08) War, Treaty & Zizia / 'কিতাল বা যুদ্ধ', 'সন্ধি' এবং 'জিজিয়া'

'কিতাল বা যুদ্ধ', 'সন্ধিএবং 'জিজিয়া'

War, Treaty & Zizia


 

র্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, যুদ্ধক্ষেত্রের বাহিরেও হাজার হাজার নিরীহ বয়স্ক পুরুষ সহ নারী ও নিষ্পাপ শিশুদের রক্তে জনপদ রঞ্জিত হচ্ছে। এমনকি কতিপয় অজ্ঞ মুসলিমও ধর্মান্ধতা বশত ফেতনা- ফাসাদে জড়িয়ে পড়ছেন কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এতকিছু দেখার পরও কতিপয় অবুঝ মানুষ পবিত্র কোরআনের শিক্ষার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ, দুর্বল ও খাপছাড়া ব্যাখ্যা বশ্লেষণ বিক্ষিপ্তভাবে প্রচার করছেন। এভাবে তারা নিজেরা যেমন বিভ্রান্তিতে থাকছেন, তেমনি অন্যকেও বিভ্রান্ত করে চলেছেন এবং সত্য থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছেন। এর ফলে অনেকেই জালিমের ন্যায় আচরণ করছেন। আবার কখনো নিজেরাও জুলুমের শিকার হচ্ছেন। এভাবে তারা (উভয় পক্ষ) শুধু নিজেকে নয়, বরং সমাজের একটা অংশকে অন্ধকার ও ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। ইসলাম যেখানে মুসলিমদেরকে মধ্যপন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিচক্ষণতার সাথে নিরন্তর চেষ্টা সাধনা করার পথনির্দেশ দেয়, সেখানে কিছু সংখ্যক মানুষ ইসলামের নামে উগ্রপন্থি ইজমের ব্যানারে সন্ত্রাসবাদকে উস্কে দিচ্ছে। অথচ ইসলামের সাথে টেররিজমের কোনই সম্পর্ক নেই। তবে ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে মুসলিমদের যৌক্তিক সংগ্রামকে কেউ ইসলামি টেররিজম হিসেবে আখ্যায়িত করলে সেটাও নিশ্চয় ন্যায়সঙ্গত নয়।

    মুসলিম হিসেবে দ্বীন ইসলামের সঠিক বাস্তবায়নের জন্য জিহাদ অর্থাৎ চেষ্টা সাধনা করার বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকতে পারেনা। এই চেষ্টা সাধনার পদ্ধতি ও পর্যায় সবার ক্ষেত্রে সব সময় একই রকম নাও হতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রেই কিছু মৌল নীতি অবশ্যই মেনে চলার প্রয়োজন রয়েছে। মুসলিম মাত্রই মহান আল্লাহতায়ালা প্রেরিত কিতাব আল-কোরআনের বাণী অনুধানের জন্য অবশ্যই সাধ্যমত চেষ্টা করতে হবে। যেহেতু এই জিহাদ ব্যক্তি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নয়, তাই মানবতার স্বার্থে ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সময় উপযোগী পদক্ষেপে নিতে হবে। সত্য, ন্যায় ও শান্তির পক্ষে দৃঢ়ভাবে সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। আর অসত্য, অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে আপোসহীন থেকে ও সহিষ্ণুতা রক্ষা করে মোকাবেলা করতে হবে। ক্ষুদ্র ব্যক্তি স্বার্থ ত্যাগ কোরে মুসলিমদের ঐক্য অটুট রাখার ও আত্মরক্ষা করার স্বার্থে আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রেখে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে জান ও মাল ঢেলে দিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে। মানবতাহীন অযথা বাড়াবাড়ি করার কোন সুযোগ যেমন নেই, তেমনি সস্তা মানবতার গান গেয়ে অন্যায় ও অনাচারের পক্ষে সুর মেলাবারও কোন স্কোপ নেই। শুধুমাত্র দুনিয়াবি ফায়দা হাসিলের জন্য নয়, বরং মহান আল্লাহতায়ালার নির্দেশ ও রাসূলের (সাঃ) আদর্শ অনুসারে ইহকালীন ও পরকালীন শান্তি ও মুক্তি অর্জন করাই যেন এই চেষ্টা সাধনার মুখ্য উদ্দেশ্য হয়।

    আল্লাহতায়ালা ইমানদারদের শ্রমফল বিনষ্ট করেন না। ইমানদার মানুষ মাত্রই ধৈর্য ধারণ করে এবং প্রয়োজনে আল্লাহর পথে লড়াই করে। এ লড়াইয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেন কিংবা বিজয় অর্জন কোরে বেঁচে থাকেন, তাদেরকে আল্লাহতায়ালা মহাপুণ্য দান করবেন বলে অঙ্গিকার করেছেন। শুধু তাই নয়, যারা আল্লাহর পথে সংগ্রামরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, পার্থিব দৃষ্টিতে তাদেরকে মৃত মনে হলেও আল্লাতায়ালার কাছে তারা জীবিত এবং জীবিকাপ্রাপ্ত হন। তারা মহাপুরস্কার স্বরূপ সকল ভয় ভীতি ও চিন্তা ভাবনা মুক্ত এবং আনন্দিত অবস্থায় জান্নাতের স্থায়ী শান্তি উপভোগ করেন-

    সূরা আল ইমরান (মদীনায় অবতীর্ণক্রম-৮৯)

    (০৩:৬৯) অর্থ- আর যারা আল্লাহর রাহে নিহত হয়, তাদেরকে তুমি কখনো মৃত মনে করো না। বরং তারা নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিত ও জীবিকাপ্রাপ্ত।   

    (০৩:৭০) অর্থ- আল্লাহ নিজের অনুগ্রহ থেকে যা দান করেছেন তার প্রেক্ষিতে তারা আনন্দ উদযাপন করছে। আর যারা এখনও তাদের কাছে এসে পৌঁছেনি তাদের পেছনে তাদের জন্যে আনন্দ প্রকাশ করে। কারণ, তাদের কোন ভয় ভীতিও নেই এবং কোন চিন্তা ভাবনাও নেই।  

    (০৩:৭১) অর্থ- আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহের জন্যে তারা আনন্দ প্রকাশ করে এবং তা এভাবে যে, আল্লাহ, ঈমানদারদের শ্রমফল বিনষ্ট করেন না।

    (০৩:৭২) অর্থ- যারা আহত হয়ে পড়ার পরেও আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের নির্দেশ মান্য করেছে, তাদের মধ্যে যারা সৎ ও পরহেযগার, তাদের জন্য রয়েছে মহান সওয়াব।

    সূরা আন নিসা (মদীনায় অবতীর্ণক্রম-৯২)

    (০৪:৭৪) অর্থ- আর আল্লাহর কাছে যারা পার্থিব জীবনকে আখেরাতের পরিবর্তে বিক্রি কোরে দেয় তাদের জেহাদ করাই কর্তব্য। বস্তুতঃ যারা আল্লাহর পথে লড়াই করে এবং অতঃপর মৃত্যুবরণ করে কিংবা বিজয় অর্জন করে, আমি তাদেরকে মহাপুণ্য দান করব।

    (০৪:৭৬) অর্থ- যারা ঈমানদার তারা যে জেহাদ করে আল্লাহর পথেই। পক্ষান্তরে যারা কাফের তারা লড়াই করে শয়তানের পক্ষে; সুতরাং তোমরা জেহাদ করতে থাক শয়তানের পক্ষালম্বনকারীদের বিরুদ্ধে, (দেখবে) শয়তানের চক্রান্ত একান্তই দুর্বল।

    সূরা আত তাওবাহ (মদীনায় অবতীর্ণক্রম-১১৩)

    (০৯:১৯) অর্থ- তোমরা কি হাজীদের পানি সরবরাহ ও মসজিদুল-হারাম আবাদকরণকে সেই লোকের সমান মনে কর, যে ঈমান রাখে আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি এবং যুদ্ধ করেছে আল্লাহর রাহে, এরা আল্লাহর দৃষ্টিতে সমান নয়, আর আল্লাহ জালেম লোকদের হেদায়েত করেন না।    

    (০৯:২০) অর্থ- যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে এবং আল্লাহর রাহে নিজেদের জান ও মাল দিয়ে জেহাদ করেছে, তাদের বড় মর্যাদা রয়েছে আল্লাহর কাছে, আর তারাই সফলকাম।     

    (০৯:২১) অর্থ- তাদের সুসংবাদ দিচ্ছেন তাদের পরওয়ারদেগার স্বীয় দয়া ও সন্তোষের এবং জান্নাতের, সেখানে আছে তাদের জন্য স্থায়ী শান্তি। 

    (০৯:২২) অর্থ- তথায় তারা থাকবে চিরদিন। নিঃসন্দেহে আল্লাহর কাছে আছে মহাপুরস্কার।  

 

    আল্লাহর প্রতি আনুগত্যশীল ও আত্মসমর্পণকারী অর্থাৎ ইসলামের অনুসারীদের মিশন হলো শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করা। আর এই সংগ্রামের সর্বোচ্চ পর্যায় হলো 'কিতাল' অর্থাৎ অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করা। কিন্তু তাই বলে হঠাৎ কোরে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া নয়। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ব্যাপারে যেমন কারো উপরে জোরজবরদস্তি করা যাবেনা, তেমনি পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে বিরোধী পক্ষের সাথে যুদ্ধ করার এবং ক্ষেত্র বিশেষে সন্ধি স্থাপনেরও প্রয়োজন হতে পারে। এ সম্পর্কে আল-কোরআনের বাণী এবং আলোচনা তুলে ধরা হলো। 

 

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ব্যাপারে জোরজবরদস্তি নেই-

    সূরা আল আনকাবুত (মক্কায় অবতীর্ণক্রম-৮৫)

    (২৯:৬৯) অর্থ- আর যারা আমার (আমাদের/আল্লাহ- সম্মানসূচক) জন্য চেষ্টা-সাধনা/সংগ্রাম করে, আমি (আমরা/আল্লাহ- সম্মানসূচক) অবশ্যই তাদেরকে আমার (আমাদের/আল্লাহ- সম্মানসূচক) পথে পরিচালিত করবই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্মশীলদের সাথে আছেন।

    সূরা ক্বাফ (মক্কায় অবতীর্ণক্রম-৩৪)

    (৫০:৪৫) অর্থ- তারা যা বলে, তা আমি সম্যক অবগত আছি। তুমি তো তাদের উপর জোরজবরদস্তিকারী নও। অতএব, যে আমার শাস্তিকে ভয় করে, তাকে কোরআনের মাধ্যমে উপদেশ দান কর।

    সূরা আল-ফুরকান (মক্কায় অবতীর্ণক্রম-৪২)

    (২৫:৫২) অর্থ- অতঃপর তুমি আনুগত্য করো না অবিশ্বাসীদের এবং তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে এর (কুরআন) সাহায্যে এক মহা প্রচেষ্টা চালাও।

    (২৫:৫৬) অর্থ- আমি তোমাকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপেই প্রেরণ করেছি।

    (২৫:৫৭) অর্থ- বল, আমি তোমাদের কাছে এর কোন বিনিময় চাই না, সুতরাং যে ইচ্ছা করে, সে তার পালনকর্তার পথ অবলম্বন করুক।

    সূরা নাহল (মক্কায় অবতীর্ণক্রম-৭০)

    (১৬:৮২) অর্থ- অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমার কর্তব্য তো কেবল সুস্পষ্ট বাণী পৌঁছে দেয়া মাত্র।

    সূরা আল বাক্বারাহ (মদীনায় অবতীর্ণক্রম-৮৭)

    (০২:২৫৬) অর্থ- দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে সুপথ প্রকাশ্যভাবে কুপথ থেকে পৃথক হয়ে গেছে। অতএব যে মিথ্যা দেব-দেবীদের/মিথ্যা মা'বুদ মানবে না এবং আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করবে, নিশ্চয় সে এমন সুদৃঢ় হাতল ধারণ করে নিয়েছে যা ভাঙবার নয়। আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন।

    সূরা ইউনুস (মক্কায় অবতীর্ণক্রম-৫১)

    (১০:৯৯) অর্থ- আর তোমার প্রতিপালক যদি চাইতেন, তবে পৃথিবীতে যারা রয়েছে, তাদের সবাই ঈমান আনত সমবেতভাবে। তবে কি তুমি ঈমান আনার জন্য মানুষের উপর জবরদস্তি করবে?

    (১০:১০০) অর্থ- এবং একটি প্রাণও ইমান আনে না আল্লাহর হুকুম/ইচ্ছা ছাড়া, আর তিনি অশুচিতা/ অশুদ্ধতা/ অস্পষ্টতা ন্যস্ত করেন তাদের উপরে, যারা সুবুদ্ধি প্রয়োগ করে না।

 

    প্রথমত ভাল কথা, সৎকর্ম, সারগর্ভ বক্তৃতা ও লেখালেখি ইত্যাদি সকল সুস্থ উপায় অবলম্বন করেই মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা নিতে হবে। অনুকুল বা প্রতিকুল অর্থাৎ পরিবেশ ও পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, (৫০:৪৫) সকল অবস্থায় আল-কোরআনে প্রদত্ত মহান আল্লাহতায়ালার পথনির্দেশনা মেনে এই দাওয়াতের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। উৎকৃষ্ট পন্থায় ইসলামের দাওয়াত দিতে হবে। (১৬:৮২) কে গ্রহণ করবে আর কে করবে না, সেটা ভাববার প্রয়োজন নেই। ভাল কোরে জেনে বুঝে (২৫:৫৭) স্ব-ইচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার ব্যাপারে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। কোন অবস্থাতে (০২:২৫৬),(১০:৯৯), (২৫:৫৬) কাউকেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য বাধ্য বা জোরজবরদস্তি করা যাবেনা। তেমনি মুসলিমদের জন্যও আল্লাহ প্রদত্ত বিধি নিষেধের ব্যাপারে (২৫:৫২) অবিশ্বাসীদের মনগড়া কথা মান্য করা যাবেনা। সুতরাং তাদের অনুগত থেকে ইসলামের সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে নিষিদ্ধ কর্মে অভ্যস্ত হয়ে পড়ার তো প্রশ্নই আসে না। তবে প্রতিকূল অবস্থায় বাধ্য হয়ে ক্ষণিকের জন্য এমনটি করলে ভিন্ন কথা। সেক্ষেত্রে সুকৌশলে যতদ্রুত সম্ভব সেখান থেকে নিজেকে মুক্ত কোরে আনতে হবে এবং আল্লাহতায়ালার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে।

 

    তাহলে কেন যুদ্ধ এবং কখন সন্ধি?

    সূরা বাকারা (মদীনায় অবতীর্ণক্রম-৮৭)-

    (০২:১৯০) অর্থ:- যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে তোমরাও আল্লাহর (নির্দেশিত) পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর। কিন্তু সীমা লঙ্ঘন করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না।

    (০২:১৯১) অর্থ- আর তাদেরকে হত্যাকর যেখানে পাও সেখানেই এবং তাদেরকে বের করে দাও সেখান থেকে যেখান থেকে তারা বের করেছে তোমাদেরকে। বস্তুতঃ ফেতনা অর্থাৎ সন্ত্রাস বা বিপর্যয় সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ। আর তাদের সাথে লড়াই করো না মসজিদুল হারামের নিকটে যতক্ষণ না তারা তোমাদের সাথে সেখানে লড়াই করে। অবশ্য যদি তারা নিজেরাই তোমাদের সাথে লড়াই করে। তাহলে তাদেরকে হত্যা কর; এই হল কাফেরদের শাস্তি।     

    (০২:১৯২) অর্থ- অতঃপর তারা যদি বিরত হয়, তাহলে আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু।

    (০২:১৯৩) অর্থ- আর তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধকর, যে পর্যন্ত না ফিতনা অর্থাৎ কুফরী/ বিভ্রান্তি/ গোমরাহী/ পাপ/ উৎপীড়ন/ বিপর্যয়কর অবস্থার অবসান হয়, আর দ্বীন/ ধর্ম তো আল্লাহরই জন্য। অতঃপর যদি তারা বিরত হয়, তখন কোন বৈরিতা/ শত্রুতা নয়, কেবল জালিম/ অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে ছাড়া। 

    (০২:১৯৪) অর্থ- সম্মানিত মাসই সম্মানিত মাসের বদলা। আর সম্মান রক্ষা করারও বিনিময় রয়েছে। বস্তুতঃ যারা তোমাদের উপর জবরদস্তি/ আক্রমণ করে, তোমরাও তাদের উপর জবরদস্তি/ আক্রমণ করবে, যেরূপ জবরদস্তি/আক্রমণ তারা করেছে তোমাদের উপর। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ, যারা পরহেযগার/ ধর্মপরায়ণ, আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন।

    সূরা মায়েদা (মদীনায় অবতীর্ণ ক্রম-১১২)

    (০৫:৩৩) যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং ভূপৃষ্ঠে সন্ত্রাস বা বিপর্যয় সৃষ্টির অপচেষ্টা করে, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা, আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।

    সূরা আন নিসা (মদীনায় অবতীর্ণক্রম-৯২)

    (০৪:৮৮) অর্থ- অতঃপর তোমাদের কি হল যে, বিশ্বাসঘাতকদের সম্পর্কে তোমরা দু’দল হয়ে গেলে? অথচ আল্লাহতায়ালা তাদেরকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন তাদের মন্দ কাজের কারণে! তোমরা কি তাদেরকে পথ প্রদর্শন করতে চাও, যাদেরকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেছেন? আল্লাহ যাকে পথভ্রান্ত করেন, তুমি তার জন্য কোন পথ পাবে না।

    (০৪:৮৯) অর্থ- তারা চায় যে, তারা যেমন অবিশ্বাসী, তোমরাও তেমনি অবিশ্বাসী হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধু-রূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। কিন্তু যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় (বিশ্বাসঘাতকতা করে), তবে তাদেরকে গ্রেফতার কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে অভিভাবক এবং সাহায্যকারী রূপে গ্রহণ করবে না।

    (০৪:৯১) অর্থ- অবশ্য তুমি আরও এক সম্প্রদায়কে পাবে, যারা তোমাদের কছে ও স্বজাতির কাছেও শান্তি চায়। যখনই তাদেরকে ফ্যাসাদের/বিপর্যয়ের প্রতি মনোনিবেশ করানো হয়, তখনই তারা পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়, অতএব তারা যদি তোমাদের থেকে নিবৃত্ত না হয়, তোমাদের সাথে সন্ধি না রাখে এবং স্বীয় হস্ত সংবরণ না করে, তবে তোমরা তাদেরকে গ্রেফতার কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। আমি তাদের বিরুদ্ধে তোমাদেরকে প্রকাশ্য যুক্তি-প্রমাণ দান করেছি।

    সূরা আত তাওবাহ (মদীনায় অবতীর্ণক্রম-১১৩)

    (০৯:১২) অর্থ- আর তারা যদি চুক্তিতে আবদ্ধ হবার পর তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এবং বিদ্রুপ করে তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে, তবে অবিশ্বাসী দলপতিদের সাথে যুদ্ধ করবে। কারণ, এদের প্রতিজ্ঞা প্রতিজ্ঞাই নয়, যাতে তারা ফিরে আসবে।

    (০৯:২৯) অর্থ- তোমরা যুদ্ধ কর ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে না এবং নিষিদ্ধ করে না- যা নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন আল্লাহ ও তাঁর রসূল এবং তাদের সত্যধর্ম স্বীকার করে না যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা স্বেচ্ছায় ‘জিযিয়া’ প্রদান করে এবং তারা দমিত হয়।

    (০৯:৩৬) অর্থ- নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে, তন্মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। আর মুশরিকদের সাথে তোমরা যুদ্ধ করবে সমবেতভাবে, যেমন তারাও তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে সমবেতভাবে। আর মনে রেখো, আল্লাহ সাবধানীদের সাথেই রয়েছেন।

    (০৯:১২৩) অর্থ- ওহে! তোমরা যারা বিশ্বাস কর, যুদ্ধ কর তাদের সাথে- অবিশ্বাসীদের মধ্যে যারা তোমাদের নিকটবর্তী এবং তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা অনুভব করুক, আর জেনে রাখ আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন। 

