মন্থন সাময়িকী


মে-জুন ২০০৯   

Home Page

            

 

আইলার হুঁশিয়ারি  

ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে সুন্দরবন 

বরিশাল কামান, অতলতল ও সুন্দরবনের অবনমন

বাংলাদেশে ঝঞ্ঝা নিয়ন্ত্রণ

সুন্দরবন কি সমুদ্রে তলিয়ে যাবে?

সিলেবাসে নেই

নবীননগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একদিন

চিঠিপত্র :                                                    

১.বিষয়: সম্পাদকীয়/পরিবর্তনের হেঁয়ালি                    

২. বিষয় : সম্পাদকীয়/পরিবর্তনের হেঁয়ালি

ঝাড়গ্রামবাসীর চোখে লালগড়-রাজনীতি

ক্রোমিয়াম ক্রমে আসিতেছে 

বাসন্তীর গ্রামে ঘূর্ণীঝড়ের রাতে 

 

আইলার হুঁশিয়ারি

অমিতাভ চৌধুরি

 


যেদিন ঝড়টা হয় সেটা ছিল সোমবার। সোমবার ভোরবেলায় আমার কাজের জায়গা বাসন্তীতে যাবার কথা ছিল। আমি রোববার সন্ধ্যা সাতটা সাড়ে সাতটা নাগাদ সংবাদ শুনে জানতে পারি যে এইরকম একটা ঝড় আসতে পারে। তারপর আমি স্যাটেলাইট পিকচারটা নজর করি। আমি কিছুটা আবহাওয়া দপ্তরের রিপোর্ট এবং স্যাটেলাইটের ছবির ওপরে দীর্ঘদিন ধরে নির্ভর করি। এটা দেখে দেখে আমার একটা ধারণা হয়েছে যে আজকে ছাতা নেব কি নেব না, আজকে নদীতে বেশিক্ষণ থাকা ঠিক কি ঠিক নয়। ছবিটবি দেখে যা বুঝলাম যে এবার একটা বিপদ হবে। আমি সঙ্গে সঙ্গে আমার কাজের জায়গায় ফোন করে দিই যে আমি কালকে যাচ্ছি না। বলে দিই, তোমরাও সাবধানে থাকো, কালকে একটা তাণ্ডব হবে। আমি জানি, আমাকে মাতলা পার হতে হবে, তারপর বাসন্তীতে ঢুকতে হবে। তাই আমি সোমবার যাওয়া বাতিল করলাম। তারপর সেই সপ্তাহে আমি বাসন্তীতে আর যেতে পারিনি, পাথরপ্রতিমায় গেছিলাম। পাথরপ্রতিমায় আমি গেছিলাম নন্দকুমারপুর। সেখানটায় খুব একটা কিছু হয়নি। এটা মথুরাপুরের মধ্যে পড়ে, মথুরাপুর টু-এর লাস্ট পয়েন্টটা হচ্ছে নন্দকুমারপুর। তারপর পাথরপ্রতিমা ব্লক শুরু। সেইখানটায় কিছু কিছু জায়গায় বিপর্যয় হয়েছে খবর পেলাম।

তারপর সপ্তাহ-শেষে রবিবার আমি প্রথম বাসন্তীতে গেলাম। আনন্দআবাদ, মহেশপুর, গরানবোস --- কতগুলো দুর্গত এলাকায় গেলাম। তখন সেই দৃশ্যগুলো প্রথম দেখতে শুরু করলাম। কিন্তু আমার কাছে তেমন আলাদা কিছু মনে হয়নি। তার কারণ আমি অতীতে নদীবাঁধ ভেঙেছে, ঝড় হয়েছে, এমন সুন্দরবন দেখেছি। যেটা নতুন মনে হল সেটা হল এর বিস্তার। কোন একটা গ্রামে কোন একটা নদী বাধঁ ভেঙে নোনা জল ঢুকেছে, সেটা আমি বহুবছর ধরে দেখেছি। কোন একটা দ্বীপের একটা অংশ জলে ডুবে গেছে নোনা জল ঢুকে, এটা আমার কাছে নতুন কোন কথাই নয়। গ্রামবাসীদের কাছেও এটা নতুন কিছু নয়। ঝড়টড় হলে কিছু গাছপালা ওপড়াবে, কিছু বাড়িঘর ওল্টাবে, এতো হতেই পারে। এটা লোকের কাছে ধরা আছে। আমার মনে আছে, সম্প্রতি একজন রোগীকে দেখছিলাম, তিনি কান্নাকাটি করছেন।

--- বাবা, পর পর তিন বছর ধান হল না, এবার আমরা কী করে বাঁচব?

--- পর পর তিন বছর মানে!

