচ্ছি রাসুলুল্লাহ (সা) তোমাদের জন্য মজলিসে জায়গা করে দিতে এবং তোমাদেরকে হাদিস বোঝাবার জন্য আমাদের কে আদেশ করে গেছেন কারণ তোমরা আমাদের স্থলাভিসিক্ত এবং আমাদের পরবর্তী আহলে হাদিস (মুসতাদারাকে হাকীম; ১ম খন্ড, ৮৮ পৃষ্টা শারাফু আস্বহাবিল হাদিস; ২১ পৃষ্টা)

    ৫৩৭৪ টি হাদিস বর্ননাকারী বিখ্যাত সাহাবী আবু হোরায়রা (রা) বলতেন, "আনা আউয়ালু সা-হিবি হাদিসীন ফিতদুনিয়া" অর্থাৎ আমিই পৃথিবীর প্রথম আহলে হাদিস (তাযকিরাতুল হুফফায; ১ম খন্ড, ৩৩ পৃষ্টা ইসাবা; ৪র্থ খন্ড, ২০২ পৃষ্টা।

    ....................

    আমার জবাব: আপনার বক্তব্য থেকে- //রাসুলুল্লাহ (সা) তোমাদের জন্য মজলিসে জায়গা করে দিতে এবং তোমাদেরকে হাদিস বোঝাবার জন্য আমাদের কে আদেশ করে গেছেন।// 

    এই অংশটা রাসুল (সাঃ) এর বক্তব্য হিসেবে ধরে নিলে এখানে হাদিস বোঝানোর অর্থ হলো আল-কোরআনের জ্ঞান চর্চা, কারন আল-কোরআনেরই একটি নাম হাদিছ।

     আপনার বক্তব্য থেকে//কারণ তোমরা আমাদের স্থলাভিসিক্ত এবং আমাদের পরবর্তী আহলে হাদিস //

    এই অংশটা আবু সাইদ খুদরি (রা) এর বক্তব্য এবং এক্ষেত্রেও পরবর্তী 'আহলে হাদিছ' অর্থ ভবিষ্যতে ও কেয়ামত পর্যন্ত যারা আল-কোরআনের একানিষ্ঠ অনুসারী তাদেরকেই বোঝানো হয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি। বর্তমানে আল-কোআনের শিক্ষা বাদ দিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে এসব বক্তব্যকে টেনে এনে যারা মুসলিমদের মধ্যে ভেদ সৃষ্টি করতে চান তাদের সাথে আমি নেই। আমি স্পষ্ট ভাবেই আল্লাহতায়ালার নির্দেশ পথনির্দেশনা তুলে ধরেছি। 'আহলে হাদিছ' বা 'আহলে কোরআন' নামের ভিন্ন একটি সম্রদায় বানিয়ে মুসলিমদের মধ্যে মতবিভক্তি তৈরি করে অহংকারী সেজে গোনাহ কামাই করার পক্ষপাতি আমি নই। আল-কোরআন এবং আমার রাসূল (সাঃ) এর আদর্শ থেকে সেই শিক্ষা আমি পাই নাই। যার মন চায়, তিনি তা করতে থাকুন। আর বলাটা আমার দায়িত্ব, তাই  আমি বলব। আমি বার বারই বলেছি- "আল-কোরআন আমার কাছে সবার ঊর্ধে, এরপর আল্লাহর বাণীর সাথে বিন্দুমাত্র সাংঘর্ষিক নয়, রাসূলের (সাঃ) এরূপ হাদিছকে আমি পৃথিবী অন্য সবকিছুর চাইতে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেই এবং মানতে চেষ্টা করি।"

    সুতরাং যিনি যত বড় হাদিস বর্ণনাকারী হোক না কেন, আমার দৃষ্টিতে আল-কোরআনের সাথে সাংঘর্ষিক কারো কোন কথা, গল্প বা বক্তব্য ও কর্মের কোনই মূল নেই। তবে সাংঘর্ষিক না হলে ভেবেচিন্তে তা মূল্যায়ন ও গ্রহণ করার ব্যাপারে আমার কোন আপত্তি নেই- ধন্যবাদ

………………………………………..

    একজন বলেছেন- আমাদের ঐক্যের পথ কি অতি বন্ধুর নয়? আপনার মতামত জানতে চাই।

    ………………...

    আমার জবাব-

    হাঁ, যে অবস্থা চলছে তাতে তো এমনটি মনে হওয়াই স্বাভাবিক। স্রষ্টা মহান আল্লাহর নির্দেশনাকে পাশ কাটিয়ে যে যার মনমত মানুষের আনুগত্য তো অনৈক্যই সৃষ্টি করবে। যেখানে আল্লাহতায়ালা তাঁর কিতাবকে ধারন করে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন, সেখানে দলে উপদলে বিভক্ত হয়ে থাকাকেই যারা আশির্বাদ হিসেবে বিশ্বাস করেন- তাদের অনৈক্যের জন্য তো তারা নিজেরাই দায়ি। আমাদের ভুললে চলবেনা যে, শুধু মুখেই আল-কোরআন কিন্তু বুকে অন্যের জয়গান গেয়ে কখনই ঐক্য সম্ভব নয়।

    ঐক্যবদ্ধ হতে হলে সবার উপরে মাহন স্রষ্টা আল্লাহর রজ্জু আল-কোরআন এবং কেবলমাত্র আল-কোরআনকে অন্তরে ধারন করতে হবে এবং ফয়সালার জন্য সর্বোত্তম মানদণ্ড হিসেবে মেনে নিতে হবে। তারপর আল-কোআনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ রাসূলের (সাঃ) আদর্শ অর্থাৎ সহী হাদিছ অনুসারে অন্য সকল দলিয় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের নেতা/ ইমাম/ খলিফা/ প্রধানমন্ত্রী/ প্রেসিডেন্টের আনুগত্য করার নির্দেশনা মেনে চলার মত প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। সমসাময়িক কল্যাণকর অগ্রগতিকে আলিঙ্গন করার এবং অকল্যাণ মন্দকে পরিহার প্রতিহত করার মত যোগ্য মানসিকতা, উদারতা সৎ সাহস অর্জন করতে হবে। সেই সাথে সকল সংকীর্ণতা সাম্প্রদায়িকতার উর্ধে উঠে মানবতা রক্ষায় যেমন সচেষ্ট হতে হবে, তেমনি সকল অজ্ঞানতা, অন্যায়, অনাচার, শোষণ-জুলুম দুর্নীতি দূর করার জন্য ব্যক্তিগত সমষ্টিগত তথা রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।


Comments