    (০৯:১২৪) অর্থ- আর যখনই কোন সূরা অবতীর্ণ হয়, তখন তাদের কেউ কেউ বলে, 'এইটি তোমাদের মধ্যে কার ঈমান কতটা বৃদ্ধি করলো?' যারা ঈমানদার, এটি তো তাদেরই ঈমান বৃদ্ধি করেছে এবং তারা আনন্দিত হয়েছে। 

    (০৯:১২৫) অর্থ- বস্তুতঃ যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এটি তাদের কলুষতার সাথে আরো কলুষ বৃদ্ধি করেছে এবং তারা কাফের অবস্থায়ই মৃত্যু বরণ করলো।

    (০৯:১২৬) অর্থ- তারা কি লক্ষ্য করে না, প্রতি বছর তারা দু’একবার বিপর্যস্ত হয়, অথচ, তারা এরপরও তওবা করে না এবং উপদেশ গ্রহণ করে না। 

    (০৯:১২৭) অর্থ- আর যখনই কোন সূরা অবতীর্ণ হয়, তাদের কেউ কেউ একে অপরের দিকে তাকায়, 'তোমরা কেউ কি দেখেছ?' তারপর তারা সরে পড়ে। আল্লাহ ওদের অন্তরকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন! নিশ্চয়ই তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা বোঝেনা/উপলব্ধি করেনা।

    (০৯:১২৮) অর্থ- তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রসূল। তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তার পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়।

    (০৯:১২৯) অর্থ- এ সত্ত্বেও যদি তারা বিমুখ হয়ে থাকে, তবে বলে দাও, আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত আর কারো ইবাদত নয়। আমি তাঁরই ভরসা করি এবং তিনিই মহান আরশের অধিপতি।

   

    শান্তির স্বার্থে কখনো কখনো যুদ্ধ হতেই পারে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে যে, লাগাতার যুদ্ধবিগ্রহ ও যুদ্ধংদেহী মনোভাব কখনোই শান্তি বয়ে আনতে পারেনা। মুসলিমরা যুদ্ধ করবে ফিতনা অর্থাৎ বিপর্যয় সৃষ্টি করার জন্য নয়, বরং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে শান্তির চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে আপন আপন রীতি-নীতি ও স্বকিয়তা বজায় রেখেই পাশাপাশি অবস্থান করার অবকাশ রয়েছে। কেউ নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখতেই পারে। কিন্তু অন্তত অন্যের জন্য ক্ষতিকর ও শত্রুতার মনোভাব পরিহার করা চাই। প্রয়োজনে একে অপরের দিকে সহমর্মীতার হাত প্রসারিত করতে হবে। অপরদিকে শত্রুতার ক্ষেত্রে হিসেবটা তেমনি হবে। একপক্ষ শত্রুতায় লিপ্ত হলে আরেক পক্ষকে তো তা প্রতিহত করার প্রয়াস নিতেই হবে। (০২:১৯০ - ১৯৪) তাই শত্রুরা যদি কঠোরতা অবলম্বন করে, সন্ত্রাস ও অত্যাচার করে, তখন তা নির্মূলের জন্য তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। কোনরূপ শান্তি চুক্তিতে রাজি না হলে বা চুক্তি ভঙ্গ করে তারা যুদ্ধ শুরু করলে মুসলিমরাও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। যুদ্ধে একে অপরকে হত্যা করার চেষ্টা করাই স্বাভাবিক। জয়-পরাজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না ফেতনা অর্থাৎ কুফরী/ বিভ্রান্তি/ গোমরাহী/ পাপ/ উৎপীড়ন/ বিপর্যয়কর অবস্থার অবসান হয় এবং দ্বীন/ ধর্ম পালন অর্থাৎ ইবাদত কেবলমাত্র আল্লাহর জন্যই হয়ে যায় (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এবং সকল মুশরিকি ঘুঁচে যায়, ততক্ষণ তো এ অবস্থা থামবার নয়। তাছাড়া রাষ্ট্রে মাঝে যারা (০৫:৩৩) অযথা বিদ্রোহ ও সন্ত্রাস বা বিপর্যয় সৃষ্টির অপচেষ্টা করবে, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের স্বার্থে অপরাধের মাত্রা হিসেবে তাদেরকে হত্যা বা শূলীতে চড়ানো অথবা হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া অথবা দেশ থেকে নির্বাসিত করার শাস্তিও দেয়া যেতে পারে। কিন্তু অপরাধী হিসেবে গ্রেফতার হওয়ার পূর্বেই তারা যদি (০২:১৯৩) বিরত এবং অনুগত হয়ে যায়। সকল প্রকার সন্ত্রাস ও অনাচার বন্ধ কোরে ভালভাবে বসবাস করার অঙ্গিকার করে, তখন তাদেরকে সুযোগ দেয়ার জন্য মুসলিমদেরকেও নমনীয় হতে হবে।


    (০৯:১২৩) নং আয়াতের বক্তব্যে নিকটবর্তী অবিশ্বাসী বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে তা বোঝার জন্য এর পরবর্তী (০৯:১২৪ - ১২৯) নং আয়াতগুলোর প্রতি দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। এই অবিশ্বাসীরা স্বয়ং রাসূলের (সাঃ) উপস্থিতিতে সাহাবিদের সাথে মিশে থাকত। তারা আসলে বিশ্বাসী ছিলনা বলেই আল-কোরআনের আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার সময় অবিশ্বাসে ভরা চোখে একে অপরের কাছে বিদ্রুপের ভাব প্রকাশ করত। যে অবিশ্বাসীদের পরিচয় জানা যায় তাদের কাছ থেকে সহজেই সাবধান থাকা যায়। প্রয়োজনে তাদের সাথে সমঝোতা বা চুক্তি করার সুযোগ থাকে। কিন্তু এই অবিশ্বাসীরা বিশ্বাসীর ছদ্মবেশে খুব কাছে থেকে শত্রুতা চালায়, ঘাপটি মেরে থাকে এবং সুযোগ বুঝে কেটে পড়ে। প্রকৃত অর্থে তারা বিশ্বাসঘাতক এবং এ ধরনের বিশ্বাসঘাতক সব যুগেই থাকতে পারে। এই আয়াতগুলো নাযিল কোরে তাদের প্রকৃত পরিচয় ফাস কোরে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিনিয়ে দেয়া হয়েছে। যেহেতু তারা ভিতরের গুরুত্বপূর্ণ খবর শত্রুপক্ষের কাছে পাচার কোরে বড় রকমের ক্ষতি করার পাঁয়তারা করে, তাই কোনরূপ অনুকম্পা না দেখিয়ে ও ছাড় না দিয়ে তাদের সাথে সরাসরি যুদ্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


    ইসলামী রাষ্ট্রে বা সমাজে বসবাসরত আল্লাহ ও পরকালে অবিশ্বাসীরা যদি মুসলিমদের ধর্ম, ধর্মগ্রন্থ এবং আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ) সম্পর্কে (০৯:১২) বিদ্রুপ করে এবং উদ্ধত আচরণ করতে থাকে, (০৯:১২) চুক্তিতে আবদ্ধ হবার পর তা ভঙ্গ করে এবং (০৯:২৯) সমাজের জন্য ক্ষতিকর সেই হারাম তথা অপবিত্র/ অশুদ্ধ/ অশুচি অনাচারে প্রকাশ্যে লিপ্ত থাকে- যা আল্লাহ ও তাঁর রসূল নিষিদ্ধ করেছেন, সেক্ষেত্রে তাদের হাত থেকে (০৪:৭৫) মজলুম মানুষকে মুক্তি দেয়ার লক্ষ্যে ইসলামের বিধান বাস্তবায়ন করার জন্য মুসলিদেরকেও অস্ত্রধারণ করে (০৯:১২) অবিশ্বাসী/ মুশরিক দলপতিদের বিরুদ্ধে (০৯:৩৬) সমবেতভাবে যুদ্ধ করার অর্থাৎ "কিতাল" এর বিধান দেয়া হয়েছে, (০৯:২৯) যতক্ষন পর্যন্ত না তারা দমিত ও অনুগত হয়ে জিজিয়া-কর দেয়। তবে যুদ্ধের সময় (০২:১৯০) সীমা লঙ্ঘন করতে নিষেধ করা হয়েছে। তাই কোন অবস্থাতেই যেন যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত না হয় সে বিষয়ে মুসলিমদেরকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।  

 

    সূরা আল-আনফাল (মদীনায় অবতীর্ণক্রম-৮৮)

    (০৮:৩৬) নিঃসন্দেহে যেসব লোক কাফের/ অস্বীকারকারী/ অবিশ্বাসী, তারা ব্যয় করে নিজেদের ধন-সম্পদ, যাতে করে বাধাদান করতে পারে আল্লাহর পথে। বস্তুতঃ এখন তারা আরো ব্যয় করবে। তারপর সেটা তাদের জন্য আক্ষেপের কারণ হয়ে এবং শেষ পর্যন্ত তারা হেরে যাবে। আর যারা কাফের/অস্বীকারকারী/অবিশ্বাসী তাদেরকে দোযখের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

    (০৮:৩৮) তুমি বলে দাও, কাফের/ অস্বীকারকারী/ অবিশ্বাসীদেরকে যে, তারা যদি বিরত হয়ে যায়, তবে যা কিছু ঘটে গেছে তা ক্ষমা করা হবে। পক্ষান্তরে আবারও যদি তাই করে, তবে তো পুর্ববর্তীদের পথ নির্ধারিত হয়ে গেছে।

    (০৮:৩৯) আর তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ কর, যে পর্যন্ত না ফেতনা অর্থাৎ কুফরী/ বিভ্রান্তি/ গোমরাহী/ পাপ/ উৎপীড়ন/ বিপর্যয়কর অবস্থার অবসান হয়{attending (or residing with) the idolaters was a Fitnah}, আর দ্বীন/ ধর্মের সবই তো আল্লাহরই (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) জন্য। অতঃপর যদি তারা বিরত হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করেন।      

    (০৮:৪০) আর তারা যদি না মানে, তবে জেনে রাখ আল্লাহ তোমাদের অভিভাবক/ রক্ষক, আর কতই না চমৎকার অভিভাবক/ রক্ষক এবং চমৎকার সাহায্যকারী।          

    (০৮:৪৫) হে ঈমানদারগণ, তোমরা যখন কোন বাহিনীর সাথে সংঘাতে লিপ্ত হও, তখন সুদৃঢ় থাক এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর যাতে তোমরা উদ্দেশ্যে কৃতকার্য হতে পার।

    (০৮:৪৬) আর আল্লাহ তাআলার নির্দেশ মান্য কর এবং তাঁর রসূলের। তাছাড়া তোমরা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হইও না। যদি তা কর, তবে তোমরা কাপুরুষ হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব চলে যাবে। আর তোমরা ধৈর্য্যধারণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা রয়েছেন ধৈর্য্যশীলদের সাথে।    

    (০৮:৪৭) আর তাদের মত হয়ে যেয়ো না, যারা বেরিয়েছে নিজেদের অবস্থান থেকে গর্বিতভাবে এবং লোকদেরকে দেখাবার উদ্দেশে এবং আল্লাহর পথে তারা বাধা দান করত। বস্তুতঃ আল্লাহর আয়ত্বে রয়েছে সে সমস্ত বিষয় যা তারা করে। 

    (০৮:৪৮) আর যখন সুদৃশ্য করে দিল শয়তান তাদের দৃষ্টিতে তাদের কার্যকলাপকে এবং বলল যে, আজকের দিনে কোন মানুষই তোমাদের উপর বিজয়ী হতে পারবে না আর আমি হলাম তোমাদের সমর্থক, অতঃপর যখন সামনাসামনী হল উভয় বাহিনী তখন সে অতি দ্রুত পায়ে পেছনে দিকে পালিয়ে গেল এবং বলল, আমি তোমাদের সাথে না-আমি দেখছি, যা তোমরা দেখছ না; আমি ভয় করি আল্লাহকে। আর আল্লাহর আযাব অত্যন্ত কঠিন।        

    (০৮:৪৯) যখন মোনাফেকরা বলতে লাগল এবং যাদের অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত, এরা নিজেদের ধর্মের উপর গর্বিত। বস্তুতঃ যারা ভরসা করে আল্লাহর উপর, সে নিশ্চিন্ত, কেননা আল্লাহ অতি পরাক্রমশীল, সুবিজ্ঞ।  

   (০৮:৫০) আর যদি তুমি দেখ, যখন ফেরেশতারা কাফের/অস্বীকারকারী/অবিশ্বাসীদের জান কবজ করে; প্রহার করে তাদের মুখে এবং তাদের পশ্চাদদেশে আর বলে, জ্বলন্ত আযাবের স্বাদ গ্রহণ কর।                  

    (০৮:৫৫) অর্থ- সমস্ত জীবের মাঝে আল্লাহর নিকট তারাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যারা অবিশ্বাস করেছে এবং আর ঈমান আনেনি।

    (০৮:৫৬) অর্থ- তাদের মধ্যে যাদের সাথে তুমি চুক্তিতে আবদ্ধ, তারা প্রতিবার নিজেদের কৃত চুক্তি লঙ্ঘন করে এবং সাবধান হয় না।

    (০৮:৫৭) অর্থ- সুতরাং তোমরা যদি কখনো তাদেরকে যুদ্ধে পেয়ে যাও, তবে তাদের এমন শাস্তি দাও, যেন তাদের উত্তরসূরিরা তাই দেখে পালিয়ে যায়; তাদেরও যেন শিক্ষা হয়।

    (০৮:৫৮) অর্থ- তবে কোন সম্প্রদায়ের ধোঁকা দেয়ার ব্যাপারে যদি তোমাদের আশংকা হয়, তবে তাদের চুক্তি তাদের দিকেই ছুঁড়ে ফেলে দাও এমনভাবে, যেন হয়ে যাও তোমরা ও তারা সমান। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধোঁকাবাজ, প্রতারককে পছন্দ করেন না।

    (০৮:৬২) অর্থ- পক্ষান্তরে তারা যদি তোমাকে প্রতারণা করতে চায়, তবে তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনিই তোমাকে শক্তি যুগিয়েছেন স্বীয় সাহায্য ও বিশ্বাসীদের দ্বারা,

    (০৮:৬৩) অর্থ- আর প্রীতি স্থাপন করেছেন তাদের অন্তরে। যদি তুমি সবকিছু ব্যয় করে ফেলতে যা কিছু রয়েছে পৃথিবীর বুকে, তাদের অন্তরে প্রীতি স্থাপন করতে পারতে না। কিন্তু আল্লাহ তাদের মনে প্রীতি স্থাপন করেছেন। নিঃসন্দেহে তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

    (০৮:৬৪) অর্থ- হে নবী, আপনার জন্য এবং যে বিশ্বাসীরা আপনার সাথে রয়েছে তাদের সবার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট।

    সূরা আত তাওবাহ (মদীনায় অবতীর্ণক্রম-১১৩)

    (০৯:১) অর্থ:- মুশরিকদের সাথে তোমরা অনির্দিষ্টকালের যে চুক্তি করেছিলে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ হতে (তা থেকে) তোমাদের অব্যহতি রয়েছে।

    (০৯:২) অর্থ:- সুতরাং (হে মুশরিকরা) তোমরা পরিভ্রমণ কর এ দেশে চার মাস-কাল। আর জেনে রেখো, তোমরা আল্লাহকে পরাভূত করতে পারবে না, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফেরদের লাঞ্ছিত করে থাকেন।

    (০৯:৩) অর্থ:- আর মহান হজ্বের দিনে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে লোকদের প্রতি ঘোষণা করে দেয়া হচ্ছে যে, আল্লাহর সাথে মুশরিকদের কোন সম্পর্ক নেই এবং তাঁর রসূলের সাথেও নেই। অবশ্য যদি তোমরা তওবা কর, তবে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর, আর যদি মুখ ফেরাও তবে জেনে রেখো, আল্লাহকে তোমরা পরাভূত করতে পারবে না। আর কাফেরদের মর্মান্তিক শাস্তির সুসংবাদ দাও।

 

    বিশেষ ভাবে লক্ষণীয়- (০৮:৫৫ - ৫৮) ও (৯:১, ২, ৩) নং আয়াতে বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, অবিশ্বাসী/মুশরিকদের মধ্যে যারা কৃত চুক্তি ভঙ্গ করে প্রতারণা করেছে কিংবা যাদেরকে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত শুধরানোর জন্য সময় দেয়া হয়েছে এবং তারপর চুক্তির মেয়াদ শেষ হবার বিষয়ে ঘোষণা দেয়ার ও তওবা করার সুযোগ দেয়ার পরও যেসব মুশরিকরা অগ্রাহ্য করেছে, তাদেরকে মর্মান্তিক পরিণতির কথা বলে প্রথমে সাবধান করা হয়েছে।

    সেই সাথে (০৪:৯০), (০৮:৬১) ও (০৯:৪) নং আয়াত পড়লেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, (০৪:৮৮, ৮৯ ও ৯১) ও (০৯:০৫) নং আয়াতে কাদেরকে হত্যা করার কথা বলা হয়েছে-

    সূরা আন নিসা (মদীনায় অবতীর্ণক্রম-৯২)

    (০৪:৯০) অর্থ- কিন্তু তাদের ছাড়া- যারা এমন সম্প্রদায়ের সাথে মিলিত হয় যে, তোমাদের মধ্যে ও তাদের মধ্যে চুক্তি আছে অথবা তোমাদের কাছে এভাবে আসে যে, তাদের অন্তর তোমাদের সাথে, এমনকি স্বজাতির সাথেও যুদ্ধ করতে অনিচ্ছুক। যদি আল্লাহ ইচ্ছে করতেন, তবে তোমাদের উপর তাদেরকে প্রবল করে দিতেন। ফলে তারা অবশ্যই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করত। অতএব যদি তারা তোমাদের থেকে পৃথক থাকে, তোমাদের সাথে যুদ্ধ না করে এবং তোমাদের সাথে সন্ধি করে, তবে আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কোন পথ রাখেননি।

    সূরা আল-আনফাল (মদীনায় অবতীর্ণক্রম-৮৮)

    (০৮:৬১) অর্থ- আর যদি তারা সন্ধি করতে আগ্রহ প্রকাশ করে, তাহলে তুমিও সে দিকেই আগ্রহী হও এবং আল্লাহর উপর ভরসা কর। নিঃসন্দেহে তিনি শ্রবণকারী; পরিজ্ঞাত।

    সূরা আত তাওবাহ (মদীনায় অবতীর্ণক্রম-১১৩)

    (০৯:৪) অর্থ:- তবে যেসব মুশরিকদের সাথে তোমরা চুক্তি বদ্ধ, এবং যারা তোমাদের ব্যাপারে কোন ত্রুটি করেনি এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্যও করেনি, তাদের সাথে কৃত চুক্তিকে তাদের দেয়া মেয়াদ পর্যন্ত পূরণ কর। অবশ্যই আল্লাহ সাবধানীদের পছন্দ করেন।

    (০৯:৫) অর্থ:- অতঃপর নিষিদ্ধ মাসসমূহ অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের (ধরার) সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

    (০৯:৭৩) অর্থ- হে নবী, অবিশ্বাসী এবং মুনাফিকদের বিরুদ্ধে যিহাদ অর্থাৎ সংগ্রাম কর এবং তাদের প্রতি কঠোর হও। তাদের ঠিকানা হল দোযখ- নিঃসন্দেহে কত নিকৃষ্ট পরিনাম!

