চায়ের রাজধানী হিসেবে খ্যাত, সবুজ শ্যামলে ভরপুর অরণ্যে আচ্ছাদিত, গাছপালা, বন্য প্রানী, নানা প্রজাতির পাখী, ও পাহড়ী ঝরনার কল কল ধ্বনিতে মুখরীতমনোমুগ্ধকর পরিবেশসমৃদ্ধ
আকর্ষনীয় স্থান শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। বিশ্বের অগণিত বিনোদন প্রিয়, গবেষক, ও পর্যটকদের সুপরিচিত শ্রীমঙ্গল উপজেলায় রয়েছে উচু নীচু পাহড়ী টিলায় প্রচুর পরিমান চা,আনারস ও কাগজী লেবুর বাগান। খাসিয়া, মনীপুরী ও পাহাড়ী ললনাদের নানা সংকৃতি দেখতে ও জানতে হলে ভ্রমন পিপাসুদের শ্রীমঙ্গল পরিদশন করা প্রয়োজন। ব্যস্ত জীবনে প্রতিটি মানুষের বিনোদনের অভাব মেটাতে শ্রীমঙ্গল অন্যতম। চা বাগানের নারী শ্রমিকদের কচি পাতা উত্তোলনের দৃশ্য আর দিগন্ত রেখায় বিস্তৃত চা বাগানে বন্ধু- বান্ধবী সহ ঘুরতে এলে মনে হবে এ যেন এক অচেনা জগত। এখানে রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানায় নানা প্রজাতির বিরল পশু-পাখি। রয়েছে জীববৈচিত্র ও বন্যপ্রানীর মহামিলনের নান্দনিক সৌন্দর্যের অন্যতম স্থান লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। দেশে ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট খ্যাত এ পার্কটি বিনোদনের আকর্ষনীয় স্পটে পরিনত হয়েছে। তাছাড়া দেশের প্রসিদ্ধ পিকনিক স্পট শ্যামলী রয়েছে উচু-নীচু পাহাড় ও ঝরনা ধারায় পরিপুর্ণ। সিলেট বিভাগের প্রাকৃতিক নয়নাভিরাম দৃশ্যে হßদয় ও মন ভুলানো এ পর্যটন কেন্দ্রে শীতের শুরু থেকেই অগনিত পর্যটকের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে। চলতি শীত মৌসুমেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। দেশ ও বিদেশের অজস্র ভ্রমন পিপাসুরা ছুটে আসছেন আনন্দ ভ্রমন কিংবা শিা সফরে।
মৌলভীবাজার ফরেস্ট রেঞ্জের আওতাধীন শ্রীমঙ্গলের এই ন্যাশনাল পার্ক শুধু যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অনন্য শুধু তাই নয়, দেশের সঙরতি বনাঞ্চলের মধ্যে সব চেয়ে নান্দনিক ও আকর্ষনীয়। ১৯২৫ সালে ১২৫০ হেক্টর জায়গা জুড়ে প্লান্টেশন করে তৈরী বনরাজী এখন ঘন প্রাকৃতিক বনের আকার ধারন করেছে। জীববৈচিত্রে ভরপুর এই পার্কে দেখা মেলে বিভিন্ন বিরল প্রজাতির পশু-পাখী। বিভিন্ন দেশের পাখি প্রেমীরা লাউয়াছড়ায় ছুটে আসেন দেখতে । লাউয়ছড়া জাতীয় উদ্যান ধীরে ধীরে দেশের শিা,গবেষনা,ইকো-ট্যুরিজমসহ ভ্রমন বিলাসীদের চিত্ত বিনোদনের অন্যতম আকর্ষনীয় স্পট হয়ে উঠেছে। গভীর অরন্য সমৃদ্ধ,অদভুত এক নির্জন পরিবেশে অবস্থিত লাউয়াছড়ায় রয়েছে ১৬৭ প্রজাতির বৃাদি। এরমধ্যে সেগুন, গর্জন, চাপালিশ, ম্যানজিয়াম, ডুমুর প্রভূতি উল্লেখযোগ । এবনেই ছিল এশিয়ার বিখ্যাত বিরল প্রজাতির কোরোফর্ম বৃ। গত বছর ঝড়ে এ গাছটির মৃত্যু ঘটে। তবে বিরল কোরোফর্ম বৃরে আরও একটি গাছের সন্ধান পেয়েছেন বিশেষঞ্জরা।যা পর্যটকদের অত্যান্ত আকর্ষন করে। এছাড়াও রয়েছে ৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী,৬ প্রজাতীর সরীসৃপ, ২০ প্রজাতির স্তন্যপ্রায়ী প্রানী এবং ২৪৬ প্রজাতির পাখি। এদের মধ্যে বিরল প্রজাতির উল্লুক, বানর, লজ্জাবতি বানর, হনুমান, ধনেষ, শ্যামা, অজগর, মেছোবাঘ, হরিন প্রভূতি উল্লেখযোগ্য। এ বনের বিচিত্র পশুপাখী ও পোকা মাকড়ের অদভুত এক ঝিঝি শব্দ, বানরের ভেংচী আর উল্লুকের গাছে গাছে ছুটাছুটি পর্যটকদের মনে অনাবিল আনন্দের শিহরন জাগিয়ে তুলে।
ঝিঝি পোকার একটানা শব্দ নৈসর্গিক পরিবেশের সৃষ্টি করে। পাহাড়ী ঝরনার কলকল শব্দ, পাখির কিচির মিচির শব্দ মিলে অনেকের কাছে ভৌতিক কনসার্ট মনে হয়। এই ফরেস্ট মিউজিক শুনতে শুনতে পর্যটকরা হারিয়ে যান বনের গহিন অরণ্যে। রুপকথার কল্প কাহিনীর পরিবেশ সৃষ্টিকারী লাউয়াছড়ায় নারী পুরুষ যুবক যুবতিদের পদচারনায় বিনোদন পিপাসু ও সাহিত্যিকদের নিয়ে যায় অজানা স্বপ্নপুরীতে। এ বনে রয়েছে ৩টি প্রাকৃতিক ফুট ট্রেইল বা পায়ে হাটা পথ। এরমধ্যে একটি ৩ ঘন্টার, একটি ১ ঘন্টার ও একটি ৩০ মিনিটের পথ রয়েছে। পর্যটকরা ইকো-ট্যুর গাইডের সাহায্য নিয়ে প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ করে পার্কটি ঘুরে দেখতে পারেন। এ পার্কে পর্যটকদের জন্য একটি ইনফরমেশন সেন্টার রয়েছে। এখান থেকে পাওয়া যায় পর্যটনের যাবতীয় তথ্যাদি। এ ছাড়াও পার্কে রয়েছে ইকো- কটেজ, ইন্সপেকশন বাংলো, গোলঘর, ফেন্সি ব্রীজ টয়লেট প্রভূতি। পর্যটকদের সুুবিধার জন্য পার্কের বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে বিলবোর্ড ও নির্দেশনামুলক সাইনবোর্ড।
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত এই ন্যাশনাল পার্কে প্রাইভেট কার ও জীপ নিয়ে পরিদর্শন করা যায়। যারা গবেষনার কাজ করার ইচ্ছা পোষন করে কিংবা বেড়ানোতে আসা পর্যটকদের জন্য শ্রীমঙ্গল শহরে রয়েছে নামী দামী বোর্ডিও রেষ্ট হাউস। সব মিলিয়ে পর্যটক, গবেষক এবং শিার্থীদের জন্য এ পার্কটি এক অনন্য সুযোগ।