--- আমাদের বাঁধের ধারে ঘর। বাঁধটা খুব খারাপ। পর পর তিন বছর আমাদের বাড়ির সামনের বাঁধটাই ভাঙল। শেষবার ভাঙল আয়লাতে। এবার আমরা কী করব?

একবছর ধান হয়নি ঠিক আছে, দুবছর ধান হয়নি ঠিক আছে, তিন বছর ধান না হলে কী করে হবে!

প্রতি বছরই একটা বা দুটো দ্বীপে দু-তিন জায়গায় বাঁধ ভেঙেছে। প্রতি বছরই। একই বছর প্রত্যেক জায়গায় বাঁধ ভাঙলে এটা কাকতালীয়। কিন্তু সব কটা দ্বীপে, উপকূলপ্রান্ত বা বড়ো নদীর মোহনার কাছে যে কটা গ্রাম পড়বে, প্রত্যেকটার বাঁধ এইভাবে হাওয়া হয়ে যাবে একসাথে কয়েক ঘন্টার মধ্যে, এটা অভূতপূর্ব। এটা আমি কোনদিন দেখিনি, শুনিনি। ১৯৮৮ সালে ২৫০ কিমি বেগে একটা ঝড় বয়ে গেছিল, সেটাও বেশ কিছু অঞ্চলের ক্ষতি করে দিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সাগর থেকে হিঙ্গলগঞ্জ পর্যন্ত তার ব্যাপ্তি ছিল না। সেটা যেখান দিয়ে গেছে ধসিয়ে দিয়ে গেছে। কিন্তু গোটা সুন্দরবন ধসে গেছে, এই প্রথম।

সুন্দরবনের লোকও বাপের জন্মে এরকম দেখেনি। বেশিরভাগ জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে যে পূব এবং দক্ষিণ-পূব, এই দুটো দিকের বড়ো নদী আছে যে সব গ্রামগুলোর, সেখানে সবচেয়ে বেশি বাঁধ ভেঙেছে। বাঁধের নিয়ম হচ্ছে যে, বাঁধ যদি একটা জায়গায় ভাঙে তো সেই জায়গা শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। সেখান থেকে জল যতদুর যেতে পারে ততদূর পর্যন্ত ক্ষতি করে দিয়ে যায়।

দ্বিতীয়ত, বাঁধ যে সব জায়গায় একসাথে ভেঙেছে তা নয়। অনেক জায়গায় বাঁধ উপচেও জল ঢুকেছে এবং বাঁধ নদীর উল্টোদিক থেকে ভেঙেছে। কোন বাঁধ সেদিনকেই ভেঙেছে, কোন বাঁধ তিন-চারদিন পর ভেঙেছে। এবং সেটা বিরাট জায়গা জুড়ে। এটা অভূতপূর্ব।

তৃতীয়, আরেকটা মজা হচ্ছে, যুগপৎ তিনটি ঘটনা ঘটেছে। আমার মনে আছে যখন ২০০৪ সালে সুপার সাইক্লোন হল, ৩০০-৩৫০ কিমি/ঘন্টা ঝড় হয়েছিল। সেটা সুন্দরবনের দিকে আসার কথা ছিল। সুন্দরবনে তখন মেঘ-টেঘ হয়েছিল, টুকটাক বৃষ্টিও পড়েছিল, কিন্তু কিছুই হয়নি। পরে শুনলাম ওটা উড়িষ্যা ধ্বংস করেছে, পারাদ্বীপে। তার এক দেড়মাস পড়ে আমি সাগরের কপিলমুনির আশ্রমের ওখানে গিয়েছিলাম অন্য একটা কারণে। সেখানে চায়ের দোকানে কিছু বৃদ্ধ বসেছিল। তা আমি সেখানে চা খেয়েছি। খেয়ে বললাম, আপনাদের তো কিছুদিন আগে খুব ভয় হয়েছিল নিশ্চয়ই। ওরা বলল, না আমরা ভয় পাইনি।

--- না, আমি শুনলাম এখান দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল সাইক্লোনের। আপনারা একটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপে থাকেন। চারিদিকে উত্তাল নদী।

গ্রামের সেই বৃদ্ধ লোকেরা বলল, না না, আমাদের কোন ভয় হয়নি।

--- না, আমি শুনেছি আপনাদের দ্বীপ ছেড়ে সব লোক পালিয়েছিল।

--- হ্যাঁ, এটা বিডিও করেছিল। জিপ নিয়ে মাইকে করে সব জায়গায় হেঁকেছিল। এটা শুধু সাগরে নয়, সারা সুন্দরবনে হেঁকেছিল --- পালান, সময় থাকতে থাকতে পালান। খেয়া পারাপার করতে দেবে না।

--- আমি নিজেও শুনেছিলাম। আমি সেদিন কলকাতায় আসছিলাম। মাতলা আমি পার হতে পারিনি কারণ নদীতে একটাও খেয়া নৌকো নেই। উল্টোদিকে পুলিশ টহল দিচ্ছে, খেয়া নৌকো দেখলেই অ্যারেস্ট করবে। কেউ ডিঙি নৌকাতেও পার হতে পারেনি। এটা যেন গোটা সুন্দরবনে রেড অ্যালার্ট। বিডিওরা মাইকে করে হাঁকছে, পুলিশ ঘুরে বেড়াচ্ছে, কোথাও যেন নৌকো না নামে। বলছে, এখান থেকে পালাও, উঁচু জায়গায় চলে যাও, এসব করছে। এগুলো আমিও দেখেছি। তা আপনাদের এইখানে হয়নি?