 

    (০৪:৯০), (০৮:৬১) ও (০৯:৪) নং আয়াতে স্পষ্ট বলে দেয়া হলো, যেসব মুশরিকরা চুক্তির শর্ত মেনে চলে তাদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের ঘোষণা নয়, বরং তাদের সাথে চুক্তিমতে মেয়াদ পূর্ণ করতে বলা হয়েছে। কিন্তু যারা কোন চুক্তির মধ্যে নেই অর্থাৎ যেসব মুশরিকরা মুখে সন্ধির কথা বললেও ভেতরে ভেতরে বার বার (০৮:৫৬) বিশ্বাসঘাতকতা করত, সব সময় মুসলিমদের ক্ষতি সাধনে তৎপর ছিল, সুযোগ পেলেই চুক্তির কথা ভুলে শত্রুদের সাথে হাত মিলিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হত। এই ধরনের (০৮:৫৭, ৫৮) প্রতারক অবিশ্বাসীদের সাথে কোন চুক্তি নয়, বরং প্রতারণা করার কারণে কৃত চুক্তি তাদের মুখের উপর ছুঁড়ে ফেলতে বলা হয়েছে। (০৯:৭৩) তাদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে সংগ্রাম করতে বলা হয়েছে। (০৮:৫৭) এমন শাস্তি দেয়ার কথা বলা হয়েছে যেন তা দেখে ঘাপটি মেরে থাকা অন্য মুনাফিকরা ভয়ে পালিয়ে যায়। একটি নির্দিষ্ট সময় ও সুযোগ দেবার পর এবং সাবধান করার পরও মুশরিকদের মধ্যে যারা অনুগত না হয়ে বিরুদ্ধাচরন করবে কিংবা যারা নামমাত্র চুক্তি করলেও সুযোগ পেলেই বিশ্বাসঘাতকতার আশ্রয় নিয়ে ক্ষতি করার সুযোগে থাকে, তাদের সাথে আর কোন চুক্তি কিংবা ক্ষমা নয়। (০৯:০৫) তাদের সাথে যুদ্ধ ও হত্যা করা এবং ইসলাম বিরোধী সকল কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যুদ্ধ যখন হয় তখন তো একে অপরকে হত্যা ও পরাজিত করার জন্যই যুদ্ধ করে। মুশরিকরা যুদ্ধের সময় মুসলিমদেরকে হত্যা করবে আর মুসলিমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে- এটা তো হতে পারেনা। বরং একে অপরকে বন্দী নয়ত বধ করাই তো যুক্তিসংগত। তবে যারা তওবা করে মুসলিম হয়ে যাবে এবং নামায কায়েম ও যাকাত আদায় করবে, কেবলমাত্র তারাই রক্ষা পাবে।


    সূরা আত তাওবাহ (মদীনায় অবতীর্ণক্রম-১১৩)

    (০৯:০৬) অর্থ:- আর মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দেবে, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌছে দেবে। এটি এজন্যে যে এরা জ্ঞান রাখে না।

 

    (০৯:৬) নং আয়াতের সাথে (০৯:৪) ও (০২:১৯০) নং আয়াতের বক্তব্য মিলিয়ে দেখলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে যায় যে, যেহেতু সীমা লঙ্ঘন করতে অর্থাৎ যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয় এমন কোন কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তাই যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে কোন দোষ করেনি কিংবা সাহায্য করেনি এবং ইসলাম সম্পর্কে ভালভাবে জানার সুযোগ পায়নি এরূপ নিরীহ অবিশ্বাসী মুশরিকরা যদি মুসলিমদের কাছে আশ্রয় চান বা চুক্তিতে আবদ্ধ থাকতে চান, তাহলে তাদেরকে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দেয়ার সাথে সাথে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।


  

 যুদ্ধ ক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের নিরীহ নারী শিশুরা যেন অযথা অত্যাচারিত না হয় এবং তাদেরকে হত্যা করা না হয় সে বিষয়ে বুখারী মুসলীম শরিফে বর্ণীত সহী হাদিছে স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। তাই সবার কাছে অনুরোধ- কোন বিষয়ে ভালভাবে জানবার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে বিস্তারিতভাবে বর্ণীত সহী অর্থাৎ শুদ্ধ হাদিছগুলো পড়ার দিকে মনোনিবেশ করুন। তাহলে সত্যের সন্ধান পাওয়ার সাথে সাথে শান্তিও পাবেন, ইনশাল্লাহ্।                


    যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের সাথে কি ধরনের আচরণ করতে হবে এ বিষয়ে মুসলিম শরীফে বুরাইদা (রাঃ) কর্তৃক বিস্তারিতভাবে বর্ণিত ও ইবনে ওমর (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত দুটি এবং বুখারী শরীফে ওমর (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত একটি সহী হাদিছ তুলে ধরা হল। জিজিয়ার (কর) বিষয়টিও এখানে এসেছে:-

   

   / বুরাইদা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)যখন কোন সেনাবাহিনী কিংবা সেনাদলের উপর আমীর নিযুক্ত করতেন, তখন বিশেষ করে তাঁকে আল্লাহ ভীতি অবলম্বনের এবং তাঁর সঙ্গী মুসলমানদের নেক আমলের উপদেশ দিতেন। আর বলতেন, যুদ্ধ করো আল্লাহর নামে, আল্লাহর রাস্তায়। লড়াই কর তাদের বিরুদ্ধে যারা আল্লাহর সাথে কুফরি করে। যুদ্ধ চালিয়ে যাও, তবে গনিমতের মালের খেয়ানত করবে না, শত্রু পক্ষের অঙ্গ বিকৃত করবে না শিশুদেরকে হত্যা করবে না। যখন তুমি মুশরিক শত্রুর সম্মুখীন হবে, তখন তাকে তিনটি বিষয় আচরণের প্রতি আহবান জানাবে। তারা এগুলোর মধ্য থেকে যেটিই গ্রহণ করে, তুমি তাদের পক্ষ থেকে তা মেনে নেবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকবে। প্রথমে তাদের ইসলামের দিকে দাওয়াত দেবে। যদি তারা তোমার আহবানে সাড়া দেয়, তবে তুমি তাদের পক্ষ থেকে তা মেনে নেবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকবে। এরপর তুমি তাদের স্বগৃহ ত্যাগ করে মুহাজিরদের এলাকায় চলে যাওয়ার আহবান জানাবে এবং তাদের জানিয়ে দেবে যে, যদি তারা তা কার্যকরী করে, তবে মহাজিরদের জন্য যে লাভ-লোকসান দায়-দয়িত্ব রয়েছে, তা তাদের উপর কার্যকরী হবে। আর যদি তারা স্বগৃহ ত্যাগ করতে অস্বীকার করে, তবে তাদের জানিয়ে দেবে যে, তারা সাধারণ বেদুঈন মুসলমানদের মত গণ্য হবে। তাদের উপর আল্লাহর সেই বিধান কার্যকরী হবে, যা সাধারণ মুসলিমদের উপর কার্যকরী এবং তারা গনিমত 'ফায়' থেকে কিছুই পাবে না। অবশ্য মুসলমানদের সঙ্গে শামিল হয়ে যুদ্ধ করলে তার অংশদারি হবে। আর যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করে তবে তাদের কাছে জিজিয়া দানের দাবি জানাবে। আর যদি তারা তা গ্রহণ করে নেয়, তবে তুমি তাদের পক্ষ থেকে তা মেনে নেবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকবে। আর যদি তারা দাবি না মানে তবে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়। আর যদি তোমরা কোন দুর্গবাসীকে অবরোধ করো এবং তারা যদি তোমার কাছে আল্লাহ তাঁর রসূলের জিম্মাদারী চায়, তবে তুমি তাদের জন্য আল্লাহ তাঁর রসূলের জিম্মাদারী মেনে নেবে না। বরং তাদেরকে তোমার তোমার সাথীদের যিম্মাদারিতে রাখবে। কেননা যদি তারা তোমার তোমার সাথীদের জিম্মাদারী ভঙ্গ করে, তবে তা আল্লাহ তার রসূলের জিম্মাদারী ভঙ্গের চাইতে কম গুরুতর। আর যদি তোমরা কোন দুর্গবাসীকে অবরোধ করো এবং তারা যদি তোমার কাছে আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক অবতরণ করতে চায়, তবে তোমরা তাদেরকে আল্রাহর হুকুমের উপর অবতরণ করতে দেবে না, বরং তুমি তাদেরকে তোমার সিদ্ধান্তের ওপর অবতরণ করতে দেবে। কেননা তোমার জানা নাই যে, তুমি তাদের মাঝে আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না?


    ২/ ইবনে ওমর (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, কোন এক যুদ্ধে এক মহিলাকে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেল। তখন রাসূল্লাহ (সাঃ) নারী ও শিশুদের হত্যা করতে নিষেধ করলেন।


    ৩/ ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণীত। তিনি বলেছিলেন, আমি যিম্মীদের (অমুসলীম সংখ্যালঘু) ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের যিম্মাদারী (দায়িত্বভার) আদায়ের অছিয়ত করে যাচ্ছি, যেন তাদের প্রতি প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়। তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনে যুদ্ধ করা হয়। আর তাদের আর্থিক সামর্থের বাহিরে তাদের উপর জিজিয়া ধার্য করা না হয়।

 

    উপরে বর্ণীত হাদিছ তিনটি থেকে সহজেই বুঝে নেয়া যায় যে, যুদ্ধক্ষেত্রে নারী ও শিশুদের হত্যা করা নিষেধ। তবে যুদ্ধেক্ষেত্রে পরাজিত কাফির অর্থাৎ অবিশ্বাসীদের সামনে তিনটি সুযোগ রয়েছে। এর মধ্য থেকে যে কোন একটিকে তারা বেছে নিতে পারে। প্রথমত তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের জন্য দাওয়াত দেয়া যেতে পারে। কেন্তু কোন অবস্থাতেই ইসলাম গ্রহণের জন্য বাধ্য করা যাবে না। বরং তারা এ দাওয়াত গ্রহণ না করলে তাদেরকে নিজ ধর্ম পালনের সুযোগ দিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে তাদেরকে অবশ্যই মুসলিম রাষ্ট্রের আনুগত্য মেনে নিতে হবে। আর ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ থেকে দমিত এবং ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতি বাধ্য থাকার নিদর্শন হিসেবে অতি অল্প পরিমাণে হলেও মুসলিম নেতা কর্তৃক নির্ধারিত কর প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে। এই করই হলো- ’জিজিয়া’। তাদের সাধ্যের বাহিরে যেন এই 'জিজিয়া' ধার্য্য করা না হয় সে বিষয়েও হাদিছে স্পষ্ট নির্দেশ আছে। আল-কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন-

    সূরা আত তাওবাহ (মদীনায় অবতীর্ণক্রম-১১৩)

    (০৯:২৯) অর্থ- তোমরা যুদ্ধ কর ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে না এবং নিষিদ্ধ করে না- যা নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন আল্লাহ ও তাঁর রসূল এবং তাদের সত্যধর্ম স্বীকার করে না যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা স্বেচ্ছায় ‘জিযিয়া’ প্রদান করে এবং তারা দমিত হয়।

 

    'জিজিয়ার' কথা শুনলে অনেকে না বুঝেই নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করতে শুরু করেন। অনেকে প্রশ্ন করেন- যুদ্ধ না থাকলে অর্থাৎ শান্তি প্রতিষ্ঠা হবার পরও অন্য ধর্মালম্বীদেরকে কেন 'জিজিয়া' দিতে হবে?

 

    প্রথমত তাদের বোঝা উচিত যে, জিজিয়ার বিষয়টি শুধুমাত্র যুদ্ধের সাথেই সম্পর্কীত নয়। প্রতিটি শান্তিপূর্ণ স্বাধীন দেশে বসবাসরত জনগণকে কর দিতে হয়। কারণ কর না দিলে যে কোন সরকারের পক্ষেই দেশ চালান কঠিন হয়ে পড়বে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ইসলামী রাষ্ট্রে বসবাসরত সামর্থবান মুসলিমদের জন্য ধর্মীয় বিধান অনুসারে যাকাত ও ফিতরা দেয়া ফরজ অর্থাৎ অবশ্য পালনীয়। এ ছাড়াও সাদকা ও দান করতে হয় এবং জিহাদের ডাক এলে প্রতিটি মুসলমানের জন্যে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রের নেতা অর্থাৎ খলিফা মুসলমানদের উপর আলাদাভাবে করও আরোপ করতে পারেন। অপরদিকে ইসলামী রাষ্ট্রে বসবাসরত ইসলাম ধর্মে অবিশ্বাসী অর্থাৎ অন্য কোন ধর্মের মানুষদের জন্য  কিন্তু 'জিজিয়া' ব্যতীত যাকাত, ফিতরা আদায় করা বা জিহাদে অংশ নেয়া বাধ্যতামূলক নয়। বরং এই ’জিজিয়া’ বা করের বিনিময়ে একদিকে যেমন তারা ইসলামী রাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা পাবেন এবং তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনে যুদ্ধ করারও নির্দেশ আছে। অপরদিকে তেমনি তারা জিহাদে অংশগ্রহণ করা থেকে রেহাই পাবেন। তবে পরাজিত হয়ে বন্দি হবার পরও যদি অবিশ্বাসীরা কোন প্রস্তাবে রাজি না হয়ে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন ও বিরোধিতায় লিপ্ত হলে, একে অপরের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করাই তো একমাত্র পথ। আর স্বাভাবিকভাবেই এরূপ চরম পরিস্থিতিতে পুনরায় বন্দি হওয়া বা বন্দি করার জন্য নয়, বরং একদল আরেক দলকে হত্যা করার জন্যই তো যুদ্ধ করবে। ফলশ্রুতিতে যে দল জয়ী হবে তাদের শাসনই প্রতিষ্ঠিত হবে।

   

    রণকৌশল সম্পর্কে আল-কোরআনের মৌল দিকনির্দেশনা-

    সূরা আল-আনফাল (মদীনায় অবতীর্ণক্রম-৮৮)

    (০৮:৩৮) অর্থ- বল, যারা অবিশ্বাস করে তাদেরকে, যদি তারা বিরত হয়, ক্ষমা করা হবে তার জন্য যা যথার্থই গত হয়ে গেছে। আর যদি তারা অনড় থাকে- তখন নিশ্চয়ই পূর্ববর্তীদের নজির তো রয়েছেই। 

     (০৮:৩৯) আর তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ কর, যে পর্যন্ত না ফেতনা অর্থাৎ কুফরী/ বিভ্রান্তি/ গোমরাহী/ পাপ/ উৎপীড়ন/ বিপর্যয়কর অবস্থার অবসান হয়{attending (or residing with) the idolaters was a Fitnah}, আর দ্বীন/ ধর্মের সবই তো আল্লাহরই (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) জন্য। অতঃপর যদি তারা বিরত হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করেন।    

    (০৮:৬০) অর্থ- আর প্রস্তুত রাখ তাদের (সাথে যুদ্ধের) জন্য যথাসাধ্য শক্তি এবং পালিত ঘোড়ার পাল, সন্ত্রস্ত করতে আল্লাহর শত্রুদের এবং তোমাদের শত্রুদের এবং তাদের ছাড়া অন্যদেরকেও, যাদেরকে তোমরা জান না; আল্লাহ তাদেরকে চেনেন, আর যা কিছু তোমরা ব্যয় করবে আল্লাহর পথে, তার পরিপূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে দেয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না।

    (:৬৫) হে নবী, তুমি মুমিনদেরকে উৎসাহিত কর যুদ্ধের জন্য। তোমাদের মধ্যে যদি বিশ জন (ābirūna-nominative masculine plural active participle) ধৈর্যশীল থাকে, তবে জয়ী হবে (mi-atayni- accusative feminine dual noun) দুশর মোকাবেলায়। আর যদি তাদের মধ্যে থাকে একশ জন, তবে জয়ী হবে হাজার অবিশ্বাসীর উপর, কারণ তারা তো বোঝে না। 

    (:৬৬) এখন বোঝা হালকা করলেন আল্লাহতায়ালা তোমাদের উপর এবং তিনি অবগত আছেন যে, তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যদি (ābiratun- nominative feminine indefinite active participle) ধৈর্যশীলা একশ জন থাকে, তবে জয়ী হবে (mi-atayni- accusative feminine dual noun)  দুশর উপর। আর যদি তোমরা এক হাজার হও তবে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী জয়ী হবে দুহাজারের উপর; আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে থাকেন। 

   

    যুদ্ধ শুরু হলে উভয় পক্ষই নিজ নিজ কৌশলে যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়। তাই আল-কোরআনে রণকৌশলের মৌল দিকনির্দেশনা সম্পর্কেও আলোকপাত করা হয়েছে। অবিশ্বাসীরা ভুল স্বীকার করে অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসলে তাদেরকে ক্ষমা করার প্রশ্ন আসে। কিন্তু তারা ভ্রান্তপথে অনড় থাকলে তাদেরকে দমনের জন্য তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। আর যুদ্ধ বেধে গেলে একে অপরের বিরুদ্ধে জয় লাভের জন্য যথাসাধ্য শক্তি প্রয়োগ করতে হয়। তাই (০৮:৬০) নং আয়াতে 'যথাসাধ্য শক্তি' বলতে যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত যুগোপযুগী অস্ত্রসস্ত্র ও সৈন্যদল এবং 'পালিত ঘোড়ার পাল' বলতে যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত যুগোপযুগী যানবাহন প্রস্তুত রাখার কথাই বোঝানো হয়েছে। এখানে এই ইংগিতটি স্পষ্ট যে, যেই যুগে যেমনটি দরকার ঠিক সেই অনুসারেই প্রস্তুত থাকার জন্য যথাসাধ্য ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা অর্জন সাপেক্ষে এই মৌল নীতি সর্বকালের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। যুদ্ধের জন্য উন্নত অস্ত্রসস্ত্র ও প্রশিক্ষিত সৈন্যদল যেমন প্রয়োজন, তেমনি যুদ্ধক্ষেত্রে সেগুলো বহন ও ব্যবহার করার জন্য বিশেষ বিশেষ যানবাহনও প্রস্তুত রাখা দরকার।


    (৮:৬৬) নং আয়াতের কারণে (৮:৬৫) নং আয়াতের নির্দেশনা মানসুখ অর্থাৎ বাতিল হয়ে গেছে বলে অনেকে দাবি করেন। কিন্তু তাদের এই দাবি যে মোটেই যুক্তিযুক্ত ও সঠিক নয় তা তুলে ধরার চেষ্টা করছি-

    যুদ্ধের ময়দান ধৈর্যহীন দুর্বল চিত্তের মানুষের জন্য উপযুক্ত স্থান নয়। যুদ্ধের সময় ধৈর্যশীলতা মানসিক শক্তি খুবই জরুরী। প্রকৃত ইমানদাররা আল্লাহর পথে যখন যুদ্ধে নামেন তখন তাদের ধৈর্য ও মনোবল সব সময় দৃঢ় অটুট থাকে। তাই এখানে দুর্বলতা বলতে ইমানদারের ধৈর্য ও মনোবলের দুর্বলতা বা কমতি নয় বরং দৈহিক দূর্বলতা টেকনিক্যাল সাপোর্ট যেমন অস্ত্রসস্ত্র যানবাহন ইত্যাদির দূর্বলতার বিষযটিই ধর্তব্য হবে। যদি দৈহিক সব ধরনের টেকনিক্যাল সাপোর্ট প্রায় সম মানের থাকে তাহলে বিশ্বাসীদের ১০ জন যোদ্ধা অবিশ্বাসীদের ১০০ জনকে মোকাবেলা করার সামর্থ রাখেন। এক্ষেত্রে অনুপাত হবে :১০। আর বিশ্বাসীদের মধ্যে দৈহিক টেকনিক্যাল দুর্বলতা থাকলে তার মাত্রা অনুসারে দল গঠন করতে হবে এবং এক্ষেত্রে বিশ্বাসী অবিশ্বাসীদের সংখ্যার অনুপাত হবে সর্বনিম্নে :২।  এই আয়াত দুটিতে বিপক্ষ দলের জনবল দক্ষতা বিবেচনায় এনে সেই অনুপাতে দল গঠনের শিক্ষা দেয়া হয়েছে। দল গঠনের জন্যে নির্ধারিত এই অনুপাতের সর্বোচ্চ পর্যায় হলো ১:১০ এবং সর্বনিম্ন পর্যায় হলো ১:২। সুতরাং অবস্থা অনুসারে এর মধ্যবর্তী যে কোন পর্যায়েও দল গঠন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। সুতরাং ১:১০ ও ১:২ অনুপাত ছাড়া এর মাঝামাঝি পর্যায়ে (যেমন ১:৯/১:৮-----১:৪/১:৩) দল গঠন করা যাবেই না, এমন বাধ্যবাধকতা নেই। তবে যুদ্ধের জন্য যোগ্যতা অর্জনের সাথে সাথে দল গঠনের অনুপাতের (১:১০ - ১:২) এই সীমানাকে অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে। মহান স্রষ্টার বেধে দেয়া এই নির্দেশনা সব কালের সকল ইমানদারদের জন্যই সমভাবে প্রযোজ্য হবে।


    আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, এখানে মূলত যাদের সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তাদেরকে  (:৬৫) নং আয়াতে (sābirūna-nominative masculine plural active participle) 'ধৈর্যশীল' এবং (:৬৬) নং আয়াতে (sābiratun- nominative feminine indefinite active participle) 'ধৈর্যশীলা' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সাধারণভাবে যুদ্ধের ময়দানে পুরুষরা যতটা সবল ধৈর্যশীল থাকতে পারেন, সৃষ্টিগত কারণেই বেশির ভাগ মহিলারা যে সে তুলনায় কম সবল ধৈর্যশীল তা বলার অপেক্ষা রাখেনা অর্থাৎ অল্পকিছু সংখ্যক ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ মহিলাদের মধ্যেই বিষয়ে সৃষ্টিগতভাবে দুর্বলতা রয়েছে। তাই সেই অনুসারে পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। (:৬৫) নং আয়াত অনুসারে ১জন 'ধৈর্যশীল' বিশ্বাসী পুরুষ যুদ্ধের ময়দানে  অবিশ্বাসীদের ১০ জনকে মোকাবেলা করার সামর্থ রাখেন। অর্থাৎ এখানে অনুপাত করলে দাঁড়ায়= ১জন বিশ্বাসী ধৈর্যশীল পুরুষ: ১০ জন অবিশ্বাসী। আর (:৬৬) নং আয়াত অনুসারে এই অনুপাত হবে= ১জন বিশ্বাসী ধৈর্যশীলা নারী: ২জন অবিশ্বাসী। যেমন, বিশ্বাসীদের ২০ জনের একটি দলে যদি ১৮ জন ধৈর্যশীল পুরুষ জন ধৈর্যশীলা নারী থাকেন তাহলে তারা (১৮x১০=১৮০ + x=) = ১৮৪ জন অবিশ্বাসীকে মোকাবেলা করার সামর্থ রাখেন বলে ধরে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে অনুপাত ২০:২০০ নয় বরং (:৬৫) (:৬৬) নং আয়াতের নির্দেশনা অনুসারে ২০:১৮৪ হবে। একইভাবে অবিশ্বাসীদের ২০০ জনকে মোকাবেলা করার সময় ২০ জন বিশ্বাসী পুরুষ কিংবা ১৮ জন বিশ্বাসী পুরুষের সাথে আরও ১০ জন বিশ্বাসী নারী রাখতে হবে। এক্ষেত্রে পুরুষ নারী মিলে বিশ্বাসীদের মোট সংখ্যা হবে (১৮+১০) = ২৮ জন এবং বিশ্বাসী অবিশ্বাসী অনুপাত হবে=২৮:২০০। আবার দুইটি আয়াতের লিঙ্গ ভিত্তিক নির্দেশনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, অবিশ্বাসীদের দলে পুরুষ নারী উভয় প্রকার সদস্য থাকলে সেক্ষেত্রে উভয়ের সমষ্টিকে মোট সদস্য সংখ্যা ধরে সেই অনুপাতে বিশ্বাসী দলের সংখ্যা নির্ধারণ করাই যুক্তিসঙ্গত সাবধানী পদক্ষেপ হবে। যেমন অবিশ্বাসীদের দলে ১৫০ জন পুরুষ ৫০ জন নারী মিলে মোট ২০০ জন থাকলেও বিশ্বাসীদের দলে মোট ২০ জন পুরুষ সদস্য অথবা ১৮ জন পুরুষ ১০ জন নারী মিলে মোট ২৮ জন সদস্য রাখতে হবে। কাজেই অবিশ্বাসীদের সংখ্যা, সক্ষমতা দক্ষতা যেমন হবে তার উপর ভিত্তি করেই আনুপাতিক হারে দল গঠন করার শিক্ষাই এখানে দেয়া হয়েছে।

    সুতরাং (:৬৬) নং আয়াতের কারণে (:৬৫) নং আয়াত বাতিল ভেবে উপেক্ষা নয় বরং প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এনে উভয় আয়াতের নির্দেশনা বিশ্লেষণ অনুসরণ করে প্রস্তুতি গ্রহণ করাই বিশ্বাসীদের জন্য কল্যাণকর হবে।


    সূরা আন নিসা (মদীনায় অবতীর্ণক্রম-৯২)

    (০৪:৭১) অর্থ- হে বিশ্বাসীগণ! নিজেদের অস্ত্র তুলে নাও এবং পৃথক পৃথক সৈন্যদলে কিংবা সমবেতভাবে বেরিয়ে পড়।

    (০৪:৭৫) অর্থ- আর তোমাদের কি হল যে, তেমারা আল্লাহর পথে লড়াই করছ না দুর্বল সেই পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর; এখানকার অধিবাসীরা যে অত্যাচারী! আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পক্ষালম্বনকারী নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও। 

    সূরা মুহাম্মদ (মদীনায় অবতীর্ণক্রম-৯৫)

    (৪৭:০৪) অর্থ- অতঃপর যখন তোমরা কাফেরদের সাথে (যুদ্ধে) মিলিত হও, তখন তাদের ঘাড়ে সজোরে আঘাত কর, অবশেষে যখন তাদেরকে পুরাদস্তুরভাবে পরাভূত কর তখন তাদেরকে শক্ত করে বেধে ফেল। অতঃপর পরবর্তীতে হয় মুক্তিদান অথবা মুক্তিপণ গ্রহণ- যতক্ষণ পর্যন্ত না যুদ্ধ তার অস্ত্রভার নামিয়ে দেয়! এটাই (বিধান); আর যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন তাহলে তিনিই তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে চান, আর তারা যারা আল্লাহর পথে হত্ (শহীদ) হয়, তিনি (আল্লাহ) কখনই তাদের কর্ম বিনষ্ট করবেন না।

    সূরা আত তাওবাহ (মদীনায় অবতীর্ণক্রম-১১৩)

    (০৯:০৫) অর্থ:- অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের (ধরার) সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

    (০৯:৭৩) অর্থ- হে নবী, অবিশ্বাসী এবং মুনাফিকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম কর এবং তাদের প্রতি কঠোর হও। তাদের ঠিকানা হল দোযখ- নিঃসন্দেহে কত নিকৃষ্ট পরিনাম!


    (০৪:৭১) নং আয়াতে যুদ্ধ করার দুটি কৌশল সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। প্রয়োজনে পৃথক পৃথকভাবে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে গেরিলা যুদ্ধ করতে হবে অথবা ক্ষেত্র বিশেষে একসাথে সমবেত শক্তি নিয়ে লংমার্চ কোরে গণবিপ্লব ঘটাতে হবে। আবার (০৯:০৫) নং আয়াতে গেরিলা বাহিনীকে শত্রুর অপেক্ষায় ওঁৎ পেতে বসে থাকতে এবং আচমকা আক্রমণ কোরে তাদেরকে হত্যা অথবা বন্দী করার কথা বলা হয়েছে। এচাড়াও তাদের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের পথগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার কৌশল হিসেবে অবরোধ আরোপের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নিরপরাধ মানুষ যেন অহেতুক হয়রানি ও ভোগান্তির স্বীকার না হন সেদিকে সর্বোচ্চ দৃষ্টি রাখতে হবে। গেরিলা যুদ্ধ হোক কিংবা সমবেত গণবিপ্লব হোক, উভয় ক্ষেত্রেই আত্মরক্ষা ও শত্রুর মোকাবেলা করার জন্য সাথে অস্ত্র রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কারণ বিপক্ষ শক্তি দুর্বলতার সুযোগে কখন কিরূপ আচরণ করবে তা বলা মুশকিল। তাই তাদের মনে ভীতির সঞ্চার করার প্রয়োজন রয়েছে। তারা যেন অন্তত বোঝে যে, মারতে আসলে তাদেরকেও মাশুল দিতে হবে, এমনকি মরতেও হতে পারে। শত্রুর মোকাবেলায় যুগোপযুগী সামর্থ অর্জন কোরে প্রস্তুত থাকার জন্য মহান আল্লাহতায়ালা মুসলিমদেরকে হুকুম করেছেন। তাই আল্লাহর এই বিধান মেনে চলার ব্যাপারে অবশ্যই যত্নবান হতে হবে। সব সময় স্মরণ রাখতে হবে যে, আল-কোরআনে নিরাপরাধ মানব হত্যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই জেনে শুনে নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তারা যেন মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত না হয় কিংবা দুনিয়াবি ফায়দা হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে অত্যাচারিত না হয় সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। কুট কৌশলের স্বীকারে পরিণত হয়ে নিরপরাধ একটি মানুষের প্রাণ গেলে গোটা মানব জাতিকে খুন করার অপরাধে অপরাধী হতে হবে। আর ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা করলে নিজেদেরকেই ভুগতে হবে।


    সরাসরি যুদ্ধ কিংবা বিরোধীতা করেনি এমন মানুষও শত্রুপক্ষের মাঝে থাকতে পারে। তাই শত্রুপক্ষের মধ্যে যারা পরাজিত হবে প্রথমত (৪৭:০৪) তাদেরকে বন্দী করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর এই বন্দী অর্থাৎ জীম্মিদের বিনা অপরাধে হত্যা করা পাপ বলে হািদিছে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে-

   

    পরিচ্ছদঃ ১৯৬৫. বিনা অপরাধে জিম্মীকে যে হত্যা করে, তার পাপ

    ইসলামিক ফাউন্ডেশন, গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী, অধ্যায়ঃ ৪৮/ জিহাদ

   হাদিস নম্বরঃ ২৯৪২। কাইস ইবনু হাফস (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যাক্তি কোন যিম্মিকে হত্যা করে, সে জান্নাতের ঘ্রাণ পাবে না। ‘আর জান্নাতের ঘ্রাণ চল্লিশ বছরের দুরত্ব থেকে পাওয়া যাবে।’


    তবে শত্রুপক্ষকে পরাজিত কোরে যতক্ষন পর্যন্ত না সম্পূর্ণরূপে দখল প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বন্দী কোরে রেখে তাদের সংখ্যা বাড়ানো ঠিক হবে না। কারণ তাহলে একদিকে যেমন তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে, তেমনি মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবার মত অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে। তাই এরূপ ক্ষেত্রে যারা নিরাপরাধ (সরাসরি বিরোধীতা করেনি এমন পুরুষ, নারী ও শিশু) তাদেরকে মুক্তি দিতে হবে, আর বাকিদেরকে মুক্তপণ নিয়ে ছেড়ে দেয়ার বিধানও রাখা হয়েছে। আর শত্রুপক্ষ যদি অস্ত্র নামিয়ে রাখে ও আত্মসমর্পণ করে, সেক্ষেত্রে তাদেরকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে ও তত্তাবধানে রাখতে হবে। আর যদি নব্য রাষ্ট্রের পক্ষে সেই মুহূর্তে উপযুক্ত ব্যবস্থা করা সম্ভব না হয়, তাহলে রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে তাদেরকে 'ডান হাতের অধিকারভূক্ত' হিসেবে সামর্থবান মুসলিমদের অভিভাবকত্বে রাখা যেতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই একদিকে যেমন তাদের মৌলিক অধিকার পূরণের জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং তাদের প্রতি যেন কোনরূপ অমানবিক আচরণ করা না হয় সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। প্রয়োজনে তাদের বিয়ের ব্যবস্থাও করতে হবে। অপরদিকে তেমনি তারা শ্রম ও মেধা দিয়ে মালিক অর্থাৎ অভিভাবককে বৈধ কর্মে সহায়তা করতে বাধ্য থাকবে। আবার তারা অশালীন ও অন্যায় কর্মে লিপ্ত হলে তাদেরকে বিচারের সম্মুখিন হতে হবে এবং নির্ধারিত শাস্তিও পেতে হবে। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তি সংক্রান্ত চুক্তি পূরন অথবা ইসলাম গ্রহণ করা সাপেক্ষে তাদেরকে মুক্তিদানের অপশনও রাখা হয়েছে।

 

    সূরা আল-আনফাল (মদীনায় অবতীর্ণক্রম-৮৮)

    (০৮:০১) অর্থ- তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, 'ফায়' (যুদ্ধ ছাড়াই শত্রুরা যে সমস্ত সামগ্রী ফেলে পালিয়ে যায়) সম্পর্কে, বলে দাও, 'ফায়' হল আল্লাহর এবং রাসূলের, অতএব, আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের অবস্থা সংশোধন করে নাও, আর আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য কর, যদি ঈমানদার হয়ে থাক।

    (০৮:৪১) অর্থ- আর জেনে রাখ যে, গনীমতের যা কিছু- তার এক পঞ্চমাংশ হল আল্লাহর জন্য এবং রাসূলের জন্য, আর নিকটজন, এতিম, নিঃস্ব ও মুসাফির/পথকলিদের জন্য; যদি তোমরা বিশ্বাস কর আল্লাহর উপর এবং সে বিষয়ের উপর যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি ফয়সালার দিনে, যেদিন উভয় শক্তি মিলিত হয়েছিল। আর আল্লাহ সব কিছুর উপরই সর্বশক্তিমান।

    (০৮:৬৯) অর্থ- অতঃপর খাও তোমরা 'গনীমত' (কিতাল/যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে শত্রুপক্ষের কাছ থেকে লব্ধ সামগ্রী) থেকে- যা কিছু হালাল ও পরিচ্ছন্ন। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াময়।

    সূরা আল হাশর (মদীনায় অবতীর্ণক্রম-১০১)

    (৫৯:০৬) অর্থ- আল্লাহ নির্বাসিত ইহুদিদের (বনু-বনুযায়রের) কাছ থেকে তাঁর রসূলকে যে ধন-সম্পদ দিয়েছেন, সেজন্যে তোমরা ঘোড়ায় কিংবা উটে চড়ে যুদ্ধ করনি, কিন্তু আল্লাহ যার উপর ইচ্ছা, তাঁর রসূলগণকে প্রাধান্য দান করেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান।

    (৫৯:০৭) অর্থ- আর যা কিছু 'ফায়' হিসেবে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে জনপদবাসীদের কাছ থেকে দিয়ে থাকেন, তখন তা অবশ্যই আল্লাহর এবং অবশ্যই তাঁর রাসূলের, আর অবশ্যই এর অধিকারী- নিকটজনেরা, এতিমরা, নিঃস্বরা এবং মুসাফির/পথকলিরা্; যাতে তা (সম্পদ) কেবল তোমাদের মধ্যকার ধনীদের মধ্যেই আবর্তন না করে। রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর, নিঃসন্দেহে আল্লাহ দণ্ড দানে কঠোর।

    (৫৯:০৮) অর্থ- (এই ফায়) অবশ্যই হিজরতকারী/দেশত্যাগী অভাবীদের, যারা বহিষ্কৃত হয়েছে তাদের বাস্তুভিটা ও ধন-সম্পদ থেকে, কামনা করেছে আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি এবং সাহায্য করেছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে; তারাই তো সত্যাশ্রয়ী। 

    সূরা আল ফাতহ (মদীনায় অবতীর্ণক্রম- ১১১)

    (৪৮:১৫) অর্থ- যখন তোমরা 'মাগা-নিমা' অর্থাৎ যুদ্ধলব্ধ সামগ্রী সংগ্রহের জন্য যাবে, যারা পশ্চাতে থেকে গিয়েছিল তারা বলবে, 'আমাদেরকেও তোমাদের সঙ্গে যেতে দাও।' তারা আল্লাহর কালাম পরিবর্তন করতে চায়। বল, 'তোমরা কখনই আমাদের সঙ্গে যেতে পারবে না।' আল্লাহ পূর্ব থেকেই এরূপ বলে দিয়েছেন। তারা বলবে, 'তোমরা তো আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করছ।' বস্তুত তারা সামান্যই বোঝে।    

    (৪৮:১৬) অর্থ- গৃহে অবস্থানকারী মরুবাসীদের বল, 'আগামীতে তোমরা এক প্রবল পরাক্রান্ত জাতির সাথে যুদ্ধ করতে আহুত হবে। তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে, যতক্ষণ না তারা মুসলিম হয়ে যায়। তখন যদি তোমরা নির্দেশ পালন কর, তবে আল্লাহ তোমাদেরকে উত্তম পুরস্কার দিবেন। আর যদি পৃষ্ঠপ্রদর্শন কর যেমন ইতিপূর্বে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছ, তবে তিনি তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিবেন।'

    (৪৮:১৭) অর্থ- কোন অপরাধ নাই অন্ধের ব্যাপারে, খঞ্জের ব্যাপারে কোন অপরাধ নাই ও রুগ্ণের ব্যাপারে কোন অপরাধ নাই এবং যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অনুগত্য করবে, তাকে তিনি জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত হয়। পক্ষান্তরে যে, ব্যক্তি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিবেন।

 

    সূরা আনফালের (০৮:০১) নং আয়াতে 'ফায়' অর্থাৎ 'যুদ্ধ ছাড়াই শত্রুরা যে সম্পদ ফেলে পালিয়ে যায়' এবং (০৮:৬৯) নং আয়াতে  'গনীমত'  অর্থাৎ 'কিতাল/ যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে লব্ধ সম্পদ'-  এ দু'য়ের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরা হয়। (০৮:৪১) নং আয়াতে 'গনীমতের' পাঁচ ভাগের এক ভাগ আল্লাহর জন্য এবং রাসূলের জন্য, আর নিকটজন, এতিম, নিঃস্ব ও মুসাফির/পথকলিদের জন্য নির্দিষ্ট কোরে দেয়া হয়েছে। আর বাকি পাঁচ ভাগের চার ভাগ যারা  যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন তাদের মধ্যে ভাগ কোরে দিতে হবে।


    পরবর্তীতে (৫৯:০৬) ও (৫৯:০৬) নং আয়াতে 'ফায়' এর সম্পদের হকদার নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। 'ফায়' এর সম্পূর্ণ অংশই শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য এবং রাসূলের জন্য, আর নিকটজন, এতিম, নিঃস্ব ও মুসাফির/পথকলিদের জন্য নির্দিষ্ট কোরে দেয়া হয়েছে। আল্লাহতায়ালা হকদার নির্দিষ্ট করার নির্দেশ দেবার পর কে কতটুকু অংশ পাবে তার ভার রাসূল (সাঃ) উপর ন্যাস্ত করেছেন এবং এ ব্যাপারে তাঁর সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বলা হয়েছে। যুদ্ধের সময় জীবন ধারনের জন্য প্রেয়াজনীয় খাদ্যদ্রব্যের ঘাটতে হতে পারে। তাই যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে শত্রুপক্ষের কাছ থেকে লব্ধ (০৮:৬৯) হালাল ও পরিচ্ছন্ন সামগ্রী থেকে আহার করার পারিমশন দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাই বলে আবার শত্রু এলাকায় বসবাসরত নিরীহ মানুষদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে লুটপাট করার এবং তাদের স্রী, পুত্র-কন্যা ও নিকটজনদের জোরপূর্বক ছিনিয়ে এনে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি কোরে নিয়ে আটকে রেখে তাদের সাথে যা ইচ্ছা তাই করার পারমিশন দেয়া হয়েছে- এমনটি ভাবার ও করার  কোন প্রশ্নই আসতে পারে না। তবে ইতিপূর্বে শত্রুপক্ষের কেউ যদি কোন মুসলিমের সম্পদ হরণ করে থাকে, তাহলে (০২:১৯৪) সেই পরিমাণে ফেরত নেবার এখতিয়ার দেয়া হয়েছে।


    (৪৮: ১৫, ১৬, ১৭) নং আয়াতে স্পষ্ট বলে দেয়া হয়েছে যে, যারা যুদ্ধে অংশ না নিয়ে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে, যুদ্ধলব্ধ সামগ্রীতে তাদের কোন অংশ নেই। হেলা কোরে ঘরে বসে থাকার জন্য তারা অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হবেন। তবে অন্ধ, খঞ্জ ও রুগ্ণ ব্যাক্তিরা যুদ্ধে অংশ না নিলে কোন অপরাধ হবে না। বরং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অনুগত্য করলে যে কেউ জান্নাত প্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত হবেন।


    ইসলাম শান্তির ধর্ম। এই শান্তির অর্থ একটি ক্ষুদ্র গন্ডির মাঝে শুধু নিজে শান্তিতে থাকা নয়। আশেপাশের সবাই যেন শান্তিতে থাকেন, নির্যাতন ও নিপীড়নের স্বীকার না হন। ধনীরা যেন একতরফাভাবে ধনের পাহাড় গড়ে ভোগ-বিলাসিতায় মেতে থাকতে না পারেন এবং স্বেচ্ছাচারী না হয়ে ওঠেন, বরং আপামর জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সচেতন ও বাধ্য থাকেন- ইসলামে সে ব্যপারে অত্যন্ত শক্ত ও কার্যকর বিধান রয়েছে। আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের জন্য জিহাদ অর্থাৎ সাধ্যমত চেষ্টা ও সাধনা করা মুসলিমদের জন্য ফরজ। এই জিহাদের সর্বোচ্চ পর্যায় হলো অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করা। অত্যাচারী শাসকের হাত থেকে নির্যাতিত সাধারণ মানুষের অধীকার আদায় ও শান্তি কায়েমের জন্য একজন বিচক্ষণ, সৎ ও যোগ্য নেতার অধীনে থেকে সমবেতভাবে ইসলামী সমাজ ও আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করাই এই যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য ।

    ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

    একজন বলেছেন- নিরপরাধ বিধর্মী, নাস্তিক  ও মুরতাদ ব্যক্তিদের অধিকার সম্পর্কে কিছু বলবেন। অবিশ্বাসী হলেই কি তাদেরকে হত্যা করা যায়?

