বাংলাদেশের মুৎসুদ্দী বুর্জোয়া শ্রেণী ও জনগণের রাজনৈতিক ইতিহাস যে বড় বৈচিত্র্যময় তা বলার অপো রাখে না। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক বিকাশ আমাদের দেশে হয় নি। ‘৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বিগত ৩৬ বছরে রাষ্ট্রের শ্রেণী চরিত্রের কোনো মৌলিক পরিবর্তন না হওয়ায় বিদ্যমান ব্যবস্থায় রাজনৈতিক সংগ্রাম, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অস্থিতিশীলতা ও উত্তেজনা লেগেই রয়েছে। সংবিধান নিয়ে পরীা-নিরীা অনেক হয়েছে। সংসদীয় ব্যবস্থা, প্রেসিডেন্সিয়াল ব্যবস্থা, একদলীয় শাসন, বহুদলীয় ব্যবস্থা, সামরিক শাসন ও পরবর্তীতে সাংবিধানিক ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তন- বিভিন্ন ধরণের বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা আমাদের দেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের হয়েছে। একবার জিয়া ও আরেকবার এরশাদের নেতৃত্বে সামরিক শাসন ও তার বিরুদ্ধে গণসংগ্রাম এবং ‘৯০-এ মহান গণ-অভ্যুত্থান, ক্যুদেতা ও ক্যুর প্রচেষ্টা, দু’ দু’বার রাষ্ট্রপতি হত্যা অর্থাৎ ‘৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নৃশংসভাবে ও ‘৮০ সালে জিয়াকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয়, জাসদ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড কর্ণেল তাহেরের নেতৃত্বের সিপাহী জনতার অভ্যুত্থান-বিদ্রোহ, বিশ্বাসঘাতক জিয়ার ষড়যন্ত্রে জাসদ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড কর্ণেল তাহেরের ফাঁসি বড় বৈচিত্র্যময় আমাদের দেশের জনগণের অভিজ্ঞতা। এক কথায় বলতে হয়, আমাদের দেশে বুর্জোয়া গণতন্ত্রের সংকট লেগেই ছিল ও আছে। |