--- হ্যাঁ হয়েছে।

--- তা আপনারা কী করলেন?

--- না, আমরা যাইনি। যারা ইয়ং জেনারেশন, পোলাপান, তারা পালিয়েছে। আমরা কোথায় যাব?

--- কেন? বয়স হয়ে গেছে, মরলে কি আর বাঁচলে কি! এই জন্য?

--- না না, আমাদের বাবা আছেন, কপিল মুনি।

বললাম, বাবা কী করবে? মুখ ফসকে বেরিয়েই গেল কথাটা। ওখানে দাঁড়িয়ে বলা যায় না যে বাবা কী করবে।

বলল, ওমা তুমি জান না! বাবার দাড়ি দেখেছ? দাড়িটা একবার এদিকে করবে, বাংলাদেশ। দাড়িটা ওদিকে নাড়বে, উড়িষ্যায় চলে যাবে। কত দেখলাম ঝড়!

এই যে মানুষের একটা বিশ্বাস যে সমুদ্রে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়। ঘূর্ণিঝড় হলে ট্রলারগুলো ডোবে আর আগে থেকে বার্তা পেলে ফিরে চলে আসে। আর ডাঙায় কোনও ভয় নেই। হয় উড়িষ্যায় নয় বাংলাদেশে যাবে। এটা সাগর দ্বীপের লোকরা কপিল মুনির ওপর ভরসা রাখে। বাকিদের অভিজ্ঞতার ওপরে ভরসা আছে। মোট কথা তাদের ধারণা এখানে কিছু হবে না। যখন বিজ্ঞানীরা বলছে গ্লোবাল ওয়ার্মিং হবে, আবহাওয়া পালটাচ্ছে। পৃথিবী, সমুদ্রগর্ভ উত্তপ্ত হচ্ছে, অনেক ঝড়-ঝঞ্ঝা হচ্ছে। তখন সুন্দরবনের মানুষের বছরের পর বছর ধরে আত্মবিশ্বাস এই জায়গায় গেছে যে এখানে কিছু হবে না। গত ১০০ বছর ধরে প্রতি ১০-১১ বছর পর একটা করে বড়ো ঝড় হবেই এই সুন্দরবনে। সেখানে গত ২০ বছর ধরে কোন বড়ো ঝড় হয়নি। ১৯৮৮ সালে একবার হয়েছিল। ২০ বছর পার হয়ে গেল গোটা সুন্দরবনে সেই অর্থে বিধ্বংসী কোন কিছু হয়নি। যত একটা করে বছর যাচ্ছে ততই মানুষের মধ্যে ধারণা হচ্ছে, এই যা হবার হয়ে গেছে আর কিছু হবে না। ওই তো বাংলাদেশ বা উড়িষ্যায় চলে যাবে। তার মানে একটা জিনিস ২০ বছর ধরে জমছে। অদ্ভুত, নিজেরাই ভেবে নিচ্ছে যে আমরা খুব নিরাপদ, কিছু হবে না।