    ..................

    আমার জবাব- ইসলামি রাষ্ট্রে বসবাসরত বিধর্মী ও অবিশ্বাসী ব্যক্তিরা মুসলিমদের সাথে সন্ধিতে আবদ্ধ হয়ে ও জিজিয়া-কর দিয়ে যদি শান্তিপূর্ণভাবে সে দেশে বসবাস করতে চান, তাহলে তাদের জান ও মালের হেফজত করা সেই রাষ্ট্রের মুসলিমদের জন্য ফরজ অর্থাৎ অবশ্য কর্তব্য।

    নিরপরাধ কোন মানুষকে কখনই হত্যা করা উচিত নয়, বরং এটি যে মহাপাপ তা পবিত্র কোরআনে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং নিরপরাধ মানুষের প্রাণ রক্ষা করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সুতরাং স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে নিরপরাধ কোন অমুসলিমকে হত্যা করাও অন্যায়। তবে যুদ্ধাবস্থার বিষয়টি একটু ভিন্ন। কারণ তখন কে নিরপরাধ আর কে অপরাধী তা নিরূপণ করা বেশ কঠিন হয়ে যেতে পারে। তারপরও যুদ্ধের সময়ও শত্রুপক্ষের নিরীহ নারী ও শিশুরা যেন অযথা অত্যাচারিত না হয় এবং তাদেরকে হত্যা করা না হয় সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে মুসলিম কিংবা অমুসলিম যেই হোক না কেন, শত্রুপক্ষের সাথে গোপনে দুরভিসন্ধি কিংবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহযোগীতা করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গন্য হবে।

    বিস্তারিত জানতে হলে এখানে দেখুন- অমুসলিম, মুরতাদ ও নাস্তিকের অধিকার

......................................

    একজন বলেছেন- ভারত বিভক্ত হওয়ার জন্য মুসলিম লিডাররা দায়ি নয় কি? আর কাশ্মিরে অশান্তি জিইয়ে রাখার পেছনেও তারাই কাজ করছেনা কি?

    ধরে নিলাম আপনাদের কথাই ঠিক!  এখন হাইপোথোটিক্যালি আমরা যদি আগামি কাল দেখি, ভারত সরকার একটি নতুন আইন জারি করল। আইনের ভাষা অবিকল নিম্নরুপ- "তোমরা যুদ্ধ কর ইসলাম ধর্মের ঐ লোকদের সাথে, যারা ভগবান ও মুর্ত্তিপূজায় বিশ্বাস রাখে না, ভগবান ও শ্রীকৃষ্ণ যা নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন তা মান্য করে না এবং গ্রহণ করে না হিন্দু ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা ‘শিবসেনা কর’  প্রদান করে।"
    তাহলে নিঃশ্চয় আপনি এবং ভারতের মুসলিমরা ভারতের  ট্যাক্স বিষয়ক এই নতুন  ফরমানকে স্বাগত জানাবেন, নয় কি??

.....................
    আমার জবাব-
অনেকে অশান্তি সৃষ্টির জন্য একতরফা ভাবে শুধু মুসলিমদের দায়ি করেন। কিন্ত তারা হয়ত ভুলে যান যে, এক হাতে তালি বাজে না। কম-বেশি উভয় পক্ষেরই দোষ আছে। তাই অশান্তি সৃষ্টির দায় কোন একপেক্ষর ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া ঠিক নয়। এটি এক ধরণের হীনমন্যতা সত্যকে বিকৃত অস্বীকার করার অপচেষ্টা মাত্র।

    ভারতে কাশ্মিরের মুসলিমরা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করছেন। অনেকে এটিকে স্বাধীনতার সংগ্রাম বলে থাকেন। কিন্তু স্বাধীন হয়ে যাওয়া তো এত সহজ ব্যাপার নয়। এটা হাতের মোয়া নয় যে চাইলেই পাওয়া যাবে। আর এটি এমনতর আবেগের বিষয়ও নয় যে, কয়েকটি ইট-পাটকেল মারলেই মিলে যাবে। বরং এর জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে হয়।

    এখন ভারত তথা কাশ্মিরের মুসলিমদের জন্য টি রাস্তা খোলা আছে-

    ১/ হয় ভারত সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে আর দশজনের মত তাদেরকেও সে দেশের প্রজা হয়ে থাকতে হবে।

    ২/ নয়ত স্বাধীন হওয়ার জন্য শুধু যুদ্ধ নয়, বরং যোগ্যতাও অর্জন করতে হবে। এটাই সাফ কথা।

    আর এর মাঝামাঝি অবস্থানে থাকলে গুলি-বারুদ থেকে শুরু করে যা যা খাওয়ানো হবে সবই তাদেরকে হজম করতে হবে। ভারত সরকার যেভাবে চাইবে, মার খেয়ে হলেও সেভাবেই বাঁচতে হবে। কিন্তু তাতে কি ভারতবাসীর শান্তি মিলবে?

    বর্তমানে ভারতের মুসলিমরা হয় দমিত নয়ত সেখানকার কৃষ্টি রীতিকে আত্মস্থ করেই সুখে-দুখে বসবাস করছেন- এই সত্যটি কি আপনি বিশ্বাস করেন না? ভারতের মুসলিমদের উপর (muslim harassment in india) অন্যায় আচরণ, বৈষম্য নীতি, নির্যাতন বন্ধ হলে হয়ত স্বাধীনতার চিন্তা ভারত তথা কাশমিরের মুসলিমরা করতেন না কিংবা এই ভাবনা সহজে তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া যেত না। তাই ভারত সরকারের উচিত, এই সমস্যা সমাধানের জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মুসলিম লিডারদের সাথে বসে ভারতে বসবাসরত মুসলিমদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সকল ধরণের বৈষম্য নির্যাতন বন্ধের প্রয়াস নেয়া। তা না হলে ভবিষ্যতে ভারত ভাগ না হলেও চাপা ক্ষোভ সবার মধ্যেই অশান্তি বয়ে আনতে পারে। যা হয়ত ভাগ হয়ে যাওয়ার চাইতেও কঠিন অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে এবং ভারত, বাংলাদেশ পাকিস্তান, কারো জন্যই সুখকর হবে না। তাই শান্তির স্বার্থে এই অবস্থার একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান কামনা করছি।

   

    ভারত সরকার ’শিবসেনা কর’ চালু করলে তাতে আমার কোন আপত্তি নেই। তবে শুধু কর নিলেই হবেনা, সরকারকে মুসলিমদের অধিকার সংরক্ষণের নিশ্চয়তাও দিতে হবে। আমি মনে করি এর ফলে মুসলিমদের সম্বিত ফিরে পাবার পথটি সুগম হবে। কর দেয়ার মাধ্যমে কোন দেশের জনগণ সেই দেশের বর্তমান সরকারের কাছে অনুগত থাকারই প্রমাণ দেন। এতে এত ব্যথিত ও চিন্তিত হওয়ার কি আছে? সুতরাং কর বলেন বা জিজিয়া, যে দেশের যে আইন সেই অনুসারেই তো আনুগত্য প্রদর্শন করতে হবে। আর না মানলে সংশ্লিষ্ট আইন মতেই শাস্তি পেতে হবে। তাইনা?     
......................................

    ভারত থেকে মি. saha বলেছেন- IN  MY  POINT OF  VIEW , NEITHER NATIONAL CONGRESS NOR TO MUSLIM LEAGE HAVE RESPONSCIBILITY TO SPLEET INDIA..  WHEN AIEXENDER INDIDED INDIA NANDA DYNASTI WAS IN MAGHADHA .ALEXENSER AFFRIED THE KING OF  NANDA.. THEN  IHE  HISTORICAL MAYARAYA DYNASSTI ..IF  THE  LETTER  INDIAN RULLER  SUSTSIN THEIR ADMINISTRATIVE MILITARY  POWER THEN DEFINATELY THEY  CAN  REPLY IN 712ad,1192ad,,BUT  ALS ,,, TGE GREAT  KING  ASHOKA MAKE ''VERY GHOSH TO DHOMMO GHOSH..BUT THEN  A  LONG  TIME  WAS  PASSED,,  NO  ONE  COULD  THINKS ABOUT ALL OVER INDIA ,, THEY  ARE  THINKED THERE  REIGON,, NEITHER  PALL DYANISTI.. NOR  PROTIHAR NOR TO  GYZZOR DYANISTY,, SULTAN MAMUID SEVENTEEN TIME INVIDED  INDIA AND  RESULT ? I  THINK  YOU  KNOW ..THE INDIAN WHO BORN IN INDIA,, THODS WHO  ARE INDIAN  BY  BLOOD,, NOW  A  LONG  TIME THEY  ARE  ''JIMMY''    BUT   NOW  ''SAKH, HOON, PATHAN, MOGHALL''  WE  THE  PEOPIES OF  INDIA——————SECUIAR; AND   WE  ARE PROUD OF  OUR SECULARISM…..WE   HAVE ABLITY  TO  SAY ——LA E LA HA ILLLALLA MOHOMAD'R  RASSUL ILLA,,, AND  ALSO  SAYED HARA RAMA  HARA KRISHNA..  DO  YOU  HAVE??????   I WEAT  FOR  YOUR  ANSWER

.........................

    আমার জবাব- আপনি কি বাংলা জানেন না!? আর আপনার ইংরেজিটাও কেমন যেন বেখাপ্পা ঠেকছে। হয়ত এটা আমারই অপারগতা। যাই হোক, শুধু বাঙালী পরচিয় দিলেই এবং মুখে জয় বাংলা বললেই হবেনা। আশাকরি এরপর থেকে বাংলায় লেখার চেষ্টা করবেন। তা না হলে আমার পক্ষে আপনার মন্তব্যের জবাব দেয়া সম্ভব নাও হতে পারে।

    'Secularism' অর্থ যে 'নৈতিকতা শিক্ষা ধর্মকেন্দ্রিক হওয়া উচিত নয়, এই মতবাদ; ইহজাগতিকতা; ইহবাদ'তা নিশ্চয় আপনি জানেন। অথচ আপনারা ভারতবাসী একটি ধর্মভিত্তিক দলকে ক্ষমতায় বসিয়েছেন। আর এতেই প্রমাণিত হয় যে, আপনি বা আপনারা মুখেই শুধু Secularism এর কথা বলেন। কিন্তু বিশ্বাসে কাজে সম্পূর্ণ বিপরীত।

    হিন্দুস্তানের কিংবা যে কোন রাষ্ট্রের সচেতন সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ একটি ধর্ম ভিত্তিক দলকে চয়ন করতেই পারেন। গণতন্ত্রে জনতার রায় মেনে নিতে হয় এবং তাতে আমার কোন আপত্তি নেই। কারণ আমি ধর্ম ভিত্তিক সরকারের বিপক্ষে নই, যদি তারা কট্টোরপন্থি মনোভাব ত্যাগ কোরে সত্যিকার অর্থে অসাম্প্রদায়িক পরিবেশকে লালন করতে পারতেন।

    আপনি/ আপনারা কি মুখেই শুধু 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' এবং 'হরে রাম হরে কৃষ্ঞা' যপেন? অন্তর থেকে এমনটি বিশ্বাস করলে তো ভারতের মুসলিমরা বৈষম্য নির্যাতনের স্বীকার হতেন না। সুতরাং আসুন, মুখের বোলচাল ছেড়ে শান্তির স্বার্থে যাকে যতটুকু অধিকার দেয়া প্রয়োজন তা থেকে বঞ্চিত না করে তা সংরক্ষণ করার চেষ্টা করি।

    বাংলাদেশের জনগণ কিন্তু এখনো কোন ধর্ম ভিত্তিক দলকে ক্ষমতায় বসায় নাই। আমার বিশ্বাস, এদেশে কখনো কোন ধর্ম ভিত্তিক দল ক্ষমতায় এলেও বাংলাদেশের মানুষ বরাবরের মত তাদের অসাম্প্রদায়িক মনোভাবকে লালন করবেন। সুতরাং এরপর আর বেশি কিছু মুখে বাড়িয়ে বলার প্রয়োজন আছে কি?

    এখানে আমন্ত্রণ- "সম্প্রীতি একতার দেশ"- 'বাংলাদেশ'
......................................

    ভারাত থেকে মি. সাহা বলেছেন- as soon as possible I installed bengali word,,then I wrote bengali. ok——————. In 1947 how many hindu religion was in eastpakistan,,then how maney hindu in ganaprojatantari banglsdesh at present ?how many perecentage in future?may I REQUESTED TO YOU 2011 SENSUS REPORT OF INDIA ,, YOU WILL FINED THE MUSLIM COMMUNITY HAVE HIGHEST BIRTH RATE.

    I INVITED TO ALL OF YOU PLEASE VISIT IN KOLKATA DURING DURGAPUJA OR EAD-UL FITTER THEN YOU UNDERSTAND .. INDIA HAVE ABILITY TO PROTECTED THERE CITIZEN . SOME TIME UNEXPECTED INCIDENT IS HAP-END.MOST OF CASE SOME PAKISTANI ARE ENGAGED, HOW MANY PEOPLE YOU HAVE ? BUT MUCH MORE MUSLIM PEOPLE WE HAVE .I THINK YOU ARE NOT SURPRISE TO LISTEN , THAT THE MUSLIM COMMUNITY ORGANISED DURGAPUJA, KALIPUJA AND EVERY STUDENT (student have one cast that is they are student) CALIBRATE SARASWATI PUJA. IN EAD UL FETOR ALL INDIAN PARTICIPATED.

    DO YOU TELL WHAT REASONS FOR BANGLADESH CAME IN NEWS ? WHY RAMKRISHNA-MISSION IN BANGLADES SEND A LETTER INDIA Gov. IN FUTURE THE NON MUSLIM COMMUNITY IS SAFE ?I THINK TIME WILL GIVE ANSWER.

………………………….

    আমার জবাব- আপনার ইংলিশটা বুঝতে বড্ড বেগ পেতে হচ্ছে। তারপরও কিছু বলার চেষ্টা করছি। আশাকরি এরূপ টিংলিশ টাইপ ইংলিশ ছেড়ে বাংলায় লিখার অভ্যাস করবেন।


    কিছু মানুষ সব দেশেই আছেন যারা নিজেদের প্রয়োজনে বিদেশে গিয়ে প্রবাসী জীবন কাটাচ্ছেন। দেশে ফরেন-মানি পাঠিয়ে জাতির উন্নয়নে অবদান রাখছেন। আবার এমন কিছু মানুষও আছেন যারা দেশে বিতর্কীত ঘটনা ঘটিয়ে তাদের জীবন বিপন্ন হওয়ার অযুহাত দেখান এবং সেই অছিলায় বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চান। তারা দেশের ভাবমূর্তী নষ্ট করে একবার এখানে একবার সেখানে পরগাছার মত দিন কাটান। তবে সব দেশেই যে কেউ কেউ প্রকৃতই ক্ষতিগ্রস্ত হন সেটাও মিথ্যে নয়। আপন জন্মভূমি ত্যাগ করা অনেকের কাছে ততটা সহজ না হলেও প্রাণের মায়ায় তারা হয়ত কখনো কখনো সেই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। সব ধর্মেই এ ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ আছেন। তবে বর্তমানে সারা বিশ্বে কোন ধর্মের মানুষ বেশি অত্যাচারিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তা নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিবেচনা করলে ঠিকই বুঝতে পারবেন।


    মুসলিমদের মধ্যে সন্তান জন্মের হার যে বেশি তা আপনিই বলেছেন। কারণ সত্যিকার মুনলিমরা সন্তান হত্যায় নয়, বরং জন্মদানে বিশ্বাসী। অপরদিকে ভ্রুণ হত্যার হার ভারতের হিন্দুদের মধ্যে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া লিভ-টুগেদার এর কারণে সন্তান নেয়ার কথা অনেকে ভাবতেই পারেন না। পবিত্র কোরআনের বিধান অনুসারে ইসলামের অনুসারীদের কাছে কিন্তু এগুলো ব্যাড-কালচার হারাম। তাই মনুষ্য উদ্ভাবিত এসব আল্ট্রা মর্ডান জীবন পদ্ধতি তারা পরিহার করেই চলেন। প্রয়োজনে মুসলিমরা পরিবার পরিকল্পণা গ্রহণ করেন। কিন্তু তা সত্বেও মহান স্রষ্টার দেয়া বিধান মেনে চলার কারণে সকল দেশেই মুসলিমদের সংখ্যা যে দিন দিন বৃদ্ধি পাবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।


    বাংলাদেশেও প্রতি বছর মুসলিমরা ঈদুল ফিতর ঈদুল আযহা অর্থাৎ কুরবানীর ঈদ যেমন পালন করেন, তেমনি হিন্দুরা দূর্গা, শরস্বতী কালি পুজা, খৃষ্টানরা বড় দিনের উৎসব এবং অন্যান্য সকল ধর্মের মানুষই তাদের ধর্মীয় দিবসগুলো অত্যন্ত আনন্দ সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পালন করে থাকেন তবে এটা ঠিক যে, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে মুসলিমরা সরাসরি পুজায় অংশ নেয়া থেকে দূরে থাকেন। কারণ মুসলিমদের জন্য শিরক অর্থাৎ অংশিবাদ (দেব-দেবির উপাসনা করা) হারাম। মহান স্রষ্টা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উপাসনা করলে আর মুসলিম থাকা যায় না। তাই তারা বিরোধীতা করেন না বা বাধাও দেন না, বরং কিছুটা দূরত্ব রক্ষা করে চলেন। আর এরই মাঝে পরস্পর শুভেচ্ছাও বিনিময় করে থাকেন। শান্তি শৃঙ্খলা যেন ভঙ্গ না হয় সে বিষয়েও সচেতন থাকেন। আপনাকে আমন্ত্রণ রইল। আশাকরি অন্যের কাছে না শুনে নিজে এসে দেখে যাবেন।


    ভারতে কুরবানীর ঈদ পালনের ব্যাপারে মুসলিমরা বেশ সচেতন থাকেন (Avoid cow slaughter on Eid-ul-Azha: Deoband to Muslims) আর তাই হিন্দু ধর্মালম্বীদের সেন্টিমেন্টের কথা বিবেচনা করে তারা গরু কুরবানীর পরিবর্তে অন্য পশু কুরবানী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু তারপরও সেখানকার অনেকেই পশুপ্রীতির দোহাই তুলে সেভাবে পালন করতে দিতেও নারাজ (Thousands Petition to Ban Animal Sacrifice as Part of Eid al-Adha in India) অথচ তারা নিজেরা কিন্তু নিজেদের প্রয়োজনে প্রত্যহ অগণিত জীব (উদ্ভীদ+পশু) হত্যা করেই যাচ্ছেন।


    ঈদের সময় সামর্থবান মুসলিমরা আল্লাহর নামে পশু কুরবানী করেন শুধু নিজেদের ভোগের জন্য নয়। তারা নিজেরা খেয়ে বেশিরভাগ অংশ আত্মীয়-প্রতিবেশী এবং গরীবদেরও খাওয়ান। আর এর মধ্য দিয়ে পুষ্টিহীনদের পুষ্টির চাহিদাও মেটে। পশুর চামড়া বা তা বিক্রী করে সেই অর্থ এতিম ও গরীবদের দান করেন। আবার এই পশুর চামড়াগুলো দেশ দশের জন্যও কাজে লাগে। এভাবে ধনীদের হাতে জমে থাকা সম্পদ গরীবদের হাতে আসে এবং বাজারে কাচা টাকার প্রবাহ সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় বেশ বড় ভূমিকা রাখে। (এখানে আমন্ত্রণ- কুরবানি সম্পর্কিত প্রশ্ন উত্তর)


    রাজনৈতিক অস্থিরতা এখন সারা বিশ্বময়। তাই সেই নেতিবাচক রেশ থেকে এখানকার পরিবেশও সম্পূর্ণ মুক্ত নয়। কিন্তু তাই বলে সেসব বিচ্ছিন্ন ঘটনার দোহাই তুলে দেশের মাটিতে বসবাস করে সেই দেশের বিরুদ্ধে চিঠি চালাচালি করাটা মোটেও শুভ-বুদ্ধির পরিচয় বহন করেনা। বরং এর পছনে দুরভিসন্ধির গন্ধই পাওয়া যায়। যা কারো জন্যই ভাল নয়। তাই এসব পরিহার করা চাই। আশাকরি প্রতিবেশী সকল দেশ সত্যটা যাচাই করেই সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। 

    ধন্যবাদ-

……………………………

    ভারত থেকে মি. সাহা বলেছেন- ACCRODING  TO  INDIAN  CONSTITYTION 'SECULARISM' MEANS INDIA HAVE NO PERTICULER RELLIGION .  I  REQUEST TO  YOU,  TO  SEE INDIAN CONSTITUTOON PART-THREE,,,ARTICLE 12 TO 35,,PART  FOUR,ARTICLE 36 TO 51

………………

    আমার জবাব- এতদিন ধরে স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রিরা কি তাহলে সব ভুল শিখছেন? এতকাল পেরিয়ে এসে অবশেষে ‘SECULARISM’ এর অর্থ খোঁজার জন্য ব্র্যণ্ডেড ডিকশনারী ছেড়ে দিয়ে কি এখন তাহলে ভারতের সংবিধান ঘাটতে হবে!? বেশ মজা তো!