চতুর্থত, গভর্নমেন্ট-এর একটা ধারণা হয়েছে, জনগণ যদি ধনী হয়, তার গায়ে যদি আঁচড়টিও পড়ে সেটা একটা বিগ নিউজ। সেখানে হিউম্যান রাইট-এর প্রশ্ন আসে। গুড গভর্ননেন্স কেন নেই প্রশ্ন আসে। বোম্বের তাজ হোটেলে মিলিটান্টরা গুলি চালাক বা যাই হোক। কান্দাহারে যে এয়ারবাস ছিনতাই হয়েছে, সেখানে তো বড়োলোকেরা ছিল। সেটা নিয়ে গর্ভনমেন্ট উত্তর দিতে দিতে খুব বিপদে পড়ে যায়। আইপিএল কেন ইন্ডিয়ায় হচ্ছে না, গভর্নমেন্ট মুখ দেখাতে পারছে না। গরিব মানুষ, গবাদি পশু বন্যায় ভেসে যায়। মুর্শিদাবাদ ও সুন্দরবনের মেয়েরা সোনাগাছিতে বিক্রি হয়ে যায় আর সুন্দরবনের নদীবাঁধ ভাঙে, এটা হচ্ছে একটা সাময়িক ইস্যু। এটা কোনও মাথাব্যথার ব্যাপার নয়। রেশনে চাল দেয় না। চুরি হয় কেরোসিন। রাস্তা, নদীবাঁধ হলে কন্ট্রাকটর পয়সা পায়। সেখান থেকে কিছু পয়সা গভর্নমেন্টের লোকেরা খায়। পঞ্চায়েতের লোকেরা খায়। এটা লোকেও ধরে নিয়েছে, খায়, গভর্নমেন্টও জানে খায় এবং এই ব্যবস্থাটা হাজার বছর ধরে চলবে। এখানে জবাবদিহির কোন প্রশ্ন নেই, ছিল না, থাকবে না। গভর্নমেন্ট কিন্তু বিশ বছর ধরে এই ধারণাটার ওপর বাস করছে। এবার যখন রেশন বিদ্রোহ হল, মার শুরু হল, সেখানে তৃণমূলের মদত থাক বা নাই থাক সেটা অপ্রাসঙ্গিক। কোনদিন যে রেশন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে এবং এমন মার পড়বে যে লোকে রেশন ডিলারশিপ ছাড়তে পারলে বাঁচে। এটা বিশ বছর পর ত্রিশ বছর পর হল। এটা কেউ ভাবতে পারেনি যে কোনদিন রেশন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। আজকে সময় এসেছে যে এই যে চারটি জিনিস, ডিজাসটার ম্যানেজমেন্ট সেল, তাই নিয়ে যে গবেষণা হয়, সেচ দপ্তর, আবহাওয়া দপ্তর, ত্রাণ দপ্তর এই প্রত্যেকটা কিন্তু এখন এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে, ক্রমশ দিন ঘনিয়ে আসছে যে একটা বিদ্রোহ হবে। বিদ্রোহ মানে এই কথাটা লোকে তুলবে, তোমরা রয়েছ কী করতে? যখন ঝড়টা হল, তারপর তোমরা দুটো মন্ত্রীকে দু জায়গায় পাঠাচ্ছ আর মিডিয়াকে বলে দিচ্ছ যে আমরা লোক পাঠিয়েছি। তুমি ভাবছ যে এখনও মানুষ সেখানেই বাস করছে। এই কথাটা বলবে না যে এতদিন কোথায় ছিলে? একমাস আগে বিজলি নামের ঝড় এল, তখন তুমি কোথায় ছিলে? তারপর গত সাতদিন ধরে দেখছ আয়লা আসছে, কোথায় ছিলে? তোমার এতগুলো ডিপার্টমেন্ট কোথায় ছিল? এতগুলো মন্ত্রী কোথায় ছিল? যত দিন যাচ্ছে, এবার কিন্তু জবাবদিহির কথাটাও মানুষ ভাবছে। সে বুঝছে যে আমার প্রশ্ন করাটা বৈধ। প্রশ্ন করাটা সংগত। না করাটাই অপরাধ। এই বোধটা কিন্তু তৈরি হচ্ছে। আজকে রামচন্দ্রখালির যে ঘটনা, নদীবাঁধ নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে। পঞ্চায়েত, কন্ট্রাক্টর, সুন্দরবন ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের মধ্যে একটা খেলা চলছে। নদীবাঁধটা শেষমেষ হচ্ছে না। লোকে মজুরি পাচ্ছে না। বাঁধটা সরু হচ্ছে। কাজটা দেরি হচ্ছে। আবার অমাবস্যায় জল ঢুকছে। পাবলিক আগেও বুঝতে পারত এখনও বুঝতে পারছে। আগে সহ্য করত, এখন সহ্য করতে পারছে না। তার মানে রাষ্ট্র, সমাজ এবং মানুষের জীবন, বিশটি বছর ধরে একখাতে বয়েছে। এটার একটা চরম পর্যায়ে চলে এসেছে। কোথাও গিয়ে এটা ফেটে পড়বে বোঝা যায়। একদিক থেকে মানুষও ভারি নিশ্চিন্ত, আমাদের কিছু হবে না। গভর্নমেন্টও নিশ্চিন্ত, সিস্টেমটা চিরস্থায়ী। এটার কিছু হবে না।

পঞ্চমত, আরও একটা বিষয় রয়েছে। সেটা হল গ্রামসমাজ। গ্রামসমাজ একটা ছিল, এখন নেই। এটা হচ্ছে রূঢ় বাস্তব। একটা ঘটনা বলি। বহুবছর আগে মঙ্গল সর্দার নামে দয়াপুরের এক আদিবাসী সর্দারের সঙ্গে কথা বলছিলাম রাত্রিবেলা। নানারকম গল্পসল্প হওয়ার পর রাত বাড়ছে। তখন জিজ্ঞেস করলাম যে আগে কেমন ছিলেন আর এখন কেমন আছেন। বললেন, ওইভাবে ভালমন্দ বলা যাবে না। আগে খারাপ ছিলাম এখন ভাল আছি। আগে ভাল ছিলাম এখন খারাপ আছি। দুটোই সত্যি।

--- তার মানে?

--- আমার একটা ঘর ছিল। আমার একটা ছেলের বিয়ে দেব। তারা তো স্বামী-স্ত্রী, একটা আলাদা ঘরে থাকবে। তাই আমারই উঠানে আমি আর একটা ঘর বাঁধছি। বিয়ে আর এক সপ্তাহ বাকি। ঘর চার ভাগের তিন ভাগ হয়ে গেছে। ছাদটায় তখন চাল মানে খড়-টড় দেওয়া হচ্ছে। এমন সময় জমিদার দুটো পাইক পাঠিয়ে আমার ঘরটা ভেঙে দিল। আমি বললাম, এ কী করছ? বলল, জমিদারের হুকুম আছে, তোর ঘর ভাঙতে হবে। ভেঙে দিল। আমি ছুটলাম জমিদারের কাছে। সকাল থেকে বসে আছি। দুপুরের পর জমিদার দেখা দিল।

--- কী ব্যাপার মঙ্গল?

--- বাবু আমি কী দোষ করেছি। তোমার লোক আমার ঘর ভেঙে দিল। তুমিই নাকি বলেছ?

জমিদার বলল, হ্যাঁ। আমি বলেছি। তার কারণটা হচ্ছে যে, তুমি ঘর বাঁধছ।

--- বাবু ঘর বাঁধব না? আমার ছেলের তো বিয়ে দেব।

--- দেখ, তোমার উঠোনে তোমার জিনিসপত্র দিয়ে তোমার ছেলের বিয়ে দেবে বলে তুমি ঘর বাঁধছ। সেখানে তো আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু তুমি আমার অনুমতি নিয়েছিলে? আমি কি না করতাম?

--- তার মানে?

--- তুমি মনে করছ, তোমার ছেলে, তোমার উঠোন, তোমার জিনিস, তুমি ঘর বাঁধতেই পার। এটা কি ঠিক ভাবনা হল? আমি কি নেই? তুমি জিজ্ঞেস করলে আমি কি তোমায় না বলতাম? তুমি তো আমাকে বলতে পারতে, আমার ছেলের বিয়ে দেব, ঘরের গায়ে একটা ঘর বাঁধব। আপনি অনুমতি দিন।

আমি বললাম, বাবু ভুল হয়ে গেছে। ক্ষমা-টমা চাইলাম। তখন জমিদার বলল, ঠিক আছে, এবার তুমি ঘর বাঁধো। এটা ব্রিটিশ পিরিয়ডের ঘটনা। আর এখন আমার আদিবাসী পাড়ায় পঞ্চায়েত আদিবাসীদের। আদিবাসী বাচ্চাদের জন্য আলাদা প্রাইমারী স্কুল, আদিবাসীরা এখন এসটি কোটায় চাকরি পায়, পুলিশে। ... আজকে আমারও একটা ভোট, অমুকেরও একটা ভোট।

--- তাহলে আপনি আগে খারাপ ছিলেন আর এখন তো ভাল আছেন?

--- না এইটা বলা সম্ভব নয়।

--- কেন?

--- ওই দেখুন, পুকুরের পাশে কুঁড়ে ঘরটা দেখছেন? ওখানে এক বুড়া আর এক বুড়ি থাকে। আদিবাসী। ওর তিন ছেলে। বড়ো ছেলেটা কোটায় পুলিশের কাজ পেল। সোনারপুর চলে গেল। বাঙালি মেয়ে বিয়ে করল। ছেলেপুলে হল। কলকাতায় ফ্ল্যাট কিনে থাকে। ছোটো ভাইটাও কোটায় পুলিশের কাজ করে। বারুইপুরে থাকে। তিন ভাইয়ের মধ্যে দুটো বাঙালি মেয়ে বিয়ে করেছে এবং এই বুড়োবুড়িকে কেউ খেতেও দেয় না। দুই ভাইয়ের মধ্যে এখন মুখ দেখাদেখি বন্ধ, ঝগড়া। এবার বছরে একবার ওই বড়ো ভাইটা আসে। দেখে বাপ-মা মরেছে কিনা। দেখে মরেনি। পাড়ার লোককে বলে যায়, মরলে আমি যেন আগে খবর পাই। ছোটো ভাই যেন না পায়। আবার ছোটো ভাইয়েরও একই কথা। পাড়ার ছেলেদের বলে চলে যায়। আমি বসে বসে দেখি। আমি মঙ্গলসর্দার। আদিবাসীদের আমি নাকি মোড়ল। আমি বসে বসে দেখি।

--- আপনি কিছু বলেন না কেন?