    কিতাবে ছাপিয়ে সারাজীবন পড়াবেন এক রকম, আবার সংবিধানে জুড়ে দিয়ে বলবেন আরেক রকম- এরূপ রূপ পাল্টানো ভাল দেখায় না। আমি সরল পথের পথিক, তাই এরূপ ছলা-কলায় বিশ্বাসী নই। বরং এই শব্দটা ছেড়ে সংবিধানে “Cosmopolitanism অর্থাৎ বিশ্বনাগরিক তত্ব/ অসাম্প্রদায়িকতা/ বিশ্ব জনিন শব্দটা জুড়ে দিলেই তো ঝামেলা চুকে যায়। যদিও শব্দ জুড়ে দেয়াটা বড় বিষয় নয়। মানসিকতার পরিবর্তনটাই আসল কথা। কিন্তু তারপরও ভাবটা অক্ষুন্ন থাকলে অন্তত কিছুটা তো সস্তি মেলে। আশাকরি পরামর্শটা ভেবে দেখবেন-

     ধন্যবাদ

...........................................

    একজন বলেছেন- একটি রাষ্ট্রে যদি অমুসলিমদের আলাদা ট্যাক্স দিতেই হয় তো ঐ দেশের রাজস্ব বিভাগ থেকে একটি নিরীহ আইন পাশ করে দিলেই হয়। দেশের নাগরিক স্ব-সম্মানে যার যার অবস্থান থেকে রাষ্ট্রকে প্রাপ্য ট্যাক্স প্রদান করবে।  কেউ না দিলে দেশের প্রচলিত কর-আইনের আওতায় বিচার হবে। এর জন্য  যুদ্ধ/টুদ্ধ করার দরকার কি?  করজোড়ে ট্যাক্স দিতে হবে কেন।
.....................
    আমার জবাব- ইসলামি রাষ্ট্রের জন্য আল-কোরআনে মহান আল্লাহ প্রদত্ত আইনই সংবিধান। অমুসলিমদের জন্য কর হিসেবে 'জিজিয়া' প্রদানের যে বিধান আছে তার পরে অন্য কোন সরল কিংবা গরল আইন পাশ করার কোন প্রয়োজন নেই।
    কোন রাষ্ট্রের আনুগত্য মেনে নিয়ে সেখানকার সরকারকে ট্যাক্স প্রদান করলে সেই রাষ্ট্রে বসবাসরত নাগরিকদের জন্য তাতে অসম্মানের কি আছে? অনুগত নাগরিকরা রাষ্ট্রের আইন মেনে চললে তো কোন সমস্যা নেই। তবে নাগরিকরা অনুগত না হলে ভিন্ন কথা। আর বিদ্রোহীদের জন্য তো ব্যবস্থাটাও তেমনি হবে। তাইনা? হয় তাদেরকে গ্রেফতার হয়ে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে, নয়ত যুদ্ধ/ টুদ্ধ করে জেতার পরিকল্পনা করতে হবে। আর যুদ্ধটা তো একা একা করা যাবেনা। দুই পক্ষই যুদ্ধ করবে। তবে দুর্বল হলে খামখা যুদ্ধ/ টুদ্ধ না করে আইন মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তারপর কখনো সুযোগ ও সামর্থ হলে তখন না হয় চেষ্টা করতে পারে।
………………….....
    একজন বলেছেন- আইসিস, আলকায়দা, আল শাহাব, বোকোহারাম এরা তো অবিকল আল কোরাণের ভাষাতেই কথা বলে।

......................

    আমার জবাব- আপনি যাদের কথা বললেন তাদের সম্পর্কে আমার জানাজানি খুবই কম। তবে মিডিয়ার প্রচারণা অনুসারে ইসলামের নামে যেসব অমানবিক কর্মকাণ্ড চলছে তা কখনই সমর্থন করা যায় না। যেহেতু এসব বিষয়ে মিডিয়ার পক্ষপাত দুষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রশ্নের উর্ধে নয়। তাই অন্যের দিকে তাকিয়ে না থেকে এবং প্রকৃত ইসলাম সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব ত্যাগ করে পবিত্র কোরআনের ভাষাকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। তবে যারাই হোক না কেন, আল-কোরআনের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে কোন অমানবিক কর্মে লিপ্ত হলে তাদের ব্যাপারে সাবধান হতে হবে। প্রকৃত মুসলিম হিসেবে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদের পার্থক্য বোঝার চেষ্টা করতে হবে এবং তাদের এরূপ সন্ত্রাসবাদী কর্মের বিরোধীতা ও প্রতিবাদ করতে হবে। মহান আল্লাহতায়ালা যেন সকলকে তাঁর ভাষা বোঝার মত ধৈর্য ও সুযোগ দান করেন।

...................................


    একজন প্রশ্ন করেছেন- বনু কুরাইযার অধিকাংশ পুরুষদের কেন হত্যা করা হয়েছিল?

......................

    আমার জবাব- অনুগ্রহ করে এখানে দেখুন

………………….....

    একজন প্রশ্ন করেছেন- বদর যুদ্ধের ৪ জন বন্দীকে কেন হত্যা করা হয়েছিল?

......................

    আমার জবাব- অনুগ্রহ করে এখানে দেখুন
…………………...

    হেফাজতের গলজমায়েত সম্পর্কে একজন বলেছেন- ২০১৩ সালের মে মাসে হেফাজত ইসলামের আলিম-উলামাদের উপর এক হত্যাকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়। আজ হেফাজতে ইসলাম বার্মিংহাম সেই হত্যাযজ্ঞের উপর একটি আলোচনা ও স্মরণ সভা ডেকেছেন। আমিও আমন্ত্রিত। আমরা কেউই সেই নির্মম হত্যাযজ্ঞ ভুলে যাই নি।

…………….

    আমার মন্তব্য- অমানবিক হত্যাকাণ্ড এবং অহেতুক বিদ্রোহ- কোনটাই ভাল নয়। প্রস্তুতি ও পরিকল্পণাহীন বিদ্রোহ/ বিপ্লবের যা হবার তাই হয়েছে। এরজন্য উভয় পক্ষই কম-বেশি দায়ি। কোন হত্যাযজ্ঞই ভুক্তভুগীরা ভুলতে পারেনা। তখনকার প্রথম সারির নেতাদের সম্পর্কে কিন্তু এখন অনেক কথাই শোনা যাচ্ছে। সত্যটা মহান স্রষ্টাই ভাল জানেন। তবে বিশ্বাসী আহত ও নিহত নিরীহ মানুষগুলো নিশ্চয় তাদের প্রতিদান যথাসময়ে ঠিকই পেয়ে যাবেন।

    আলোচনা ও স্মরণ সভায় মোড়লি কেমন হলো জানাবেন কিন্তু-

……………………

    তিনি বললেন- প্রথমে একথাই স্মরণ হয় যে আপনার ত্যানা প্যাচিয়ে ফালতু বিতর্ক টানার অতি কুঅভ্যাসের কারণে আপনাকে ইতিপূর্বে কয়েক বার আমার ব্লগে মন্তব্য না করতে বলেছি। আমি আপনার এটা মুছে দিতাম কিন্তু অনেক দিন যাওয়ার পরে অন্যের ব্লগে আপনি আমাকে একটি প্রশ্ন করায় উত্তর দিয়েছি আর ভেবেছি হয়ত কেউ বদলাতে পারে কিন্তু সেই ত্যানা-প্যাচানো।

    আপনি দেশে থেকেও যখন জানেন না যে হেফাজত ১৩ দফার দাবি নিয়ে এসেছিল এবং এজন্য যতটুকু পরিকল্পনা থাকার দরকার তা তাদের ছিল।

    সরকারী নানান প্রতিকূলতা সৃষ্টির পরও তারা ঢাকায় আসতে পেরেছিল। এটা না ছিল কোনো 'বিদ্রোহ'ও আর না ছিল কোন 'বিপ্লব'। শুধু  ন্যায্য দাবী নিয়ে এক মহাসমাবেশ। আমলীগ ২০০৬ সালেও তদানীন্তন সেক্রেটারি মরহুম আব্দুল জলিল সাহেবের মাধ্যমে এই ওলামাদের সাথে চুক্তি করেছিল যা পরে ১/১১ এর কারণে প্রেক্ষিত হারায়। তারা কখনো কল্পনাই করেনি যে এদেশের মাটিতে তাদেরকে হত্যা করা হবে। এদেশের নাগরিক হিসেবে তাদের যেকোনো দাবী ও প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। তারা গোলাবারুদ ও মেশিনগানসহ সেখানে হাজির হয় নি। তাদের হত্যা করার অধিকার কারও নেই। এতে তাদেরকে সমভাবে দোষী ভাবা হবে মুনাফিকের কাজ। আমার কথা আপনার পছন্দ না হলেও এখানে বিতর্ক করতে দেব না। তবে হেফাজতিদের পরিকল্পনাহীনতা এবং তাদের সমপরিমাণ দোষ ইত্যাদি দেখিয়ে, আপনার ধ্যান-ধারণার সমন্বয় করে, আলাদা ব্লগ দিতে পারেন। আমি এই বিষয়টি হাল্কাভাবে দেখছি না। অনেকের মত হেফাজতের ব্যাপারে আমারও ক্ষেত্র-বিশেষে অনেক  দ্বিমত আছে তবে সেগুলো নিয়ে এখনো কিছু লিখি নি। তবে এই বিশেষ হত্যার বিষয়ে ফালতু-ফাসেকি কথায় সময় দিতে রাজি নই -এখানে কখনো উভয় পক্ষের দোষ নয়। এসব ফালতু ধারনা নিয়ে আমার এখান থেকে অনেক দূরে থাকবেন।

    একটি গণজমায়েতে, (উদাহরণ: ফুটবল ম্যাচের সময় ইউরোপ আমেরিকায় এবং ট্রেড ইউনিয়নের দাকে সাড়া দিয়ে লক্ষ লক্ষ লোকের ভিড়েও) যদি কেউ অন্যায় করে তবে এটা নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব হয় তাদেরকে সনাক্ত করা এবং বিচারিক পদ্ধতিতে তার ব্যবস্থা নেয়া। কিন্তু কিছু মুনাফিক তাদের ব্যাপারে দু/একটা অভিযোগ এনে সার্বিকভাবে গোটা হেফাজতকে বিষোদগার করে, এটাই তাদের চরিত্র।

    হেফাজতিদের উপর সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের বিষয় নিয়ে আমার নিজ সময় ও শ্রম ব্যয় করে আমি এই লেখাটি এবং আরও কয়েকটি লেখা প্রণয়ন করেছি, এগুলো যদি কোন মুনাফিকের মনের জ্বালা বৃদ্ধি করে যায় তবে who cares, they can get lost. এ ব্যাপারে তাদের সমপরিমাণ দোষ ও অপরাপর বিষয় নিয়ে অন্যত্র ত্যানা প্যাচান। তবে একথা বলা দরকার যে গতকাল তাদের বক্তব্যে যা শুনলাম তা হল তারাও একদিন এই হত্যাকাণ্ডারের বিচার আইনানুগ পদ্ধতিতে করবে। আল্লাহ বলেন, 'এই দিনগুলোকে (কালকে) আমরা মানুষের মধ্যে পালাক্রমে আবর্তন করে থাকি' (কোরান)। হয়ত সেই দিন এই দিন হবে না।

    আর কেউ কোনো পাবলিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হলে তাকে মোড়ল বলা ইতর লোকের কাজ। আপনি প্রায়ই বাড়াবাড়ি করেন। আমি লক্ষ্য করেছি যে আপনি সৌদির হিজাব পরিধান করে ইসলামপূর্ব জাহেলি প্রথার মত নিজ ধারণার প্রেক্ষিত ও আবেগে অপর নাগরিকের বাংলার মাটিতে থাকাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেন। দৃশ্যত হিজাবের ভিতরে আপনি এক বহুরূপী মন্দ লোক।

………………

    আমার জবাব- মোড়লি শব্দটি এখন অনেক সেন্সেই ব্যবহৃত হয়। শুধু গ্রামে গঞ্জেই নয়, গোটা বিশ্বের প্রেক্ষাপটেও এখন এটি ব্যবহৃত হচ্ছে, যেমন- (বিশ্বে মোড়লি করার খায়েশ নেই চীনের)।

    তবে আপনার অসহীষ্ঞু ও অন্তর্দৃষ্টিশুন্য অতিজ্ঞানী আচরণ গ্রামের মোড়লকেও হার মানাবে। তাদের মাঝে তো তাও দু-চারজন যোগ্য ব্যক্তি দেখতে পাওয়া যায়।

    আরে মশাই! ত্যানা দিয়ে আর কত মোছামুছি করবেন? মনে রাখবেন, মোছামুছি করে বেশি দূর আগানো যায়না। সুতরাং সময় থাকতে এসব ব্যাক ডেটেড কৌশল বদলানোর চেষ্টা করুন। কারণ যতই মোছার চেষ্টা করেন না কেন, আমলনামা থেকে তো কখনো কোন কিছুই মুছতে পরেবেন না। যাই হোক, আপনি মোড়লি করেন আর নাই করেন, শুধু আবেগ নয় বিবেক দিয়েও অন্তত সঠিকভাবে জানার ও বোঝার চেষ্টা কইরেন।

    দাবি ১৩ দফা হোক বা হোক ১৩০ দফা - এ নিয়ে আমার কোন দ্বিমত নেই। কিন্তু এসব নিয়ে কাদের কাছে ত্যানা প্যাচাতে গিয়েছিলেন? তাদেরকে কি আপনারা চেনেন না? ইসলামের নামে সহজ সরল মানুষের সেন্টিমেন্ট নিয়ে ছিনিমিনি খেলা আর কতকাল খেলবেন?

    আমাকে কেউ ইতর, ফাসিক কিংবা মুনাফিক বললে-who cares, they can get lost. বরং এটা যে তার/ তাদের উপরেই বর্তাবে সেই মৌলিক জ্ঞানটুকুও তারা হারাতে বসেছেন। আমি কে এবং কেমন সেটা আমার স্রষ্টা ভাল করেই জানেন।

    হেফাজতের নেতৃত্বকে বিশ্বাস করে তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে সহজ সরল যে মানুষগুলো সেদিন ময়দানে নেমেছিলেন তাদেরকে আমি খুব কাছ থেকেই দেখেছি। তাদের ত্যাগ ও মনের বাসনা নিয়ে আমার মনে কোন সন্দেহ নেই। তবে হেফাজতের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নেতৃত্ব ও দোটানা ভূমিকা সম্পর্কে শুধু আমারই নয়, অনেকের মনেই প্রশ্ন আছে। সুতরাং আপনি বার্মিংহাম থেকে কি দেখলেন আর কান চুলকাতে চুলকাতে কি শুনলেন- তা আমাকে নুতন কোরে শোনাতে আসবেন না। মনে রাখবেন, সরলমনাদের আয় আয় বলে ডেকে এনে গভীর রাতে বাঘের খাচায় ফেলে রেখে যে নেতারা চম্পট দেন, তারা যে যেখানেই বেসে থাক আর যতই তৃপ্তির ঢেকুর তুলুক না কেন- ব্যর্থতাই তাদের আসল ঠিকানা। সত্য শুনলে তারা যতই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠুক না কেন, সময় থাকতে না শোধরালে সেই আগুনে তারা নিজেরাই পুড়ে ছারখার হয়ে যাবেন। হাঁ, জনগণ গণজমায়েতেই যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু যতই সময় গড়াতে লাগলো, নেতারা গলাফাটানো আবেগি বক্তব্য দিয়ে সেই গণজমায়েতকে ভিন্ন রূপ দেয়ার চেষ্টা করলেন। তবে পানি ও খাবার সরবরাহে যে কোন কমতি ছিলনা তা বলতেই হবে। ফলে অন্যদের মদদে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেল। একদিকে সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করে তোলা হলো, অপরদিকে পুলিশ ও বিরোধীপক্ষের আক্রমণ চলতে লাগলো। ফলে কিছুক্ষণের মধ্যেই মতিঝিল ও আশেপাশের এলাকা জ্জ্বলন্ত ধ্বংস স্তুপে রূপ নিল। স্বাভাবিক ভাবেই যা হবার তাই হলো। এটিকে বিদ্রোহ হিসেবে ট্রিট কোরে তা দমনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যা করার তাই করা হলো। আপনারা ক্ষমতায় থাকলে কি এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিরোধী পক্ষকে কলা দিয়ে দুধভাত খাওয়াতেন?

    সরকারি রাবার বুলেট, গোলা ও রামদার সামনে নিরস্ত মানুষগুলো দিশেহারা প্রায়। কেন হেফাজতের নেতারা কোন প্রস্তুতি ছাড়াই হঠাৎ করে এরূপ আচরণ করলেন? তারা কি ভেবেছিলেন, গলাবাজি করেই ১৩ দফা দাবি আদায় হয়ে যাবে? তাদের জ্বালাময়ী ভাষায় সরকারকে কঠিন পদক্ষেপ নেয়ার জন্য উস্কে দেয়ার আভাস ছিল। তারা ভেবেছিলেন, বুলেট বিদ্ধ কোরে হাজার লক্ষ মানুষের রক্ত ঝরানো হলে তাদের রাস্তাটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। তাদের এরূপ কর্ম কাণ্ডের জন্য একালে না হলেও পরকা্লে তাদেরকে অবশ্যই জবাব দিতে হবে। কারা কখন কাদের কিরূপ বিচার করবেন, আমাকে নাকি অন্য কাউকে কারা ফাঁসিতে ঝোলাবেন- এ নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যথা নেই। মিথ্যা ও ছলনার সাথে আপস করে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা অনেক ভাল। কারণ সেই দিনের বিচারই আসল বিচার, যেদিন ছলাকলা্ করে পার পাওয়ার আশা করা মানেই আহাম্মকি।

    বাংলার মাটিতে কারো থাকা বা না থাকাকে প্রশ্নবিদ্ধ নয়, বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মনোভাব ও বক্তব্যের বিষয়টিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছি মাত্র। জাহেলি অন্তরে সেটাও বোঝার মত ক্ষমতা নেই দেখছি। সৌদির হিজাব পরিধানে নয়, আমি কোরআনের পর্দায় বিশ্বাসী এবং পালনে অভ্যস্ত। আর সৌদি পুজারীরাই সৌদির হিজাব পরিধানে ব্যস্তসমস্ত থাকে। তারাই ইসলামপূর্ব জাহেলি কথায় ও কর্মে আসক্ত এবং অংশিবাদে লিপ্ত। সময় থাকতে না সুধরালে তাদের এই একটা রূপই তাদের পতনের জন্য যথেষ্ট হবে।

    সহজ ভাষায় কথা বলা আপনার ধাতে সয় না, তাই আমিও আপনার মতই বললাম। আমার বক্তব্য মুছে দিন, পুড়িয়ে দিন বা জলে ভাসিয়ে দিন সেটা আপনার মর্জি- আকলমান্দ হলে অন্তত ভেবে দেখবেন।

    ..............................................