--- কী করে বলব? বলতে গেলে বলবে তোমারও একটা ভোট, আমারও একটা ভোট, মোড়ল তো কী? আমার তো কিছু বলার নেই। এখন তো গণতন্ত্র।

---  এটা যদি আগের যুগে হত, তাহলে কী হত?

--- আগের যুগে হলে আমি জমিদারের কাছে যেতাম, আমি মঙ্গল সর্দার, আদিবাসী পাড়ার তরফ থেকে, সকলের তরফ থেকে বলতাম, এই ছেলেগুলোর একটা ব্যবস্থা করতে হবে। বাপ-মাকে খেতে দেয় না। বলে বাপ-মা মরলে জমি বিক্রি করে চলে যাবে। জমিদার বিচার ডাকত। দু-চার পয়সা নিত। কিন্তু হুলিয়া জারি করত। বলত, দুই ভায়ের কোনটা এলে আমাকে খবর দিবি, আমি আগে গাছে বাঁধব। বেঁধে আমি নিজে হাতে জুতোপেটা করব। আমরা গ্রামের সবাই বলতাম, হ্যাঁ বাবু, জমিদার লোক দিয়ে জুতোপেটা করবে।

আজকে গ্রামে কোনও ব্যাপারে, ধরুন একটা সেচের খাল, নিকাশি নালা, ম্যানগ্রোভওয়ালা একটা চর, একটা নদীতে একটা চর পড়েছে, আজকে দেশি ধান বুনব না হাইব্রিড ধান বুনব, আমার জমিতে কি একটা ইটখোলা বানাব না মুরগির খামার বানাব, না ফিসারি বানাব, কোনটার ব্যাপারে, গ্রামসমাজের কোনও ভূমিকা নেই। আগে এই প্রতিটা সিদ্ধান্ত, কম হোক বেশি হোক, গ্রামসমাজের একটা সম্মতি দরকার ছিল। গ্রামসমাজটা সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। নানা কারণে। সেটা সমাজতাত্ত্বিকরা ভালো ব্যাখ্যা করতে পারবেন। কে দায়ী? আধুনিকতা দায়ী, বামফ্রন্ট সরকার দায়ী, মানুষের যে মনের অন্ধকার, সেটা দায়ী। আমার জমিতে আমি যা খুশি করতে পারি।

আদিবাসীরা তো জঙ্গল কেটে জমি বানিয়ে গ্রামগুলো পত্তন করেছে তাদের লেবার দিয়ে। সুন্দরবনের ৯০% জমির কোন পাট্টা নেই। ওখানে কার জমি কে চষে, কী লিজের ভিত্তিতে কী চুক্তি হয়েছিল ... এগুলো ব্যক্তিগত চুক্তিতে চলে। আপনার সঙ্গে কথা বললাম, আপনার জমির এতটা অংশ আমি এখন চাষ করব, আপনি আমাকে এই দেবেন আমি আপনাকে এই দেব। এটা আপনার সাথে আমার বোঝাপড়া। অলিখিত বোঝাপড়া। ধরুন আপনার ছেলে আর আমার ছেলে একসঙ্গে হায়দ্রাবাদে এখন কাজ করতে যাবে। অলিখিত বোঝাপড়া। গ্রামসমাজ বলতে যেটা বলতে চাইছি যে, গ্রামে এই কাজটা করলে গ্রামের মঙ্গল হবে কি অমঙ্গল হবে, সেটা ঠিক হবার ভিত্তিটা নেই। সেটা একদম নষ্ট হয়ে গেছে। মানে এরকমও ঘটেছে যে --- নাম ঠিকানা না বলে বলছি --- প্রচুর লোক এবং মহিলা আছে যারা দেহোপজীবী হয়ে গেছে। বিভিন্ন মেয়েদের এখান থেকে ধরে নিয়ে যায় লোভ দেখিয়ে। যার মেয়েকে নিয়ে যায় তার পরিবার বুঝবে। গ্রামের কিছু বক্তব্য নেই তো এ ব্যাপারে। গ্রামের লোক কী বলবে? কার মেয়ে কে কোথা নিয়ে গেছে তারা কী করবে? ধরা যাক, গ্রামের নিকাশি নালা, সেচের খাল। সাধারণ ব্যাপার। সেখানে আমি ধানচাষ করতে শুরু করেছি বা একটা ঘর তুলে দিয়েছি। আমরা পাঁচজন মিলে ঠিক করেছি করব, করে ফেলেছি। বেশ করেছি। তার জন্য আমার হয়ে আরএসপি আছে, সিপিএম আছে, তৃণমূল আছে। পার্টি ব্যাকিং আছে।

এটার সূক্ষ্ম কোনও বিভাজন রেখা নেই যে পলাশীর যুদ্ধের আগে কী ছিল, আর পলাশীর যুদ্ধের পরে কী হল, ওইরকম কোন সময়-বিভাজন নেই। এটা একটা ক্রমান্বয়ে ঘটে যাওয়া প্রক্রিয়া। সম্পূর্ণ এক নৈরাজ্য। গ্রামে কিন্তু এই পলিটিক্সটা আখছার হচ্ছে। এই পপুলিজিমের পলিটিক্স বা জনপ্রিয়তার রাজনীতি। পার্টিরা আজকে দেখে, দুই ভাইয়ে ঝগড়া হচ্ছে। দুই ভাই একই পার্টি করছিল। একজন দেখছে যে স্বার্থরক্ষা হচ্ছে না, সে গিয়ে অন্য পার্টিতে নাম লেখাল। অন্য পার্টি ক্যালকুলেশন করে দেখছে যে আমি যদি এই ভাইয়ের পক্ষ নিই তাহলে আমার কী কী লাভ। আর্থিক লাভ ব্যক্তিগত ভাবে কী আর পার্টিগত লাভ, ভোটের দিক থেকে কতটা? সেই ক্যালকুলেশন করে তাকে প্রশ্রয় দিল। মারামারিটা চলল, তখন সেটা পলিটিকাল হয়ে গেল। সিপিএম আর তৃণমূলের মারপিট। হয়তো দেখা যাবে ওর ছাগলটা একটা কুমড়ো গাছের ডাল খেয়ে গেছে, এই নিয়ে। গ্রামসমাজটা উঠে গেল, এই যে একটা শূন্যতা তৈরি হল, এই শূন্য জায়গাটা ভরে ফেলল কতগুলো নীচ স্বার্থপরতা আর রাজনৈতিক সুবিধাবাদ।

সুন্দরবনের একটা মজা আছে।  সুন্দরবনটা একটা খুব বাজে ভৌগোলিক অঞ্চল। মানে নোনা জল, কামোট, কুমীর, বাঘ, কোনও পরিকাঠামোগত উন্নতি নেই। বড়ো মার্কেট নেই। কোন ইন্ডাস্ট্রি নেই। সমাজবদ্ধতা এখানে হচ্ছে অস্তিত্বের পূর্বশর্ত। ধরুন বনবিবির উপাখ্যান, বনবিবির পুজো দিয়ে জঙ্গলের ধারে যে মানুষগুলো থাকে, তাদের মধ্যে কিন্তু একপ্রকার সামাজিক বাঁধুনী রয়েছে। তারা এখনও কিছু নিয়ম-রীতি মানে। বনবিবির পুরো গল্পটা পড়লেই দেখা যায় যে, সেখানে কিছু নিয়ম-রীতির কথা বলছে। যেমন, জঙ্গলকে বাড়তি শুষে নিও না। একান্ত প্রয়োজন না পড়লে জঙ্গলে যেও না। জঙ্গলে গিয়ে তো কেউ পেচ্ছাপ, পায়খানা পর্যন্ত করে না। তার যে একগুচ্ছ রীতি-নীতি রয়েছে তা অনুসরণ না করলে তুমি জঙ্গলের ধারে বাঁচতে পারবে না। সেটা ধর্মের নামে, লোকাচারের নামে মানুষগুলোকে বেঁধে রাখে। এটা হচ্ছে শুধুমাত্র সুন্দরবনের সেই প্রান্তিক এলাকাগুলোতে, যেগুলো জঙ্গলের সীমান্তে। এই এলাকাগুলোতে বনবিবিকে কেন্দ্র করে কিন্তু কতকগুলো একতার ভিত্তি রয়েছে। সেখানে পঞ্চায়েত, রাজনৈতিক দল, কেউ দাঁত ফোটাতে পারছে না। সেই রীতি-নীতি ভাঙতে পারবে না।

সুন্দরবনের জঙ্গল এলাকায় যেসব মানুষ যায়, যেতে বাধ্য হয় অভাবের জন্য, তাদের নির্দেশিকা কী হবে, এটা গভীরভাবে ভেবে একটা ধর্মের জন্ম দেওয়া হয়েছে। যেমন, বনবিবির মা, তার তিন সন্তান। স্বামী স্ত্রী মক্কায় গিয়ে গলবস্ত্র দিয়ে প্রদীপ জ্বেলে সন্তান কামনা করছে। মানে এই গল্পটা এইভাবে তৈরি করতে হল কেন? মক্কায় গিয়ে প্রদীপ জ্বেলে সন্তান কামনা? প্রদীপ জ্বেলে সন্তান কামনা, সেটা তো হিন্দুরা করে। মক্কায় কেন? এটা সুচিন্তিত। আমাদের কাছে, শহরের লোকের কাছে জঙ্গল মানে এপারে থেকেছে, শতাব্দী ধরে, তার কাছে কিন্তু ওটা এক অন্য জগৎ, যুক্তিতর্ক আর বিধিনিয়মের বাইরের এক জগৎ। সেখানে জঙ্গলের একটা আত্মা আছে। গ্রামের জমিদার, অত্যাচার, জঙ্গলের বাঘ --- এক। আবার ওই বাঘ বনবিবির কথা শুনে চলে এবং বনবিবির নিয়মগুলো সেও মানে। তার মানে পুরোটা কিন্তু তখন আর সত্যিকারের গাছ, বাঘ, মাটি রইল না।