    একজন বলেছেন- গত দু/তিন দিনের তুরস্কের ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জনতার জন্য কী শিক্ষণীয় হতে পারে সে বিষয়ে কয়েকটি কথা-

    তুরস্কের জনগণের শক্তি দেখে পশ্চিমা মিডিয়া অবাক হলেও বাঙ্গালিদের চেতনা উত্তেজিত হতে আমরা সামাজিক মিডিয়াতে দেখেছি। তবে আমাদের চেতনা কিন্তু বেশী সময় থাকবে না কেননা আমরা অন্যের জন্য হলেও নিজেদের দেশের জন্য কী ভাল হবে বা কী চাইব সেটা জানতে চাই না, তাই আমার এক বন্ধুকে লিখতে দেখেছি "তুরস্কের জনতার সাহস দেখে বাঙ্গালির চ্যাতনা-দণ্ড উত্তেজিত হয়েছে!" তবে কথা হচ্ছে হঠাৎ চ্যাতনা-দণ্ড উত্তেজিত হয়েই বা কি লাভ এটা অস্থায়ী, কারণ তো আগেই বলেছি।

    যারা ইতিহাস চর্চা করেন তারা জানেন গৌরব উজ্জ্বল ইসলামী সভ্যতায় তুরস্কের ভূমিকা কী ছিল। তুরস্কের সাম্প্রতিক সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে এরদোগান ফেসটাইমে ভাষণে জনগণকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানান এবং তার আহ্বানে হাজার হাজার মানুষ অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসেন। তুরস্কের জনগণ আবারো দেখিয়ে দিলো অস্ত্রের চেয়ে জনতার শক্তি বেশি। সেই সাথে ষড়যন্ত্রকারীরা আবারো দেখল এরদোগানকে জনগণ কী পরিমাণ ভালবাসে।

    তুরস্কের জনতা সফলকাম হয়েছে কারণ তাদের লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট। তারা জানে একবার মিলিটারিকে বসতে দিলে তাদের ভোটের অধিকার চলে যাবে এবং গণতন্ত্র চির বিদায় নেবে। জনগণ যখন মিলিটারিকে রুখতে পারে, দরকার হলে এরদোগানেরও ভুল দেখলে তাকেও সরানো যাবে গণতান্ত্রিক উপায়ে।

    একটি মুসলিম দেশের রাষ্ট্র নায়ক নিজেকে মুসলিম হিসাবে প্রকাশ করে বিশ্বের মুসলিম দেশের সমস্যা, অন্যায় অত্যাচার তথা মুসলিম স্বার্থের পক্ষে কথা বললে তার দেশকে সঠিকভাবে আর্থিক সমস্যার মোকাবেলা করতে দেখলে অনেক মহল আছে যারা এটা সহ্য করতে পারে না। এরদোগানের নেতৃত্বে তুরস্কের ইসলামন্থী .কে. পার্টির সরকারের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সফলতা হল তারা তাদের দেশকে IMF আন্তর্জাতিক মনিটারি ফান্ড থেকে দেশকে ঋণ মুক্ত করেছে। বলেন তো বিশ্বে ২য় কোন মুসলিম দেশ আছে কি যারা নিজেদেরকে IMF এর ঋণের জাল থেকে মুক্ত করতে পেরেছে? এটা অবশ্যই বিশ্ব পুঁজিবাদী মোড়লদের ভাল লাগার কথা নয়।

    সময়ের আবর্তে আজ মুসলিম বিশ্ব এমন এক অবস্থায় এসে পৌঁছেছে যে সারা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রে স্বৈরাচারী শক্তির কাছে সবাই বন্দী এবং তাদের কাছে মুসলিম দেশের জনতার শক্তি পরাজিত। বলতে গেলে প্রায় প্রতিটি মুসলিম দেশে মানবাধিকার গণতন্ত্রের চর্চা, জনতার সেবা অর্থাৎ জনকল্যাণ সমৃদ্ধ কোন আদর্শ নাই।

    কিভাবে জাতীয় আন্দোলন তথা গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করতে হয় বাঙ্গালীদের সেই বুদ্ধি দূরদৃষ্টি নাই আর হবে বলেও মনে হয় না।

    …………………………

    আমার জবাব- তুরস্কের জনগণ যেন তাদের স্বাধিকার স্বকীয়তাকে রক্ষা করতে পারেন সেই কামনাই করছি। বিপদ এখনো কাটেনি। তাই পা সাবধানেই ফেলতে হবে। বিশেষ করে নেতৃত্ব নির্বাচনে ভুল করা চলবেনা।

    আপনি বলেছেন- //তুরস্কের জনগণ আবারো দেখিয়ে দিলো অস্ত্রের চেয়ে জনতার শক্তি বেশি। সেই সাথে ষড়যন্ত্রকারীরা আবারো দেখল এরদোগানকে জনগণ কী পরিমাণ ভালবাসে।//

    হাঁ, কথাটা ঠিক। তবে কে কার দিকে অস্ত্র তাক করেছে সেটাও বিবেচ্য। তুর্কী সৈনিকের অস্ত্র তুর্কি জনতার বুকে যেভাবে গুলি বর্ষাবে, মার্কিন সৈনিক আর তুর্কি জনতার ক্ষেত্রে সেই হিসেবটা একটু অন্যভাবেই কষতে হবে। তবে ভালবাসা আস্থার যায়গাটা অনেক বড়। এর কাছে অস্ত্র-টস্ত্র নস্যি বটে।

    আপনি বলেছেন-//সময়ের আবর্তে আজ মুসলিম বিশ্ব এমন এক অবস্থায় এসে পৌঁছেছে যে সারা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রে স্বৈরাচারী শক্তির কাছে সবাই বন্দী এবং তাদের কাছে মুসলিম দেশের জনতার শক্তি পরাজিত। বলতে গেলে প্রায় প্রতিটি মুসলিম দেশে মানবাধিকার গণতন্ত্রের চর্চা, জনতার সেবা অর্থাৎ জনকল্যাণ সমৃদ্ধ কোন আদর্শ নাই।//

    আপনার এই বক্তব্যের সাথে সহমত পোষণ করছি।

    আপনি বলেছেন- //কিভাবে জাতীয় আন্দোলন তথা গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করতে হয় বাঙ্গালীদের সেই বুদ্ধি দূরদৃষ্টি নাই আর হবে বলেও মনে হয় না।//

    এরূপ সস্তা সেন্টিমেন্টের সাথে একমত হতে পারলাম না। রাজনীতির ময়দানে মিনিমাম আস্থা অর্জনের চেষ্টা না করেই রাস্তায় জনতার ঢল আশা করাটা কি ঠিক? বিশেষ করে সুবিধাবাদী চক্র যখন ক্রীয়াশীল থাকে তখন তাদের অনুসারীরা ছাড়া আম জনতার ঢল আশা করাটা বোকামী। এরদোয়ান সাহেব ব্যক্তি হিসেবে কেমন তা আমার জানা নাই। তবে তিনি যে তার দেশের জনগণের ভালবাসা ও আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন এবং জনগণের ঐক্যকে ধরে রাখতে পেরেছেন তা প্রমাণীত হয়েছে। অন্তত এটুকু আস্থা ও ভালবাসা পেলে প্রয়োজনে বাংলীরাও যে মাঠে নামতে পারে সে বিশ্বাস আমার আছে।

   .....................................................................

    একজন বলেছেন- আত্মঘাতি বোমরুদের সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?

    ......................................

    আমার জবাব- বিশ্বাসী হওয়া সত্বেও ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, সঠিক বুঝ ও বোধের অভাবে এবং জিঘাংসা চরিতার্থ করার জন্য মানুষ আত্মঘাতি পথ বেছে নিতে পারে। এরূপ আত্মহনন যে অন্যায় মুসলিম হিসেবে তা মানতেই হবে।

    তবে শত্রুপক্ষ আক্রমণ করলে প্রয়োজনে বৃহত্তর স্বার্থে বুকে বোমা বেধে ট্যাঙ্কের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ার কিংবা নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও অস্ত্র হাতে শত্রুর বুহ্য ভেদ করে সামনা সামনি যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে শত্রুর বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে নিজের জীবন দেয়ার প্রয়োজন হতেই পারে। এটি অন্যায় নয় বরং সাহসিক কাজ হিসেবে বিবেচিত হবে। কোন মুসলিম এভাবে জীবন দিলে তিনি শহীদ হিসেবে জান্নাতুল ফেরদৌসের অধিকারী হবেন বলে আল্লাহতায়ালা অঙ্গিকার করেছেন।

    কিন্তু তাই বলে বিদ্যাপিঠ, হাসপাতাল, উপাসনালয়, বসতবাড়িতে ড্রোন হামলা করে নিরপরাধ সাধারণ মানুষ খুন করা যুদ্ধপরাধ এবং ভীষণ অন্যায়। অপরদিকে অস্ত্র হাতে নিরপরাধ নিরস্ত্র মানুষকে আবদ্ধ স্থানে জীম্মি বানিয়ে তাদের বুকে বুলেট মেরে বা গলায় ছুরি চালিয়ে কিংবা কোমড়ে বোমা গুঁজে বা বোমা ভর্তি ট্রাক চালিয়ে নিয়ে যুদ্ধের সাথে যাদের কোন সম্পর্ক নেই সেরূপ সাধারণ জনতার মাঝে আচমকা তা ফাটিয়ে নিজে মরা এবং অন্যদের মারা নিশ্চয় অনেক বড় অপরাধ। এটি আত্মহত্যা করার সাথে সাথে অপরকে খুন করার মত অর্থাৎ একসাথে দুইটি অপরাধ করার সামিল। এটি কখনই বীরত্বের কাজ নয়। কেউ এমনটি করলে তাকে উন্মাদ কিংবা ধর্মান্ধ বললে কমই বলা হবে, বরং তাকে কাপুরুষ ও পাষণ্ড ছাড়া আর কিইবা বলার থাকে। সুতরাং সাবধান! মুসলিম মাত্রই বুঝে শুনে পা ফেলা চাই। পা পিছলে এরূপ জঘন্য কর্মে জড়িয়ে পড়লে পরিণতিতে ইহকালে বঞ্ছনা এবং পরকালে জাহান্নামের শাস্তি অপেক্ষা করছে।

     ................................................

    একজন বলেছেন- জিহাদ ও কিতাল সম্পর্কে বিস্তারিত বুঝানোর মতো জ্ঞান আমার নাই। তবে বিদায়া ওয়ান নিহায়া ও আরো কিছু গ্রন্থ পড়ে জানি যে, খোলাফায়ে রাশেদিনের পর উমাইয়া ও আব্বাসী খিলাফত কালীন সময়ে ইউরোপ,  আফ্রিকা,  এশিয়ায় অনেক জিহাদ হয়েছিল। ঐসব দেশের বিধর্মী সম্রাট, রাজারা ইসলামি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বা মুসলিমদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিল। আর খ্রিস্টান রোমান সাম্রাজ্য তো আরব ও ইউরোপে নিজেদের হারানো দেশ পুনরুদ্ধার করতে শত বছর ধরে ক্রুসেড চালিয়েছিল পোপের নেতৃত্বকে (তখন আসলে খ্রিস্টান সম্রাটরা পোপের নেতৃত্বতেই চলতো)। তারা যে জায়গাই দখল করেছে মুসলমান, ইহুদিদের কচুকাটা করেছে। এভাবে এক সময় বায়তুল মাকদিস দখল করে মক্কা মদিনা দখলের পাঁয়তারা করেছিল। তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে আবার সব পুনরুদ্ধার করা হয়। উপমহাদেশের পাঞ্জাবে যেমন উমাইয়া মোহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে জিহাদ হয়। হিন্দু রাজা মুসলমানদের জাহাজ ডাকাতি করে মুসলিম নারীর বেইজ্জতির প্রতিশোধ নিতে। উপমহাদেশে সুফিয়ায়ে কেরামগণ ইসলাম প্রচার করতে আসলে হিন্দু রাজারা বাধা দিতো। তাদের বিরুদ্ধেও অলি আউলিয়ারা জিহাদ করেছে। মুসলমান মুসলমান কখনো জিহাদ হয়না। তখন পূর্ব পাকিস্তান পঃ পাকিস্তান এক দেশ ছিল । পঃ পাকিস্তান গোল করে বাংলাদেশ দখল করেনি (যেমনটা ভারত কাশ্মীরও হায়দরাবাদকে করেছে) বরং দেশের নেতারা দেশের মানুষের সম্মতিতেই পাকিস্তানে যোগ দিয়ছে। ভারতে যোগ দিলে আজো পরাধীন তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক হতে হতো। রাজনৈতিক অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদের কারনে ঘটা সেই যুদ্ধকে সংজ্ঞাগত ভাবে  গৃহযুদ্ধ বলতে হয় কিন্তু যেহেতু নিজের স্বাধীন দেশের জন্য মুক্তি যোদ্ধারা যুদ্ধ করেছে সেহেতু মুক্তিযুদ্ধ বলতে হবে।

    …………………

    আমার জবাব- হু, সবারই একই দশা। কন্ফিউশনের রোগ ওস্তাদ থেকে শিষ্য পর্যন্ত সমরূপে সংক্রমিত হচ্ছে। সংক্রমণ এতটাই প্রকট হয়েছে যে, দেশে দেশে জন্মসূত্রে মুসলিমরা শীততাপ নিয়ন্ত্রিত সুরম্য মসজিদে পাঁচবেলা মাথা ঠুকছেন, কথায় কথায় মাথা ঝুঁকছেন। আর এরই সুযোগে মুসলিম নামধারীরা মসনদে বসে বগল বাজাচ্ছেন আর আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাঃ) যা যা নিষিদ্ধ করেছেন তার কোনটাই করতে ও করাতে বাদ রাখছেন না। অথচ কিছুই যেন বলার ও করার নেই। কারণ ওস্তাদরা তো মগজে ঢুকিয়েই দিয়েছেন, "মুসলমান মুসলমান কখনো জিহাদ হয়না।"

   খলিফা হযরত ওমর (রাঃ) তার পুত্রের কাছ থেকে অতিরিক্ত কাপড় নিয়ে লম্বা পোষাক বানিয়ে পড়ায় এক নারী সাহাবি মজলিস ভরা জনতার সামনে যেভাবে প্রতিবাদ করেছিলেন এবং কাপড়ের হিসেব চেয়েছিলেন, মৌখিক জিহাদের সেই ভাষাও কি আমরা আজ ভুলতে বসেছি?

    পরকালে নিঃসন্দেহে সবকিছুরই চূলচেড়া হিসাবই হবে। একালে কে কতটা বিশ্বাস করেছে, বোঝার চেষ্টা করেছে, নাকি দেখে-বুঝেও না দেখা ও বোঝার ভান করেছে, কেমন আমল করেছে এবং করতে বলেছে, পরকা্লে মহান স্রষ্টা তো সেভাবেই ফয়সালা করবেন।

    হে আল্লাহ! আমাদের সঠিক পথে চলার এবং সঠিক বুঝ ও আমল নিয়ে মরার তৌফিক দান কর।

   ………………………………………..

   একজন বলেছেন- এমন হাদিসও পড়েছি যে, কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদে মুসলমানদের পক্ষ হয়ে এক লোক জীবন বাজি রেখে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেছে। সাহাবা রাঃ গণ ঐ লোককে বিশাল মুজাহিদ আখ্যা দিলো। রাসূল সাঃ ঘোষণা করলেন ঐ লোক জাহান্নামি। সবাই আশ্চর্য । ঐ যুদ্ধেই উক্ত ব্যক্তি প্রচন্ড আঘাত প্রাপ্ত হয়ে পরে নিহত হয়। সাহাবা রাঃ গণ ঐ লোককে জিজ্ঞেস বল্লো তুমি তো আল্লাহর দ্বিন কায়েমের জন্য জীবন দিয়ে দিলে, সে বল্লো না আমি আমার জাতিকে সাহায্য করতে,:তাদের গৌরব বাড়াতে যুদ্ধ করেছি। সাহাবারা বুঝলেন এ লোক আসলেই জাহান্নামি। কারন ইসলামে গোত্রবাদ হারাম। গোত্রবাদ জাহিলিয়াত আর যে জাহিলিয়াতের উপর মরে সে জাহান্নামি। শহীদের কোন বিচার হবেনা (কেবল মানুষের ক্ষতি করলে তার সাজা ভোগ করতে হবে)। সেই শুহাদা মোটেই সহজ নয়। আল্লাহর সন্ত্তুষ্টি ও তার দ্বিনকে সবার উপর বিজয়ী বানানো ছাড়া আর এক বিন্দু ভিন্ন নিয়্যত থাকলেও শুহাদা ক্ববুল হবেনা। বিচার দিনে প্রথম যে তিন জন বিচারে জাহান্নামি হবে তাদের একজন শহীদ (মানুষের নিকট)। সেও বলবে হে রব আপনার দ্বিন প্রতিষ্ঠা করতে আমি জীবন দিয়েছি । কিন্তু রিয়া থাকায় তা গ্রহণ করা হবেনা। পাঁচ বেলা মসজিদে মাথা ঠোকাই কারন এর জন্যই রব আমাকে সৃষ্টি করেছেন। সালাত শ্রেষ্ঠ ইবাদত। এ কারনে ফেরেশতাদের মধ্যে কেউ রুকুতে কেউ স েজদায় পড়ে আছে।আল্লাহ্ কোরআনে আমাদেরকে দাঁড়িয়ে শুয়ে বসে সকালে দুপুরে রাতে সন্ধ্যায় তার স্বরনে নামাজ কালাম পড়তে বলেছেন। আপনার সাথে যতক্ষণ বৃথা তর্ক করলাম এ সময় কয়েক বার সোবহানাল্লাহ পড়লে আমার আমল নামা পূন্যে ভরে যেতো। বিচার দিনে এই পাপ পূন্যেরই ওজন হবে। আমার ওস্তাদরা সকাল হতে রাত পর্যন্ত দ্বিনের খেদমতের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। কারন দুনিয়া আখেরাতের তুলনায় এক মূহুর্ত না। এখানে কি পেলাম না পেলাম তা কোনও ধর্তব্য না বরং পর কালের জন্য দৈহিক, মানসিক,  আর্থিক উপাসনা করে কতটুকু পর কালের হিসাবে পাঠাতে পারলাম সেটাই ধর্তব্য। 

    …………………………….