ভর হয় লোকের, জঙ্গলে গেলে। বাউলের যে জাতটা উঠে এল ... ভর হয় তাদের। জঙ্গলের আত্মাটা সে নিজের মধ্যে আত্মভূত করে এবং তখন সে একটা অন্য মানুষ হয়ে যায়। একে কেন্দ্র করে একটা গ্রাম, একটা সভ্যতা, একটা বাঁধুনি, একটা সমাজবদ্ধতা তৈরি হয়। একগুচ্ছ তার রীতি-নীতি। এবার যদি আমি গ্রামগুলোর কথা বলি যেখানে মূলত ধানচাষ, সেখানে গ্রামের মানুষ মাটি কাটার জন বা ধান কাটার জন। তারা সুন্দরবনের বাইরে চলে যাচ্ছে, আলুর স্টোরে যাচ্ছে, মাছের ট্রলারে যাচ্ছে। সে আমেদাবাদ ব্যাঙ্গালোরে চলে যাচ্ছে খাটতে। ফিরে আসছে আবার। ধানটা রুয়ে যাচ্ছে, আবার ফিরে এসে কাটছে। সে পুজোয় হোক, নববর্ষে চৈত্র সংক্রান্তিতে হোক, শেতলা পুজোর সময় হোক, মনসা পুজোর সময় হোক --- সে বাড়ি ফিরছে। দারিদ্র ছিল, কিন্তু এই জায়গাটাও ছিল। গ্রামসমাজটাও ছিল। এবার গ্রামসমাজটা ক্রমান্বয়ে ক্ষয়ে গেল, মানে তলার থেকে মাটি সরে গেল। প্রত্যেকে দেখল যে আমি, আমার বউ, আমার বাচ্চা। একটা ছোট্ট ঘর। দুই বিঘে জমি। কী করে বাঁচব? আমার পাশে কেউ নেই। গ্রামসমাজটাই নেই। আমার সাথে কিছু লোকের আলাদা আলাদা সম্পর্ক আছে, থাকবে। এই যে সমস্যাটা জমা হচ্ছিল পঞ্চাশ বছর ধরে, এটা একটা চরম পরিণতিতে পৌঁছাল। ঠিক এইসময় আইলা এসে আমাদেরকে নাঙ্গা করে দিচ্ছে, বলছে, দেখো তোমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছো। গ্লোবাল ওয়ার্মিং যদি সত্য হয়, বছরে যদি তিনটে করে এরকম সাইক্লোন ঘটে, তাহলে এই প্রশ্নগুলো আমাদের সমাধান করার আর সময় নেই। সময় পেরিয়ে গেছে। বাঁশি বেজে গেছে। মর, নয়তো ছেড়ে পালা। আয়লাটা হচ্ছে আমার কাছে একটা শিক্ষক। তার নাম হচ্ছে মৃত্যু। ধ্বংস। সভ্যতাকে শেষ করে দেওয়া। আজকে দুশটা গ্রাম গেছে। আরও দুটো তিনটে বন্যা এরকম হলে আরও দুশটা গ্রাম যাবে। এটা ক্রমশ বারুইপুর অবধি, সোনারপুর অবধি আসবে, কলকাতায় আসবে। একটাই ছায়া। তোমরা নিজেকে বড্ড বেশি প্রশ্রয় দিয়েছ। তোমরা অনেক বেশি জিনিস চলবে বলে ধরে নিয়েছ। কিন্তু আর নয়। আজকে মানুষ যখন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে ওখানে যায়, কীসের তাড়নায় যায়? মিডিয়ার ভূমিকা থাকতেই পারে। মিডিয়াও বিষয়টাকে ছোটো করে দেখেছে। কিন্তু মানুষ যেটাকে দেখতে পাচ্ছে, সেটা এই ছায়াটা। এই ছায়াটা মানুষ টের পাচ্ছে। যেখানে কলকাতার উচ্চশ্রেণীর নাগরিক আর সুন্দরবনের যে মা হাত বাড়িয়ে রয়েছে, এ মনে করছে না ওর চেয়ে আমি কোন ভালো অবস্থায় রয়েছি। এ আজ সহজেই বুঝতে পারছে, এটা উল্টোও হতে পারত।