   আমার জবাব- ভাই, আফসোস করবেন না। আমার মগজ ধোলাই হলোনা তাতে এত ডিজহার্টেণ্ড হওয়ার কি আছে? আপনার বিশ্বাস আর বোধ অনুসারে আপনার কাজ আপনি করেছেন। স্রষ্টা তো সবই দেখছেন এবং জানেন। এক মূহুর্ত সময়ও যে আপনার বৃথা যাবেনা তা আমি হলফ করে বলতে পারি। নিয়ত অনুযায়ী যারা যতটা প্রাপ্য তা ঠিকই পেয়ে যাবেন।

এতবড় বড় একটা হাদিছ বললেন, অথচ এর মর্মটাই আল্লাহর নির্দেশমত স্পষ্টভাবে বোঝাতে পারলেন না।

    আপনার উল্লেখিত হাদিছ থেকে- //সে বলল: না, আমি আমার জাতিকে সাহায্য করতে, তাদের গৌরব বাড়াতে যুদ্ধ করেছি।//

    আল্লাহতায়ালা আল-কোরআনে বলেন, মুসলিমরা জিহাদ এবং প্রয়োজনে যুদ্ধ করবে আল্লাহর দ্বীন/ ধর্ম কায়েম অর্থাৎ কেবলমাত্র তাঁরই ইবাদত করার জন্য। এর অর্থ হলো নামাজ, রোজা, যাকাত ও হজ পালন এবং সর্বদা আল্লাহতায়ালাকে স্মরণ করার পাশাপাশি মহান আল্লাহ তাঁর প্রেরিত রাসূলের (সাঃ) মাধ্যমে (৯:২৯) যা যা নিষিদ্ধ করেছেন তা নিষিদ্ধ করার এবং (২:১৯৩) ফিতনা অর্থাৎ কুফরী/ বিভ্রান্তি/ গোমরাহী/ পাপ/ উৎপীড়ন/ বিপর্যয়কর অবস্থা থেকে (০৪:৭৫) মজলুম মানুষকে (দুর্বল ও অত্যাচারিত পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে) মুক্ত করার জন্য জিহাদ তথা কিতাল করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

    অথচ সেই ব্যক্তিটির বক্তব্যই বলে দেয় যে, তার নিয়ত এবং কর্ম আল্লাহর কালামের অনুরূপ ছিলনা, বরং ইমানের চেতনা বিহীন হৃদয়ে অন্য আর দশজন যেমনটি ভাবেন ও করেন তিনিও সেই গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিয়েছেন। তার সুরত এবং কর্ম-কৌশল দেখতে যেমনই হোক না কেন, স্রষ্টার বাণী উপেক্ষা এবং স্রষ্টাবিমুখ নিয়তই তাকে শহীদের দরজা থেকে দূরে ঠেলে দিয়েছে।

   সংকটের মুহূর্তে মুসলিম হিসেবে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ থেকে বেঁচে থাকার জন্যও তো জিহাদ-কিতাল সম্পর্কে মিনিমাম জ্ঞান অর্জন করা জরুরী। এ ধরেনের স্পর্শকাতর বিষয়ে স্রষ্টার নির্দেশনাকে নিজে সঠিকভাবে জানার ও অনুধাবন করার চেষ্টা না করেই কেবলমাত্র ধর্মীয়বেত্তার বিশ্লেষণ এবং ঐতিহাসিকদের অবস্থানের উপরে নির্ভর করলে পথভ্রান্ত হবার সম্ভাবনা থেকেই যায়। এর ফলে একদিকে যেমন উগ্রতা মাথা চাড়া দিতে পারে, তেমনি উদাসিনতাও আচ্ছন্ন করে ফেলতে পারে।

   সুতরাং আসুন! সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে চলার জন্য অন্তত স্রষ্টার দিকনির্দেশনার প্রতি অনীহা নয় বরং তা জেনে নেয়ার জন্য সচেষ্ট হই। মহান আল্লাহর প্রেরিত শাশ্বত কোরআন বোঝার ও আমল করার জন্য সময় ব্যয় করি।

    ………………………………..  

    একজন বলেছেন- আপনি কোরআনের যে আয়াতগুলি উল্লেখ করেছেন তার প্রত্যেকটির আলাদা আলাদা শানে নুরুল, তাফসির আছে। কিতালের আয়াতগুলি কি তাল অপরিহার্য হওয়ার সময়ে নাজিলকৃত। সবগুলি কিতাল মুসলমানরা নিজেদের ধর্ম,  জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে করেছে। বিশেষতঃ আহলে কিতাবদের ইহুদিদের বিষয়ে কিতালের সুরা আহযাব, হাশর ইত্যাদি সুরা বনু কোরাইজা, বনু নাজির, বনু কাইনুকার বিরুদ্ধে নাজিল হয় । শিশু ইসলামি রাষ্ট্র মদিনায় মুসলিমদের  ধর্ম, জানমাল রক্ষায় কিভাবে বাধ্য হয়ে ঘর শত্রু ইহুদিদের মক্কার ও আরবের ম ুশরিকদের সাথে ষড়যন্রের প্রেক্ষাপটে জিহাদ হয় তা আপনি তো ভালভাবেই জানেন।বনু কোরাইজা বিষয়ে আপনার সামহোয়ার ইন ব্লগের  লেখাটি লাইভ পড়েছিলাম ও এক হিন্দুর ইসলাম বিদ্ধেষ দেখে তাদের ধর্মের নেংটা সংস্কৃতির বিষয়ে আপনার মন্তব্যও মনে আছে। আর আহলে কিতাব খ্রিস্টানদের বিষয়ে সুরা আত তাওবা নাজিল হয় যখন মক্কা,মদিনা সব আরব অঞ্চলের অনেক গোত্র মুসলমান হয়ে যায় তখন অর্থাত্ হিজরী আট নয় সালে। আসলে বর্তমান বিকৃত খ্রিস্টান ধর্ম বা পৌলবাদ প্রচার প্রসার সংরক্ষিত হয়েছে রোমান সম্রাটদের হাতেই। সেই ইস্টার্ন রোমান বাইজেনটাইন সম্রাটরা ইসলামি রাষ্ট্রকে শেষ করে দেবার জন্য মক্কা মদিনার পাশের তাদের অধীন  গাস্সানি  রাজ্য,  বিভিন্ন খ্রিস্টান গোত্র, মুশরিক গোত্রকে সংগে নিয়ে ষড়যন্ত্র পাকায়। মুসলমানদের দুতকে হত্যা করার মাধ্যমে রোমানরা প্রথম যুদ্ধ ঘোষণা করে। মুতার যুদ্ধে লক্ষাধিক রোমান সৈন্যের সাথে প্রাণপণে যুদ্ধ করে মুসলিমরা কামিয়াব হতে পারেনি কিন্তু মুসলিমদের শৈর্য্য বীর্য বুজিয়ে দিয়েছে । এরপর তাবুকে রোমানরা সৈন্য সমাবেশ করে মুসলমানদের ভয় দেখাতে আসলে ম ুসলমানরাও বিশাল বাহিনী নিয়ে প্রতিহত করতে যায় । এসব যুদ্ধের আয়াতে শত্রুদের মারার, বশ্যতা স্বীকার করাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । যুদ্ধে নরম ভাবে দেখানোর কোন সূযোগ নেই। আবার যখন জিহাদের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়ে যাবে তখন আর ফিতনা সৃষ্টি করা যাবেনা।

    …………………

    আমার জবাব- আমাকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য দিয়েছেন। তাই তার জবাব দিতে হচ্ছে। কারণ আমি কারো মন্তব্যকেই [যদি না তা সরাসরি আমার আল্লাহ এবং রাসূলের (সাঃ) সম্মানের পরিপন্থি হয়] কখনো ইগ্নর করতে কিংবা মুছে দিতে শিখিনি।

    যদিও আমার মন্তব্য/ বক্তব্য স্বঘোষিত আস্তিক এবং নাস্তিক নির্বিশেষে মুছে দেয়ার জন্য এক হাত এগিয়ে্ই থাকেন। কিন্তু তারপরও সত্যটা তো আমাকে বলতেই হবে।

    ইংরেজি ও বাংলা মিলিয়ে প্রসীদ্ধ তাফসীর গ্রন্থের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। তবে যে তাফসীর গ্রন্থগুলো বেশি বেশি পঠিত হয় আমার জানা মতে সেগুলো হলো- (তাফসীর ইবনে কাসীর, তাফসীর জালালাইন, তফসীর ফী যিলালিল কোরআন, তাফসীর ইবনে আব্বাস, তাফসীর কুরতুবী, তাফসীরে মারেফুল কুরআন, আল তাফসীর আল কাবীর,  তাফসীর ইবনে জারির, তাফসীর আল কুরতুবী, আল তাফসীর আল মাজহারী, তাফসীর আল দার আল মানছুর, তাফসীর আল বাহর আল মুহীত, তাফহীমুল কুরআন) ইত্যাদি।

    কোরআনের আয়াতগুলোর আলাদা আলাদা শানে নুযুল ও তাফসির যে আছে তা আমার অজানা নয়। শানে নুযুল একই হলেও তাফসীরকারগণের জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অনুসারে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করায় পবিত্র কোরআনের তাফসীর গ্রন্থগুলোতে কিছুটা ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। আর বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে তাদের মতামত প্রকাশের পার্থক্যটা প্রকটই মনে হয়। যদিও কোন তাফসীরই জঙ্গিবাদী হওয়ার কথা বলেনা। কিন্তু অনেকের ভাষায় জিহাদের ব্যাপারে উদাসীনতা পরিলক্ষিত হয়। কলের প্রবাহে জীবন যাত্রার সাথে সাথে সংগ্রাম তথা যুদ্ধ কৌশলও পাল্টায়। কিন্তু মৌল নীতিগুলো মোটমুটি বেমালুম পাল্টে যায়না। তাই সেই দিকনির্দেশনা ভুললে বা পাশকাটিয়ে গেলে চলবেনা। যেমন মুতার যুদ্ধ শেষ হলেও দেশে দেশে পতিতা বৃত্তি এখনো আছে, হয়ত ধরণ কিছুটা পাল্টেছে। আর ধর্মের নামে হোক বা অধর্মের নামে, অন্যায় ও নীরিহ মানুষের উপর অত্যাচার কোথাও কোথাও চরমে পৌছুলেও তা যেন অনেকের চোখেই পড়েনা। অথচ আল্লাহতায়ালা আল-কোরআনে বলেন, মুসলিমরা জিহাদ এবং প্রয়োজনে যুদ্ধ করবে আল্লাহর দ্বীন/ ধর্ম কায়েম অর্থাৎ কেবলমাত্র তাঁরই ইবাদত করার জন্য। এর অর্থ হলো মহান আল্লাহ তাঁর প্রেরিত রাসূলের (সাঃ) মাধ্যমে (৯:২৯) যা যা নিষিদ্ধ করেছেন তা নিষিদ্ধ করার এবং (২:১৯৩) ফিতনা অর্থাৎ কুফরী/ বিভ্রান্তি/ গোমরাহী/ পাপ/ উৎপীড়ন/ বিপর্যয়কর অবস্থা থেকে (০৪:৭৫) মজলুম মানুষকে (দুর্বল ও অত্যাচারিত পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে) মুক্ত করার জন্য জিহাদ তথা কিতাল করার নির্দেশনা দিয়েছেন। যদিও কিতাল অনেক গুঢ় এবং বড় বিষয়, তারপরও পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা অনুসারে এটির প্রয়োজনীয়তা অতীতে যেমন ছিল, তেমনি বর্তমান ও ভবিষ্যতেও তা সমভাবেই প্রযোজ্য হতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি। কারণ এই নির্দেশনা শুধু পাঠ করার জন্য নয়, প্রয়োজনে যথাযথভাবে আমল করার জন্যই আল-কোরআনে বিদ্যমান রয়েছে। এ ব্যাপারে আবেগী, উগ্রতা কিংবা উদাসিনতার স্থান নেই। 

    অন্যায়, জুলুম, খুন-খারাবি, এমনকি অপরের সামান্যতম ক্ষতি সাধনের মানসিকতা পরিত্যাগ না করতে পারলে প্রকৃত মুসলিম হওয়া যায়না। ইসলামের অনুসারী মানেই প্রেম এবং শান্তির প্রতীক। অপরদিকে অশান্তি ও ক্ষতির হাত থেকে শান্তি ও মানবতা রক্ষার্থে প্রথমত উত্তমভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে এবং নিছক ব্যক্তিগত নয়, বরং বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজনে হাতে অস্ত্রও তুলে নিতে হতে পারে।

    কে কোন তাফসীরের মতামত ও দিকনির্দেশনা কিভাবে বুঝবেন ও আমল করবেন, তা তাকে মহান আল্লাহ প্রদত্ত বোঝার ক্ষমতা ও মানার সামর্থ দানের উপরেই অনেকাংশে নির্ভর করবে। যিনি আল্লাহ প্রদত্ত সক্ষমতার যথাযথ ও উত্তম ব্যবহার করার যেগ্যতা অর্জন ও আমলের জন্য সময়, জান ও মাল ঢেলে দিতে পারবেন, পার্থিব প্রাপ্তি যেমনি হোক না কেন মাহন স্রষ্টার বিচারে তিনি নিশ্চয় ততটাই সফলকাম হবেন- ইনশাল্লাহ। তাই সচেতন মুসলিম হিসেবে দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সাথে স্বচ্ছ জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি তাফসীর গ্রন্থগুলোর বক্তব্যের মধ্য থেকে নিজেকেও আল্লাহ প্রদত্ত বিবেক ও চেতনা দিয়ে যাচাই বাছাই করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি। সব সময় মনে রাখতে হবে যে, পবিত্র কোরআনের সকল নির্দেশনাই কিয়ামত পর্যন্ত প্রাণবন্ত ও পালনীয়।

    ……………………………

    একজন প্রশ্ন করেছেন- বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় জিহাদের গুরুত্ব কতটুকু?

    ……………………

    আমার জবাব- প্রশ্নটা ছোট হলেও বিস্তারিতভাবে জবাব দেয়ার প্রয়োজন বোধ করছি।
    ইহজগতে কাউকে শাসনকর্তৃত্ব দেয়ার ফয়সালা মহান আল্লাহর তরফ থেকেই হয়ে থাকে। ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী হলেও এটির প্রয়োগের উপরেই অনন্ত কালের ভাল বা মন্দ প্রাপ্তিটা নির্ভর করে। মৃত্যু যেভাবে লেখা আছে সেভাবেই হবে, তবে জীবিতবস্থায় কে কোন অবস্থায় থেকে কি কি করলেন সেটাই আসল বিষয়। সাধারনতঃ কোন এলাকার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠির চলন ও চাহিদা মতই শাসক নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। এই ক্ষমতা ও গুরু দায়িত্ব পাওয়ার পর সেই শাসক আল্লাহতায়ালার যোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে তা যথাযথভাবে পালন করতে পারলেন কিনা তার উপরেই পরকালীন প্রাপ্তিটা নির্ধারিত হবে। সুতরাং একজন শাসক নিজে ইমানদার ও সৎ থেকে তার অনুসারী এবং জনগণকে মহান আল্লাহতায়ালা এবং তাঁর রাসূলের (সাঃ) প্রদর্শিত সৎপথে পরিচালিত করার জন্য কতটা নিবেদিত ছিলেন তার উপরেই সবকিছু নির্ভর করবে।

    মহান আল্লাহতায়ালার কৃপায় এ যাবত এ দেশের নেতৃত্ব যাদের হাতে ন্যাস্ত হয়েছে তারা সবাই মুসলিম। আমাদের সবারই শ্রদ্ধার পাত্র বর্তমান মান্যবর প্রধানমন্ত্রীর নৈকট্য লাভের সুযোগ না হলেও দূরে থেকে যতটা জানি, তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার ও নিয়মিত পবিত্র কোরআন পাঠ করার জন্য সচেষ্ট থাকেন। বিশ্বাসী হওয়ার জন্য এই দুটি কর্ম করা অতীব জরুরী। তাছাড়া তিনি বেশ কয়েকবার পবিত্র হজ পালনের সৌভাগ্য লাভ করেছেন। সর্বোপরি সৎকর্মই একজন বিশ্বাসী বান্দার জন্য স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের সেতুবন্ধন স্বরূপ। অবস্থানগত কারণেই তার পক্ষে সৎকর্ম করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে এবং এ ব্যাপারে তিনি যথেষ্ট যত্নশীল বলেই আমি মনে করি।

    মানুষ হিসেবে প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু দোষ ত্রুটি থাকতেই পারে। তবে যার গুণের সমাহার দোষ-ত্রুটিকে ছাপিয়ে যায় তিনিই সবার ভালবাসা ও ভরসার পাত্র হয়ে ওঠেন। কোন রাষ্ট্রের নেতৃত্ব যাদের উপরে ন্যাস্ত হয় দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই তাদের অন্যতম প্রধান মিশন হওয়া চাই। তাই দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশেষ করে তার পরিষদবর্গের অসতর্ক বক্তব্য কিংবা স্বার্থবাদী কর্মের কারণে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে কিনা তা অবশ্যই বুঝতে হবে ও তদারক করতে হবে। ক্ষমতার মোহে ও দাপটে তার পরিষদবর্গের মধ্যকার কারো অবিবেচক কথায় ও কাজে জনগণের মাঝে যেন ভুল মেসেজ প্রচারিত না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। আবেগী ও তোষামোদী ব্যক্তিদের কথার সাথে সূর মেলানো থেকে সাবধান থাকতে হবে এবং সর্বদা ন্যায়ের পক্ষাবলাম্বন করতে হবে। দেশের প্রধান ব্যক্তির প্রতিটি বচনের মূল্য অনেক। তাই সুচিন্তিত ও সুবিজ্ঞ কথা ও কাজই তার কাছ থেকে সবাই আশা করেন।

    আমাদের দেশের মন্ত্রীপরিষদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য মুসলিম হলেও অন্যান্য ধর্মে বিশ্বাসীরাও এর অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন। এটি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি রক্ষার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। দেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী সবার সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। সঠিক পথে তাদের এক একটি নির্দেশনাই দেশকে এক এক যুগ এগিয়ে নিতে পারে। আবার তাদের সিদ্ধান্তের সামান্যতম ত্রুটিও বিরাট রকমের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে কোন কারণে জনগণের চিন্তার জগতে বিভাজন সৃষ্টি হলে তা ভবিষ্যতের জন্য সুখকর নাও হতে পারে। মহান স্রষ্টাই নানান মনের ও মতের মানুষ সৃষ্টি করেছেন, যা অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই ক্ষুদ্র স্বার্থের মোহে জনগণের ভিন্ন মতকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্ল ও দমন করার চেষ্টা না করে তাদের মনের অভিব্যক্তি বোঝার ও সবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার প্রয়াস নিতে হবে। যে কোন প্রতিকুল পরিবেশে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মাঝে সম্প্রীতি ও ঐক্য অটুট রাখার জন্য সময়মত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

    দেশের কর্ণধারদের কাছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার আছে। তরুণদের মানসিকতায় যেন বিরূপ প্রভাব না পড়ে সে ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল হতে হবে। মানসম্মত সুশিক্ষা এবং সময়মত কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা নিতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত, হিংসা ও লোভহীন সমাজ গড়ার পাশাপাশি সবার জন্য মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে হতাশার কারণে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে যা দুঃখ, অন্যায়, অশান্তি, হানাহানি এবং পশ্চাদপদতা ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনবে না।

    এরূপ বিরূপ পরিস্থিতি থেকে বেঁচে থাকার স্বার্থে শুধু বাংলাদেশেই নয়, ইসলামের তীর্থস্থান সৌদি আরবের মক্কা নগরী সহ পৃথিবীর সকল স্থানেই অর্থাৎ যেখানে মুসলিমরা থাকবেন, সেখানেই সব সময়ের জন্য রাষ্ট্রের কর্ণধার থেকে শুরু করে সকল স্তরের জনগণের জন্য জিহাদ অর্থাৎ আত্মিক ও সামাজিক পরিশুদ্ধতা অর্জনের প্রচেষ্টা জারি রাখতে হবে। স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষার্থে সকল উত্তম পন্থায় চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তবে সর্বশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে কিতাল এর বিষয়টি অনেক ব্যপাক। মূলত প্রতিরক্ষা অর্থাৎ শত্রুপক্ষ বিশ্বাস ভঙ্গ করে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করলে বা সরাসরি আক্রমণ করে বসলে এবং দেশে ফিতনা-ফাসাদ ছড়িয়ে পরলে তা প্রতিহত করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা হিসেবে মহান স্রষ্টার নামে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শত্রুর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করাকেই কিতাল বলে। তাই সকল উত্তম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর যখন আর কোন উপায়ই থাকবে না, তখনই কেবল আল্লাহর দ্বীন কায়েমের জন্য বৃহত্তর স্বার্থে বিশ্বাসীদেরকে সমবেদভাবে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

     মহান স্রষ্টা যেন আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা করেন- আমিন।



 

   


Comments